📄 প্রথম হাদিস : ক্ষুধার্তকে খাওয়ানোর প্রতিদান
হযরত সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নূরে পায়কর, তাজেদারে বাহরো বার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন ক্ষুধার্তকে খাবার খাওয়ায়, আল্লাহ তা'আলা তাকে আরশের ছায়ায় স্থান দান করবেন।
📄 তৃতীয় হাদিস : বুদ্ধিহীনকে সাহায্য করার ফযিলত
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ﷺ قَالَ : أَشْهَدُ عَلَى حُبِّي ﷺ لَسَمِعْتُهُ يَقُولُ : يَظِلُّ اللَّهُ فِي ظِلَّ عَرْشِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا، أَوْ أَعَانَ أَخْرَقَ».
হযরত সায়্যিদুনা জাবের বিন আবদুল্লাহ রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এ কথার সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি হুসনে আখলাকের পায়কর, নবীদের তাজওয়ার, মাহবুবে রাব্বিল আকবর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা'আলা ঐ ব্যক্তিকে কিয়ামতের দিন তাঁর আরশের ছায়ায় স্থান দান করবেন, যে কর্জদারকে বর্ধিত সময়ের অবকাশ দেয় অথবা কোন বুদ্ধিহীনকে সাহায্য করে।
📄 পঞ্চম হাদিস : উত্তম স্বভাব রহমতের ছায়ায় থাকবে
হযরত সায়্যিদুনা আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস্ সালামের নিকট এ মর্মে ওহী প্রেরণ করলেন যে, হে আমার খলীল (বন্ধু)! উত্তম আচরণের অনুগামী হও, যদিও (তোমার আচরণ করাটা) কাফিরদের সাথে হয়।' পূণ্য কর্মে প্রবেশিত হয়ে যাও, আর নিশ্চয় আমি এ কথা লিখে দিয়েছি যে, যে নিজের চরিত্রকে পরিশুদ্ধ করেছে, তাকে আমার আরশের ছায়ায় স্থান দেব এবং হাযীরাতুল কুদ্স্স তথা জান্নাত দান করব এবং আমার করুণার স্রোতের নৈকট্য ধন্যদের সান্নিধ্য দান করব।'
টিকাঃ
১. কাফিরদের সাথে উত্তম আচরণ করা কুফরী, তবে কাফিরদের সাহায্য-সহযোগিতা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যতীত অন্যান্য আচরণের ক্ষেত্রে যেমন- মুশরিক প্রতিবেশীর অধিকার আদায় এবং কাফির পিতার কুফরিহীন বিষয় মান্য করা বৈধ। অন্যথায় কাফিরদের সাথে মেলামেশা করা অবৈধ ও হারাম। যেমনিভাবে সায়্যিদী-আ'লা হযরত ইমামে আহলে সুন্নাত ইমাম আহমদ রেজা খান বলেন, কুরআনে পাকের অসংখ্য আয়াতে সকল কাফিরদের সাথে মুয়ালাত (তথা মেলামেশা, পরস্পর ঐক্যবদ্ধতা ও বন্ধুত্ব) অকাট্যভাবে হারাম ঘোষিত হয়েছে, তা হয় মজুসী (অগ্নিপূজক) হোক, ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টান হোক কিংবা হিন্দু হোক। আর তাদের মধ্যে সবচেয়ে জঘন্য হল মুরতাদানে উন্দ তথা সত্য দ্বীনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারী ধর্ম ত্যাগী ব্যক্তি। (ফতোয়ায়ে রেযভীয়া, খন্ড-২৪, পৃষ্ঠা-২৭৩) হ্যাঁ, পার্থিব লেনদেন যেমন, ক্রয়-বিক্রয় ইত্যাদিতে (শর্ত সাপেক্ষে), যা দ্বারা ধর্মীয় ব্যপারে অসুবিধা না হয় এসব ক্ষেত্রে মুরতাদ ব্যতীত অন্য কারো সাথে লেনদেন নিষেধ নয়। (ফতোয়ায়ে রেযভিয়া, খন্ড ২৪, পৃষ্ঠা ৩২১ সংক্ষেপিত) বিস্তারিত জানতে ফতোয়ায়ে রেযভিয়া শরীফের উল্লেখিত অংশটি অধ্যয়ন করুন।
📄 ষষ্ঠ হাদিস :সর্ব প্রথম আরশের ছায়া প্রাপ্ত ব্যক্তি
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ : أَتَدْرُونَ مَنْ السَّابِقُونَ إِلَى ظِلَّ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ : الَّذِينَ إِذَا أُعْطُوا الحَقَّ قَبِلُوهُ وَإِذَا سُئِلُوهُ بَذَلُوهُ وَحَكَمُوا لِلنَّاسِ كَحُكْمِهِمْ لِأَنْفُسِهِمْ».
উম্মুল মু'মিনীন সায়্যিদাতুনা আয়েশা ছিদ্দীকা রাদিআল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুযূর নবীয়ে পাক সাহিবে লাওলাক সিয়্যাহে আফলাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কিরামদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কি জান, কিয়ামত দিবসে কারা আরশের ছায়ালাভে অগ্রগামী হবে? সাহাবায়ে কিরাম রাদিআল্লাহু আনহুম বললেন, আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসূলই ভাল জানেন। অতপর তিনি ইরশাদ করলেন। ঐসব ব্যক্তি, যাদের সামনে সত্য বিষয় পেশ করা হলে গ্রহণ করে নেয়, যাদের নিকট কিছু চাওয়া হলে দান করে এবং যারা অন্যদের ব্যাপারেও নিজের মত ফয়সালা করে।'
টিকাঃ
*. তাবারানী: আল-মু'জামুল আওসাত, খন্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ৩৭, হাদিস: ৬৫০৬