📄 ব্যভিচার, ঘুষ ও সুদ থেকে বেঁচে থাকার ব্যাপারে সুসংবাদ
عَنْ أُمَّ الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ : قَالَ مُوسَى بْنِ عِمْرَانَ القَ : يَا رَبِّ مَنْ يَسْكُنُ غَدًا فِي حَظِيرَةِ الْقُدْسِ وَ يَسْتَظِلُّ بِظِلَّ عَرْشِكَ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلَّكَ قَالَ : يَا مُوسَى أُوْلَئِكَ الَّذِينَ لَا تَنْظُرُ أَعْيُنُهُمْ فِي الزِّنَا وَ لَا يَبْتَغُونَ فِي أَمْوَالِهِمُ الرِّبَا وَ لَا يَأْخُذُوْنَ عَلَى أَحْكَامِهِمُ الرِّشَى طُوبَى هُمْ وَ حُسْنُ مَابٌ.
হযরত সায়্যিদাতুনা উম্মুদ দারদা রাদিআল্লাহ আনহু হতে বর্ণিত, নবীয়ে মুকাররাম, নূরে মুজাসসাম, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, হযরত সায়্যিদুনা মূসা বিন ইমরান আলাইহিস সালাম আরয করলেন- হে আমার প্রতিপালক! হাযীরাতুল কুদ্স তথা জান্নাতে কে আপনার নিকটে থাকবে এবং ঐ দিন কে আপনার আরশের ছায়ায় থাকবে, যেদিন আপনার (আরশের) ছায়া ছাড়া অন্য কোন ছায়া থাকবে না? আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করলেন, তারা হবেন ঐ সব ব্যক্তি, যাদের দৃষ্টি কখনো ব্যভিচারের দিকে উঠেনি, যারা নিজ সম্পদের ব্যাপারে সুদের অন্বেষী ছিল না এবং যারা আপন বিচার কার্যের ক্ষেত্রে ঘুষ গ্রহণ করত না। আর তারা এমন লোক, যাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ ও উত্তম আবাসস্থল।
টিকাঃ
১. বায়হাকী, শুআবুল ঈমান, বাবু ফি কাবজিল ইয়াদ...আলিখ: ৪, পৃষ্ঠা: ৩৯২, হাদিস: ৫৫১৩
📄 হাদীসে পাকের দলিল : রিয়া বা লৌকিকতা বর্জনের পুরস্কার
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ الله قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : ثَلَاثَةٌ هُمْ حُدَّاتُ الله عَزَّ وَجَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ رَجُلٌ لَمْ يَمْشِ بَيْنَ اثْنَيْنِ بِمَرَاءٍ قَطُّ وَرَجُلٌ لَمْ يُحَدِّثُ نَفْسُهُ بِزِنِّي وَرَجُلٌ لَمْ يُخَلَّطْ كَسْبُهُ بِرِبًا قَطُّ هَذَا».
হযরত সায়্যিদুনা আনাস বিন মালিক রাদিআল্লাহ আনহু হতে বর্ণিত, নূরে পায়কার, সুলতানে বাহর ওয়াবার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কিয়ামত দিবসে তিন ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার সাথে কথোপকথনের মর্যাদা ও সৌভাগ্য লাভ করবেন। ১. ঐ ব্যক্তি, যে কখনো দু'জন লোকের সামনেও লৌকিকতা নিয়ে চলেনি, ২. ঐ ব্যক্তি, যে অন্তরে কখনো ব্যভিচারের ব্যাপারে কল্পনা করেনি এবং ৩. ঐ ব্যক্তি, যার উপার্জনে কখনো সুদের প্রবেশ ঘটেনি।'
📄 নামাজি ও রহমতের ছায়া
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهُ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ : ثَلَاثَةٌ يُظِلَّهُمُ اللَّهُ فِي ظِلَّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلا ظِلُّهُ : التَّاجِرُ الأَمِينِ، وَالإِمَامُ الْمُقْتَصِدِ، وَرَاعِيُّ الشَّمْسِ بِالنَّهَارِ».
হযরত সায়্যিদুনা আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহ আনহু হতে বর্ণিত, হুযুর নবীয়ে পাক, সাহিবে লাওলাক সিয়্যাহে আফলাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা তিন ব্যক্তিকে স্বীয় রহমতের ছায়ায় স্থান দিবেন, যে দিন এটা ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না। তারা হলেন- ১. আমানতদার ব্যবসায়ী, ২. ন্যায় পরায়ন শাসক, ৩. দিবসে সূর্যের যত্নকারী অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ে নামায আদায়কারী।'
টিকাঃ
কানযুল উম্মাল, কিতাবুল মওয়ায়েজ ওয়ার রিকাক, খন্ড ১৫, পৃষ্ঠা: ৩৪৬, হাদিস: ৪৩২৫২
৩. ইবনুল মুবারক, কিতাবুয যহুদ, باب استعنت بالله খন্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ৪৬০, হাদিস: ১৩০৪
📄 তৃতীয় গুণটি প্রসঙ্গে একটি হাদিস
পূর্বোক্ত হাদিসের তৃতীয় গুণের সমর্থনে এই হাদিসঃ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بِنْ أَبِي أَوْلَى اللهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : «إِنَّ مِنْ أَحَبَّ عِبَادُ اللَّهُ إِلَى اللَّهِ الَّذِينَ يُرَاعُوْنَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُوْمُ وَالأَظِلَّةِ لِذِكْرِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ».
হযরত আবদুল্লাহ বিন আবু আওফা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ঐ বান্দা, যে আল্লাহ্ আয্যা ওয়াজাল্লার ইবাদত ও স্মরণের লক্ষ্যে চন্দ্র-সূর্য, নক্ষত্র ও ছায়ার প্রতি তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখে।
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ الله ..... إِنَّ أَحَبَّ عِبَادَ اللَّهِ إِلَى اللَّهِ لِرَعَاءِ الشَّمْسِ وَالْقَمَرِ».
হযরত সায়্যিদুনা আবুদ দারদা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলার কাছে প্রিয় বান্দা হলো সূর্য ও চন্দ্রের প্রতি সজাগ দৃষ্টিদানকারী।'
টিকাঃ
১. হিলয়াতুল আউলিয়া, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা: ৩০২, হাদিস: ৪০২৬