📘 আরশের ছায়ায় থেকেছে যাদের কায়া > 📄 নামাজি ও রহমতের ছায়া

📄 নামাজি ও রহমতের ছায়া


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهُ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ : ثَلَاثَةٌ يُظِلَّهُمُ اللَّهُ فِي ظِلَّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلا ظِلُّهُ : التَّاجِرُ الأَمِينِ، وَالإِمَامُ الْمُقْتَصِدِ، وَرَاعِيُّ الشَّمْسِ بِالنَّهَارِ».
হযরত সায়্যিদুনা আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহ আনহু হতে বর্ণিত, হুযুর নবীয়ে পাক, সাহিবে লাওলাক সিয়্যাহে আফলাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা তিন ব্যক্তিকে স্বীয় রহমতের ছায়ায় স্থান দিবেন, যে দিন এটা ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না। তারা হলেন- ১. আমানতদার ব্যবসায়ী, ২. ন্যায় পরায়ন শাসক, ৩. দিবসে সূর্যের যত্নকারী অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ে নামায আদায়কারী।'

টিকাঃ
কানযুল উম্মাল, কিতাবুল মওয়ায়েজ ওয়ার রিকাক, খন্ড ১৫, পৃষ্ঠা: ৩৪৬, হাদিস: ৪৩২৫২
৩. ইবনুল মুবারক, কিতাবুয যহুদ, باب استعنت بالله খন্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ৪৬০, হাদিস: ১৩০৪

📘 আরশের ছায়ায় থেকেছে যাদের কায়া > 📄 তৃতীয় গুণটি প্রসঙ্গে একটি হাদিস

📄 তৃতীয় গুণটি প্রসঙ্গে একটি হাদিস


পূর্বোক্ত হাদিসের তৃতীয় গুণের সমর্থনে এই হাদিসঃ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بِنْ أَبِي أَوْلَى اللهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : «إِنَّ مِنْ أَحَبَّ عِبَادُ اللَّهُ إِلَى اللَّهِ الَّذِينَ يُرَاعُوْنَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُوْمُ وَالأَظِلَّةِ لِذِكْرِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ».
হযরত আবদুল্লাহ বিন আবু আওফা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ঐ বান্দা, যে আল্লাহ্ আয্যা ওয়াজাল্লার ইবাদত ও স্মরণের লক্ষ্যে চন্দ্র-সূর্য, নক্ষত্র ও ছায়ার প্রতি তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখে।
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ الله ..... إِنَّ أَحَبَّ عِبَادَ اللَّهِ إِلَى اللَّهِ لِرَعَاءِ الشَّمْسِ وَالْقَمَرِ».
হযরত সায়্যিদুনা আবুদ দারদা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলার কাছে প্রিয় বান্দা হলো সূর্য ও চন্দ্রের প্রতি সজাগ দৃষ্টিদানকারী।'

টিকাঃ
১. হিলয়াতুল আউলিয়া, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা: ৩০২, হাদিস: ৪০২৬

📘 আরশের ছায়ায় থেকেছে যাদের কায়া > 📄 দরূদে পাকের আধিক্য

📄 দরূদে পাকের আধিক্য


عَنْ أَنَسٍ الله مَرْفُوْعًا قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ثَلَاثُ تَحْتَ ظِلُّ الْعَرْشِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ مِنْ فَرَّجَ عَنْ مَكْرُوبٍ مِنْ أُمَّتِي وَأَحْيَا سُنَّتِي وَأَكْثَرُ الصَّلَاةِ عَلَيَّ».
হযরত সায়্যিদুনা আনাস বিন মালিক রাদিআল্লাহু আনহু হতে মরফু' সূত্রে বর্ণিত, শাহীন শাহে খোশ খিছাল, সাহিবে জুদ ওয়া নাওয়াল, রাসূলে বে মেছাল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তিন ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার আরশের নীচে অবস্থান করবে, যেদিন এটা ছাড়া কোন ছায়া থাকবে না ১. ঐ ব্যক্তি, যে আমার দুর্দশা গ্রস্থ উম্মতের পেরেশানী দূর করে, ২. ঐ ব্যক্তি, যে আমার সুন্নতকে পুনরুজ্জীবিত করে, ৩. ঐ ব্যক্তি, যে আমার উপর বেশী বেশী দরুদ শরীফ পাঠ করে।'

টিকাঃ
১. আহমদ বিন হাম্বল, কিতাবুয যহুদ, পৃষ্ঠা ১৬৬, হাদিস: ৭৭0
২. শরহুয যুরকানী আলাল মুআত্তা, কিতাবুশ শে' باب ماجاء في المتحابين খন্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৪৬৯, হাদিস: ১৮৪১

📘 আরশের ছায়ায় থেকেছে যাদের কায়া > 📄 সেবা-শ্রুশ্রষা ও সান্তনাদানের ফযিলত

📄 সেবা-শ্রুশ্রষা ও সান্তনাদানের ফযিলত


হযরত সায়্যিদুনা ফুজাইল বিন আয়াজ রাদিআল্লাহু আনহু ইরশাদ করেন, আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, হযরত সায়্যিদুনা মূসা আলাইহিস সালাম মহামহিম রবের দরবারে আরয করলেন, হে আমার রব! ঐ সব লোক কারা, যারা আপনার আরশের ছায়ায় থাকবে, যেদিন এটা ব্যতীত অন্য কোন ছায়া থাকবে না? আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করলেন, হে মূসা! ঐ সব লোক তারাই, যারা অসুস্থদের সেবা-শুশ্রুষা করে, জানাযার সাথে গমন করে এবং কারো শিশুর মৃত্যু হলে তাকে সান্ত্বনা দান করে।'
বুঝা গেল যে, এ তিনটি গুণের প্রত্যেকটিই স্বতন্ত্রভাবে আরশের ছায়ায় অবস্থানের যোগ্যতা দানকারী। হযরত আবদুল মজিদ বিন আবদুল আযিয তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমাদের যুগে বলা হয়েছিল যে, তিন ব্যক্তি কিয়ামতের দিন আরশের ছায়ায় থাকবে ১. অসুস্থদের সেবাকারী, ২. জানাযার সাথে গমনকারী, ৩. যার শিশুর মৃত্যে হয় তাকে সান্ত্বনাদানকারী।
ইমাম ইবনে আবিদ্দুনয়া স্বীয় সনদে 'কিতাবুল ইযা'-তে উক্ত হাদিস শরীফটি উল্লেখ করেছেন এবং তাতে এ কথা বিশ্লেষণ করেছেন যে, উক্ত স্বভাবত্রয়ের প্রত্যেকটিই স্বতন্ত্র ভাবে আরশের ছায়ার অধিকারী হিসেবে গঠনকারী। আর অসুস্থের সেবাকারী প্রসঙ্গে তো মরফু' দলিল বিদ্যমান রয়েছে। যেমন-
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ ﷺ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ : ...... وَيَصِبْحُ صَائِحٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَيْنَ الَّذِينَ عَادُوا مَرْضَى الْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِيْنِ فِي الدُّنْيَا ، فَيَجْلِسُونَ عَلَى مَنَابِرٍ مِّنْ نُوْرٍ يُحَدِّثُوْنَ اللَّهَ وَالنَّاسُ فِي شِدَّةِ الْحِسَابِ».
আমীরুল মু'মিনীন হযরত সায়্যিদুনা ওমর ইবনে খাত্তাব রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তাজেদারে রিসালত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন জনৈক আহবানকারী আহবান করবে, "কোথায় ঐ সব লোক, যারা পৃথিবীতে অসুস্থ, দরিদ্র ও নিঃস্বদের দেখাশোনা করত।" অতঃপর যখন তারা উপস্থিত হবে, তখন তাদেরকে নূরের মিম্বরে বসানো হবে, যেখানে তারা আল্লাহ আয্যা ওয়াজাল্লার সাথে কথোপকথনের সৌভাগ্য লাভ করবে। এমতাবস্থায় অন্যান্য লোকেরা হিসাবের কঠোরতায় নিমজ্জিত থাকবে।'
এ হাদিসে পাকেও আরশের ছায়া প্রাপ্তদের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

টিকাঃ
১. হিলয়াতুল আউলিয়া, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা: ৪৮, হাদিস: ৪৭০৬
তাফসীর আদ দুররুল মনসূর, সূরা আনআম, খন্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ২৪৫
কানযুল উম্মাল, কিতাবুয যাকাত, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা: ১৬৬, হাদিস: ১৬১৮৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00