📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 অবাধ্য বা বিপজ্জনক বাহনে চড়ে

📄 অবাধ্য বা বিপজ্জনক বাহনে চড়ে


[১৭১] ইউনুস ইবনু উবাইদ থেকে বর্ণিত, ‘কোনও অবাধ্য বাহনে চড়ে, কেউ যদি বাহনটির কানের কাছে গিয়ে বলে—
أَفَغَيْرَ دِينِ اللَّهِ يَبْغُونَ وَلَهُ أَسْلَمَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ
এরা কি আল্লাহর আনুগত্যের পথ ত্যাগ করে অন্য কোনও পথের সন্ধান করছে? অথচ আকাশ ও পৃথিবীর সবকিছুই স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় আল্লাহর হুকুমের অনুগত; এবং তাঁরই দিকে সবাইকে ফিরে যেতে হবে। (সূরা আল ইমরান ৩:৮৩)
তাহলে আল্লাহ তাআলার অনুমতিক্রমে তা থেমে যাবে। আমরা এরূপ করে দেখেছি; আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাই হয়েছে!’

📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 ঊষর ও জনমানবহীন এলাকায় বাহন হারিয়ে গেলে

📄 ঊষর ও জনমানবহীন এলাকায় বাহন হারিয়ে গেলে


[১৭২] ইবনু মাসউদ থেকে বর্ণিত, ‘নবি ﷺ বলেন, “তোমাদের কারও বাহন যদি ঊষর (ও জনমানবহীন) প্রান্তরে পালিয়ে যায়, তাহলে সে যেন এভাবে ডাকে—
يَا عِبَادَ اللهِ اِحْبِسُوا
আল্লাহরা বান্দারা! (একে) ধরুন!
يَا عِبَادَ اللهِ إِحْبِسُوا
আল্লাহরা বান্দারা! (একে) ধরুন!
কারণ, আল্লাহ তাআলার নিযুক্ত (বান্দা) দুনিয়াতে হাজির থাকেন, তিনি সেটি ধরে ফেলবেন।”’ (১)

টিকা:
(১) তাবারানি, ৩/৮১/১; ইবনুস সুন্নি, ৫০০। বর্ণনাসূত্রটি দুর্বল।

📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 জনপদ কিংবা ঘরে ঢুকার সময়

📄 জনপদ কিংবা ঘরে ঢুকার সময়


[১৭৩] সুহাইব থেকে বর্ণিত, ‘যে জনপদে নবি ﷺ ঢুকতে চাইতেন, ওই জনপদ চোখে পড়া মাত্রই তিনি বলতেন—
اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَمَا أَظْلَلْنَ وَرَبَّ الْأَرْضِينَ السَّبْعِ وَمَا أَقْلَلْنَ وَرَبَّ الشَّيَاطِيْنِ وَمَا أَضْلَلْنَ وَرَبَّ الرِّيَاحِ وَمَا ذَرَيْنَ أَسْأَلُكَ خَيْرَ هُذِهِ الْقَرْيَةِ وَخَيْرَ أَهْلِهَا وَخَيْرَ مَا فِيهَا وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ أَهْلِهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا
হে আল্লাহ, সাত আকাশ ও তার ছায়াধীন এলাকার অধিপতি! সাত পৃথিবী ও তার উপরিভাগের অধিপতি! শয়তানগণ ও তাদের দ্বারা পথভ্রষ্টদের অধিপতি! বায়ুপ্রবাহ ও তা যা উড়িয়ে নিয়ে চলে, তার অধিপতি! আমি তোমার কাছে এ জনপদ, এর অধিবাসী ও এর ভেতরে যা আছে তার কল্যাণ চাই, আর এর, এর অধিবাসীর ও এর ভেতরে যা আছে তার অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। (১)

[১৭৪] খাওলা বিন্তু হাকিম থেকে বর্ণিত, ‘আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি কোনও এলাকায় অবস্থান করে বলে—
أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
আমি আল্লাহর পূৰ্ণ শব্দ/ বাক্যসমূহের আশ্রয় চাই, তাঁর সৃষ্টজীবের অনিষ্ট থেকে।
ওই স্থান থেকে চলে আসা পর্যন্ত কোনও কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।” (২)

[১৭৫] আবদুল্লাহ ইবনু আমর থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ সফরে বের হওয়ার পর, রাত হয়ে গেলে বলতেন—
يَا أَرْضُ رَبِّيَّ وَرَبُّكِ اللهُ أَعُوْذُ بِاللهِ مِنْ شَرِّكِ وَشَرِّ مَا فِيكِ وَشَرِّ مَا خُلِقَ فِيكِ وَشَرِّ مَا يَدِبُّ عَلَيْكِ أَعُوْذُ بِاللَّهِ مِنْ أَسَدٍ وَأُسْوَدَ وَمِنَ الْحَيَّةِ وَالْعَقْرَبِ وَمِنْ سَاكِنِ الْبَلِدِ وَمِنْ وَالِدٍ وَمَا وَلَدَ
হে পৃথিবী! আমার রব ও তোমার রব আল্লাহ। তোমার ও তোমার ভেতরকার বিষয়াদির অনিষ্ট থেকে, তোমার ভেতরকার সৃষ্টজীবের অনিষ্ট থেকে, এবং তোমার উপর বিচরণশীল প্রাণীর অনিষ্ট থেকে। সিংহ ও ভয়ংকর সাপ থেকে, (সাধারণ) সাপ ও বিচ্ছু থেকে, (মানুষ ও জিন) অধিবাসীর অনিষ্ট থেকে, এবং তার অনিষ্ট থেকে যে জন্ম দেয় ও জন্ম নেয়। (৩)

টিকা:
(১) নাসাঈ, ৩/৭৩, হাসান।
(২) মুসলিম, ২৭০৮।
(৩) আবূ দাউদ, ২৬০৩, হাসান।

📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 খাবার ও পানীয় গ্রহণের সময়

📄 খাবার ও পানীয় গ্রহণের সময়


আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوْا كُلُوْا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَاشْكُرُوا لِلَّهِ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُوْنَ
“হে ঈমানদারগণ! যদি তোমরা যথার্থই আল্লাহর দাসত্বকারী হয়ে থাকো, তাহলে যে সমস্ত পাক-পবিত্র জিনিস আমি তোমাদের দিয়েছি সেগুলো খাও এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো”। (সূরা আল-বাকারাহ ২:১৭২)
[১৭৬] উমার ইবনু আবী সালামা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাকে বলেন, “ছেলে আমার! (খাওয়ার সময়) بِسْمِ اللهِ )আল্লাহর নামে) বলবে, ডান দিক থেকে খাবে এবং তোমার কাছের অংশ থেকে খাবে।”’ (১)

[১৭৭] আয়িশা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “তোমাদের কেউ যখন খাবার খাবে, সে যেন খাবারের শুরুতে আল্লাহ তাআলার নাম স্মরণ করে; আর শুরুতে আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করতে ভুলে গেলে, সে যেন বলে—
بِسْمِ اللَّهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ
আল্লাহর নামে, শুরুতে ও শেষে।”’ (২)

[১৭৮] উমাইয়া ইবনু মাখশি থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বসে আছেন। আর এক ব্যক্তি খাবার খাচ্ছেন। তিনি (শুরুতে) ‘বিসমিল্লাহ’ বলেননি; কেবল এক গ্রাস বাকি আছে—এমন সময় তিনি তা মুখে তুলে বলেন,
بِسْمِ اللَّهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ
আল্লাহর নামে, শুরুতে ও শেষে।
এতে নবি ﷺ হেসে দিয়ে বলেন, “শয়তান তার সাথে খেয়েই যাচ্ছিল; ‘বিসমিল্লাহ’ বলার পর, সে তার পেটের ভেতরে যা ছিল তা বমি করে দিয়েছে।”’ (৩)

[১৭৯] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ কখনও কোনও খাবারের দোষ ধরেননি; পছন্দ হলে খেয়েছেন, নতুবা খাননি।’ (৪)

[১৮০] ওয়াহশি থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর সাহাবিগণ বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আমরা খাবার খাই, কিন্তু তাতে পেট ভরে না!” নবি ﷺ বলেন, “তোমরা সম্ভবত আলাদাভাবে খাও!” তারা বলেন, “হ্যাঁ!” নবি ﷺ বলেন, “তোমাদের খাবারগুলো একসাথে করো,(৫) এরপর আল্লাহকে স্মরণ করো, আল্লাহ তাতে বরকত দেবেন।”’ (৬)

[১৮১] আনাস থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “আল্লাহ ওই বান্দার উপর অবশ্যই খুশি হবেন, যে খাবার খেয়ে খাবারের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করে এবং পানীয় পান করে তার জন্য আল্লাহর প্রশংসা করে।”’ (৭)

[১৮২] মুআয ইবনু আনাস থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “যে ব্যক্তি খাবার খেয়ে বলে—
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِیْ اَطْعَمَنِیْ هٰذَا وَ رَزَقَنِیْهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِّنِّي وَلَاَ قُوَّةٍ
সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে এ খাবার খাইয়েছেন ও এ রিস্ক দিয়েছেন, (এখানে) আমার কোনও শক্তি-সামর্থ্য কিছুই নেই।
তার পেছনের গোনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হয়।”’ (৮)

[১৮৩] আবূ সাঈদ থেকে বর্ণিত, ‘নবি ﷺ খাবার শেষ করে বলতেন-
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مُسْلِمِينَ
সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের খাইয়েছেন, পান করিয়েছেন এবং আমাদেরকে (তাঁর) অনুগত বানিয়েছেন। (৯)

[১৮৪] নবি ﷺ-এর খেদমত করেছেন এমন এক সাহাবি থেকে বর্ণিত, ‘নবি ﷺ-এর কাছে খাবার আনা হলে তিনি শুনতেন, নবি ﷺ বলতেন-
بِسْمِ اللهِ
আল্লাহর নামে।
খাওয়া শেষে তিনি বলতেন-
اللَّهُمَّ أَطْعَمْتَ وَأَسْقَيْتَ وَأَغْنَيْتَ وَأَقْنَيْتَ وَهَدَيْت وَاجْتَبَيْتَ لَكَ الْحَمْدُ عَلَى مَا أَعْطَيْتَ
হে আল্লাহ! তুমি (আমাদের) খাইয়েছ, পান করিয়েছ, অভাবমুক্ত করেছ, পরিতৃপ্ত করেছ, (সঠিক) পথ দেখিয়েছ এবং নির্বাচিত করেছ; তুমি যা দিয়েছ, তার জন্য প্রশংসা কেবল তোমারই। (১০)

[১৮৫] আবূ উমামা থেকে বর্ণিত, (খাওয়া শেষে) নবি ﷺ-এর পাত্র উঠিয়ে নেওয়া হলে, তিনি বলতেন—
الْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيراً طَيِّباً مُبَارَكاً فِيهِ غَيْرَ مَكْفِيٍّ وَلَا مُوَدَّعٍ وَلَا مُسْتَغْنَى عَنْهُ رَبَّنَا
সকল প্রশংসা আল্লাহর; পরিমাণে বিপুল, পবিত্র, বরকতময়, (তুমি আমাদের জন্য) যথেষ্ট, অপরিত্যাজ্য; হে আমাদের রব! (১১)

টিকা:
(১) মুসলিম, ২০২২।
(২) আবূ দাউদ, ৩৭৬৭; তিরমিযি, ১৮৫৯, সহীহ্।
(৩) আবূ দাউদ, ৩৭৬৮, হাসান।
(৪) মুসলিম, ২০৬৪।
(৫) আরেকটি অনুবাদ হতে পারে, ‘তোমরা খাবার খাওয়ার জন্য একসাথে হও।’
(৬) আবূ দাউদ, ৩৭৬৪, বর্ণনাসূত্রটি দুর্বল।
(৭) মুসলিম, ২৭৩৪।
(৮) আবূ দাউদ, ৪০২৩; তিরমিযি, ৩৪৫৪, হাসান।
(৯) আবূ দাউদ, ৩৮৫০; তিরমিযি, ৩৪৫৩, হাসান।
(১০) ইবনুস সুন্নি, ৪৫৯, সহীহ্।
(১১) বুখারি, ৪৫৫৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00