📘 আরশের ছায়ায় থেকেছে যাদের কায়া > 📄 মূল প্রতিপাদ্য বিষয়ের অবতারণা

📄 মূল প্রতিপাদ্য বিষয়ের অবতারণা


প্রসিদ্ধ হাদিসে পাক সমূহের মধ্যে এমন সাতজন সৌভাগ্যবানদের বর্ণনা উল্লেখ আছে, যাদেরকে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় আরশের ছায়া দান করবেন এবং শায়খ আবু শামাও তাদের বর্ণনা তাঁর প্রতি দুটি পংক্তিতে করেছেন।
দীর্ঘকাল ধরে মাশায়েখগণ এ ব্যাপারে আলোচনা ও গবেষণা করতে ছিলেন যে, ঐ সাতজন ব্যতীত কোন অষ্টম ব্যক্তিরও কি আরশের ছায়া নসীব হবে, নাকি হবে না? শায়খুল ইসলাম আবুল ফযল ইমাম ইবনে হাজর রাহমতুল্লাহি আলাইহি এই সাত ব্যক্তির সাথে ঐ সব লোকদেরকেও সংযুক্ত করেছেন যাদের বর্ণনা অন্যান্য বিশুদ্ধ হাদিস সমূহে এসেছে এবং তাদেরকেও দুটি পংক্তিতে একত্রিত করেছেন। অতঃপর আরো অনুসন্ধানের পর ঐ সাতের স্থলে দিগুণ তথা চৌদ্দ ব্যক্তি হল। তাদেরকে তিনি চারটি পংক্তিতে একত্রিত করেছেন।
আল্লামা সুয়ূতী রাহমতুল্লাহি আলাইহি বলেনঃ আরশের ছায়াপ্রাপ্তদের ব্যাপারে আমার নিকট আরো অসংখ্য হাদিস রয়েছে। যা বিভিন্ন আমল (কর্ম) ও বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে বর্ণিত। আর ঐ সব ব্যক্তিদের বর্ণনা আমি এ কিতাবে সংকলন করেছি এবং ঐ সব কর্মের পদ্ধতি ও মৌলিক আলোচনা পেশ করেছি। এ সব বর্ণনা দ্বারা শুধু (ঐসব কর্মের প্রতি) উৎসাহই দেয়নি বরং সকল হাদিস সমূহের সাথে সুস্পষ্ট কিংবা ইঙ্গিতসূচক দলিল ও উল্লেখ করেছি। আর এর নাম 'তামহীদুল ফারশ্ ফী খিছালিল মূজিবাতি লিযিল্লীল আরশ' ( আরশের ছায়ার যোগ্য রূপে গঠনকারী কর্মসমূহের বর্ণনা) রেখেছি। আমি আল্লাহর নিকট কল্যাণের সামর্থ ও সরল পথে চলার প্রার্থনা করছি।

📘 আরশের ছায়ায় থেকেছে যাদের কায়া > 📄 মাতা-পিতার আনুগত্য আরশের ছায়া লাভের মাধ্যম

📄 মাতা-পিতার আনুগত্য আরশের ছায়া লাভের মাধ্যম


١. عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ الله قَالَ : إِنَّ مُوسَى لَا قَرَّبَهُ اللهُ نَجِيًّا بِطُورِ سِيْنَاءَ ، أَبْصَرَ عَبْدًا جَالِسًا فِي ظِلَّ الْعَرْشِ ، سَأَلَهُ : أَيْ رَبِّ ، مَنْ هَذَا ؟ فَلَمْ يُنْسِبْهُ ، أَوْ يُسَمُّهُ . قَالَ : هَذَا عَبْدٌ لا يَحْسُدُ النَّاسَ عَلَى مَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ ، بِرٌ بِالْوَالِدَيْنِ ، لَا يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ.
১. হযরত সায়্যিদুনা ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, যখন হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তা'আলা তাঁর সাথে কথোপকথনের সৌভাগ্যদানের জন্য তূর পর্বতে তাঁর নেকট্য দান করলেন, তখন তিনি এক ব্যক্তিকে আরশের ছায়ায় উপবিষ্ট দেখলেন। তখন তিনি আল্লাহ তা'আলার নিকট আবেদন করলেন, হে আমার প্রতিপালক! এ ব্যক্তি কে? বংশ কিংবা নাম নয়। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করলেন, সে হল ঐ বান্দা, যে আল্লাহর দয়ায় বান্দারেকে যেসব নেয়ামত রাজি দান করা হয়েছে তাতে হিংসা করত না, স্বীয় মাতাপিতার সাথে সদাচারণ করত এবং চোগলখোরী করে বেড়াত না।'
. عَنْ عَمَرو ، عَنْ رَجُلٍ ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ : تَعَجَّلَ مُوسَى الي إِلَى رَبَّهِ ..... قَالَ : فَرَأَى فِي ظِلَّ الْعَرْشِ رَجُلاً فَعَجِبَ لَهُ فَقَالَ : مَنْ هَذَا يَا رَبِّ؟ قَالَ : لَا أُحَدِّثُكَ مَنْ هُوَ وَلَكِنْ سَأُخْبِرُكُمْ بِثَلَاثٍ فِيْهِ : كَانَ لَا يَحْسُدُ النَّاسَ عَلَى مَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ ، بِرْ بِالْوَالِدَيْنِ ، لَا يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ».
২. হযরত সায়্যিদুনা আমর রাদিআল্লাহু আনহু কোন সাহাবী হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, হযরত সায়্যিদুনা মূসা আলাইহিস সালাম স্বীয় রবের দিকে নিমগ্ন/ধ্যানমগ্ন হলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তিনি আরশের নীচে এক ব্যক্তিকে উপবেশন অবস্থায় দেখতে পেলেন। আর এতে তিনি আশ্চার্যান্বিত হলেন এবং আরয করলেন, হে আমার প্রতিপালক! এ ব্যক্তি কে? আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করলেন, আমি এটা বলব না যে, এ ব্যক্তি কে, বরং তার তিনটি গুণ সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছি ১. আল্লাহ তা'আলা আপন কৃপায় বান্দাদেরকে যেসব নেয়ামত রাজি দান করেছেন, সে তাতে হিংসা করত না ২. তার মাতাপিতার অবাধ্যচারণ করত না এবং ৩. চোগলখোরী করে বেড়াত না।'
عَنْ أَبِي الْمُخَارِقِ ، قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ ﷺ : مَرَرْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِرَجُلٍ مُغِيْبٍ فِي نُوْرِ الْعَرْشِ ، قُلْتُ مَنْ هَذَا أَهَذَا مَلَكٌ ؟ قِيْلَ : لَا ، قُلْتُ : نَبِيٌّ؟ قِبْلَ: لا : قُلْتُ: مَنْ هُوَ؟ قَالَ : هَذَا رَجُلٌ كَانَ فِي الدُّنْيَا لِسَانُهُ رُطَبٌ مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَقَلْبُهُ مُعلَّقٌ بِالْمَسَاجِدِ وَلَمْ يَتَسَبَّ لِوَالِدَيْهِ».
৩. হযরত আবু মুখরিক রাদিআল্লাহু আনহু হতে মুরসাল সূত্রে বর্ণিত, আল্লাহর প্রিয় মাহবুব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মি'রাজের রাত্রিতে আরশের নূরে গোসলকৃত এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে আমার গমন হয়েছে। আমি বললাম, এ ব্যক্তি কে? কি কোন ফিরিশতা? আরয করা হল, না। আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলাম, কি কোন নবী? বলা হলো, না। তখন আমি বললাম, তাহলে এ ব্যক্তি কে? বলা হলো, এ হল ঐ ব্যক্তি, দুনিয়াতে যার রসনা আল্লাহর যিকিরে সিক্ত থাকতো, যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকতো এবং সে কখনো মাতাপিতার সাথে অসদাচরণ করতো না।'

টিকাঃ
*. কিতাবুদ দোয়া, আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মদ বিন ফুযাইল, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৮০, হাদিস: ১০২
১. হিলয়াতুল আউলিয়া, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা: ১৬৩, হাদিস: ৫১২১
১. বায়হাকী: শুআবুল ঈমান, باب في الإصلاح بين الناس ... الخ খন্ড: ৭, পৃষ্ঠা: ৪৯৭, হাদিস: ১১১১৮
২. আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব, কিতাবুষ যিকরে ওয়াদ্ দোয়া, খন্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৪২, হাদিস: ২৩০০

📘 আরশের ছায়ায় থেকেছে যাদের কায়া > 📄 মাগরিবের পর দু'রাকাত নফল নামায আদায়ের ফযীলত

📄 মাগরিবের পর দু'রাকাত নফল নামায আদায়ের ফযীলত


۱. عَنْ عَلِيٌّ مَرْفُوعًا ، مَنْ صَلَّى رَكَعَتَيْنِ بَعْدَ رَكَعَتَيِ الْمُغْرِبِ قَرَأَ فِي كُلِّ رَكْعَةِ الْفَائِحَةَ وَقُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ خَمْسُ عَشْرَةَ مَرَّةً جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَلَا يَحْجُبُ حَتَّى يَنْتَهِي إِلَى ظِلَّ الْعَرْشِ.
১. আমীরুল মু'মিনীন সায়্যিদুনা আলী বিন আবি তালিব রাদিআল্লাহু আনহু হতে মরফু' সূত্রে বর্ণিত, সরকারে মদীনা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি মাগরিবের নামাযের পর দুই রাকাআত নামায আদায় করে এবং প্রত্যেক রাকাআতে সূরা ফাতিহার পর পনের বার সূরা ইখলাছ পাঠ করে, সে কিয়ামতের দিন এভাবে আগমন করবে যে, তার সামনে কোন প্রতিবন্ধক পর্দা থাকবে না। এমনকি সে আরশের ছায়ায় পৌছে যাবে।'
২. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ : الشُّهَدَاءُ عِنْدَ اللَّهِ عَلَى مَنَابِرٍ مِّنْ يَاقُوْتٍ فِي ظِلٍّ عَرْشِ اللَّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ».
২. হযরত সায়্যিদুনা আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তাজেদারে রিসালত, শাহীনশাহে নবুয়ত, মাহবুবে রাব্বুল ইয্যত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফরমান: শহীদগণ আল্লাহ তা'আলার সান্নিধ্যে ইয়াকুত নির্মিত মিম্বরে আরশের ছায়ায় থাকবে, যে দিন তার আরশের ছায়া ছাড়া কোন ছায়া থাকবে না।'
মোতির চেয়ার সমূহ
عَنْ خَيْثَمَةَ قَالَ : قِيْلَ لِعَبْدِ اللهِ بِنْ عَمَرِهِ : إِنَّ ابْنَ مَسْعُودٍ ، يَقُولُ: إِنَّ الرَّجُلَ لَيَسْبَحُ فِي عِرْقِهِ حَتَّى يَبْلُغُ أَنْفُهُ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بِنْ عُمَرَو : إِنَّ لِلْمُؤْمِنِينَ كَرَاسِي مِنْ لُؤْلُوْ يَجْلِسُونَ عَلَيْهَا، وَيَظْلِلُ عَلَيْهِمْ بِالْغَمَامَ، وَيَكُوْنُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَيْهِمْ كَسَاعَةٍ مِّنْ نَهَارٍ أَوْ كَأَحَدٍ طَرْفَيْهِ.
হযরত হায়ছমা রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, হযরত সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ বিন আমর রাদিআল্লাহু আনহুকে বলা হয়েছে যে, হযরত সায়্যিদুনা আব্দুল্লাহ ইবনে মাস'উদ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, কিয়ামতের দিন মানুষ তাদের ঘামে সন্তরণ করবে/সাঁতার কাটবে। এমনকি ঐ ঘাম তাদের নাসিকা পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। তখন হযরত আবদুল্লাহ বিন আমর রাদিআল্লাহু আনহু ইরশাদ করলেন, মু'মিনদের জন্য মোতির অসংখ্য চেয়ার থাকবে, যেগুলোতে তারা উপবিষ্ট হবে। তাদের উপর মেঘের ছায়া দান করা হবে এবং কিয়ামত দিবসটি তাদের জন্য দিনের একটি মুহূর্ত কিংবা একবার চোখের পলক ফেলার সময়ের সমান হবে।'
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمَرِو بْنِ الْعَاصِ بِسَنَدٍ حَسَنٍ عَنْهُ قَالَ : يَشْتَدُّ كُرَبُ ذَلِكَ الْيَوْمِ حَتَّى يَلْجِمُ الْكَافِرُ الْعَرَقُ، قِيلَ لَهُ : فَأَيْنَ الْمُؤْمِنُوْنَ؟ قَالَ عَلَى الْكَرَاسِي مِنْ ذَهَبٍ وَيَظْلِلُ عَلَيْهِمُ الْغَمَامِ.
হযরত সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিআল্লাহু আনহু হতে হাসান সূত্রে বর্ণিত, তিনি ইরশাদ করেন, কিয়ামত দিবসের কষ্ট ও কাঠিন্যতা অত্যাধিক হবে, এমনকি কাফিরদেরকে তাদের ঘাম লাগাম দিয়ে রাখবে। তাকে আরয করা হলো- মু'মিনগণ কোথায় থাকবে? তিনি ইরশাদ করলেন, তারা স্বর্ণের চেয়ার সমূহের উপর থাকবে এবং তাদেরকে মেঘমালা দ্বারা ছায়া দেয়া হবে।'
(লেখক বলেন,) অতঃপর আমি দেখলাম যে, ইমাম ত্বাবরানী স্বীয় কিতাব 'আল কাবীর' এ উক্ত হাদিসে পাকটি মরফু হওয়াটা সুস্পষ্ট করেছেন। যেমন-
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمَرِو له عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ : «تَجْتَمِعُوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، فَيُقَالُ : أَيْنَ فُقَرَاءُ هَذِهِ الأُمَّةِ وَمَسَاكِيْنُهَا ؟ قَالَ : فَيَقُوْمُوْنُ ، فَيُقَالَ هُمْ : مَاذَا عَمِلْتُمْ ؟ فَيَقُوْلُوْنُ : رَبَّنَا إِبْتَلَيْتَنَا فَصَبَرْنَا ، وَآتَيْتَ الْأَمْوَالَ وَالسُّلْطَانَ غَيْرَنَا ، فَيَقُولُ اللَّهُ : صَدَقْتُمْ ، قَالَ : فَيَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ قَبْلَ النَّاسِ ، وَيَبْقَى شِدَّةُ الحِسَابِ عَلَى ذَوِي الأَمْوَالِ وَالسُّلْطَانَ ، قَالُوا : فَأَيْنَ الْمُؤْمِنُونَ يَوْمَئِذٍ ؟ قَالَ : يُوْضَعُ هُمْ كَرَاسِي مِنْ نُوْرٍ ، وَتَظْلِلُ عَلَيْهِمُ الْغَمَامَ.
হযরত সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, আল্লাহর মাহবুব, দানায়ে গুযুব, মুনায্যাহুন আনিল উয়ূব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফরমান: কিয়ামতের দিন সকল লোকেরা একত্রিত হবে এবং সেদিন বলা হবে, এই উম্মতের নিঃস্ব ও অসহায়গণ কোথায়? তখন তারা দাঁড়িয়ে যাবে, তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমরা কী আমল করেছ? তারা আবেদন করবে। হে আল্লাহ তা'আলা! তুমি আমাদেরকে দরিদ্রতা দ্বারা পরীক্ষা করেছ আর আমরা তাতে ধৈর্যধারণ করেছি এবং তুমি সম্পদ ও রাজত্বের অধিকারী আমাদেরকে ছাড়া অন্যদেরকে বানিয়েছ। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করবেন, তোমরা সত্যই বলেছ। অতঃপর তারা অন্যান্য লোকদের পূর্বে জান্নাতে প্রবিষ্ট হয়ে যাবে এবং হিসাবের কঠোরতা সম্পদশালী ও রাজত্বধারীদের জন্য অবশিষ্ট থাকবে। তখন সাহাবায়ে কিরামগণ আবেদন করল, সেদিন মু'মিনগণ কোথায় থাকবে? তিনি ইরশাদ করলেন, তাদের জন্য নূরের মিম্বর রাখা হবে এবং তাদের উপর মেঘমালা ছায়া প্রদান করবে।'
عَنْ سَلْمَانَ الله قَالَ : ( تَدْنَى الشَّمْسُ مِنَ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى تَكُوْنَ مِنْ رُءُوسِهِمْ قَدْرَ قَوْسٍ أَوْ قَالَ : قَدْرَ قَوْسَيْنِ، وَلَيْسَ عَلَى أَحَدٍ يَوْمَئِذٍ طَحْرَبَةٌ ، وَلَا تَرَى فِيْهَا عَوْرَةُ مُؤْمِنٍ ، وَلا مُؤْمِنَةٍ ، وَلَا يَضُرُّ حَرَّهَا يَوْمَئِذٍ مُؤْمِنًا وَلَا مُؤْمِنَةٌ ، وَأَمَّا الأَدْيَانُ أَوْ قَالَ : الْكُفَّارُ فَتَطَبَخَهُمْ ، فَإِنَّمَا تَقُوْلُ : أَجْوَافُهُمْ : غَقٌ عق».
হযরত সায়্যিদুনা সালমান রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি ইরশাদ ফরমান, কিয়ামতের দিন সূর্য লোকদের অতীব নিকটবর্তী হবে। এমনকি (সূর্য) তাদের মাথা থেকে এক বা দুই ধনুক পরিমাণ দূরত্বে চলে আসবে। ঐ দিন কারো শরীরে ছেঁড়া পরিত্যক্ত কাপড়ের একটি অংশ/টুকরাও থাকবে না। কিন্তু সেদিন মু'মিন নর-নারীদের সতর (লজ্জাস্থান) দেখা যাবে না। এবং সেদিন কোন ঈমানদার নারী-পুরুষের নিকট সূর্যের উষ্ণতা-প্রখরতাও পৌঁছবে না। যখন বিধর্মী কিংবা (বলেছেন) কাফিরদেরকে যন্ত্রনায় নিমজ্জিত রাখা হবে এবং তাদের পেট ফুলা ও স্ফুটনের ধ্বনী বেরিয়ে আসবে।

টিকাঃ
১. আল-জামে আস্-সগীর, পৃষ্ঠা: ৩০৫, হাদিস: ৪৯৫৭
২. কানযুল উম্মাল, খন্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ১৩১, হাদিস: ১১৬১২
১. ফতহুল বারী শরহুল বুখারী, কিতাবুর রিকাক, খন্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ৩৩৭

📘 আরশের ছায়ায় থেকেছে যাদের কায়া > 📄 মহা বিপদে নির্ভয়

📄 মহা বিপদে নির্ভয়


عَنْ أَبِي سَعِيدٍ ، وَأَبِي هُرَيْرَةَ الله يَقُوْلاَنِ : سَمِعْنَا رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُولُ : ثَلَاثَةٌ عَلَى كَثِيبٍ مِّنْ مِسْكٍ أَسْوَدَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يَهُوْهُمُ الْفَزْعُ وَلَا يَنَاهُمْ الْحِسَابُ ، رَجُلٌ قَرَأَ الْقُرْآنَ اِبْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ وَأَمَّ بِهِ قَوْمًا وَهُمْ بِهِ رَاضُوْنَ ، وَرَجُلٌ أَذَّنَ فِي مَسْجِدٍ دَعَا إِلَى اللَّهِ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ، وَرَجُلٌ ابْتِلَي بِالرِّقِّ فِي الدُّنْيَا ، فَلَمْ يَشْغُلُهُ ذَلِكَ عَنْ طَلَبِ الْآخِرَةِ».
হযরত সায়্যিদুনা আবু সা'ঈদ খুদরী এবং সায়্যিদুনা আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমরা রাহমাতুল্লিল আ'লামীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছি যে, তিন ব্যক্তি কিয়ামত দিবসে কালো মিশকের টিলায় আরোহণ করবে, তাদেরকে الفزع الأكبر তথা মহা বিপদ ভীত প্রবণ করবে না, আর না তাদের হিসাব হবে। তারা হল, ১. ঐ ব্যক্তি, যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কুরআন পড়ে এবং কোন গোত্রের নেতৃত্ব দেয় আর গোত্রের লোকেরা তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকে, ২. ঐ ব্যক্তি, যে আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে কোন মসজিদে আযান দিয়ে লোকদেরকে আল্লাহর দিকে আহবান করে এবং ৩. ঐ ব্যক্তি, যে দুনিয়ায় দাসত্ব দ্বারা পরীক্ষার সম্মুখীন হয়; কিন্তু ঐ দাসত্ব তাকে পরকালীন কর্ম থেকে দূরে রাখে না।

টিকাঃ
১. সুনানে তিরমিযী, আবওয়াবুল বিররে ওয়াস সিলাহ باب ماحلء في فضل المملوك الصالح পৃষ্ঠা: ১৮৫১, হাদিস : ১৯৮৬ "الفرع الأكبر" বাক্য অনুল্লিখিত।
২. বায়হাকী: শুআবুল ঈমান, খন্ড ২, পৃষ্ঠা: ৩৪৮, হাদিস: ২০০২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00