📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 কেউ বিয়ে করলে

📄 কেউ বিয়ে করলে


[২০০] আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাদেরকে ‘খুতবাতুল হাজত’ বা প্রয়োজনের বক্তব্য শিখিয়েছেন (এভাবে)—
الْحَمْدُ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوْذُ بِاللهِ مِنْ شُرُوْرِ أَنْفُسِنَا وَسَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ، أَرْسَلَهُ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ، مَنْ يُطِعِ اللهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ رَشَدَ، وَمَنْ يَعْصِهِمَا فَإِنَّهُ لَا يَضُرُّ إِلَّا نَفْسَهُ وَلَا يَضُرُّ اللَّهَ شَيْئًا
সকল প্রশংসা আল্লাহর। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই, তাঁর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করি; আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই, আমাদের নিজেদের অনিষ্ট থেকে এবং আমাদের কর্মকাণ্ডের অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ যাকে (সঠিক) পথ দেখান, কেউ তাকে পথহারা করতে পারে না; আর তিনি যাকে পথহারা করেন, তাকে কেউ পথ দেখাতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনও সার্বভৌম সত্তা নেই; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ তাঁর দাস ও বার্তাবাহক; তিনি তাঁকে সত্য দিয়ে পাঠিয়েছেন, কিয়ামতের আগে সুসংবাদদাতা ও ভীতিপ্রদর্শনকারী হিসেবে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে সঠিক পথ পেয়ে যায়; আর যে তাঁদের অবাধ্য হয়, সে কেবল নিজেরই ক্ষতিসাধন করে, সে আল্লাহর কোনও ক্ষতি করতে পারে না।
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا
হে মানব জাতি! তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন একটি প্রাণ থেকে, আর সেই একই প্রাণ থেকে সৃষ্টি করেছেন তার জোড়া, আর তাদের দু’জন থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী; আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা পরস্পরের কাছে নিজেদের অধিকার চাও; এবং আত্মীয়তা ও নিকট-সম্পর্ক বিনষ্ট করা থেকে বিরত থাকো; নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো, আল্লাহ তোমাদের ওপর কড়া নজর রাখছেন। (সূরা আন-নিসা ৪:১)
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো! আর তোমাদের মৃত্যু যেন কেবল তখনই আসে, যখন তোমরা থাকবে (আল্লাহর বিধানের সামনে) অনুগত। (সূরা আল ইমরান ৩:১০২)
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ
হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো; আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপ ঠিকঠাক করে দেবেন এবং তোমাদের অপরাধসমূহ মাফ করে দেবেন।
وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا
আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে বড় সাফল্য অর্জন করে। (সূরা আল-আহযাব ৩৩:৭০-৭১)
[২০১] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘কেউ বিয়ে করলে, নবি ﷺ তাকে অভিনন্দন জানানোর সময় বলতেন—
بَارَكَ اللَّهُ لَكَ وَبَارَكَ عَلَيْكَ وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِي الْخَيْرِ
আল্লাহ তোমাকে তাঁর অনুগ্রহ দান করুন; তোমার উপর বরকত দিন এবং কল্যাণের বিষয়ে তোমাদের একত্রিত করে দিন! (১)

[২০২] আমর ইবনু শুআইব কর্তৃক তার পিতার মাধ্যমে তার দাদা থেকে বর্ণিত, ‘নবি ﷺ বলেন, “তোমাদের কেউ কোনও মহিলাকে বিয়ে করলে অথবা কোনও দাস কিনলে, সে যেন বলে—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তার কল্যাণ ও তার সহজাত বৈশিষ্ট্যের কল্যাণ চাই; আর তোমার কাছে তার অকল্যাণ ও তার সহজাত বৈশিষ্ট্যের অকল্যাণ থেকে আশ্রয় চাই। (২)
কোনও সওয়ারি কিনলে, সে যেন তার কপাল ধরে অনুরূপ কথা বলে।”’

[২০৩] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, ‘নবি ﷺ বলেন, “তোমাদের কেউ যদি তার পরিবারের কাছে এসে বলে—
بِسْمِ اللهِ اللَّهُمَّ جَنَّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنَّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا
আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ! শয়তানকে আমাদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দাও! আমাদেরকে যা দিয়েছ, তা থেকে শয়তানকে দূর করে দাও!
তখন তাদেরকে এমন সন্তান দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়, যাকে শয়তান কখনও কোনও ক্ষতি করতে পারবে না।”’ (৩)

টিকা:
(১) আহমাদ, ৩৫৩৬, সহীহ।
(২) আবূ দাউদ, ২১৩০, সহীহ্।
(৩) মুসলিম, ১৪৩৪।

📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এলে

📄 সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এলে


[২০৪] ফাতিমা থেকে বর্ণিত, ‘তার সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময়ক্ষণ ঘনিয়ে এলে, আল্লাহর রাসূল ﷺ উম্মু সালামা ও যাইনাব বিন্তু জাহ্শ -কে নির্দেশ দেন, তারা যেন তার কাছে গিয়ে (নিম্নোক্ত আয়াতসমূহ) পাঠ করেন—
আয়াতুল কুরসি (সূরা আল-বাকারাহ ২:২৫৫):
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
আল্লাহ; তিনি ছাড়া কোনও সার্বভৌম সত্তা নেই; চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী; না তন্দ্রা তাঁকে স্পর্শ করে, আর না নিদ্রা; আকাশসমূহ ও পৃথিবীতে যা আছে, সবই তাঁর; এমন কে আছে, যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ পেশ করবে? তিনি তাদের সামনের-পেছনের সবকিছু জানেন; তারা তাঁর জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, তিনি যেটুকু চান সেটুকু বাদে; তাঁর আরশ আকাশসমূহ ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে; এগুলোর সংরক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত করে না; তিনি সুউচ্চ, মহান!

সূরা আল-আ'রাফ-এর ৫৪ নং আয়াত:
إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُوْمَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ تَبَارَكَ اللهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ
তোমাদের রব আল্লাহ। যিনি আকাশসমূহ ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন; তারপর আরশে সমাসীন হয়েছেন; তিনি রাত দিয়ে দিনকে ঢেকে দেন, তারপর রাতের পেছনে দিন দৌড়ে চলে আসে। তিনি সূর্য, চন্দ্র ও তারকারাজি সৃষ্টি করেছেন। সবাই তাঁর নির্দেশের অনুগত। সাবধান! সৃষ্টি তাঁর, নির্দেশও তাঁর। জগতসমূহের অধিপতি আল্লাহ বরকতময়!

সূরা ইউনুস-এর ৩ নং আয়াত:
إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مَا مِن شَفِيْعٍ إِلَّا مِنْ بَعْدِ إِذْنِهِ ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ أَفَلَا تَذَكَّرُوْنَ
তোমাদের রব আল্লাহ, যিনি আকাশসমূহ ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর আরশে সমাসীন হয়েছেন, তিনি বিশ্বজগতের ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করছেন। কোনও সুপারিশকারী এমন নেই, যে তার অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করতে পারে। এ আল্লাহই হচ্ছেন তোমাদের রব। কাজেই তোমরা তাঁরই দাসত্ব করো। এরপরও কি তোমাদের (কর্তব্যের ব্যাপারে) তোমরা সজাগ হবে না?
(নবি ﷺ তাদেরেকে নির্দেশ দেন) এরপর তারা যেন সূরা আল-ফালাক ও সূরা আন-নাস পড়ে তাঁকে আল্লাহর আশ্রয়ে দেন।

সূরা আল-ফালাক:
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ (1) مِن شَرِّ مَا خَلَقَ (2) وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ (3) وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ (4) وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ (5)
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। বলো, আমি আশ্রয় চাই প্রভাতের রবের, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে, এবং রাতের অন্ধকারের অনিষ্ট থেকে, যখন তা ছেয়ে যায়, আর গিরায় ফুঁ দানকারিণীদের অনিষ্ট থেকে। এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।

সূরা আন-নাস:
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ (1) مَلِكِ النَّاسِ (2) إِلَهِ النَّاسِ (3) مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ (4) الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ (5) مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ (6)
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। বলো, আমি আশ্রয় চাই মানুষের অধিপতি, মানুষের সম্রাট, মানুষের সার্বভৌম শাসকের কাছে, এমন প্ররোচনা দানকারীর অনিষ্ট থেকে, যে বারবার ফিরে আসে, যে মানুষের মনে প্ররোচনা দেয়, সে জিনের মধ্য থেকে হোক বা মানুষের মধ্য থেকে।(১)

টিকা:
(১) ইবনুস সুন্নি, ৬২৫, বর্ণনাসূত্রটি দুর্বল।

📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর

📄 সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর


[২০৫] আবূ রাফি থেকে বর্ণিত, ‘আমি দেখেছি-ফাতিমা হাসান ইবনু আলি-কে জন্ম দেওয়ার পর, আল্লাহর রাসূল ﷺ তার কানে সালাতের আযানের (শব্দাবলির) ন্যায় আযান দিয়েছেন।’ (২)

[২০৬] হুসাইন ইবনু আলি থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “কারও সন্তান জন্ম হলে সে যদি তার ডান কানে আযান ও বাম কানে ইকামাত দেয়, তাহলে জিন ও শয়তান তার কোনও ক্ষতি করতে পারবে না।”’ (৩)

[২০৭] আয়িশা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে শিশুদের আনা হলে, তিনি তাদের জন্য বরকতের দুআ করতেন এবং খেজুর নরম করে তাদের (জিহ্বার) তালুতে লাগিয়ে দিতেন।’ (৪)

টিকা:
(২) আবূ দাউদ, ১৫০৫; তিরমিযি, ১৫১৪। এ বর্ণনাসূত্রটি দুর্বল হলেও, এ ধরনের আরও অনেক বর্ণনার ফলে এটি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
(৩) ইবনুস সুন্নি, ৬৩৮, বর্ণনাসূত্রটি দুর্বল।
(৪) মুসলিম, ২৮৭; আবূ দাউদ, ৫১০৬।

📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 সন্তানের নাম রাখার সময়

📄 সন্তানের নাম রাখার সময়


[২০৮] আমর ইবনু শুআইব কর্তৃক তার পিতার মাধ্যমে তার দাদা থেকে বর্ণিত, ‘শিশু জন্মগ্রহণের পর সপ্তম দিনে তার নাম রাখা, তার কষ্ট দূর করে দেওয়া(১) ও আকীকা দেওয়ার জন্য নবি ﷺ নির্দেশ দিয়েছেন।’ (২)

[২০৯] নবি ﷺ-এর ছেলে ইবরাহীম, ইবরাহীম ইবনু আবী মূসা, আবদুল্লাহ ইবনু আবী তালহা ও মুন্যির ইবনু আবী উসাইদ -এসব শিশুর জন্মের কাছাকাছি সময়ে নবি ﷺ তাদের নাম রেখে দিয়েছেন।

[২১০] আবুদ দারদা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে তোমাদের নাম ও তোমাদের পিতার নাম ধরে ডাকা হবে। অতএব, তোমরা নিজেদের জন্য সুন্দর নাম রেখো।”’ (৩)

[২১১] আবদুল্লাহ ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “তোমাদের নামগুলোর মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলো আবদুল্লাহ (আল্লাহর বান্দা) ও আবদুর রহমান (দয়াময়ের বান্দা)।”’ (৪)

[২১২] আবূ ওয়াহাব জুশামি থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “তোমরা নবিদের নামানুসারে নাম রেখো। আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম হলো আবদুল্লাহ (আল্লাহর বান্দা) ও আবদুর রহমান (দয়াময়ের বান্দা); সবচেয়ে সত্যনিষ্ঠ নাম হলো হারিস ও হাম্মাম; আর সবচেয়ে বিশ্রী নাম হলো হার্ব ও মুররা।”’ (৫)

[২১৩] নবি ﷺ বেশ কয়েকজনের অপছন্দনীয় নাম পরিবর্তন করে সুন্দর নাম রেখে দিয়েছেন। যাইনাব-এর নাম ছিল ‘বাররা/ পবিত্র’। তাকে বলা হলো: ‘তুমি তো নিজেকে পবিত্র বলে ঘোষণা করছ!’ এরপর তিনি তার নাম রেখে দেন ‘যাইনাব’। ‘তিনি বাররা’র কাছ থেকে বের হয়েছেন’-এ কথা বলাকে তিনি অপছন্দ করতেন। নবি ﷺ এক লোককে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোমার নাম কী?’ সে বলে, ‘হাযন’। নবি ﷺ বলেন, এখন থেকে তোমার নাম ‘সাহল’। আসিয়া’র নাম পরিবর্তন করে তিনি তার নাম রাখেন জামীলা। আরেকজনকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘কী নাম তোমার?’ সে বলে, ‘আস্রাম’। তিনি বলেন, এখন থেকে তোমার নাম য়ুসর। তিনি ‘হার্ব/ যুদ্ধ’ নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘সিল্ম/ শান্তি’; ‘মুযত্বাজি/ শায়িত’ নাম বদলে তিনি রাখেন ‘মুম্বাইস/ জাগ্রত’। আফ্রা নামক এক ভূখণ্ডের নাম পরিবর্তন করে তিনি রাখেন ‘খাদিরা/ সবুজ অঞ্চল’; ‘গোম্রাহি গিরিখাত’ নাম বদলে রাখেন ‘হিদায়াত গিরিখাত’; আর ‘বানুষ যাইয়া’ গোত্রের নাম বদলে রাখেন ‘বানুর রাশদা’। (৬)

টিকা:
(১) অর্থাৎ, চুল কামিয়ে দেওয়া।
(২) তিরমিযি, ২৮৩২, হাসান গরীব।
(৩) আবূ দাউদ, ৪৯৪৮, বর্ণনাসূত্রটি দুর্বল।
(৪) মুসলিম, ২ ১৩২।
(৫) আবূ দাউদ, ৪৯৫০, বর্ণনাসূত্রটি দুর্বল।
(৬) আবূ দাউদ ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায়ে এটি সনদ ছাড়াই উল্লেখ করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00