📄 আসমানে প্রসিদ্ধি লাভকারী
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهِ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ : «أَهْلُ الْجُوْعِ فِي الدُّنْيَا هُمُ الَّذِينَ يَقْبِضُ اللَّهُ أَرْوَاحَهُمْ وَهُمُ الَّذِينَ إِذَا غَابُوا لَمْ يَفْتَقِدُوْا وَإِنْ شَهِدُوا لَمْ يَحْضُرُوا أَخْفِيَاءٌ فِي الدُّنْيَا مَعْرُوْفِينَ فِي السَّمَاءِ إِذَا رَآهُمُ الْجَاهِلُ ظَنَّ أَنَّ بِهِمْ سَقَمْ وَمَا بِهِمْ سَقَمٌ إِلَّا الْخَوْفُ مِنَ اللَّهِ يَسْتَظِلَّوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظله».
হযরত আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, আল্লাহর মাহবুব, দানায়ে গুয়ূব, মুনায্যাহুন আনিল উয়ূব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ ফরমান: দুনিয়ায় ক্ষুধার্ত থাকা লোকদের রূহ (আত্মা) সমূহকে আল্লাহ তা'আলা বন্ধ করে রাখেন। তাদের অবস্থা এরূপ হয়ে যায় যে, তারা অদৃশ্য হয়ে গেলে তালাশ করা যায় না। আর উপস্থিত থাকলেও তাদের পরিচয় লাভ করা যায় না। দুনিয়ায় তারা গোপন হয়; কিন্তু আসমানে তাদের প্রসিদ্ধির ঢংকা বাজে। যখন মূর্খ ও জ্ঞানহীন ব্যক্তিরা তাদের দেখে, তখন তাদেরকে ব্যধিগ্রস্থ মনে করে, অথচ তাদের কোন রোগই থাকে না বরং তারা আল্লাহ তা'আলার ভয়ে কম্পমান থাকেন। কিয়ামতের দিন এসব লোক আরশের ছায়ায় থাকবেন, যেদিন কোন ছায়া থাকবে না।'
উক্ত হাদিসের একটি দলিল (শাহিদ) হল তাই, যা হযরত সায়ি্যদুনা মু'য়াজ বিন জাবাল রাদিআল্লাহু আনহু হতে মরফু' সূত্রে বর্ণিত যে, আল্লাহ তা'আলার সর্বাধিক নৈকট্য ধন্য ঐ ব্যক্তিই হবেন, যিনি দুনিয়ায় দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ক্ষুধা, পিপাসা ও ভয়ের পরীক্ষায় থাকেন। আর তিনি নির্দোষ ও দুনিয়াবাসীর নিকট এরূপ গোপন থাকেন যে, উপস্থিত থাকলে তাকে চেনা যায় না আর অনুপস্থিত থাকলে তার অনুসন্ধান করা হয় না। (গ্রন্থকার বলেন) এ হাদিসে আরশের ছায়াপ্রাপ্তদের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
টিকাঃ
১. ইবনুল মুবারক: কিতাবুয যুহুদ, باب نوبة داؤد ...الخ খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৬১, হাদিস: ৪৭১
১. আল-ফেরদৌস বি মা'সুরিল খিতাব, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা ২৩৫, হাদিস: ১৬৫৯
২. মুসনাদুল হারেস, কিতাবুস সিয়া باب فضل الصوم খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৪৩২, হাদিস: ৩৪৭
📄 আল্লাহ তা'আলার প্রিয় বান্দা
قَالَ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ : «أَحَبُّ الْعِبَادِ إِلَى اللهِ تَعَالَى الانْقِيَاءُ الأَخْفِيَاءَ الَّذِينَ إِذَا غَابُوا لَمْ يَفْتَقِدُوْا وَإِذَا شَهِدُوا لَمْ يَعْرِفُوْا أُوْلَئِكَ هُمْ أَئِمَّةُ الهُدَى وَمَصَابِيحُ الْعِلْمِ».
হযরত সায়্যিদুনা মু'আয বিন জাবাল রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, আমি, হুসনে আহলাকের পায়কর, মাহবুবে রাব্বে আকবর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছি, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলার প্রিয় বান্দা হলো তারাই, যারা খোদাভীরু এবং লোকদের থেকে এমন গোপন থাকে যে, অনুপস্থিতিতে তার খোঁজ নেয়া হয় না আর উপস্থিত থাকলেও চেনা যায় না, অথচ তারা হিদায়তের ইমাম ও জ্ঞানের প্রদীপ হয়ে থাকে।'
📄 সন্তানদেরকে প্রিয় নবীর ভালবাসা শিক্ষা দাও
عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : «أَدَّبِوا أَوْلَادَكُمْ عَلَى ثَلَاثُ خِصَالٍ : حُبُّ نَبِيِّكُمْ ، وَحُبَّ أَهْلِ بِيْتِهِ، وَقَرَاءَةُ الْقُرْآنِ، فَإِنَّ حَمْلَةُ الْقُرْآنِ فِي ظِلَّ اللَّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ مَعَ أَنْبِيَائِهِ وَأَصْفِيَائِهِ».
আমীরুল মু'মিনীন হযরত সায়্যিদুনা আলী বিন আবি ত্বালিব রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, শাহীন শাহে মদীনা, কুরারে কূলব ওয়া সীনা, ফয়যে গুজীনা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: তোমাদের সন্তানদেরকে তিনটি গুণের শিক্ষা দাও ১. তোমাদের নবীর ভালবাসা ২. তাঁর আহলে বাইত তথা নবী পরিবারের ভালবাসা ৩. কুরআনে পাকের তিলাওয়াত। কেননা, কুরআনে পাকের তিলাওয়াতকারী ব্যক্তি সম্মানিত নবী ও সূফীদের সাথে আল্লাহর রহমতের ছায়ায় থাকবে। যেদিন এটা ছাড়া অন্য কোন ছায়া থাকবে না।
লেখক বলেন, আমি অত্র হাদীসে পাকের সমর্থনে এক উৎকৃষ্ট দলিল (শাহিদ) পেয়েছি। আর তা হল-
📄 শৈশব থেকে বৃদ্ধকাল পর্যন্ত কুরআনের তিলাওয়াত
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهِ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ فِي ظِلَّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ الْإِمَامُ الْعَادِلُ وَرَجُلٌ تَعَلَّمَ فِي صِغَرِهِ فَهُوَ يَتْلُوهُ فِي كِبَرِهِ وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقٌ فِي الْمَسَاجِدِ وَرَجُلَانِ تَحَابًا فِي اللَّهِ اجْتَمَعَا عَلَيْهِ وَتَفَرَّقَا عَلَيْهِ وَرَجُلٌ طَلَبَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ مَنْصِبٍ وَجَمَالٍ فَقَالَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ أَخْفَى حَتَّى لَا تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللَّهُ خَالِيًا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ».
সায়্যিদুনা আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহ আনহু হতে বর্ণিত, সরকারে মদীনা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা সাত ব্যক্তিকে ঐ দিন স্বীয় আরশের ছায়ায় স্থান দান করবেন। যেদিন এটা ছাড়া অন্য কোন ছায়া থাকবে না। ১. ন্যায় পরায়ন শাসক, ২. ঐ ব্যক্তি, যে শৈশবকালে কুরআন শরীফ শিক্ষা নেয় এবং বৃদ্ধকাল পর্যন্ত তা তিলাওয়াত করে, ৩. ঐ ব্যক্তি, যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকে, ৪. ঐ দু'ব্যক্তি, যারা পরস্পর আল্লাহর উদ্দেশ্যে ভালবাসে আর এ কারণে মিলিত ও পৃথক হয়, ৫. ঐ ব্যক্তি, যার নিকট কোন বংশীয়া ও রূপবতী রমনী (মন্দকর্মের) অভিপ্রায় পেশ করে, আর সে বলে, "আমি আল্লাহকে ভয় করি", ৬. ঐ ব্যক্তি, যে এরূপ চুপিসারে দান করে যে, ডান হাতের ব্যয় বামহাতও পরিজ্ঞাত হয় না এবং ৭. ঐ ব্যক্তি, যে নির্জনে আল্লাহর জিকির করে আঁখিদ্বয়ে অশ্রু প্রবাহ করে।'
আল্লামা সুয়ূতী বলেন, এ হাদীসে বর্ণিত দ্বিতীয় গুণের স্থানে বুখারী শরীফে নিম্নোক্ত শব্দাবলী রয়েছে, "ঐ যুবক যে আল্লাহ তা'আলার ইবাদতে ব্যাপৃত ছিল।"
টিকাঃ
১. হিলয়াতুল আউলিয়া, মুকাদ্দামাতুল কিতাব, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১২
২. আল-জামে আস্-সগীর, পৃষ্ঠা: ২৫, হাদিস: ৩১১