📄 কেউ কষ্ট দূর করে দিলে
[২৩৩] আবূ আইয়ূব আনসারি থেকে বর্ণিত, ‘তিনি আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর দাড়ি থেকে একটি কষ্টদায়ক বস্তু দূর করে দেন। তখন আল্লাহর রাসূল তাকে বলেন—
مَسَحَ اللهُ عَنْكَ يَا أَبَا أَيُّوبَ مَا تَكْرَهُ
আবু আইয়ূব! আল্লাহ তোমার অপছন্দনীয় জিনিস দূর করে দিন!
অপর এক বর্ণনায় আছে, (নবি ﷺ তাঁকে বলেন)—
لَا يَكُنْ بِكَ السُّوْءُ يَا أَبَا أَيُّوبَ
আবু আইয়ূব! তোমার মধ্যে কষ্টদায়ক কোনও কিছু না থাকুক! (১)
[২৩৪] উমার থেকে বর্ণিত, ‘তিনি এক ব্যক্তির দাড়ি বা মাথা থেকে একটি (কষ্টদায়ক) বস্তু সরিয়ে দেন। তখন ওই লোকটি বলেন, “আল্লাহ আপনার কাছ থেকে মন্দ জিনিস দূর করে দিন!” এর পরিপ্রেক্ষিতে উমার বলেন, “আমাদের কাছ থেকে তো ওই দিনই মন্দ দূর করে দেওয়া হয়েছে, যেদিন আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি! তোমার কাছ থেকে কোনও (কষ্টদায়ক) বস্তু সরিয়ে নিলে, তুমি বরং বোলো—
أَخَذَتْ يَدَاكَ خَيْراً
তোমার দু’হাত কল্যাণ লাভ করুক! (২)
টিকা:
(১) ইবনুস সুন্নি, ২৭৬, বর্ণনাসূত্রটি দুর্বল।
(২) ইবনুস সুন্নি, ২৭৮, জাইয়িদ।
📄 নতুন ফল লাভ করলে
[২৩৫] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘লোকজন নতুন ফল দেখতে পেলে, আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে তা নিয়ে আসত। আল্লাহর রাসূল ﷺ তা (হাতে) নিয়ে বলতেন-
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي ثَمَرِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي مَدِينَتِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي صَاعِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي مُدِّنَا
হে আল্লাহ! আমাদের ফলের মধ্যে আমাদের জন্য বরকত দাও! আমাদের সা' ও মুদ (পরিমাপের একক) গুলোতে আমাদের জন্য বরকত দাও!
এরপর তিনি তা উপস্থিত ছোটো শিশুদের দিয়ে দিতেন।’ (১)
টিকা:
(১) মুসলিম, ১৩৭৩।
📄 বিস্ময়কর কিছু দেখলে
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَلَوْلَا إِذْ دَخَلْتَ جَنَّتَكَ قُلْتَ مَا شَاءَ اللَّهُ لَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
“আর যখন তুমি নিজের বাগানে প্রবেশ করছিলে, তখন কেন বললে না, ‘আল্লাহ যা চান তাই হয়, তাঁর প্রদত্ত শক্তি ছাড়া আর কোনো শক্তি নেই?’” (সূরা আল-কাহফ ১৮:৩৯)
[২৩৬] নবি ﷺ বলেন, “তোমাদের কেউ কোনও বিস্ময়কর জিনিস দেখলে, সে যেন বলে—
مَاشَاءَ اللهُ لَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
আল্লাহ যা চান (তা-ই হয়)! তিনি ছাড়া কোনও শক্তি নেই। (১)
টিকা:
(১) ইবনুস সুন্নি, ২০৩, বর্ণনাসূত্রটি দুর্বল।
📄 কুদৃষ্টি থেকে বাঁচতে
[২৩৭] নবি ﷺ বলেন, “কুদৃষ্টি সত্য। তাকদীরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো কোনও কিছু থাকলে, তা হতো কুদৃষ্টি।” (১)
[২৩৮] নবি ﷺ বলেন, “তোমাদের কেউ যদি তার নিজের মধ্যে অথবা তার সম্পদের মধ্যে বিস্ময়কর কিছু দেখতে পায়, সে যেন আল্লাহর কাছে বরকত কামনা করে; কারণ, কুদৃষ্টি সত্য।” (২)
[২৩৯] নবি ﷺ যখন কোনও বিষয়ে কুদৃষ্টির আশঙ্কা করতেন, তখন তিনি বলতেন—
اَللَّهُمَّ بَارِكْ فِيْهِ وَلَا تَضُرَّهُ
হে আল্লাহ! এর মধ্যে বরকত দাও, এর কোনও ক্ষতি হতে দিয়ো না! (৩)
[২৪০] আবূ সাঈদ থেকে বর্ণিত, ‘সূরা আল-ফালাক ও সূরা আন-নাস নাযিল হওয়ার আগে, আল্লাহর রাসূল ﷺ জিন ও মানুষের কুদৃষ্টির ব্যাপারে (বিভিন্ন দুআর মাধ্যমে) আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। সূরা দু’টি নাযিল হওয়ার পর, তিনি এগুলো (আঁকড়ে) ধরেন, আর অন্যগুলো (পাঠ করা) ছেড়ে দেন।’ (৪)
টিকা:
(১) মুসলিম, ২১৮৮।
(২) ইবনুস সুন্নি, ৩০১, সহীহ্।
(৩) ইবনুস সুন্নি, ৪০৪, বর্ণনাসূত্রটি দুর্বল।
(৪) তিরমিযি, ২০৫৮, হাসান।