📘 আরশের ছায়ায় থেকেছে যাদের কায়া > 📄 গ্রন্থকার পরিচিতি

📄 গ্রন্থকার পরিচিতি


নাম ও বংশ
উপাধি জালালুদ্দীন, কুনিয়ত বা উপনাম আবুল ফজল। বংশ পরিক্রমা আব্দুর রহমান বিন আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন উসমান বিন মুহাম্মদ হাদ্বর বিন আইয়ূব বিন মুহাম্মদ বিন হুমাম নিসবত বা সম্পর্কীয় নাম খোদায়রী মিসরী সুয়ূতী শাফেয়ী।
শুভ জন্ম
তিনি ৮৪৯ হিজরিতে নীল নদ উপকূলের অন্যতম আদি জনপদ সুয়ূতে জন্ম গ্রহন করেন। এরই দিকে সম্পর্কিত করে তাকে সুয়ূতী বলা হয়। তাঁর বয়স মাত্র পাঁচ বছর, এমতাবস্থায় তাঁর সম্মানিত পিতা ইন্তেকাল করেন।
শিক্ষা-দীক্ষা
ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রাহমতুল্লাহ আলাইহি শুধু প্রসিদ্ধ গ্রন্থকার বিখ্যাত তাফসীরকারক, মুহাদ্দিস, ফকীহ, সাহিত্যিক, কবি, ঐতিহাসিক ও ভাষাতাত্ত্বিকই ছিলেন না। বরং তিনি সমসাময়িক কালের মহান মুজাদ্দিদ (সংস্কারক) ও ছিলেন। তার স্মৃতিশক্তি খুবই তীক্ষ্ম ও প্রখর ছিল। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি পবিত্র কুরআন মজিদ মুখস্ত করে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে পান্ডিত্য অর্জনে ব্রত হন। হাদিস শাস্ত্রে তিনি বদরুল মুহাদ্দিসীন আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী হানাফী রাহমতুল্লাহি আলাইহি, হাফিয সাখাভী রাহমতুল্লাহি আলাইহিসহ অন্যান্য বিখ্যাত মুহাদ্দিসদের নিকট শিক্ষা লাভ করেন। তিনি তাসাউফ তথা আধ্যাত্মবাদে দীক্ষিত হতে প্রসিদ্ধ সূফী বুযর্গ শায়খ কামালুদ্দীন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ মিসরী শাফিয়ী রাহমতুল্লাহি আলাইহির আশ্রয়ে উপনীত হন এবং তাঁর মুবারক হাতে খিরকায়ে তাসাউফ পরিধান ও খালকে খোদার ফয়েজ (অনুকম্পা) লাভে ধন্য হন। তিনি ৮৭১ হিজরিতে জামেয়া শায়খুনীয়া (কায়রো) তে শায়খুল হাদিস পদ অলংকৃত করেন। সেখানে পাঠদান কালীন সময়ে তিনি কাযী আয়ায রাহমতুল্লাহি আলাইহির রচিত 'আশ-শিফা বি তা'রীফি হুকুকিল মুস্তাফা' তার পাঠদান মজলিসে সম্পূর্ণরূপে সমাপ্ত করেন।
খোদাভীতি
তিনি তাকওয়া ও পরহেজগারীর সুউচ্চ অবস্থানে সমাসীন ছিলেন। অধিকাংশ সময়ই আল্লাহ তা'আলার ধ্যানে নিমগ্ন থাকতেন। নিয়মিত তাহাজ্জুদের নামায আদায় করতেন এবং বিশেষ কারণে কখনো আদায় করতে না পারলে এতই চিন্তাযুক্ত ও ব্যথিত হতেন যে, একেবারে অসুস্থ হয়ে পড়তেন।
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপাধি প্রদান করলেন
হাদিস শাস্ত্রে সমগ্র বিশ্বের মুসলমানগণ এ মহান ব্যক্তিত্বের দানে ধন্য। ইলমে হাদীসে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এতই বেশি ছিল যে, তাকে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে 'শায়খুল হাদিস' উপাধি দান করা হয়েছে। যেমনিভাবে তিনি নিজেই ইরশাদ ফরমান, ৯০৪ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের এক জুমার রাতে আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি প্রিয় নবীর দরবারে হাযির হয়ে আমার একটি গ্রন্থের আলোচনা (তাযকিরা) করতে করতে আরয করলাম, "হে প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! যদি আপনি অনুমতি প্রদান করেন তাহলে এর কিছু হাদিস পাঠ করে শুনানোর অভিপ্রায় করছি।” তৎক্ষণাৎ হুযুরে আকরাম, রাসুলে মুহতাশাম, শাহে বনী আদম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ ফরমালেন- "হে শায়খুল হাদিস শুনান!" আমার নিকট হুযুর কর্তৃক শায়খুল হাদিস বলে সম্বোধন করাটা পৃথিবী ও তৎমধ্যকার সবকিছুর চেয়ে অধিক উত্তম বলে মনে হল।'
৭৫ বার প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিদার লাভ
তিনি এক মহান আশেকে রাসূল ছিলেন। যার অনুমান এ কথা থেকে করা যায় যে, তিনি পচাত্তর বার জাগ্রত অবস্থায় হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিদার ও জিয়ারত লাভে ধন্য হয়েছেন।
রচনাবলী
তীক্ষ্ম স্মরণশক্তি বলে তাঁর দুইলক্ষ হাদিস শরীফ মুখস্ত ছিল। হাদিস শাস্ত্রে তিনি শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি সুখ্যাতি সম্পন্ন তাফসীরকারকও ছিলেন। ব্যাপক বিশ্লেষণ ধর্মী তাফসীর 'আদ দুররুল মানসূর' ও শাব্দিক দিক দিয়ে 'তাফসীরে জালালাইন' তাঁর কুরআন উপলদ্ধি ও দক্ষতার উজ্জল দৃষ্টান্ত। গ্রন্থ রচনা ও সংকলনের ময়দানে তিনি অতুলনীয় বৈশিষ্ট্যের ধারক ছিলেন। অসংখ্য গ্রন্থের রচয়িতা হিসেবে তিনি সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী। তাঁর রচনাবলীর সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। তাঁর কতিপয় প্রসিদ্ধ গ্রন্থাবলীর নাম হলো-
১. আদ দুররুল মানসূর ফীত্ তাফসীরি বিল মা'সূর
২. আল-ইত্কান ফী উলূমিল কুরআন
৩. জামউল জাওয়ামে' বা আল জামেউল কাবীর
৪. আল জামেউস্ সগীর
৫. তাদরীবুর রাবী ফী তাকরীবিন নাওয়াভী
৬. ত্বাবাক্বাতুল হুফ্ফায
৭. আল-লাইল মাসনূ'আ ফিল আহাদিসিল মাউদ্বুআ
৮. কুতুল মুগতাজী আলা জামেউত্ তিরমিযী
৯. তাফসীরুল জালালাইন
১০. লুবাবুল মানকুল ফী আসবাবিন নুযুল
১১. আদ দুরারুল কামিনাহ ফী আ'ইয়ানিল মিয়াতিস সামিনাহ
১২. আলহাভী লিল ফাতাওয়া।
ওফাত
৯০৬ হিজরিতে তিনি আপন নিবাস 'রাওযাতুল মিকুয়াস' এ নির্জন বাস আরম্ভ করেন। তাঁর অন্তর দুনিয়া ও দুনিয়া বাসী হতে বিমুখ হয়ে পড়ল, আপাদমস্তক আল্লাহর স্মরণে ব্যাপৃত হয়ে গেল। ৯১১ হিজরির ১৯ জুমাদাল উলা তিনি ওফাত বরণ করলেন। এ হিসেবে তার মোট জীবনকাল ৬২ বছর।

টিকাঃ
১. জামে'উল আহাদিস, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১২

📘 আরশের ছায়ায় থেকেছে যাদের কায়া > 📄 মূল প্রতিপাদ্য বিষয়ের অবতারণা

📄 মূল প্রতিপাদ্য বিষয়ের অবতারণা


প্রসিদ্ধ হাদিসে পাক সমূহের মধ্যে এমন সাতজন সৌভাগ্যবানদের বর্ণনা উল্লেখ আছে, যাদেরকে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় আরশের ছায়া দান করবেন এবং শায়খ আবু শামাও তাদের বর্ণনা তাঁর প্রতি দুটি পংক্তিতে করেছেন।
দীর্ঘকাল ধরে মাশায়েখগণ এ ব্যাপারে আলোচনা ও গবেষণা করতে ছিলেন যে, ঐ সাতজন ব্যতীত কোন অষ্টম ব্যক্তিরও কি আরশের ছায়া নসীব হবে, নাকি হবে না? শায়খুল ইসলাম আবুল ফযল ইমাম ইবনে হাজর রাহমতুল্লাহি আলাইহি এই সাত ব্যক্তির সাথে ঐ সব লোকদেরকেও সংযুক্ত করেছেন যাদের বর্ণনা অন্যান্য বিশুদ্ধ হাদিস সমূহে এসেছে এবং তাদেরকেও দুটি পংক্তিতে একত্রিত করেছেন। অতঃপর আরো অনুসন্ধানের পর ঐ সাতের স্থলে দিগুণ তথা চৌদ্দ ব্যক্তি হল। তাদেরকে তিনি চারটি পংক্তিতে একত্রিত করেছেন।
আল্লামা সুয়ূতী রাহমতুল্লাহি আলাইহি বলেনঃ আরশের ছায়াপ্রাপ্তদের ব্যাপারে আমার নিকট আরো অসংখ্য হাদিস রয়েছে। যা বিভিন্ন আমল (কর্ম) ও বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে বর্ণিত। আর ঐ সব ব্যক্তিদের বর্ণনা আমি এ কিতাবে সংকলন করেছি এবং ঐ সব কর্মের পদ্ধতি ও মৌলিক আলোচনা পেশ করেছি। এ সব বর্ণনা দ্বারা শুধু (ঐসব কর্মের প্রতি) উৎসাহই দেয়নি বরং সকল হাদিস সমূহের সাথে সুস্পষ্ট কিংবা ইঙ্গিতসূচক দলিল ও উল্লেখ করেছি। আর এর নাম 'তামহীদুল ফারশ্ ফী খিছালিল মূজিবাতি লিযিল্লীল আরশ' ( আরশের ছায়ার যোগ্য রূপে গঠনকারী কর্মসমূহের বর্ণনা) রেখেছি। আমি আল্লাহর নিকট কল্যাণের সামর্থ ও সরল পথে চলার প্রার্থনা করছি।

📘 আরশের ছায়ায় থেকেছে যাদের কায়া > 📄 মাতা-পিতার আনুগত্য আরশের ছায়া লাভের মাধ্যম

📄 মাতা-পিতার আনুগত্য আরশের ছায়া লাভের মাধ্যম


١. عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ الله قَالَ : إِنَّ مُوسَى لَا قَرَّبَهُ اللهُ نَجِيًّا بِطُورِ سِيْنَاءَ ، أَبْصَرَ عَبْدًا جَالِسًا فِي ظِلَّ الْعَرْشِ ، سَأَلَهُ : أَيْ رَبِّ ، مَنْ هَذَا ؟ فَلَمْ يُنْسِبْهُ ، أَوْ يُسَمُّهُ . قَالَ : هَذَا عَبْدٌ لا يَحْسُدُ النَّاسَ عَلَى مَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ ، بِرٌ بِالْوَالِدَيْنِ ، لَا يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ.
১. হযরত সায়্যিদুনা ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, যখন হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তা'আলা তাঁর সাথে কথোপকথনের সৌভাগ্যদানের জন্য তূর পর্বতে তাঁর নেকট্য দান করলেন, তখন তিনি এক ব্যক্তিকে আরশের ছায়ায় উপবিষ্ট দেখলেন। তখন তিনি আল্লাহ তা'আলার নিকট আবেদন করলেন, হে আমার প্রতিপালক! এ ব্যক্তি কে? বংশ কিংবা নাম নয়। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করলেন, সে হল ঐ বান্দা, যে আল্লাহর দয়ায় বান্দারেকে যেসব নেয়ামত রাজি দান করা হয়েছে তাতে হিংসা করত না, স্বীয় মাতাপিতার সাথে সদাচারণ করত এবং চোগলখোরী করে বেড়াত না।'
. عَنْ عَمَرو ، عَنْ رَجُلٍ ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ : تَعَجَّلَ مُوسَى الي إِلَى رَبَّهِ ..... قَالَ : فَرَأَى فِي ظِلَّ الْعَرْشِ رَجُلاً فَعَجِبَ لَهُ فَقَالَ : مَنْ هَذَا يَا رَبِّ؟ قَالَ : لَا أُحَدِّثُكَ مَنْ هُوَ وَلَكِنْ سَأُخْبِرُكُمْ بِثَلَاثٍ فِيْهِ : كَانَ لَا يَحْسُدُ النَّاسَ عَلَى مَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ ، بِرْ بِالْوَالِدَيْنِ ، لَا يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ».
২. হযরত সায়্যিদুনা আমর রাদিআল্লাহু আনহু কোন সাহাবী হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, হযরত সায়্যিদুনা মূসা আলাইহিস সালাম স্বীয় রবের দিকে নিমগ্ন/ধ্যানমগ্ন হলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তিনি আরশের নীচে এক ব্যক্তিকে উপবেশন অবস্থায় দেখতে পেলেন। আর এতে তিনি আশ্চার্যান্বিত হলেন এবং আরয করলেন, হে আমার প্রতিপালক! এ ব্যক্তি কে? আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করলেন, আমি এটা বলব না যে, এ ব্যক্তি কে, বরং তার তিনটি গুণ সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছি ১. আল্লাহ তা'আলা আপন কৃপায় বান্দাদেরকে যেসব নেয়ামত রাজি দান করেছেন, সে তাতে হিংসা করত না ২. তার মাতাপিতার অবাধ্যচারণ করত না এবং ৩. চোগলখোরী করে বেড়াত না।'
عَنْ أَبِي الْمُخَارِقِ ، قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ ﷺ : مَرَرْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِرَجُلٍ مُغِيْبٍ فِي نُوْرِ الْعَرْشِ ، قُلْتُ مَنْ هَذَا أَهَذَا مَلَكٌ ؟ قِيْلَ : لَا ، قُلْتُ : نَبِيٌّ؟ قِبْلَ: لا : قُلْتُ: مَنْ هُوَ؟ قَالَ : هَذَا رَجُلٌ كَانَ فِي الدُّنْيَا لِسَانُهُ رُطَبٌ مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَقَلْبُهُ مُعلَّقٌ بِالْمَسَاجِدِ وَلَمْ يَتَسَبَّ لِوَالِدَيْهِ».
৩. হযরত আবু মুখরিক রাদিআল্লাহু আনহু হতে মুরসাল সূত্রে বর্ণিত, আল্লাহর প্রিয় মাহবুব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মি'রাজের রাত্রিতে আরশের নূরে গোসলকৃত এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে আমার গমন হয়েছে। আমি বললাম, এ ব্যক্তি কে? কি কোন ফিরিশতা? আরয করা হল, না। আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলাম, কি কোন নবী? বলা হলো, না। তখন আমি বললাম, তাহলে এ ব্যক্তি কে? বলা হলো, এ হল ঐ ব্যক্তি, দুনিয়াতে যার রসনা আল্লাহর যিকিরে সিক্ত থাকতো, যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকতো এবং সে কখনো মাতাপিতার সাথে অসদাচরণ করতো না।'

টিকাঃ
*. কিতাবুদ দোয়া, আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মদ বিন ফুযাইল, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৮০, হাদিস: ১০২
১. হিলয়াতুল আউলিয়া, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা: ১৬৩, হাদিস: ৫১২১
১. বায়হাকী: শুআবুল ঈমান, باب في الإصلاح بين الناس ... الخ খন্ড: ৭, পৃষ্ঠা: ৪৯৭, হাদিস: ১১১১৮
২. আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব, কিতাবুষ যিকরে ওয়াদ্ দোয়া, খন্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৪২, হাদিস: ২৩০০

📘 আরশের ছায়ায় থেকেছে যাদের কায়া > 📄 মাগরিবের পর দু'রাকাত নফল নামায আদায়ের ফযীলত

📄 মাগরিবের পর দু'রাকাত নফল নামায আদায়ের ফযীলত


۱. عَنْ عَلِيٌّ مَرْفُوعًا ، مَنْ صَلَّى رَكَعَتَيْنِ بَعْدَ رَكَعَتَيِ الْمُغْرِبِ قَرَأَ فِي كُلِّ رَكْعَةِ الْفَائِحَةَ وَقُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ خَمْسُ عَشْرَةَ مَرَّةً جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَلَا يَحْجُبُ حَتَّى يَنْتَهِي إِلَى ظِلَّ الْعَرْشِ.
১. আমীরুল মু'মিনীন সায়্যিদুনা আলী বিন আবি তালিব রাদিআল্লাহু আনহু হতে মরফু' সূত্রে বর্ণিত, সরকারে মদীনা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি মাগরিবের নামাযের পর দুই রাকাআত নামায আদায় করে এবং প্রত্যেক রাকাআতে সূরা ফাতিহার পর পনের বার সূরা ইখলাছ পাঠ করে, সে কিয়ামতের দিন এভাবে আগমন করবে যে, তার সামনে কোন প্রতিবন্ধক পর্দা থাকবে না। এমনকি সে আরশের ছায়ায় পৌছে যাবে।'
২. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ : الشُّهَدَاءُ عِنْدَ اللَّهِ عَلَى مَنَابِرٍ مِّنْ يَاقُوْتٍ فِي ظِلٍّ عَرْشِ اللَّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ».
২. হযরত সায়্যিদুনা আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তাজেদারে রিসালত, শাহীনশাহে নবুয়ত, মাহবুবে রাব্বুল ইয্যত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফরমান: শহীদগণ আল্লাহ তা'আলার সান্নিধ্যে ইয়াকুত নির্মিত মিম্বরে আরশের ছায়ায় থাকবে, যে দিন তার আরশের ছায়া ছাড়া কোন ছায়া থাকবে না।'
মোতির চেয়ার সমূহ
عَنْ خَيْثَمَةَ قَالَ : قِيْلَ لِعَبْدِ اللهِ بِنْ عَمَرِهِ : إِنَّ ابْنَ مَسْعُودٍ ، يَقُولُ: إِنَّ الرَّجُلَ لَيَسْبَحُ فِي عِرْقِهِ حَتَّى يَبْلُغُ أَنْفُهُ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بِنْ عُمَرَو : إِنَّ لِلْمُؤْمِنِينَ كَرَاسِي مِنْ لُؤْلُوْ يَجْلِسُونَ عَلَيْهَا، وَيَظْلِلُ عَلَيْهِمْ بِالْغَمَامَ، وَيَكُوْنُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَيْهِمْ كَسَاعَةٍ مِّنْ نَهَارٍ أَوْ كَأَحَدٍ طَرْفَيْهِ.
হযরত হায়ছমা রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, হযরত সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ বিন আমর রাদিআল্লাহু আনহুকে বলা হয়েছে যে, হযরত সায়্যিদুনা আব্দুল্লাহ ইবনে মাস'উদ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, কিয়ামতের দিন মানুষ তাদের ঘামে সন্তরণ করবে/সাঁতার কাটবে। এমনকি ঐ ঘাম তাদের নাসিকা পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। তখন হযরত আবদুল্লাহ বিন আমর রাদিআল্লাহু আনহু ইরশাদ করলেন, মু'মিনদের জন্য মোতির অসংখ্য চেয়ার থাকবে, যেগুলোতে তারা উপবিষ্ট হবে। তাদের উপর মেঘের ছায়া দান করা হবে এবং কিয়ামত দিবসটি তাদের জন্য দিনের একটি মুহূর্ত কিংবা একবার চোখের পলক ফেলার সময়ের সমান হবে।'
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمَرِو بْنِ الْعَاصِ بِسَنَدٍ حَسَنٍ عَنْهُ قَالَ : يَشْتَدُّ كُرَبُ ذَلِكَ الْيَوْمِ حَتَّى يَلْجِمُ الْكَافِرُ الْعَرَقُ، قِيلَ لَهُ : فَأَيْنَ الْمُؤْمِنُوْنَ؟ قَالَ عَلَى الْكَرَاسِي مِنْ ذَهَبٍ وَيَظْلِلُ عَلَيْهِمُ الْغَمَامِ.
হযরত সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিআল্লাহু আনহু হতে হাসান সূত্রে বর্ণিত, তিনি ইরশাদ করেন, কিয়ামত দিবসের কষ্ট ও কাঠিন্যতা অত্যাধিক হবে, এমনকি কাফিরদেরকে তাদের ঘাম লাগাম দিয়ে রাখবে। তাকে আরয করা হলো- মু'মিনগণ কোথায় থাকবে? তিনি ইরশাদ করলেন, তারা স্বর্ণের চেয়ার সমূহের উপর থাকবে এবং তাদেরকে মেঘমালা দ্বারা ছায়া দেয়া হবে।'
(লেখক বলেন,) অতঃপর আমি দেখলাম যে, ইমাম ত্বাবরানী স্বীয় কিতাব 'আল কাবীর' এ উক্ত হাদিসে পাকটি মরফু হওয়াটা সুস্পষ্ট করেছেন। যেমন-
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمَرِو له عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ : «تَجْتَمِعُوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، فَيُقَالُ : أَيْنَ فُقَرَاءُ هَذِهِ الأُمَّةِ وَمَسَاكِيْنُهَا ؟ قَالَ : فَيَقُوْمُوْنُ ، فَيُقَالَ هُمْ : مَاذَا عَمِلْتُمْ ؟ فَيَقُوْلُوْنُ : رَبَّنَا إِبْتَلَيْتَنَا فَصَبَرْنَا ، وَآتَيْتَ الْأَمْوَالَ وَالسُّلْطَانَ غَيْرَنَا ، فَيَقُولُ اللَّهُ : صَدَقْتُمْ ، قَالَ : فَيَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ قَبْلَ النَّاسِ ، وَيَبْقَى شِدَّةُ الحِسَابِ عَلَى ذَوِي الأَمْوَالِ وَالسُّلْطَانَ ، قَالُوا : فَأَيْنَ الْمُؤْمِنُونَ يَوْمَئِذٍ ؟ قَالَ : يُوْضَعُ هُمْ كَرَاسِي مِنْ نُوْرٍ ، وَتَظْلِلُ عَلَيْهِمُ الْغَمَامَ.
হযরত সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, আল্লাহর মাহবুব, দানায়ে গুযুব, মুনায্যাহুন আনিল উয়ূব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফরমান: কিয়ামতের দিন সকল লোকেরা একত্রিত হবে এবং সেদিন বলা হবে, এই উম্মতের নিঃস্ব ও অসহায়গণ কোথায়? তখন তারা দাঁড়িয়ে যাবে, তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমরা কী আমল করেছ? তারা আবেদন করবে। হে আল্লাহ তা'আলা! তুমি আমাদেরকে দরিদ্রতা দ্বারা পরীক্ষা করেছ আর আমরা তাতে ধৈর্যধারণ করেছি এবং তুমি সম্পদ ও রাজত্বের অধিকারী আমাদেরকে ছাড়া অন্যদেরকে বানিয়েছ। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করবেন, তোমরা সত্যই বলেছ। অতঃপর তারা অন্যান্য লোকদের পূর্বে জান্নাতে প্রবিষ্ট হয়ে যাবে এবং হিসাবের কঠোরতা সম্পদশালী ও রাজত্বধারীদের জন্য অবশিষ্ট থাকবে। তখন সাহাবায়ে কিরামগণ আবেদন করল, সেদিন মু'মিনগণ কোথায় থাকবে? তিনি ইরশাদ করলেন, তাদের জন্য নূরের মিম্বর রাখা হবে এবং তাদের উপর মেঘমালা ছায়া প্রদান করবে।'
عَنْ سَلْمَانَ الله قَالَ : ( تَدْنَى الشَّمْسُ مِنَ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى تَكُوْنَ مِنْ رُءُوسِهِمْ قَدْرَ قَوْسٍ أَوْ قَالَ : قَدْرَ قَوْسَيْنِ، وَلَيْسَ عَلَى أَحَدٍ يَوْمَئِذٍ طَحْرَبَةٌ ، وَلَا تَرَى فِيْهَا عَوْرَةُ مُؤْمِنٍ ، وَلا مُؤْمِنَةٍ ، وَلَا يَضُرُّ حَرَّهَا يَوْمَئِذٍ مُؤْمِنًا وَلَا مُؤْمِنَةٌ ، وَأَمَّا الأَدْيَانُ أَوْ قَالَ : الْكُفَّارُ فَتَطَبَخَهُمْ ، فَإِنَّمَا تَقُوْلُ : أَجْوَافُهُمْ : غَقٌ عق».
হযরত সায়্যিদুনা সালমান রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি ইরশাদ ফরমান, কিয়ামতের দিন সূর্য লোকদের অতীব নিকটবর্তী হবে। এমনকি (সূর্য) তাদের মাথা থেকে এক বা দুই ধনুক পরিমাণ দূরত্বে চলে আসবে। ঐ দিন কারো শরীরে ছেঁড়া পরিত্যক্ত কাপড়ের একটি অংশ/টুকরাও থাকবে না। কিন্তু সেদিন মু'মিন নর-নারীদের সতর (লজ্জাস্থান) দেখা যাবে না। এবং সেদিন কোন ঈমানদার নারী-পুরুষের নিকট সূর্যের উষ্ণতা-প্রখরতাও পৌঁছবে না। যখন বিধর্মী কিংবা (বলেছেন) কাফিরদেরকে যন্ত্রনায় নিমজ্জিত রাখা হবে এবং তাদের পেট ফুলা ও স্ফুটনের ধ্বনী বেরিয়ে আসবে।

টিকাঃ
১. আল-জামে আস্-সগীর, পৃষ্ঠা: ৩০৫, হাদিস: ৪৯৫৭
২. কানযুল উম্মাল, খন্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ১৩১, হাদিস: ১১৬১২
১. ফতহুল বারী শরহুল বুখারী, কিতাবুর রিকাক, খন্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ৩৩৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00