📄 তীব্র বায়ুপ্রবাহ শুরু হলে
[১৫০] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, “বায়ুপ্রবাহ হলো আল্লাহর (পাঠানো) সজীবতা; এটি করুণা নিয়ে আসে, আবার শাস্তিও নিয়ে আসে। তাই, বায়ুপ্রবাহ দেখলে তোমরা একে গালমন্দ কোরো না; (বরং) আল্লাহর কাছে এর কল্যাণ চাও, আর এর অনিষ্ট থেকে (তাঁর কাছে) আশ্রয় চাও।”’ (১)
[১৫১] আয়িশা থেকে বর্ণিত, ‘তীব্র বায়ুপ্রবাহ শুরু হলে, নবি ﷺ বলতেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا فِيهَا وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّها وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ
আমি তোমার কাছে এর ও এর ভেতরকার কল্যাণ চাই এবং একে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে, তার কল্যাণ চাই; আর আমি তোমার কাছে এর ও এর ভেতরকার অকল্যাণ থেকে আশ্রয় চাই এবং একে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে, তার অকল্যাণ থেকে আশ্রয় চাই।’ (২)
[১৫২] আয়িশা থেকে বর্ণিত, ‘আকাশের দিগন্তে মেঘমালা ঘনীভূত হতে দেখলে, নবি ﷺ সকল কাজ বন্ধ করে দিতেন, এমনকি সালাতে থাকলেও! এরপর তিনি বলতেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا
হে আল্লাহ! আমি তার অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই।
বৃষ্টি হওয়ার পর তিনি বলতেন—
اللَّهُمَّ صَيِّباً هَنِيئاً
হে আল্লাহ! (এটিকে) উপকারী বর্ষণে পরিণত করো। (৩)
টিকা:
(১) আবূ দাউদ, ৫০৯৭, সহীহ্/ হাসান।
(২) মুসলিম, ৮৯৯।
(৩) আবূ দাউদ, ৫০৯৯; ইবনু মাজাহ্, ৩১৮৯, সহীহ্।
📄 বজ্রপাতের সময়
[১৫৩] আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর থেকে বর্ণিত, ‘বজ্রপাতের আওয়াজ শুনলে, তিনি কথাবার্তা বন্ধ করে বলতেন—
سُبْحَانَ الَّذِي يُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيْفَتِهِ
পবিত্র সেই সত্তা, মেঘের গর্জন তাঁর প্রশংসা সহ পবিত্রতা বর্ণনা করে এবং যাঁর ভয়ে কম্পিত হয়ে পবিত্রতা বর্ণনা করে ফেরেশতারা। (১)
[১৫৪] কা’ব থেকে বর্ণিত, ‘যে-ব্যক্তি উপরিউক্ত দুআ তিনবার পড়বে, সে ওই বজ্রপাত থেকে নিরাপদ থাকবে।’ (২)
[১৫৫] আবদুল্লাহ ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, ‘নবি ﷺ কোনও বজ্রধ্বনি বা বজ্রতুল্য উচ্চ আওয়াজ শুনলে বলতেন—
اللَّهُمَّ لَا تَقْتُلْنَا بِغَضَبِكَ وَلَا تُهْلِكْنَا بِعَذَابِكَ وَعَافِنَا قَبْلَ ذُلِكَ
হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে তোমার ক্রোধ দিয়ে হত্যা করো না; তোমার শাস্তি দিয়ে আমাদের ধ্বংস করো না; এর আগেই তুমি আমাদের মাফ করে দাও! (৩)
টিকা:
(১) মালিক, ৩/১৫৪, সহীহ।
(২) তাবারানি, হাসান।
(৩) তিরমিযি, ৩৪৪৬, গরীব।
📄 মেঘ-বৃষ্টির প্রয়োজন হলে
[১৫৬] যাইদ ইবনু খালিদ জুহানি থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাদের নিয়ে ফাজরের সালাত আদায় করেন। সালাত শেষে, তিনি লোকদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলেন, “তোমরা কি জানো, তোমাদের রব কী বলেছেন?” সাহাবিগণ বলেন, “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন!’ নবি ﷺ বলেন, “(আল্লাহ বলেছেন) আমার বান্দাদের মধ্যে কেউ আজ সকাল যাপন করেছে আমার প্রতি ঈমান রেখে, আর কেউ আমার প্রতি কুফরি করে। যে বলেছে, ‘আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ার ফলে আমরা বৃষ্টি পেয়েছি’, আমার উপর তার ঈমান আছে এবং সে তারকারাজির সাথে কুফরি করেছে; আর যে বলেছে, ‘আমরা বৃষ্টি পেয়েছি অমুক অমুক তারকার কারণে’, সে আমার সাথে কুফরি করেছে, আর ঈমান এনেছে তারকার উপর!’ (১)
[১৫৭] আনাস থেকে বর্ণিত, ‘এক ব্যক্তি জুমুআর দিন মাসজিদে প্রবেশ করে। আল্লাহর রাসূল ﷺ তখন দাঁড়িয়ে খুতবা (ভাষণ) দিচ্ছেন। ওই লোকটি বলে, ‘হে আল্লাহর রাসূল! (আমাদের) ধনসম্পদ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে; আল্লাহর কাছে দুআ করুন, তিনি যেন আমাদের বৃষ্টি দেন।’ এ কথা শুনে, আল্লাহর রাসূল ﷺ দু’ হাত উঠিয়ে বলেন-
اللَّهُمَّ أَغِثْنَا اللَّهُمَّ أَغِثْنَا
হে আল্লাহ! আমাদের বৃষ্টি দাও! হে আল্লাহ! আমাদের বৃষ্টি দাও!
শপথ আল্লাহর! আমরা আকাশে মেঘের কোনও লক্ষণ দেখিনি; ওই সময় আমাদের ও সিলা পর্বতের মাঝখানে কোনও ঘরবাড়ি ও দালানকোঠা কিছুই ছিল না। তখন বর্মের মতো একটি মেঘখণ্ড সিলা পাহাড়ের পেছন থেকে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে! আকাশের মাঝামাঝি এসে সেটি ছড়িয়ে পড়ে; এরপর শুরু হয় বৃষ্টি। শপথ আল্লাহর! এক সপ্তাহ পর্যন্ত আমরা কোনও সূর্য দেখিনি। তারপর পরবর্তী জুমুআর দিন এক ব্যক্তি ওই দরজা দিয়ে ঢুকে। আল্লাহর রাসূল ﷺ তখন দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছেন। ওই লোকটি বলে, ‘হে আল্লাহর রাসূল! (আমাদের) ধনসম্পদ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে; আল্লাহর কাছে বৃষ্টি থামানোর জন্য দুআ করুন!’ তখন আল্লাহর রাসূল ﷺ দু’ হাত উঠিয়ে বলেন—
اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا اللَّهُمَّ عَلَى الْأَكَامِ وَالظَّرَابِ وَبُطُونِ الْأَوْدِيَةِ وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ
হে আল্লাহ! আমাদের আশেপাশে (বর্ষিত হোক), আমাদের উপর না; হে আল্লাহ! (এ বৃষ্টি) মালভূমি পাহাড়-পর্বত, উপত্যকা ও গাছপালা গজানোর জায়গায় (বর্ষিত হোক)!
এরপর বৃষ্টি থেমে যায়, আর আমরা রৌদ্রের মধ্যে হাঁটতে বের হই।’ (২)
টিকা:
(১) মুসলিম, ৭১।
(২) বুখারি, ১০১৩।
📄 নতুন চাঁদ দেখলে
[১৫৮] আবদুল্লাহ ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, ‘নতুন চাঁদ দেখলে, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলতেন—
اللهُ أَكْبَرُ اللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيْمَانِ وَالسَّلَامَةِ وَالْإِسْلَامِ وَالتَّوْفِيقِ لِمَا تُحِبُّ رَبَّنَا وَتَرْضَى رَبُّنَا وَرَبُّكَ اللهُ
আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। হে আল্লাহ! আমাদের জন্য একে উদিত করো, নিরাপত্তা ও ঈমান সহ সুস্থতা ও ইসলাম সহ, তুমি যে কাজ পছন্দ করো, এবং যে কাজে তুমি সন্তুষ্ট ওই কাজের সামর্থ্য সহ! তোমার রব ও আমাদের রব আল্লাহ। (১)
টিকা:
(১) তিরমিযি, ৩৪৫১, সহীহ্।