📄 শৈশব থেকে বৃদ্ধকাল পর্যন্ত কুরআনের তিলাওয়াত
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهِ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ فِي ظِلَّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ الْإِمَامُ الْعَادِلُ وَرَجُلٌ تَعَلَّمَ فِي صِغَرِهِ فَهُوَ يَتْلُوهُ فِي كِبَرِهِ وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقٌ فِي الْمَسَاجِدِ وَرَجُلَانِ تَحَابًا فِي اللَّهِ اجْتَمَعَا عَلَيْهِ وَتَفَرَّقَا عَلَيْهِ وَرَجُلٌ طَلَبَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ مَنْصِبٍ وَجَمَالٍ فَقَالَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ أَخْفَى حَتَّى لَا تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللَّهُ خَالِيًا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ».
সায়্যিদুনা আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহ আনহু হতে বর্ণিত, সরকারে মদীনা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা সাত ব্যক্তিকে ঐ দিন স্বীয় আরশের ছায়ায় স্থান দান করবেন। যেদিন এটা ছাড়া অন্য কোন ছায়া থাকবে না। ১. ন্যায় পরায়ন শাসক, ২. ঐ ব্যক্তি, যে শৈশবকালে কুরআন শরীফ শিক্ষা নেয় এবং বৃদ্ধকাল পর্যন্ত তা তিলাওয়াত করে, ৩. ঐ ব্যক্তি, যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকে, ৪. ঐ দু'ব্যক্তি, যারা পরস্পর আল্লাহর উদ্দেশ্যে ভালবাসে আর এ কারণে মিলিত ও পৃথক হয়, ৫. ঐ ব্যক্তি, যার নিকট কোন বংশীয়া ও রূপবতী রমনী (মন্দকর্মের) অভিপ্রায় পেশ করে, আর সে বলে, "আমি আল্লাহকে ভয় করি", ৬. ঐ ব্যক্তি, যে এরূপ চুপিসারে দান করে যে, ডান হাতের ব্যয় বামহাতও পরিজ্ঞাত হয় না এবং ৭. ঐ ব্যক্তি, যে নির্জনে আল্লাহর জিকির করে আঁখিদ্বয়ে অশ্রু প্রবাহ করে।'
আল্লামা সুয়ূতী বলেন, এ হাদীসে বর্ণিত দ্বিতীয় গুণের স্থানে বুখারী শরীফে নিম্নোক্ত শব্দাবলী রয়েছে, "ঐ যুবক যে আল্লাহ তা'আলার ইবাদতে ব্যাপৃত ছিল।"
টিকাঃ
১. হিলয়াতুল আউলিয়া, মুকাদ্দামাতুল কিতাব, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১২
২. আল-জামে আস্-সগীর, পৃষ্ঠা: ২৫, হাদিস: ৩১১
📄 আল্লাহ তা'আলার সাথে কথোপকথন করবেন
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ اللهِ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ : ثَلَاثَةٌ يَتَحَدَّثُوْنَ فِي ظِلَّ الْعَرْشِ آمِنِيْنَ وَالنَّاسُ فِي الْحِسَابِ : رَجُلٌ لَمْ تَأْخُذُهُ فِي اللَّهِ لَوْمَةَ لائِمٍ، وَرَجُلٌ لَمْ مَدَّ يَدَيْهِ إِلَّا مَا لَا يَحِلُّ لَهُ ، وَرَجُلٌ لَا يَنْظُرُ إِلَى مَا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ».
হযরত সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ বিন ওমর রাদিআল্লাহ আনহু হতে বর্ণিত, নবীয়ে করীম, রাউফুর রহীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তিন ব্যক্তি আরশের ছায়ায় নিরাপদে আল্লাহ আয্যা ওয়াজাল্লার সাথে বাক্যলাপ করবে। যখন লোকদের হিসাব-নিকাশ হতে থাকবে। ১. ঐ ব্যক্তি, যে আল্লাহ তা'আলার সাথে সম্পর্কিত কার্যাবলী সম্পাদনে নিন্দুকের নিন্দার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেনি, ২. ঐ ব্যক্তি, যে আপন হাতকে তার জন্য হালাল ঘোষিত জিনিস ব্যতীত অন্য দিকে প্রসারিত করেনি, ৩. ঐ ব্যক্তি, যে আল্লাহ তা'আলার হারামকৃত বস্তুর দিকে দৃষ্টিপাত করেনি।
টিকাঃ
১. বুখারী শরীফ, কিতাবুল আযান, باب من حلس في المسجد ...الخ পৃষ্ঠা: ৫৩, হাদিস: ৬৬০। তৃতীয় গুণ তথা- ورحل تعلم في صغره فهو يتلوه في كبره অনুল্লিখিত, কারণ এটি আল্লামা সুয়ূতী স্বীয় সনদে বর্ণনা করেছেন।
📄 দ্বিতীয় গুণের দলিল : দরবারে ইলাহীর নৈকট্য ধন্য বান্দা
হযরত সায়্যিদুনা সালমান ফারসী রাদিআল্লাহ আনহু হতে বর্ণিত, আল্লাহর হাবীব, হাবীবে লাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, দুনিয়ায় সাধনা ও খোদাভীরুতা অবলম্বনকারী ব্যক্তি কাল (কিয়ামত দিবসে) আল্লাহ তা'আলার নিকটে থাকবেন। লেখক বলেন, এ হাদিসে আরশের ছায়া প্রাপ্তদের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে।
টিকাঃ
১. কানযুল উম্মাল, কিতাবুল মওয়ায়েজ ওয়ার রিকাক, খন্ড: ১৫, পৃষ্ঠা: ৩৪৫, হাদিস: ৪৩২৪৬
২. আল-জামে আস্-সগীর, পৃষ্ঠা: ২১৯, হাদিস: ৩৫৯৭
📄 তৃতীয় গুণের দলিল : মিশক ও আম্বরের পর্বতে থাকবেন
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهُ الله قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : يُقَالُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَيْنَ الَّذِينَ كَانُوا يَنْزَهُوْنَ أَنْفُسَهُمْ وَأَسْمَاعَهُمْ عَنِ اللَّهْوِ وَمَزَامِيرِ الشَّيَاطِينِ اِجْعَلُوْهُمْ فِي رِيَاضِ المِسْكِ ثُمَّ يَقُوْلُ لِلْمَلائِكَةِ أَسْمَعُوْهُمْ حَمْدِى وَثَنَاءِي عَلَى وَاخْبِرُوْهُمْ أَلَا خَوْفٌ عَلَيْهُمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُوْنَ».
হযরত সায়্যিদুনা জাবির বিন আবদুল্লাহ রাদিআল্লাহ আনহু হতে বর্ণিত, হুযুর নবীয়ে পাক, সাহিবে লাওলাক, সিয়্যাহে আফলাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: আল্লাহ তা'আলা কিয়ামত দিবসে ইরশাদ করবেন, কোথায় ঐ সব লোক, যারা নিজেদেরকে কর্ণ-চক্ষুকে অশ্লীলতা ও শয়তানের বাদ্যযন্ত্র থেকে পবিত্র রাখতো? তাদেরকে মিশকের উদ্যানে স্থান করে দাও। অতঃপর ফিরিশতাদেরকে নির্দেশ দিবেন, তাদেরকে আমার প্রশংসা ও গুণকীর্তন করে শুনাও। আর তাদেরকে সংবাদ দাও যে, তাদের না কোন ভয় রয়েছে, না তারা বিষণ্ণ হবে।
টিকাঃ
৩. ইবনুল মুবারক, কিতাবুয যহুদ, বাবু ইস্তিমায়িল লাহব খন্ড ৪, পৃষ্ঠা: ১২, হাদিস: ৪৩