📄 বিশ্বাসে বিশুদ্ধ ও বাক্যালাপে সত্যনিষ্ট
حَدَّثَنَا أَبُوْ إِدْرِيْسُ عَائِدُ اللَّهِ قَالَ: قَالَ مُوسَى ﷺ : رَبِّ مَنْ فِي ظِلَّكَ يَوْمَ. لا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّكَ؟ قَالَ : الَّذِينَ أَذْكُرُهُمْ وَيَذْكُرُونَنِي، وَيَتَحَابُّوْنَ فِي جَلَالِي، فَأُوْلَئِكَ فِي ظِلِّي يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلا ظِلِّي، قَالَ : يَا رَبِّ مَنْ أَصْفِيَاؤُكَ مِنْ عِبَادِكَ؟ قَالَ: كُلِّ تَقِيُّ الْقَلْبِ نَقِيُّ الْكَفَّيْنِ، لَا يَأْتِي ذَا قَرَابَةٍ، يَمْشِي هَوْناً، وَيَقُوْلُ: صَوَاباً، تَزُولُ الجِبَالُ وَلاَ يَزُولُ. قَالَ: يَا رَبِّ مَنْ يَسْكُنُ حَظِيرَةُ الْقُدْسِ عِنْدَكَ ؟ قَالَ : الَّذِينَ لَا تَنْظُرُ أَعْيُنُهُمْ إِلَى الزِّنَا وَلَا يَضَعُوْنَ فِي أَمْوَالِهِمُ الرِّبَا، وَلَا يَأْخُذُوْنَ فِي حُكْمِهِمُ الرِّشَاء فِي قُلُوبِهِمُ الْحَقُّ، وَعَلَى أَلْسِنَتِهِمُ الصِّدْقُ، أُوَلِتَكَ يَسْكُنُونُ قُدْسِي.
হযরত সায়্যিদুনা আবু ইদ্রিস আ'য়িযুল্লাহ খাওলানী রাহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, সায়্যিদুনা মূসা কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম মহামহিম রবের দরবারে আরয করলেন, হে আমার রব! ঐ সবলোক কারা, যারা আপনার রহমতের ছায়ায় থাকবে, যেদিন এটা ছাড়া কোন ছায়া থাকবে না? আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করলেন, যেসব লোকের আমি স্মরণ করি এবং তারাও আমার যিকির করে। আর যারা আমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরস্পর ভালবাসে। এসব লোক আমার আরশের ছায়ায় থাকবে, যেদিন এটা বৈ কোন ছায়া থাকবে না। তিনি পূনরায় আরয করলেন, হে আমার প্রতিপালক! আপনার বান্দাদের মধ্যে সূফী কারা? তিনি ইরশাদ করলেন, যাদের হৃদয় পূতঃপবিত্র এবং হস্তদ্বয় (অপরাধ করা থেকে) মুক্ত। যারা নিঃস্ব হয়ে ঘুরে বেড়ায়, তবুও নিকট আত্মীয়দের কাছে (অভাব পূরণে) গমন করে না। যারা ন্যায় ও সত্য কথা বলে, পাহাড় পরিবর্তিত হয়; কিন্তু তারা (সত্য মত থেকে) পরিবর্তিত হয় না। তিনি আরো আবেদন করলেন, হে আমার পরওয়ার দিগার! খাযীরাতুল কুদ্স্স তথা জান্নাতে কে আপনার সান্নিধ্যে থাকবে? আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করলেন, ঐ বান্দা, যার দৃষ্টি যেনা বা ব্যভিচারের দিকে উঠতনা, যে স্বীয় সম্পদে সুদের মিশ্রণ করত না, বিচার কার্যে ঘুষ গ্রহণ করত না, এবং বিশুদ্ধ বিশ্বাসী ও বাক্যালাপে সত্যনিষ্ট ছিল। তারা আমার পুণ্যভূমিতে অবস্থান করবে।'
📄 আরশের ছায়ায় কাকে দেখলেন?
عَنْ عَمَرِو بْنِ مَيْمُونٍ ، قَالَ : لَّا تَعَجَّلَ مُوسَى اللَّهِ إِلَى رَبَّهِ رَأَى رَجُلاً فِي ظِلَّ الْعَرْشِ فَغَبِطَهُ بِمَكَانِهِ، وَقَالَ : إِنَّ هَذَا لَكَرِيمٌ عَلَى رَبِّهِ ، فَسَأَلَ رَبَّهُ أَنْ يَخْبِرَهُ بِاسْمِهِ فَأَخْبَرَهُ، فَقَالَ: لَكِنْ سَأُنَبِّئُكَ مِنْ عَمَلِهِ، كَانَ لَا يَحْسُدُ النَّاسَ عَلَى مَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ، وَلَا يَمْشِي بِالنَّمِيْمَةِ، وَلَا يَعُقُّ وَالِدَيْهِ.
হযরত সায়্যিদুনা আমর বিন মায়মূন রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, হযরত সায়্যিদুনা মূসা আলাইহিস সালাম স্বীয় রবের দিকে একাগ্র হলে আরশের ছায়ায় এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন। তখন তিনি ঐ মকাম ও মর্যাদা দেখে ঈর্ষান্বিত হলেন এবং বলতে লাগলেন, সম্ভবত এ ব্যক্তি আল্লাহ আযযা ওযাজাল্লার নিকট সম্মানিত হবেন। অতঃপর তিনি আল্লাহ তা'আলার কাছে তার নাম জানতে আরয করলে আল্লাহ আয্যা ওয়াজাল্লা ইরশাদ করলেন, (নাম নয়) বরং আমি তোমাকে তার আমল (কর্ম) সম্পর্কে অবহিত করতেছি (যার কারণে সে এ মর্যাদায় অভিষিক্ত) যে, আমি আপন কৃপায় আমার বান্দাদেরকে যে সব অনুগ্রহরাজি দান করেছি। সে এজন্য হিংসা করত না, চোগল খোরী করত না এবং তার মাতা-পিতার নাফরমানী করত না।'
টিকাঃ
১. হিলয়াতুল আউলিয়া, খন্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৩১১