📄 বৈঠক বা সমাবেশ শেষে
[২১৭] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “যে ব্যক্তি এমন কোনও মজলিশে বসল, যেখানে সে অনেক অনর্থক কথা বলেছে, সে যদি ওই মজলিশ থেকে ওঠার আগে বলে—
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ
হে আল্লাহ! তুমি পবিত্র! প্রশংসা কেবল তোমারই! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তুমি ছাড়া কোনও সার্বভৌম সত্তা নেই; আমি তোমার কাছে মাফ চাই এবং তোমার কাছেই ফিরে আসি।
তাহলে আল্লাহ তাআলা তার ওই মজলিশের বিষয়াদির কাফ্ফ্ফারা (প্রায়শ্চিত্ত) করে দেবেন।”’ (২)
[২১৮] অপর এক হাদীসে আছে, ‘নবি ﷺ বলেন, “(ওই দুআ পাঠ করলে) তার বৈঠকটি কল্যাণের বৈঠক হয়ে থাকলে, দুআটি তার জন্য সীলমোহর হিসেবে কাজ করবে; আর বৈঠকটি মিশ্রিত বৈঠক হয়ে থাকলে, দুআটি তার জন্য কাফ্ফ্ফারা’র কাজ করবে।”’ (৩)
[২১৯] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “একদল লোক বৈঠক থেকে উঠল, অথচ আল্লাহ তাআলার যিক্র (স্মরণ) করল না, এরা যেন মরা গাধা (খাওয়ার অনুষ্ঠান) থেকে উঠল; এটি হবে তাদের আফসোসের কারণ।”’ (৪)
[২২০] ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, ‘প্রায় প্রত্যেকটি বৈঠক থেকে ওঠামাত্রই আল্লাহর রাসূল ﷺ এ দুআ পড়তেন—
اللَّهُمَّ اقْسِمْ لَنَا مِنْ خَشْيَتِكَ مَا تَحُوْلُ بِهِ بَيْنَنَا وَبَيْنَ مَعَاصِيْكَ وَمِنْ طَاعَتِكَ مَا تُبَلِّغُنَا بِهِ جَنَّتَكَ وَمِنَ الْيَقِينِ مَا تُهَوِّنُ بِهِ عَلَيْنَا مَصَائِبَ الدُّنْيَا اللَّهُمَّ مَتِّعْنَا بِأَسْمَاعِنَا وَأَبْصَارِنَا وَقُوَّتِنَا مَا أَحْيَيْتَنَا وَاجْعَلْهُ الْوَارِثَ مِنَّا وَاجْعَلْ ثَأْرَنَا عَلَى مَنْ ظَلَمَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى مَنْ عَادَانَا وَلَا تَجْعَلْ مُصِيبَتَنَا فِي دِينِنَا وَلَا تَجْعَلِ الدُّنْيَا أَكْبَرَ هَمِّنَا وَلَا مَبْلَغَ عِلْمِنَا وَلَا تُسَلِّطْ عَلَيْنَا مَنْ لَا يَرْحَمُنَا
হে আল্লাহ! আমাদেরকে তোমার ভয় দান করো, যা আমাদের ও তোমার অবাধ্যতার মাঝখানে বাধা হয়ে দাঁড়াবে; তোমার আনুগত্য করার সামর্থ্য দাও, যা আমাদেরকে তোমার জান্নাতে পৌঁছে দেবে; এমন সন্দেহমুক্ত ঈমান দাও, যার ফলে দুনিয়ার বিপদ-মুসিবত আমাদের কাছে তুচ্ছ হয়ে যাবে! হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে যতদিন বাঁচিয়ে রাখবে, ততদিন আমাদের শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও শারীরিক শক্তি থেকে আমাদের উপকৃত হওয়ার সুযোগ দাও! এসব শক্তিকে আমাদের ওয়ারিশ বানাও! (অর্থাৎ এগুলো সক্রিয় থাকতে থাকতেই আমাদের মৃত্যু দিয়ো)। আমাদের ক্রোধ তাদের বিরুদ্ধে ধাবিত করো, যারা আমাদের উপর জুলুম করে; আমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করো; আমাদের দ্বীন পালনে মুসিবত রেখো না; দুনিয়াকে আমাদের ব্যস্ততার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য বানিয়ে দিয়ো না; আমাদের জ্ঞানের লক্ষ্য যেন দুনিয়া না হয়; আমাদের গোনাহের দরুন আমাদের উপর এমন কাউকে চাপিয়ে দিয়ো না, যে তোমাকে ভয় করবে না এবং আমাদের উপর দয়া দেখাবে না! (৫)
টিকা:
(২) তিরমিযি, ৩৪৩, হাকিমের মূল্যায়নে এটি সহীহ্।
(৩) হাকিম এটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ্ আখ্যায়িত করেছেন।
(৪) আবূ দাউদ, ৪৮৫৫, সহীহ্।
(৫) তিরমিযি, ৩৪৯৭, সহীহ।
📄 রাগ চড়ে গেলে
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَإِمَّا يَنزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
“যদি তোমরা শয়তানের পক্ষ থেকে কোনও প্ররোচনা আঁচ করতে পার, তাহলে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো; তিনি সব কিছু শোনেন এবং জানেন।” (সূরা ফুসসিলাত/হা-মীম সাজদাহ্ ৪১:৩৬)
[২২১] সুলাইমান ইবনু সুরাদ থেকে বর্ণিত, ‘আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর সাথে বসা। দু’জন লোক গালাগালি করছে। তাদের একজনের চেহারা লাল হয়ে গিয়েছে এবং ঘাড়ের রগ ফুলে উঠেছে। তখন আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “আমি এমন একটি বাক্য জানি, যা সে বললে তার রাগ চলে যাবে। সে যদি বলে-
أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ
আমি আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় চাই।
তাহলে তার রাগ চলে যাবে।”’ (১)
[২২২] আতিয়্যা ইবনু উরওয়া থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “রাগ শয়তানের (পক্ষ) থেকে (আসে)। শয়তানকে সৃষ্টি করা হয়েছে আগুন থেকে; আর আগুনকে নিভিয়ে দেয় পানি। সুতরাং তোমাদের কেউ রেগে গেলে, সে যেন ওযু করে নেয়।”’ (২)
টিকা:
(১) বুখারি, ৬০৪৮।
(২) আবূ দাউদ, ৪৭৮৪।
📄 বিপদগ্রস্ত কাউকে দেখলে
[২২৩] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘নবি ﷺ বলেন, “যে ব্যক্তি কোনও বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেখে বলে—
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلَاكَ بِهِ وَفَضَّلَنِي عَلَى كَثِيرٍ مِّمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيلاً
সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে তোমার বিপদ থেকে রেহাই দিয়েছেন, এবং তাঁর বহু সৃষ্টির উপর আমাকে বিশাল শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।
তাকে ওই বিপদ স্পর্শ করবে না।”’ (১)
টিকা:
(১) তিরমিযি, ৩৪২৮, হাসান।
📄 বাজারে গেলে
[২২৪] উমার ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “যে ব্যক্তি বাজারে প্রবেশ করে বলবে—
لَا إِله إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ حَيٌّ لَا يَمُوْتُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই; তিনি একক; তাঁর কোনও অংশীদার নেই; রাজত্ব তাঁর, প্রশংসাও তাঁর; তিনিই জীবন দেন, তিনিই মৃত্যু ঘটান; তিনি চিরঞ্জীব, তাঁর মৃত্যু নেই; সকল কল্যাণ তাঁরই হাতে, আর তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।
আল্লাহ তার জন্য দশ লাখ সাওয়াব লিখে দেবেন, তার (আমলনামা) থেকে দশ লাখ গোনাহ মুছে দেবেন এবং তার মর্যাদা দশ লাখ স্তর বাড়িয়ে দেবেন।”’ (২)
[২২৫] বুরাইদা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বাজারে প্রবেশ করে বলতেন—
بِسْمِ اللهِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ هَذِهِ السُّوْقِ وَخَيْرَ مَا فِيهَا وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنْ أَنْ أُصِيْبَ فِيهَا يَمِيناً فَاجِرَةً أَوْ صَفْقَةً خَاسِرَةً
আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে এ বাজারের কল্যাণ ও এর ভেতরের বিষয়াদির কল্যাণ চাই; আমি তোমার কাছে এ বাজারের অকল্যাণ ও এর ভেতরের বিষয়াদির অকল্যাণ থেকে আশ্রয় চাই; হে আল্লাহ! এ বাজারে পাপযুক্ত শপথ কিংবা লোকসানমূলক কোনও কারবারে জড়িত হওয়া থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই।’ (৩)
টিকা:
(২) তিরমিযি, ৩৪২৪, গরীব; হাকিম, ১/৫৩৮, হাসান।
(৩) ইবনুস সুন্নি, ১৮০, গরীব।