📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 নতুন চাঁদ দেখলে

📄 নতুন চাঁদ দেখলে


[১৫৮] আবদুল্লাহ ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, ‘নতুন চাঁদ দেখলে, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলতেন—
اللهُ أَكْبَرُ اللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيْمَانِ وَالسَّلَامَةِ وَالْإِسْلَامِ وَالتَّوْفِيقِ لِمَا تُحِبُّ رَبَّنَا وَتَرْضَى رَبُّنَا وَرَبُّكَ اللهُ
আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। হে আল্লাহ! আমাদের জন্য একে উদিত করো, নিরাপত্তা ও ঈমান সহ সুস্থতা ও ইসলাম সহ, তুমি যে কাজ পছন্দ করো, এবং যে কাজে তুমি সন্তুষ্ট ওই কাজের সামর্থ্য সহ! তোমার রব ও আমাদের রব আল্লাহ। (১)

টিকা:
(১) তিরমিযি, ৩৪৫১, সহীহ্।

📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 ইফতারের সময়

📄 ইফতারের সময়


[১৫৯] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “তিন ব্যক্তির দুআ ফেরত দেওয়া হয় না: সাওম পালনকারী, যখন (২) সে ইফতার করে; ন্যায়পরায়ণ শাসক; ও মজলুম।”’ (৩)

[১৬০] আবদুল্লাহ ইবনু আমর থেকে বর্ণিত, ‘আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, “ইফতারের সময় সাওম পালনকারীর একটি দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।”’
ইবনু আবী মুলাইকা বলেন, ‘আমি আবদুল্লাহ ইবনু আমর -কে ইফতারের সময় বলতে শুনেছি—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ أَنْ تَغْفِرَ لِي
হে আল্লাহ! তোমার ওই করুণার ওসীলায়—যা সবকিছুকে বেষ্টন করে রেখেছে— আমি তোমার কাছে চাই, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। (১)

[১৬১] আনাস থেকে বর্ণিত, ‘ইফতারের সময় নবি ﷺ বলতেন-
اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য সাওম পালন করেছি, আর তোমার রিস্ক দিয়ে ইফতার করছি। (২)
ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, ‘ইফতারের সময় আল্লাহর রাসূল ﷺ বলতেন-
اللَّهُمَّ لَكَ صُمْنَا وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْنَا فَتَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
হে আল্লাহ! আমরা তোমার জন্য সাওম পালন করেছি, আর তোমার রিস্ক দিয়ে ইফতার করছি। আমাদের (সাওম) কবুল করো। একমাত্র তুমিই সব শোনো, জানো। (৩)

টিকা:
(১) ইবনু মাজাহ্, ১৭৫৩; বুসীরি এটিকে সহীহ্ আখ্যায়িত করেছেন।
(২) আবূ দাউদ, ২৩৫৮, বর্ণনাসূত্রটি দুর্বল।
(৩) ইবনুস সুন্নি, ৪৮০; বর্ণনাকারীদের একজন দুর্বল।

📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 সফরে বের হলে

📄 সফরে বের হলে


[১৬২] আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “কোনও ব্যক্তি তার (অনুপস্থিতিতে) পরিবারের জন্য যা কিছু রেখে যেতে পারে, সেসবের মধ্যে সর্বোত্তম হলো—সফরে বের হওয়ার সময় সে তাদের কাছে দু’ রাকআত সালাত আদায় করে নেবে।” (১)

[১৬৩] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘নবি ﷺ বলেন, “কেউ সফরে বের হতে চাইলে, সে যেন পেছনে-থাকা লোকদের বলে—
أَسْتَوْدِعُكُمُ اللَّهَ الَّذِي لَا تَضِيعُ وَدَائِعُهُ
আমি তোমাদেরকে আল্লাহর আমানতে রেখে যাচ্ছি, যাঁর আমানত কখনও নষ্ট হয় না। (২)

[১৬৪] ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “আল্লাহর কাছে কোনও কিছু আমানত রাখা হলে, তিনি তা হেফাজত করেন।”’ (৩)

[১৬৫] সালিম বলেন, ‘কেউ সফরে বের হতে চাইলে, ইবনু উমার তাকে বলতেন, “আমার কাছে আসো, আমি তোমাকে সেভাবে বিদায় জানাব, যেভাবে আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাদের বিদায় জানাতেন। তিনি বলতেন—
أَسْتَوْدِعُ اللَّهَ دِيْنَكَ وإِيْمَانَكَ وَخَوَاتِيمَ أَعْمَالِكَ
আমি তোমার দ্বীন, ঈমান ও কর্মপরিণতি আল্লাহর আমানতে দিয়ে দিচ্ছি।
অপর এক বর্ণনায় আছে, ‘নবি ﷺ কোনও ব্যক্তিকে বিদায় জানালে, তিনি তার হাত ধরতেন এবং ওই ব্যক্তি নবি ﷺ-এর হাত না ছাড়া পর্যন্ত, নবি ﷺ তাঁর হাত ছাড়তেন না।’ (৪)

[১৬৬] আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত, ‘এক ব্যক্তি নবি ﷺ-এর কাছে এসে বলে, “হে আল্লাহর রাসূল! আমি সফরে যেতে চাচ্ছি; আমাকে কিছু পাথেয় দিন!” নবি ﷺ বলেন-
زَوَّدَكَ اللهُ التَّقْوى
আল্লাহ তোমাকে আল্লাহভীতি দান করুন!
সে বলে, ‘আমাকে আরও কিছু পাথেয় দিন!’ নবি ﷺ বলেন-
وَغَفَرَ ذَنْبَكَ
তিনি তোমাকে মাফ করে দিন!
সে বলে, ‘আমাকে আরও কিছু পাথেয় দিন!’ নবি ﷺ বলেন-
وَيَسَّرَ لَكَ الْخَيْرَ حَيْثُ مَا كُنتَ
তুমি যেখানেই থাক, তিনি তোমার কল্যাণ-লাভ সহজ করে দিন! (৫)

[১৬৭] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘এক ব্যক্তি বলে, “হে আল্লাহর রাসূল! আমি সফরে যেতে চাচ্ছি; আমাকে কিছু উপদেশ দিন!” নবি ﷺ বলেন-
عَلَيْكَ بِتَقْوَى اللهِ وَالتَّكْبِيرِ عَلَى كُلِّ شَرَفٍ
আল্লাহর অসন্তুষ্টি এড়িয়ে চলবে এবং প্রত্যেক উঁচু স্থানে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করবে।
লোকটি চলে যাওয়ার পর, নবি ﷺ বলেন-
اللَّهُمَّ اطْوِلَهُ الْبُعْدَ وَهَوَّنْ عَلَيْهِ السَّفَرَ
হে আল্লাহ! তার (সফরের) দূরত্ব কমিয়ে দাও! তার সফর সহজ করে দাও। (৬)

টিকা:
(১) তাবারানি, হাসান, তবে কেউ কেউ বলেছেন, বর্ণনাসূত্রটি দুর্বল।
(২) ইবনু মাজাহ্, ২৮২৫; ইবনুস সুন্নি, ৪৯৯, হাসান।
(৩) মাওয়ারিদুয যাম্আন, ৩৩৭৬, সহীহ্।
(৪) তিরমিযি, ৩৪৪৩, হাসান সহীহ্।
(৫) তিরমিযি, ৩৪৪৪, হাসান।
(৬) তিরমিযি, ৩৪৪১, সহীহ্।

📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 বাহনে উঠে

📄 বাহনে উঠে


[১৬৮] আলি ইবনু রবীআ বলেন, ‘আমি দেখতে পাই, আলি ইবনু আবী তালিব এর আরোহণের জন্য একটি বাহন আনা হলো। বাহনটির রেকাবে পা দিয়ে তিনি বলেন—
بِسْمِ اللهِ
আল্লাহর নামে।
এর পিঠে বসার পর বলেন—
الْحَمْدُ لِلَّهِ
সকল প্রশংসা আল্লাহর।
এরপর বলেন—
سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هذا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ
পবিত্র সেই সত্তা যিনি আমাদের জন্য এসব জিনিসকে অনুগত করে দিয়েছেন; তা না হলে, এদের আয়ত্তে আনার শক্তি আমাদের ছিল না৷ (সূরা আয-যুখরুফ ৪৩:১৩)
এরপর তিনবার বলেন—
الْحَمْدُ لِلَّهِ
সকল প্রশংসা আল্লাহর।
এরপর তিনবার বলেন—
اللهُ أَكْبَرُ
আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।
এরপর বলেন—
سُبْحَانَكَ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
তুমি পবিত্র। আমিই আমার নিজের উপর জুলুম করেছি। আমাকে ক্ষমা করে দাও। তুমি ছাড়া আর কেউ গোনাহ ক্ষমা করতে পারে না।
এরপর তিনি হেসে দেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘হে আমীরুল মুমিনীন! আপনার হাসির কারণ কী?’ তিনি বলেন, ‘আমি দেখেছি, আমি যা করলাম তা করার পর নবি ﷺ হেসে দেন। তখন আমি জানতে চাই, “হে আল্লাহর রাসূল! আপনার হাসির কারণ কী?” নবি ﷺ বলেন, “তোমার মহাপবিত্র ও মহিমান্বিত রব নিজের বান্দার এ আচরণ দেখে আশ্চর্যান্বিত হন, যখন সে বলে, ‘হে আমার রব! আমার গোনাহগুলো ক্ষমা করে দাও!’ অথচ সে ভালো করেই জানে, আমি ছাড়া গোনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই!”’ (১)

[১৬৯] আবদুল্লাহ ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, ‘নবি ﷺ সফরে বেরিয়ে তাঁর উটের পিঠে বসে তিন বার বলতেন, “الله اَكْبَرُ আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।” এরপর বলতেন—
سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هذا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُوْنَ
পবিত্র সেই সত্তা যিনি আমাদের জন্য এসব জিনিসকে অনুগত করে দিয়েছেন; তা না হলে, এদের আয়ত্তে আনার শক্তি আমাদের ছিল না। (এক দিন) আমাদের রবের কাছে আমাদের ফিরে যেতে হবে (সূরা আয-যুখরুফ ৪৩:১৩)
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فِي سَفَرِنَا هُذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে এ সফরে কল্যাণ ও আল্লাহ্ ভীতি চাই, তোমার পছন্দনীয় আমল (করতে চাই)।
اللَّهُمَّ هَوَّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هذا وَاطْوِ عَنَّا بُعْدَهُ
হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের এ সফর সহজ করে দাও! এর দূরত্ব কমিয়ে দাও!
اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ وَالْخَلِيفَةُ فِي الْأَهْلِ
হে আল্লাহ! তুমি (আমাদের) সফরসঙ্গী, আর আমাদের পরিবারের দেখভালকারী।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَابَةِ الْمَنْظَرِ وَسُوْءِ الْمُنْقَلِبِ فِي الْمَالِ وَالْأَهْلِ
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই সফরের কষ্ট থেকে, আমাদের সম্পদ ও পরিবারের প্রতি কারও কুদৃষ্টি থেকে এবং দুঃখকষ্ট নিয়ে বাড়িতে ফেরা থেকে।
ফিরে এসে ওইগুলো বলতেন; আর তার সাথে বাড়তি বলতেন—
آيِبُوْنَ تَائِبُوْنَ عَابِدُوْنَ لِرَبِّنَا حَامِدُوْنَ
(আমরা বাড়িতে) ফিরে এসেছি, আল্লাহর কাছে তাওবা করছি, তাঁর দাসত্ব করছি (এবং) আমাদের রবের প্রশংসা করছি। (২)
অপর এক বর্ণনায় আছে, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ ও তাঁর সাহাবিগণ উঁচু এলাকায় আরোহণ করলে বলতেন-
اللهُ أَكْبَرُ
আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।
আর নিচের দিকে নামার সময় বলতেন-
سُبْحَانَ اللهِ
আল্লাহ পবিত্র। (৩)

টিকা:
(১) আবূ দাউদ, ২৬০২; তিরমিযি, ৩৪৪৩, হাসান সহীহ।
(২) মুসলিম, ১৩৪২।
(৩) আবূ দাউদ, ২৫৯৮, ২৫৯৯, সহীহ্।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00