📄 রোজাদারদের উপর আরশের ছায়া
1 - عَنْ مُغِيثِ بْنِ سَمِيٌّ ، قَالَ : تَرْكُدُ الشَّمْسُ فَوْقَ رُؤُوسِهِمْ عَلَى أَذْرُعٍ، وَتُفْتَحُ أَبْوَابَ جَهَنَّمَ فَتَهَبُّ عَلَيْهِمْ لَفْحَهَا وَسُمُوْمَهَا ، وَتَخْرُجُ عَلَيْهِمْ نَفْحَاتُهَا حَتَّى تَجْرِي الأَرْضُ مِنْ عَرْقِهِمْ أَنْتَنُ مِنَ الْجِيفِ، وَالصَّائِمُوْنَ فِي ظِلَّ الْعَرْشِ.
১. হযরত সায়্যিদুনা মুগিছ বিন সুম্মী রাদিআল্লাহু আনহু ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন সূর্য লোকদের মাথার উপর কয়েক গজ দূরত্বে অবস্থান করবে এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হবে। তখন এর উত্তাপ ও প্রচন্ড উষ্ণতা তাদের দিকে চলে আসবে এবং জাহান্নামের উষ্ণ স্ফুলিঙ্গ তাদের দিকে তীব্রভাবে ধেয়ে আসবে। এমনকি জমির উপর তাদের ঘামের বন্যা প্রবাহিত হবে, যা পচা ও বিকৃত লাশের চেয়েও বেশী দুর্গন্ধযুক্ত হবে। আর তখন রোজাদার ব্যক্তি আরশের ছায়ায় থাকবে।' এটা এমন উক্তি, যাকে মনগড়া বলা যায় না অর্থাৎ এটা মরফু হাদিসের অন্তর্ভুক্ত।
- عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ الله قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ : «الصَّائِمُوْنَ تَنْفَخُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ رِيْحُ المِسْكِ، وَتُوْضَعُ هُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَائِدَةٌ تَحْتَ الْعَرْشِ، فَيَأْكُلُونَ مِنْهَا وَالنَّاسُ فِي شِدَّةٍ».
২. হযরত সায়্যিদুনা আনাস বিন মালেক রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রহমতে আলম, নূরে মুজাস্সাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, রোজাদারদের মুখ থেকে মিশকের সুগন্ধি বের হবে। কিয়ামত দিবসে তাদের জন্য আরশের নীচে দস্তরখানা বিছানো হবে এবং তারা তা থেকে আহার করতে থাকবে, যখন অন্যান্য লোকেরা কঠিন বিপদাপন্ন অবস্থায় থাকবে।'
উক্ত হাদিসে পাঁচটি ফাযায়েল বর্ণনায় ইঙ্গিতসূচক ও সুস্পষ্ট উত্তরের সম্ভাবনপূর্ণ।
৩- عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ : قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ ﷺ: إِنَّ لِلَّهِ مَائِدَةً عَلَيْهَا مَا لَا عَيْنٌ رَأَتْ وَلَا أُذُنْ سَمِعَتْ وَلَا خَطَرَ عَلَىٰ قَلْبِ بَشَرٍ لَا يَقْعُدُ عَلَيْهَا إِلَّا الصَّائِمُونَ.
৫. হযরত সায়্যিদুনা আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, আল্লাহর মাহবুব, দানায়ে গয়ুব, মুনায়্যাহান আনিল উয়ুব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলার নিকট এমন এক দস্ত রখানা (খাদ্যস্থান) রয়েছে, যা এরূপ নিয়ামত রাজি দ্বারা সজ্জিত, যে গুলো না কোন চক্ষু অবলোকন করেছে, না কোন কর্ণ শ্রবণ করেছে কিংবা কোন লোকের অন্তর ধারণা করেছে। আর এ দস্তরখানায় শুধুমাত্র রোজাদাররাই বসবেন।
৬- عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ : قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ تَخْرُجُ الصَّوْمُ مِنْ فُيُورِهِمْ يَعْرِفُونَ بِرِيَاحِ صِيَامِهِمْ، أَفْوَاهُهُمْ أَطْيَبُ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ، فَيَلْقَوْنَ بِالْمَوَائِدِ وَالْأَبَارِيْقِ مُخَمَّمَةٌ بِالْمِسْكِ، فَيُقَالُ لَهُمْ: كُلُوا فَقدْ جُعْتُمْ، وَاشْرَبُوا فَقَدْ عَطِشْتُمْ، دَعُوا النَّاسَ وَاسْتَرِيْحُوا فِي عَنَاءِ وَطَمَأْ.
৪. সায়্যিদুনা আনাস রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, হুজুর নবীয়ে করীম, রউফুর রহীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন কিয়ামতের দিবস উপস্থিত হবে, তখন রোজাদারগণ তাদের কবর থেকে এরূপ অবস্থায় উঠবে যে, রোজার সুগন্ধি দ্বারা তাদের চেনা যাবে। তাদের মুখ মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক পবিত্র হবে, তাদের জন্য মিশকের মোহরযুক্ত দস্তরখানা ও ডোসা (পানির পাত্র) রাখা হবে এবং তাদেরকে বলা হবে, খাও, তোমরা দুনিয়ায় ক্ষুধা সহ্য করেছিলে। পান করো, তোমরা দুনিয়াতে পিপাসিত ছিলে। লোকদেরকে ছেড়ে দাও আর তোমরা বিশ্রাম করো। কারণ তোমরা আমার সন্তুষ্টির জন্য ক্লান্তি সহ্য করেছিলে, যখন অন্য লোকেরা দিবা আরামে ছিল। অতঃপর রোজাদারগণ পানাহার ও বিশ্রামে থাকবে, এমতাবস্থায় লোকেরা কঠোরতা ও প্রচন্ড তৃষ্ণায় থাকবে।
৫- عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ : قَالَ ... ويُوْضَعُ لِلصَّائِمِيْنَ وَالصَّائِمَاتِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تَحْتَ الْعَرْشِ مَائِدَةً مِنْ ذَهَبٍ مُكَلَّلَةٌ بِالدُّرِّ وَالْجَوْهَرِ عَلَى مِقْدَارِ دَائِرَةِ الدُّنْيَا عَلَيْهَا مِنَ أَنْوَاعِ أَطْعِمَةِ الْجَنَّةِ وَثِمَارِهَا فَهُمْ يَأْكُلُونَ وَيَشْرَبُونَ وَيَتَنَعَّمُونَ وَالنَّاسُ فِي شِدَّةِ الْحِسَابِ.
৫. হযরত সায়্যিদুনা আবুদ্দারদা রাদিআল্লাহু আনহু হতে মরফু সূত্রে বর্ণিত যে, রোজাদার নর-নারীদের জন্য কিয়ামতের দিন আরশের নীচে পৃথিবী সমান হীরা ও জহরের খাদ্যসামন ও স্বর্ণচিত দস্তরখানা বিছানো হবে। তাতে জান্নাতের রকমারি খাবার, পানীয় ও ফলসাদি থাকবে। অতঃপর রোজাদরারা পানাহার ও স্বাদ গ্রহণে ব্যাপৃত থাকবে, যখন লোকেরা কঠিন হিসাব-নিকাশে ব্যাস্ত থাকবে।
(লেখক বলেন) উম্মুল মু'মিনীন সায়্যিদুনা আয়িশা রাদিআল্লাহু তা'আলা আন্হার বর্ণনাকৃত গুণ ব্যতীত উল্লেখিত হাদিস সমূহের মাধ্যমে বিশিষ্ট গুণ অর্জিত হলো। অতএব, সব মিলে একুশ হলো। এখন একুশের সাথে পূর্ববর্তী আঠাইש মিলে মোট উনপঞ্চাশটি গুণ হল। আমি এ গুলোকে একটি কবিতাকারে একত্রিত করেছি:
وَرَدْفُ مَعَ ضُعْفٍ مِنْ يُضِيفُ بِعِزَّةٍ يُوَصَّلُ لَإِجْلاَلِهِ وَالْجُوْعُ مَعَ أَهْلٍ حَلِيلُهُ صَلَاةُ عَلَى الْهَادِي وَإِحْيَاءُ فَضْلِهِ لِشَمْسٍ وَحُكْمُ لِلأَناسِ كُمَيْلُهُ وَتَرْكُ رِبَا سُحْبٌ رُبَا وَرَعَايَةً وَصَوْمٌ نُسِيْغُ بِمَا السَّبْعَاتُ يَا زَيْنُ أَهْلِهِ
টিকাঃ
১. তাফসীরে দুররুল মনসুর, সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৪, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৪৪২
২. মউসুআতুল ইমাম ইবনে আবিদ দুনিয়া, কিতাবুল জু' খন্ড ৪, পৃষ্ঠা: ১০২, হাদিস: ১৩৯