📄 ষষ্ঠ হাদিস :সর্ব প্রথম আরশের ছায়া প্রাপ্ত ব্যক্তি
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ : أَتَدْرُونَ مَنْ السَّابِقُونَ إِلَى ظِلَّ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ : الَّذِينَ إِذَا أُعْطُوا الحَقَّ قَبِلُوهُ وَإِذَا سُئِلُوهُ بَذَلُوهُ وَحَكَمُوا لِلنَّاسِ كَحُكْمِهِمْ لِأَنْفُسِهِمْ».
উম্মুল মু'মিনীন সায়্যিদাতুনা আয়েশা ছিদ্দীকা রাদিআল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুযূর নবীয়ে পাক সাহিবে লাওলাক সিয়্যাহে আফলাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কিরামদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কি জান, কিয়ামত দিবসে কারা আরশের ছায়ালাভে অগ্রগামী হবে? সাহাবায়ে কিরাম রাদিআল্লাহু আনহুম বললেন, আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসূলই ভাল জানেন। অতপর তিনি ইরশাদ করলেন। ঐসব ব্যক্তি, যাদের সামনে সত্য বিষয় পেশ করা হলে গ্রহণ করে নেয়, যাদের নিকট কিছু চাওয়া হলে দান করে এবং যারা অন্যদের ব্যাপারেও নিজের মত ফয়সালা করে।'
টিকাঃ
*. তাবারানী: আল-মু'জামুল আওসাত, খন্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ৩৭, হাদিস: ৬৫০৬
📄 সপ্তম হাদিস : জানাযার নামায পড়া
عَنْ أَبِي ذَرِّ الله قَالَ : قَالَ لِي رَسُوْلُ اللهِ ﷺ : .... وَصَلِّ عَلَى الْجَنَائِزِ لَعَلَّ ذَلِكَ يَحْزُنُكَ فَإِنَّ الْحَزِيْنَ فِي ظِلُّ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
হযরত সায়্যিদুনা আবু যর গিফারী রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে নবীয়ে মুকাররাম, নূরে মুজাসসাম, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা জানাযার নামায পড়ো, এই নামাজ তোমাদেরকে চিন্তাযুক্ত করবে। আর চিন্তাযুক্ত ব্যক্তি কিয়ামত দিবসে আল্লাহর আরশের ছায়ায় থাকবে।
📄 অষ্টম হাদিস : ন্যায়পরায়ণ শাসকের সাথে প্রতারণার ক্ষতি
عَنْ أَبِي رَجَاءِ الْعَطَارَدِي قَالَ سَمِعْتُ أَبَا بَكَرٍ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ يَقُوْلُ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ : الْوَالِيُّ الْعَادِلُ الْمُتَوَاضِعُ ظِلُّ اللَّهِ وَرِيحُهُ فِي الْأَرْضِ فَمَنْ نَصَحَهُ فِي نَفْسِهِ وَفِي عِبَادِ اللَّهِ حَشَرَهُ اللَّهُ فِي وَفْدِهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلا ظِلُّهُ وَمَنْ غَشَّهُ فِي نَفْسِهِ وَفِي عِبَادِ اللَّهِ خَذَلَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
হযরত আবু রজা 'আতারাদী বলেন, আমি আমীরুল মু'মিনীন হযরত সায়্যিদুনা আবু বকর সিদ্দীক রাদিআল্লাহু আনহুকে মিম্বরে দাড়িয়ে খুতবা (ভাষণ) দান কালে ইরশাদ করতে শুনেছি যে, আমি নূরের পায়কর, নবীয়োকি সরওয়ার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছি, ন্যায়- ইনসাফকারী বিনয়ী বাদশাহ পৃথিবীতে আল্লাহর (রহমতের) ছায়া ও হাতিয়ার স্বরূপ। সুতরাং যে ব্যক্তি ঐ বাদশাহকে তার এবং আল্লাহর বান্দাদের ব্যাপারে উপকারী পরামর্শ দেয়, আল্লাহ তা'আলা তার হাশর স্বীয় রহমতের ছায়ায় করবেন। আর যে ব্যক্তি ঐ বাদশাহকে তার ও আল্লাহর বান্দাদের ব্যাপারে ধোঁকা দিবে, আল্লাহ আয্যা ওয়াজাল্লা কিয়ামতের দিন তাকে লাঞ্চিত করবেন।'
টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমদ: মুসনাদে আয়েশা, খন্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৩৩৬, হাদিস: ২৪৪৩৩
২. হাকেম: আল-মুসতাদরিক, কিতাবুর রেকাক, খন্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ৪৭০, হাদিস: ৮০১১
📄 নবম হাদিস : শিশুর মৃত্যুতে ধৈর্য ধারণের প্রতিদান
١ - عَنْ أَبِي بَكْرِ الصِّدِّيقِ * أَنَّ مُوسَى بْنَ عِمْرَانَ الله قَالَ : يَا رَبِّ .. فَمَا لَمِنْ عَزَّى تَكْلَى ؟ قَالَ : «أَظَلَّهُ بِظِلَّي يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلِّي».
১. আমীরুল মু'মিনীন হযরত সায়্যিদুনা আবু বকর সিদ্দীক রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত সায়্যিদুনা মুসা বিন ইমরান আলাহিস্ সালাম আল্লাহ আযযা ওয়াজাল্লার দরবারে আরয করলেন, হে আমার প্রভূ! যে সন্তান হারানোর শোকে প্রবোধ দেয়, তার প্রতিদান কি? আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করলেন, আমি তাকে আমার রহমতের ছায়ায় ঐ দিন স্থান দেব, যে দিন এটা ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না।
٢ - عَنْ أَبِي بَكْرِ الصِّدِّيقِ وَعِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنِ الله عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ : قَالَ مُوسَى بْنِ عِمْرَانَ اللهُ لِرَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ : مَا جَزَاءُ مَنْ عَزَّى تَكْلَى؟ قَالَ : «أَجْعَلُهُ بِظِلِّي يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلِّي».
২. অপর বর্ণনায় রয়েছে আমীরুল মু'মিনীন হযরত সায়্যিদুনা আবু বকর সিদ্দীক ও সায়্যিদুনা ইমরান বিন হুসাইন রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, সায়্যিদুল মুবাল্লিগীন, রাহমাতুল্লিল আলামীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, হযরত মূসা আলাইহিস সালাম স্বীয় প্রতিপালকের দরবারে আরয করলেন, হে আমার প্রতিপালক! যে মহিলা তাদের শিশুদের মৃত্যুতে ধৈর্য ধারণ করে, তাদের বিনিময় কি? আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করলেন। আমি তাকে নিজ আরশের ছায়ায় রাখবো, যেদিন এটা ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না।
৩. অন্য এক বর্ণনা এরূপ রয়েছে যে, হযরত সায়্যিদুনা হাসান রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, হযরত সায়ি্যদুন মূসা আলাইহিস সালাম মহান প্রভূর দরবারে আরয করলেন, হে আমার প্রতিপালক! যেসব নারী তাদের বাচ্চাদের মৃত্যুতে ধৈর্য ধারণ করে তাদের পুরস্কার কি? আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করলেন, আমি তাদেরকে আমার রহমতের ছায়ায় ঐ দিন স্থান দেব, যেদিন অন্য কোন ছায়া থাকবে না।