📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 মেঘ-বৃষ্টির প্রয়োজন হলে

📄 মেঘ-বৃষ্টির প্রয়োজন হলে


[১৫৬] যাইদ ইবনু খালিদ জুহানি থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাদের নিয়ে ফাজরের সালাত আদায় করেন। সালাত শেষে, তিনি লোকদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলেন, “তোমরা কি জানো, তোমাদের রব কী বলেছেন?” সাহাবিগণ বলেন, “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন!’ নবি ﷺ বলেন, “(আল্লাহ বলেছেন) আমার বান্দাদের মধ্যে কেউ আজ সকাল যাপন করেছে আমার প্রতি ঈমান রেখে, আর কেউ আমার প্রতি কুফরি করে। যে বলেছে, ‘আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ার ফলে আমরা বৃষ্টি পেয়েছি’, আমার উপর তার ঈমান আছে এবং সে তারকারাজির সাথে কুফরি করেছে; আর যে বলেছে, ‘আমরা বৃষ্টি পেয়েছি অমুক অমুক তারকার কারণে’, সে আমার সাথে কুফরি করেছে, আর ঈমান এনেছে তারকার উপর!’ (১)

[১৫৭] আনাস থেকে বর্ণিত, ‘এক ব্যক্তি জুমুআর দিন মাসজিদে প্রবেশ করে। আল্লাহর রাসূল ﷺ তখন দাঁড়িয়ে খুতবা (ভাষণ) দিচ্ছেন। ওই লোকটি বলে, ‘হে আল্লাহর রাসূল! (আমাদের) ধনসম্পদ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে; আল্লাহর কাছে দুআ করুন, তিনি যেন আমাদের বৃষ্টি দেন।’ এ কথা শুনে, আল্লাহর রাসূল ﷺ দু’ হাত উঠিয়ে বলেন-
اللَّهُمَّ أَغِثْنَا اللَّهُمَّ أَغِثْنَا
হে আল্লাহ! আমাদের বৃষ্টি দাও! হে আল্লাহ! আমাদের বৃষ্টি দাও!
শপথ আল্লাহর! আমরা আকাশে মেঘের কোনও লক্ষণ দেখিনি; ওই সময় আমাদের ও সিলা পর্বতের মাঝখানে কোনও ঘরবাড়ি ও দালানকোঠা কিছুই ছিল না। তখন বর্মের মতো একটি মেঘখণ্ড সিলা পাহাড়ের পেছন থেকে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে! আকাশের মাঝামাঝি এসে সেটি ছড়িয়ে পড়ে; এরপর শুরু হয় বৃষ্টি। শপথ আল্লাহর! এক সপ্তাহ পর্যন্ত আমরা কোনও সূর্য দেখিনি। তারপর পরবর্তী জুমুআর দিন এক ব্যক্তি ওই দরজা দিয়ে ঢুকে। আল্লাহর রাসূল ﷺ তখন দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছেন। ওই লোকটি বলে, ‘হে আল্লাহর রাসূল! (আমাদের) ধনসম্পদ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে; আল্লাহর কাছে বৃষ্টি থামানোর জন্য দুআ করুন!’ তখন আল্লাহর রাসূল ﷺ দু’ হাত উঠিয়ে বলেন—
اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا اللَّهُمَّ عَلَى الْأَكَامِ وَالظَّرَابِ وَبُطُونِ الْأَوْدِيَةِ وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ
হে আল্লাহ! আমাদের আশেপাশে (বর্ষিত হোক), আমাদের উপর না; হে আল্লাহ! (এ বৃষ্টি) মালভূমি পাহাড়-পর্বত, উপত্যকা ও গাছপালা গজানোর জায়গায় (বর্ষিত হোক)!
এরপর বৃষ্টি থেমে যায়, আর আমরা রৌদ্রের মধ্যে হাঁটতে বের হই।’ (২)

টিকা:
(১) মুসলিম, ৭১।
(২) বুখারি, ১০১৩।

📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 নতুন চাঁদ দেখলে

📄 নতুন চাঁদ দেখলে


[১৫৮] আবদুল্লাহ ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, ‘নতুন চাঁদ দেখলে, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলতেন—
اللهُ أَكْبَرُ اللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيْمَانِ وَالسَّلَامَةِ وَالْإِسْلَامِ وَالتَّوْفِيقِ لِمَا تُحِبُّ رَبَّنَا وَتَرْضَى رَبُّنَا وَرَبُّكَ اللهُ
আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। হে আল্লাহ! আমাদের জন্য একে উদিত করো, নিরাপত্তা ও ঈমান সহ সুস্থতা ও ইসলাম সহ, তুমি যে কাজ পছন্দ করো, এবং যে কাজে তুমি সন্তুষ্ট ওই কাজের সামর্থ্য সহ! তোমার রব ও আমাদের রব আল্লাহ। (১)

টিকা:
(১) তিরমিযি, ৩৪৫১, সহীহ্।

📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 ইফতারের সময়

📄 ইফতারের সময়


[১৫৯] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “তিন ব্যক্তির দুআ ফেরত দেওয়া হয় না: সাওম পালনকারী, যখন (২) সে ইফতার করে; ন্যায়পরায়ণ শাসক; ও মজলুম।”’ (৩)

[১৬০] আবদুল্লাহ ইবনু আমর থেকে বর্ণিত, ‘আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, “ইফতারের সময় সাওম পালনকারীর একটি দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।”’
ইবনু আবী মুলাইকা বলেন, ‘আমি আবদুল্লাহ ইবনু আমর -কে ইফতারের সময় বলতে শুনেছি—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ أَنْ تَغْفِرَ لِي
হে আল্লাহ! তোমার ওই করুণার ওসীলায়—যা সবকিছুকে বেষ্টন করে রেখেছে— আমি তোমার কাছে চাই, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। (১)

[১৬১] আনাস থেকে বর্ণিত, ‘ইফতারের সময় নবি ﷺ বলতেন-
اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য সাওম পালন করেছি, আর তোমার রিস্ক দিয়ে ইফতার করছি। (২)
ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, ‘ইফতারের সময় আল্লাহর রাসূল ﷺ বলতেন-
اللَّهُمَّ لَكَ صُمْنَا وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْنَا فَتَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
হে আল্লাহ! আমরা তোমার জন্য সাওম পালন করেছি, আর তোমার রিস্ক দিয়ে ইফতার করছি। আমাদের (সাওম) কবুল করো। একমাত্র তুমিই সব শোনো, জানো। (৩)

টিকা:
(১) ইবনু মাজাহ্, ১৭৫৩; বুসীরি এটিকে সহীহ্ আখ্যায়িত করেছেন।
(২) আবূ দাউদ, ২৩৫৮, বর্ণনাসূত্রটি দুর্বল।
(৩) ইবনুস সুন্নি, ৪৮০; বর্ণনাকারীদের একজন দুর্বল।

📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 সফরে বের হলে

📄 সফরে বের হলে


[১৬২] আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “কোনও ব্যক্তি তার (অনুপস্থিতিতে) পরিবারের জন্য যা কিছু রেখে যেতে পারে, সেসবের মধ্যে সর্বোত্তম হলো—সফরে বের হওয়ার সময় সে তাদের কাছে দু’ রাকআত সালাত আদায় করে নেবে।” (১)

[১৬৩] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘নবি ﷺ বলেন, “কেউ সফরে বের হতে চাইলে, সে যেন পেছনে-থাকা লোকদের বলে—
أَسْتَوْدِعُكُمُ اللَّهَ الَّذِي لَا تَضِيعُ وَدَائِعُهُ
আমি তোমাদেরকে আল্লাহর আমানতে রেখে যাচ্ছি, যাঁর আমানত কখনও নষ্ট হয় না। (২)

[১৬৪] ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “আল্লাহর কাছে কোনও কিছু আমানত রাখা হলে, তিনি তা হেফাজত করেন।”’ (৩)

[১৬৫] সালিম বলেন, ‘কেউ সফরে বের হতে চাইলে, ইবনু উমার তাকে বলতেন, “আমার কাছে আসো, আমি তোমাকে সেভাবে বিদায় জানাব, যেভাবে আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাদের বিদায় জানাতেন। তিনি বলতেন—
أَسْتَوْدِعُ اللَّهَ دِيْنَكَ وإِيْمَانَكَ وَخَوَاتِيمَ أَعْمَالِكَ
আমি তোমার দ্বীন, ঈমান ও কর্মপরিণতি আল্লাহর আমানতে দিয়ে দিচ্ছি।
অপর এক বর্ণনায় আছে, ‘নবি ﷺ কোনও ব্যক্তিকে বিদায় জানালে, তিনি তার হাত ধরতেন এবং ওই ব্যক্তি নবি ﷺ-এর হাত না ছাড়া পর্যন্ত, নবি ﷺ তাঁর হাত ছাড়তেন না।’ (৪)

[১৬৬] আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত, ‘এক ব্যক্তি নবি ﷺ-এর কাছে এসে বলে, “হে আল্লাহর রাসূল! আমি সফরে যেতে চাচ্ছি; আমাকে কিছু পাথেয় দিন!” নবি ﷺ বলেন-
زَوَّدَكَ اللهُ التَّقْوى
আল্লাহ তোমাকে আল্লাহভীতি দান করুন!
সে বলে, ‘আমাকে আরও কিছু পাথেয় দিন!’ নবি ﷺ বলেন-
وَغَفَرَ ذَنْبَكَ
তিনি তোমাকে মাফ করে দিন!
সে বলে, ‘আমাকে আরও কিছু পাথেয় দিন!’ নবি ﷺ বলেন-
وَيَسَّرَ لَكَ الْخَيْرَ حَيْثُ مَا كُنتَ
তুমি যেখানেই থাক, তিনি তোমার কল্যাণ-লাভ সহজ করে দিন! (৫)

[১৬৭] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘এক ব্যক্তি বলে, “হে আল্লাহর রাসূল! আমি সফরে যেতে চাচ্ছি; আমাকে কিছু উপদেশ দিন!” নবি ﷺ বলেন-
عَلَيْكَ بِتَقْوَى اللهِ وَالتَّكْبِيرِ عَلَى كُلِّ شَرَفٍ
আল্লাহর অসন্তুষ্টি এড়িয়ে চলবে এবং প্রত্যেক উঁচু স্থানে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করবে।
লোকটি চলে যাওয়ার পর, নবি ﷺ বলেন-
اللَّهُمَّ اطْوِلَهُ الْبُعْدَ وَهَوَّنْ عَلَيْهِ السَّفَرَ
হে আল্লাহ! তার (সফরের) দূরত্ব কমিয়ে দাও! তার সফর সহজ করে দাও। (৬)

টিকা:
(১) তাবারানি, হাসান, তবে কেউ কেউ বলেছেন, বর্ণনাসূত্রটি দুর্বল।
(২) ইবনু মাজাহ্, ২৮২৫; ইবনুস সুন্নি, ৪৯৯, হাসান।
(৩) মাওয়ারিদুয যাম্আন, ৩৩৭৬, সহীহ্।
(৪) তিরমিযি, ৩৪৪৩, হাসান সহীহ্।
(৫) তিরমিযি, ৩৪৪৪, হাসান।
(৬) তিরমিযি, ৩৪৪১, সহীহ্।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00