📘 আরশের ছায়ায় থেকেছে যাদের কায়া > 📄 পঞ্চম হাদিস : উত্তম স্বভাব রহমতের ছায়ায় থাকবে

📄 পঞ্চম হাদিস : উত্তম স্বভাব রহমতের ছায়ায় থাকবে


হযরত সায়্যিদুনা আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস্ সালামের নিকট এ মর্মে ওহী প্রেরণ করলেন যে, হে আমার খলীল (বন্ধু)! উত্তম আচরণের অনুগামী হও, যদিও (তোমার আচরণ করাটা) কাফিরদের সাথে হয়।' পূণ্য কর্মে প্রবেশিত হয়ে যাও, আর নিশ্চয় আমি এ কথা লিখে দিয়েছি যে, যে নিজের চরিত্রকে পরিশুদ্ধ করেছে, তাকে আমার আরশের ছায়ায় স্থান দেব এবং হাযীরাতুল কুদ্‌স্স তথা জান্নাত দান করব এবং আমার করুণার স্রোতের নৈকট্য ধন্যদের সান্নিধ্য দান করব।'

টিকাঃ
১. কাফিরদের সাথে উত্তম আচরণ করা কুফরী, তবে কাফিরদের সাহায্য-সহযোগিতা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যতীত অন্যান্য আচরণের ক্ষেত্রে যেমন- মুশরিক প্রতিবেশীর অধিকার আদায় এবং কাফির পিতার কুফরিহীন বিষয় মান্য করা বৈধ। অন্যথায় কাফিরদের সাথে মেলামেশা করা অবৈধ ও হারাম। যেমনিভাবে সায়্যিদী-আ'লা হযরত ইমামে আহলে সুন্নাত ইমাম আহমদ রেজা খান বলেন, কুরআনে পাকের অসংখ্য আয়াতে সকল কাফিরদের সাথে মুয়ালাত (তথা মেলামেশা, পরস্পর ঐক্যবদ্ধতা ও বন্ধুত্ব) অকাট্যভাবে হারাম ঘোষিত হয়েছে, তা হয় মজুসী (অগ্নিপূজক) হোক, ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টান হোক কিংবা হিন্দু হোক। আর তাদের মধ্যে সবচেয়ে জঘন্য হল মুরতাদানে উন্‌দ তথা সত্য দ্বীনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারী ধর্ম ত্যাগী ব্যক্তি। (ফতোয়ায়ে রেযভীয়া, খন্ড-২৪, পৃষ্ঠা-২৭৩) হ্যাঁ, পার্থিব লেনদেন যেমন, ক্রয়-বিক্রয় ইত্যাদিতে (শর্ত সাপেক্ষে), যা দ্বারা ধর্মীয় ব্যপারে অসুবিধা না হয় এসব ক্ষেত্রে মুরতাদ ব্যতীত অন্য কারো সাথে লেনদেন নিষেধ নয়। (ফতোয়ায়ে রেযভিয়া, খন্ড ২৪, পৃষ্ঠা ৩২১ সংক্ষেপিত) বিস্তারিত জানতে ফতোয়ায়ে রেযভিয়া শরীফের উল্লেখিত অংশটি অধ্যয়ন করুন।

📘 আরশের ছায়ায় থেকেছে যাদের কায়া > 📄 ষষ্ঠ হাদিস :সর্ব প্রথম আরশের ছায়া প্রাপ্ত ব্যক্তি

📄 ষষ্ঠ হাদিস :সর্ব প্রথম আরশের ছায়া প্রাপ্ত ব্যক্তি


عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ : أَتَدْرُونَ مَنْ السَّابِقُونَ إِلَى ظِلَّ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ : الَّذِينَ إِذَا أُعْطُوا الحَقَّ قَبِلُوهُ وَإِذَا سُئِلُوهُ بَذَلُوهُ وَحَكَمُوا لِلنَّاسِ كَحُكْمِهِمْ لِأَنْفُسِهِمْ».
উম্মুল মু'মিনীন সায়্যিদাতুনা আয়েশা ছিদ্দীকা রাদিআল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুযূর নবীয়ে পাক সাহিবে লাওলাক সিয়্যাহে আফলাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কিরামদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কি জান, কিয়ামত দিবসে কারা আরশের ছায়ালাভে অগ্রগামী হবে? সাহাবায়ে কিরাম রাদিআল্লাহু আনহুম বললেন, আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসূলই ভাল জানেন। অতপর তিনি ইরশাদ করলেন। ঐসব ব্যক্তি, যাদের সামনে সত্য বিষয় পেশ করা হলে গ্রহণ করে নেয়, যাদের নিকট কিছু চাওয়া হলে দান করে এবং যারা অন্যদের ব্যাপারেও নিজের মত ফয়সালা করে।'

টিকাঃ
*. তাবারানী: আল-মু'জামুল আওসাত, খন্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ৩৭, হাদিস: ৬৫০৬

📘 আরশের ছায়ায় থেকেছে যাদের কায়া > 📄 সপ্তম হাদিস : জানাযার নামায পড়া

📄 সপ্তম হাদিস : জানাযার নামায পড়া


عَنْ أَبِي ذَرِّ الله قَالَ : قَالَ لِي رَسُوْلُ اللهِ ﷺ : .... وَصَلِّ عَلَى الْجَنَائِزِ لَعَلَّ ذَلِكَ يَحْزُنُكَ فَإِنَّ الْحَزِيْنَ فِي ظِلُّ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
হযরত সায়্যিদুনা আবু যর গিফারী রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে নবীয়ে মুকাররাম, নূরে মুজাসসাম, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা জানাযার নামায পড়ো, এই নামাজ তোমাদেরকে চিন্তাযুক্ত করবে। আর চিন্তাযুক্ত ব্যক্তি কিয়ামত দিবসে আল্লাহর আরশের ছায়ায় থাকবে।

📘 আরশের ছায়ায় থেকেছে যাদের কায়া > 📄 অষ্টম হাদিস : ন্যায়পরায়ণ শাসকের সাথে প্রতারণার ক্ষতি

📄 অষ্টম হাদিস : ন্যায়পরায়ণ শাসকের সাথে প্রতারণার ক্ষতি


عَنْ أَبِي رَجَاءِ الْعَطَارَدِي قَالَ سَمِعْتُ أَبَا بَكَرٍ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ يَقُوْلُ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ : الْوَالِيُّ الْعَادِلُ الْمُتَوَاضِعُ ظِلُّ اللَّهِ وَرِيحُهُ فِي الْأَرْضِ فَمَنْ نَصَحَهُ فِي نَفْسِهِ وَفِي عِبَادِ اللَّهِ حَشَرَهُ اللَّهُ فِي وَفْدِهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلا ظِلُّهُ وَمَنْ غَشَّهُ فِي نَفْسِهِ وَفِي عِبَادِ اللَّهِ خَذَلَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
হযরত আবু রজা 'আতারাদী বলেন, আমি আমীরুল মু'মিনীন হযরত সায়্যিদুনা আবু বকর সিদ্দীক রাদিআল্লাহু আনহুকে মিম্বরে দাড়িয়ে খুতবা (ভাষণ) দান কালে ইরশাদ করতে শুনেছি যে, আমি নূরের পায়কর, নবীয়োকি সরওয়ার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছি, ন্যায়- ইনসাফকারী বিনয়ী বাদশাহ পৃথিবীতে আল্লাহর (রহমতের) ছায়া ও হাতিয়ার স্বরূপ। সুতরাং যে ব্যক্তি ঐ বাদশাহকে তার এবং আল্লাহর বান্দাদের ব্যাপারে উপকারী পরামর্শ দেয়, আল্লাহ তা'আলা তার হাশর স্বীয় রহমতের ছায়ায় করবেন। আর যে ব্যক্তি ঐ বাদশাহকে তার ও আল্লাহর বান্দাদের ব্যাপারে ধোঁকা দিবে, আল্লাহ আয্যা ওয়াজাল্লা কিয়ামতের দিন তাকে লাঞ্চিত করবেন।'

টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমদ: মুসনাদে আয়েশা, খন্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৩৩৬, হাদিস: ২৪৪৩৩
২. হাকেম: আল-মুসতাদরিক, কিতাবুর রেকাক, খন্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ৪৭০, হাদিস: ৮০১১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00