📘 আরশের ছায়ায় থেকেছে যাদের কায়া > 📄 সূরা আন'আম ও চল্লিশ হাজার ফিরিশতা

📄 সূরা আন'আম ও চল্লিশ হাজার ফিরিশতা


হযরত সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামাযে সূরা আন'আমের প্রথম তিন আয়াত )يَعْلَمُ مَا تَكْسِبُونَ ( “ইয়া'লামু মা- তাকসিবৃন" পর্যন্ত তিলাওয়াত করে, তার নিকট চল্লিশ হাজার ফিরিশতা পাঠানো হবে। যাদের আমলের সমপরিমাণ সাওয়াব তার আমলনামায় লিখে দেয়া হবে এবং সপ্তম আসমানের উপর হতে একজন ফিরিশতা নিম্নদেশে আগমন করবে, যার নিকট একটি লৌহ গুর্জ থাকবে, যদি শয়তান ঐ ব্যক্তির অন্তরে কুমন্ত্রনা দিতে চায়, তাহলে ঐ ফিরিশতা শয়তানকে আঘাত করবে, যাতে করে ঐ ব্যক্তি ও শয়তানের মধ্যে সত্তরটি পর্দা প্রতিবন্ধক হয়ে যাবে। আর যখন কিয়ামত দিবস উপস্থিত হবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে বলবেন, হে আমার বান্দা! আমি তোমার রব! আমার আরশের ছায়ায় চলো, হাউযে কাউসারের পানি পানে পরিতৃপ্ত হও, সালসাবিল প্রস্রবণে গিয়ে পরিচ্ছন্ন হও এবং কোন হিসাব ও শাস্তি ব্যতিরেকে জান্নাতে প্রবেশ করো।'

টিকাঃ
১. তাফসীরে দুররুল মনসুর, সূরা আনআম, খন্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ২৪৫

📘 আরশের ছায়ায় থেকেছে যাদের কায়া > 📄 হাদীসে পাকের দুই দলিল : সত্তর জন ফিরিশতা ক্ষমা প্রার্থনা করবে

📄 হাদীসে পাকের দুই দলিল : সত্তর জন ফিরিশতা ক্ষমা প্রার্থনা করবে


১. সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, সরকারে মদীনা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষমারূপী ফরমান: যে ব্যক্তি ফজরের নামায আদায়ান্তে ঐ স্থানে বসে থাকে এবং সূরা আন'আম শরীফের প্রথম তিনটি আয়াত তিলাওয়াত করে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তার সাথে সত্তরজন ফিরিশতা নিয়োগ করে দেন। যারা কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ আয্যা ওয়াজাল্লার তাসবীহ পাঠ ও ঐ ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে।'
২. হযরত সায়্যিদুনা আবু মুহাম্মদ হাবীব বিন ঈসা রাদিআল্লাহু আনহু ইরশাদ ফরমান, যে ব্যক্তি সূরা আন'আমের প্রথম তিন আয়াত তিলাওয়াত করবে, আল্লাহ তা'আলা তার জন্য সত্তর হাজার ফিরিশতা প্রেরণ করবেন। যারা কিয়ামত পর্যন্ত ঐ ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে এবং ঐ সব ফিরিশতাদের সমপরিমাণ পুণ্য তাকে দান করা হবে। আর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, তাঁর আরশের ছায়ায় স্থান দান করবেন, জান্নাতের ফসলাদি আহার করাবেন এবং ঐ ব্যক্তি হাউযে কাউসারের পানি পান ও সালসাবিল প্রস্রবণে গোসল করবে। আর আল্লাহ তা'আলা তাকে বলবেন, আমি তোমার প্রভু, তুমি আমার বান্দা।'

টিকাঃ
২. তাফসীরে রুহুল মা'নী, সূরা আনআম, খন্ড: ৭, পৃষ্ঠা: ৯৮
১. তাফসীরে দুররুল মনসুর, সূরা আনআম, খন্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ২৪৫

📘 আরশের ছায়ায় থেকেছে যাদের কায়া > 📄 যিকরে ইলাহীর বরকত

📄 যিকরে ইলাহীর বরকত


عَنْ وَهَبِ بْنِ مُنَبِّهِ قَالَ : قَالَ مُوسَى ال : إِلهِي مَا جَزَاءُ مَنْ ذَكَرَكَ بِلِسَانِهِ وَقَلْبِهِ؟ قَالَ : يَا مُوسَى أَظَلَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِظِلٍّ عَرْشِي وَأَجْعَلَهُ فِي كَنَفِي.
হযরত ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ রাদিআল্লাহু তা'আলা আনহু বলেন, হযরত মূসা আলাইহিস্ সালাম মহান প্রভুর দরবারে আরয করলেন, হে আমার রব আযযাওয়াজাল্লা! যে ব্যক্তি নিজের জিহ্বা ও অন্তর দিয়ে তোমার যিকির করে তার প্রতিদান কি? আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করলেন, আমি কিয়ামতের দিন তাকে আরশের ছায়ায় স্থান দান করব এবং আমার করুণার আশ্রয়ে রাখব।'
ইমাম আহমদ বিন হাম্বলও এরূপ একটি হাদিস হযরত কা'ব আল আহবার রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেছেন।

📘 আরশের ছায়ায় থেকেছে যাদের কায়া > 📄 একটি মরফু দলিল : নিঃস্বদের সৌভাগ্য

📄 একটি মরফু দলিল : নিঃস্বদের সৌভাগ্য


قَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ : جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْبِرْنِي بِجُلَسَاءِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ: هُمُ الْخَائِفُونَ الْخَاضِعُوْنَ الْمُتَوَاضِعُوْنَ الذَّاكِرُوْنَ اللَّهَ كَثِيرًا ، قَالَ : يَا بَنِيَّ اللَّهِ إِنَّهُمْ أَوَّلُ النَّاسِ يَدْخُلُوْنَ الجَنَّةَ؟ قَالَ : لا ، قَالَ : فَمَنْ أَوَّلُ النَّਾਸِ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ؟ قَالَ : الْفُقَرَاءُ يَسْبِقُوْنَ النَّاسَ إِلَى الْجَنَّةِ فَيَخْرُجُ إِلَيْهِمْ مِنْهَا مَلَائِكَةٌ فَيَقُولُونَ: اِرْجِعُوا إِلَى الْحِسَابِ، فَيَقُوْلُوْنَ: عَلَامٌ نُحَاسِبُ ۚ وَاللَّهُ مَا أُفِيْضَتْ عَلَيْنَا أَمْوَالٌ نَقْبِضُ فِيْهَا وَلَا نَبْسُطُ، وَمَا كُنَّا أُمَرَاءُ نَعْدِلُ أَوْ نَجُورُ ، جَاءَنَا أَمْرُ اللَّهِ فَعَبَدْنَاهُ حَتَّى جَاءَنَا الْيَقِينُ.
হযরত সায়্যিদুনা সা'ঈদ বিন মুসায়্যিব রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি রাসূলে পাকের দরবারে উপস্থিত হয়ে আবেদন করলেন, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে ঐ সব লোকদের ব্যাপারে সংবাদ দিন যারা কিয়ামত দিবসে আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লার অদূরে থাকবেন। রহমতে আলম, নূরে মুজাসসাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, আল্লাহ আয্যা ওয়াজাল্লাকে ভয়কারী, অক্ষম, বিনয়ী ও বেশী পরিমাণে যিকিরকারীরা আল্লাহ তা'আলার নৈকট্যধন্য হবেন। সে পুনরায় আরয করল, হে প্রিয় রাসূল! কি এসব লোকই সর্ব প্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবেন? তিনি বললেন, না। সে ব্যক্তি আবেদন করল, তাহলে জান্নাতে সর্ব প্রথম কারা প্রবেশ করবে? তিনি ইরশাদ করলেন, ফকীর বা নিঃস্বগণ অন্যান্য লোকদের আগে জান্নাতের দিকে এগিয়ে যাবে। তখন জান্নাতের ফিরিশতারা এসে তাদেরকে বলবে, হিসাব-নিকাশের জন্য ফিরে যাও। তারা বলবে, আমরা কিসের হিসাব দেব? আল্লাহর শপথ! আমাদের নিকট কোন সম্পদ ছিলনা যে, তা জমা-সঞ্চয়করে রেখেছি কিংবা ব্যয় করেছি। আর না আমরা বিচারক ছিলাম যে, সুবিচার কিংবা অত্যাচার করেছি বরং আমাদের নিকট আল্লাহর নির্দেশ এসেছিল তাই আমরা তাঁর ইবাদতে ব্যাপৃত ছিলাম, আমাদের নিকট মৃত্যু উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত।'

টিকাঃ
২. হিলয়াতুল আউলিয়া, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৪৮, হাদিস: ৪৭০৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00