📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 কাউকে অভিবাদন জানাতে

📄 কাউকে অভিবাদন জানাতে


[১৮৯] আবদুল্লাহ ইবনু আমর থেকে বর্ণিত, ‘এক ব্যক্তি নবি ﷺ-কে জিজ্ঞাসা করেন, ‘ইসলামের কোন কাজটি সর্বোত্তম?’ নবি ﷺ বলেন, “তুমি লোকদেরকে খাবার খাওয়াবে এবং পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেবে।”’ (১)

[১৯০] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “তোমরা জান্নাতে যেতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা ঈমানদার হবে; তোমরা ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা একে অপরকে ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদের এমন একটি কাজের কথা বলে দেবো না, যা করলে তোমাদের পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা বেড়ে যাবে? (কাজটি হলো) তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও।”’ (২)

[১৯১] আম্মার ইবনু ইয়াসীর থেকে বর্ণিত, ‘তিনটি গুণ যে আয়ত্ত করতে পেরেছে, সে ঈমানকে আয়ত্ত করেছে: মন থেকে ইনসাফ করা, (পরিচিত-অপরিচিত) সবাইকে সালাম দেওয়া, এবং অভাবের মধ্যেও দান করা।’

[১৯২] ইমরান ইবনু হুসাইন থেকে বর্ণিত, ‘এক ব্যক্তি নবি ﷺ-এর কাছে এসে বলে—
اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ
আপনাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক!
নবি ﷺ তার সালামের জবাব দেন। এরপর সে বসে পড়ে। নবি ﷺ বলেন, ‘দশটি (সাওয়াব)!’ আরেকজন এসে বলে—
اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ
আপনাদের উপর শান্তি ও আল্লাহর করুণা বর্ষিত হোক!
নবি ﷺ তার সালামের জবাব দেন। এরপর সে বসে পড়ে। নবি ﷺ বলেন, ‘বিশটি (সাওয়াব)!’ আরেকজন এসে বলে—
اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ
আপনাদের উপর শান্তি, আল্লাহর করুণা ও বরকত বর্ষিত হোক!
নবি ﷺ তার সালামের জবাব দেন। এরপর সে বসে পড়ে। নবি ﷺ বলেন, ‘ত্রিশটি (সাওয়াব)!’ (৩)

[১৯৩] আবূ উমামা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “মানুষের মধ্যে ওই ব্যক্তি আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়, যে প্রথমে সালাম দেয়।”’ (৪)

[১৯৪] আলি থেকে বর্ণিত, ‘নবি ﷺ বলেন, “একদল লোক কোথাও যাওয়ার সময় তাদের একজন সালাম দিলে, সবার পক্ষ থেকে তা যথেষ্ট। (আর) বসে-থাকা লোকদের কোনো একজন (সালামের) জবাব দিলে, সবার পক্ষ থেকে তা যথেষ্ট।”’ (৫)

[১৯৫] আনাস থেকে বর্ণিত, ‘খেলায়-মগ্ন শিশুদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়, নবি ﷺ তাদের সালাম দেন।’ (৬)

[১৯৬] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “তোমাদের কেউ কোনও মজলিশে গেলে, সে যেন (তাদের) সালাম দেয়। এরপর তার কাছে যদি মনে হয়, তার বসা (উচিত), তাহলে সে বসবে। তারপর ওঠার সময় (তাদের) সালাম দেবে; প্রথমটি শেষেরটির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ(৭) নয়।”’ (৮)

টিকা:
(১) মুসলিম, ৩৯।
(২) মুসলিম, ৫৪; আবূ দাউদ, ৫১৯৩।
(৩) তিরমিযি, ২৬৮৯, হাসান।
(৪) আবূ দাউদ, ৫১৯৭; তিরমিযি, ২৬৯৫, সহীহ্।
(৫) আবূ দাউদ, ৫২১০, বর্ণনাসূত্রটি দুর্বল।
(৬) মুসলিম, ২১৬৮।
(৭) আক্ষরিক অনুবাদ, ‘অধিক হকদার’।
(৮) আবূ দাউদ, ৫২০৮; তিরমিযি, ২৭০৭, হাসান।

📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 হাঁচি দিলে এবং হাই তুললে

📄 হাঁচি দিলে এবং হাই তুললে


[১৯৭] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘নবি ﷺ বলেন, “আল্লাহ হাঁচি পছন্দ করেন, আর হাই তোলা অপছন্দ করেন। তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দিয়ে বলে—
الْحَمْدُ لِلَّهِ
সকল প্রশংসা আল্লাহর।
প্রত্যেক মুসলিম, যে তা শুনে, তার দায়িত্ব হলো—
يَرْحَمُكَ اللهُ
আল্লাহ তোমার উপর দয়া করুন!
বলা। আর হাই আসে শয়তানের পক্ষ থেকে। তোমাদের কারও হাই আসলে, সে যেন তা ঠেকানোর জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করে; কারণ, তোমাদের কেউ হাই তুললে শয়তান তাতে হেসে দেয়।”’ (১)

[১৯৮] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘নবি ﷺ বলেন, “তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দেয়, তখন সে যেন বলে—
الْحَمْدُ لِلَّهِ
সকল প্রশংসা আল্লাহর।
আর তার ভাই বা সঙ্গী যেন বলে—
يَرْحَمُكَ اللهُ
আল্লাহ তোমার উপর দয়া করুন!
(তার সঙ্গী) তার জন্য يَرْحَمُكَ اللهُ বললে, সে যেন বলে—
يَهْدِيْكُمُ اللهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ
আল্লাহ তোমাকে সঠিক পথের দিশা দিন এবং বিষয়াদি সঠিক করে দিন!’ (২)

আবূ দাউদের ভাষ্যে বলা হয়েছে, ‘নবি ﷺ বলেন, “তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দেয়, তখন সে যেন বলে—
الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ
সর্বাবস্থায় সকল প্রশংসা আল্লাহর।”’ (৩)

[১৯৯] আবূ মূসা আশআরি থেকে বর্ণিত, ‘আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, “তোমাদের কেউ যদি হাঁচি দিয়ে বলে—
الْحَمْدُ لِلَّهِ
সকল প্রশংসা আল্লাহর।
তাহলে তোমরা বলবে—
يَرْحَمُكَ اللهُ
আল্লাহ তোমার উপর দয়া করুন!
আর সে যদি اَلْحَمْدُ لِلَّهِ না বলে, তাহলে তোমরা يَرْحَمُكَ اللهُ বলবে না।”’ (৪)

টিকা:
(১) বুখারি, ৬২২৬।
(২) বুখারি, ৬২২৪।
(৩) আবূ দাউদ, ৫০৩৩, সহীহ্।
(৪) মুসলিম, ২৯৯২।

📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 কেউ বিয়ে করলে

📄 কেউ বিয়ে করলে


[২০০] আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাদেরকে ‘খুতবাতুল হাজত’ বা প্রয়োজনের বক্তব্য শিখিয়েছেন (এভাবে)—
الْحَمْدُ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوْذُ بِاللهِ مِنْ شُرُوْرِ أَنْفُسِنَا وَسَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ، أَرْسَلَهُ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ، مَنْ يُطِعِ اللهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ رَشَدَ، وَمَنْ يَعْصِهِمَا فَإِنَّهُ لَا يَضُرُّ إِلَّا نَفْسَهُ وَلَا يَضُرُّ اللَّهَ شَيْئًا
সকল প্রশংসা আল্লাহর। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই, তাঁর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করি; আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই, আমাদের নিজেদের অনিষ্ট থেকে এবং আমাদের কর্মকাণ্ডের অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ যাকে (সঠিক) পথ দেখান, কেউ তাকে পথহারা করতে পারে না; আর তিনি যাকে পথহারা করেন, তাকে কেউ পথ দেখাতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনও সার্বভৌম সত্তা নেই; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ তাঁর দাস ও বার্তাবাহক; তিনি তাঁকে সত্য দিয়ে পাঠিয়েছেন, কিয়ামতের আগে সুসংবাদদাতা ও ভীতিপ্রদর্শনকারী হিসেবে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে সঠিক পথ পেয়ে যায়; আর যে তাঁদের অবাধ্য হয়, সে কেবল নিজেরই ক্ষতিসাধন করে, সে আল্লাহর কোনও ক্ষতি করতে পারে না।
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا
হে মানব জাতি! তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন একটি প্রাণ থেকে, আর সেই একই প্রাণ থেকে সৃষ্টি করেছেন তার জোড়া, আর তাদের দু’জন থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী; আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা পরস্পরের কাছে নিজেদের অধিকার চাও; এবং আত্মীয়তা ও নিকট-সম্পর্ক বিনষ্ট করা থেকে বিরত থাকো; নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো, আল্লাহ তোমাদের ওপর কড়া নজর রাখছেন। (সূরা আন-নিসা ৪:১)
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো! আর তোমাদের মৃত্যু যেন কেবল তখনই আসে, যখন তোমরা থাকবে (আল্লাহর বিধানের সামনে) অনুগত। (সূরা আল ইমরান ৩:১০২)
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ
হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো; আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপ ঠিকঠাক করে দেবেন এবং তোমাদের অপরাধসমূহ মাফ করে দেবেন।
وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا
আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে বড় সাফল্য অর্জন করে। (সূরা আল-আহযাব ৩৩:৭০-৭১)
[২০১] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘কেউ বিয়ে করলে, নবি ﷺ তাকে অভিনন্দন জানানোর সময় বলতেন—
بَارَكَ اللَّهُ لَكَ وَبَارَكَ عَلَيْكَ وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِي الْخَيْرِ
আল্লাহ তোমাকে তাঁর অনুগ্রহ দান করুন; তোমার উপর বরকত দিন এবং কল্যাণের বিষয়ে তোমাদের একত্রিত করে দিন! (১)

[২০২] আমর ইবনু শুআইব কর্তৃক তার পিতার মাধ্যমে তার দাদা থেকে বর্ণিত, ‘নবি ﷺ বলেন, “তোমাদের কেউ কোনও মহিলাকে বিয়ে করলে অথবা কোনও দাস কিনলে, সে যেন বলে—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তার কল্যাণ ও তার সহজাত বৈশিষ্ট্যের কল্যাণ চাই; আর তোমার কাছে তার অকল্যাণ ও তার সহজাত বৈশিষ্ট্যের অকল্যাণ থেকে আশ্রয় চাই। (২)
কোনও সওয়ারি কিনলে, সে যেন তার কপাল ধরে অনুরূপ কথা বলে।”’

[২০৩] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, ‘নবি ﷺ বলেন, “তোমাদের কেউ যদি তার পরিবারের কাছে এসে বলে—
بِسْمِ اللهِ اللَّهُمَّ جَنَّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنَّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا
আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ! শয়তানকে আমাদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দাও! আমাদেরকে যা দিয়েছ, তা থেকে শয়তানকে দূর করে দাও!
তখন তাদেরকে এমন সন্তান দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়, যাকে শয়তান কখনও কোনও ক্ষতি করতে পারবে না।”’ (৩)

টিকা:
(১) আহমাদ, ৩৫৩৬, সহীহ।
(২) আবূ দাউদ, ২১৩০, সহীহ্।
(৩) মুসলিম, ১৪৩৪।

📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এলে

📄 সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এলে


[২০৪] ফাতিমা থেকে বর্ণিত, ‘তার সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময়ক্ষণ ঘনিয়ে এলে, আল্লাহর রাসূল ﷺ উম্মু সালামা ও যাইনাব বিন্তু জাহ্শ -কে নির্দেশ দেন, তারা যেন তার কাছে গিয়ে (নিম্নোক্ত আয়াতসমূহ) পাঠ করেন—
আয়াতুল কুরসি (সূরা আল-বাকারাহ ২:২৫৫):
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
আল্লাহ; তিনি ছাড়া কোনও সার্বভৌম সত্তা নেই; চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী; না তন্দ্রা তাঁকে স্পর্শ করে, আর না নিদ্রা; আকাশসমূহ ও পৃথিবীতে যা আছে, সবই তাঁর; এমন কে আছে, যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ পেশ করবে? তিনি তাদের সামনের-পেছনের সবকিছু জানেন; তারা তাঁর জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, তিনি যেটুকু চান সেটুকু বাদে; তাঁর আরশ আকাশসমূহ ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে; এগুলোর সংরক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত করে না; তিনি সুউচ্চ, মহান!

সূরা আল-আ'রাফ-এর ৫৪ নং আয়াত:
إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُوْمَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ تَبَارَكَ اللهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ
তোমাদের রব আল্লাহ। যিনি আকাশসমূহ ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন; তারপর আরশে সমাসীন হয়েছেন; তিনি রাত দিয়ে দিনকে ঢেকে দেন, তারপর রাতের পেছনে দিন দৌড়ে চলে আসে। তিনি সূর্য, চন্দ্র ও তারকারাজি সৃষ্টি করেছেন। সবাই তাঁর নির্দেশের অনুগত। সাবধান! সৃষ্টি তাঁর, নির্দেশও তাঁর। জগতসমূহের অধিপতি আল্লাহ বরকতময়!

সূরা ইউনুস-এর ৩ নং আয়াত:
إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مَا مِن شَفِيْعٍ إِلَّا مِنْ بَعْدِ إِذْنِهِ ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ أَفَلَا تَذَكَّرُوْنَ
তোমাদের রব আল্লাহ, যিনি আকাশসমূহ ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর আরশে সমাসীন হয়েছেন, তিনি বিশ্বজগতের ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করছেন। কোনও সুপারিশকারী এমন নেই, যে তার অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করতে পারে। এ আল্লাহই হচ্ছেন তোমাদের রব। কাজেই তোমরা তাঁরই দাসত্ব করো। এরপরও কি তোমাদের (কর্তব্যের ব্যাপারে) তোমরা সজাগ হবে না?
(নবি ﷺ তাদেরেকে নির্দেশ দেন) এরপর তারা যেন সূরা আল-ফালাক ও সূরা আন-নাস পড়ে তাঁকে আল্লাহর আশ্রয়ে দেন।

সূরা আল-ফালাক:
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ (1) مِن شَرِّ مَا خَلَقَ (2) وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ (3) وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ (4) وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ (5)
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। বলো, আমি আশ্রয় চাই প্রভাতের রবের, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে, এবং রাতের অন্ধকারের অনিষ্ট থেকে, যখন তা ছেয়ে যায়, আর গিরায় ফুঁ দানকারিণীদের অনিষ্ট থেকে। এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।

সূরা আন-নাস:
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ (1) مَلِكِ النَّاسِ (2) إِلَهِ النَّاسِ (3) مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ (4) الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ (5) مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ (6)
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। বলো, আমি আশ্রয় চাই মানুষের অধিপতি, মানুষের সম্রাট, মানুষের সার্বভৌম শাসকের কাছে, এমন প্ররোচনা দানকারীর অনিষ্ট থেকে, যে বারবার ফিরে আসে, যে মানুষের মনে প্ররোচনা দেয়, সে জিনের মধ্য থেকে হোক বা মানুষের মধ্য থেকে।(১)

টিকা:
(১) ইবনুস সুন্নি, ৬২৫, বর্ণনাসূত্রটি দুর্বল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00