📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 কবরের সামনে দাঁড়িয়ে

📄 কবরের সামনে দাঁড়িয়ে


[১৪৭] বুরাইদা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ তাদের এভাবে শিখিয়েছেন যে, তারা যখন কবরস্থানে যাবেন, তখন বলবেন—
السَّلامُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لَاحِقُوْنَ نَسْأَلُ اللهَ لَنَا وَلَكُمْ الْعَافِيَةَ
তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! ওহে গৃহবাসী মুমিন ও মুসলিমগণ! আর ইন শা আল্লাহ, আমরা (অচিরেই) তোমাদের সাথে যুক্ত হব। আমরা আল্লাহর কাছে চাই, তিনি যেন আমাদের ও তোমাদের মাফ করে দেন। (১)

টিকা:
(১) মুসলিম, ৯৭৫।

📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 বৃষ্টির পানি প্রয়োজন হলে

📄 বৃষ্টির পানি প্রয়োজন হলে


[১৪৮] জাবির ইবনু আব্দিল্লাহ থেকে বর্ণিত, ‘কিছু লোক কাঁদতে কাঁদতে নবি ﷺ-এর কাছে আসেন। তখন নবি ﷺ বলেন-
اللَّهُمَّ اسْقِنَا غَيْثاً مُغِيثاً مَرِيْئاً مَرِيْعاً نَافِعاً غَيْرَ ضَارٌّ عَاجِلاً غَيْرَ آجِلٍ
হে আল্লাহ! আমাদেরকে উপকারী বৃষ্টি দাও! যা বরকতময় ও উপকারী, যা কেবল কল্যাণ নিয়ে আসবে, কোনও ক্ষতি করবে না, এখনই দাও, দেরি করো না!
এরপর তাদের উপরের আকাশ (মেঘে) ঢেকে যায়।’ (১)

[১৪৯] আয়িশা থেকে বর্ণিত, ‘লোকজন এসে আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে বৃষ্টি না হওয়ার অনুযোগ পেশ করেন। তখন নবি ﷺ একটি মিম্বার স্থাপনের নির্দেশ দেন। অতঃপর তাঁর জন্য ঈদগাহে একটি মিম্বার স্থাপন করা হয়। সেখানে উপস্থিত হওয়ার জন্য নবি ﷺ লোকদের জন্য একটি দিন নির্ধারণ করে দেন। এরপর সূর্যের রশ্মির দিকে তাকানো যায় এমন সময় আল্লাহর রাসূল ﷺ (ঈদগাহের উদ্দেশে) বের হন। মিম্বারে বসে আল্লাহ তাআলার শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রশংসা বর্ণনা করে তিনি বলেন, “তোমরা আমার কাছে অনুযোগ পেশ করেছ—তোমাদের এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছে না এবং স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় তোমাদের এখানে বৃষ্টি আসতে দেরি হচ্ছে। আল্লাহ তাআলা তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা যেন তাঁকে ডাকো, আর তিনি তোমাদের ওয়াদা দিয়েছেন যে, তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবেন।” এরপর তিনি বলেন—
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مَالِكِ يَوْمِ الدِّيْنِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ اللَّهُمَّ أَنْتَ اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَنْتَ الْغَنِيُّ وَنَحْنُ الْفُقَرَاءُ أُنْزِلْ عَلَيْنَا الغَيْثَ وَاجْعَلْ مَا أَنْزَلْتَ لَنَا قُوَّةً وَبَلَاغاً إِلَى حِينٍ
সকল প্রশংসা জগৎসমূহের অধিপতি আল্লাহর, যিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু, বিচার দিনের মালিক। আল্লাহ ছাড়া কোনও সার্বভৌম সত্তা নেই; তিনি যা চান, তাই করেন। হে আল্লাহ! তুমিই আল্লাহ, তুমি ছাড়া কোনও সার্বভৌম সত্তা নেই; তুমি অমুখাপেক্ষী, আর আমরা নিঃস্ব; আমাদের বৃষ্টি দাও! তুমি যা বর্ষণ করবে, তা দিয়ে আমাদের শক্তি যোগাও এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চলার সুযোগ করে দাও!
এরপর তিনি দু’ হাত তুলে ধরে রাখেন; এতে তাঁর দু’ বগলের সাদা অংশ প্রকাশ পড়ে। এরপর লোকদের দিকে পিঠ ফিরিয়ে, হাত তোলা অবস্থায় নিজের চাদর পরিবর্তন বা উল্টিয়ে নেন। এরপর লোকদের দিকে মুখ ফেরান এবং (মিম্বার থেকে) নেমে দু’ রাকআত সালাত আদায় করেন। তখন আল্লাহ তাআলা একটি মেঘমালা সৃষ্টি করে দেন; তা থেকে বিদ্যুৎ চমক ও বজ্রপাত শুরু হয়। এরপর আল্লাহ তাআলার অনুমতিক্রমে বৃষ্টি নামে। (রাস্তাঘাট) সয়লাব হওয়ার আগ পর্যন্ত নবি ﷺ মাসজিদে ফিরে আসেননি। বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ার আশঙ্কায় লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটতে থাকে। এ দৃশ্য দেখে নবি ﷺ হেসে দেন; এতে তাঁর মাঢ়ির দাঁত প্রকাশ হয়ে পড়ে। তখন তিনি বলেন, “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি—আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান, আর আমি তাঁর দাস ও বার্তাবাহক।”’ (২)

টিকা:
(১) আবূ দাউদ, ১১৬৯, হাসান।
(২) আবূ দাউদ, ১১৭৩, হাসান।

📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 তীব্র বায়ুপ্রবাহ শুরু হলে

📄 তীব্র বায়ুপ্রবাহ শুরু হলে


[১৫০] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, “বায়ুপ্রবাহ হলো আল্লাহর (পাঠানো) সজীবতা; এটি করুণা নিয়ে আসে, আবার শাস্তিও নিয়ে আসে। তাই, বায়ুপ্রবাহ দেখলে তোমরা একে গালমন্দ কোরো না; (বরং) আল্লাহর কাছে এর কল্যাণ চাও, আর এর অনিষ্ট থেকে (তাঁর কাছে) আশ্রয় চাও।”’ (১)

[১৫১] আয়িশা থেকে বর্ণিত, ‘তীব্র বায়ুপ্রবাহ শুরু হলে, নবি ﷺ বলতেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا فِيهَا وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّها وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ
আমি তোমার কাছে এর ও এর ভেতরকার কল্যাণ চাই এবং একে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে, তার কল্যাণ চাই; আর আমি তোমার কাছে এর ও এর ভেতরকার অকল্যাণ থেকে আশ্রয় চাই এবং একে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে, তার অকল্যাণ থেকে আশ্রয় চাই।’ (২)

[১৫২] আয়িশা থেকে বর্ণিত, ‘আকাশের দিগন্তে মেঘমালা ঘনীভূত হতে দেখলে, নবি ﷺ সকল কাজ বন্ধ করে দিতেন, এমনকি সালাতে থাকলেও! এরপর তিনি বলতেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا
হে আল্লাহ! আমি তার অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই।
বৃষ্টি হওয়ার পর তিনি বলতেন—
اللَّهُمَّ صَيِّباً هَنِيئاً
হে আল্লাহ! (এটিকে) উপকারী বর্ষণে পরিণত করো। (৩)

টিকা:
(১) আবূ দাউদ, ৫০৯৭, সহীহ্/ হাসান।
(২) মুসলিম, ৮৯৯।
(৩) আবূ দাউদ, ৫০৯৯; ইবনু মাজাহ্, ৩১৮৯, সহীহ্।

📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 বজ্রপাতের সময়

📄 বজ্রপাতের সময়


[১৫৩] আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর থেকে বর্ণিত, ‘বজ্রপাতের আওয়াজ শুনলে, তিনি কথাবার্তা বন্ধ করে বলতেন—
سُبْحَانَ الَّذِي يُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيْفَتِهِ
পবিত্র সেই সত্তা, মেঘের গর্জন তাঁর প্রশংসা সহ পবিত্রতা বর্ণনা করে এবং যাঁর ভয়ে কম্পিত হয়ে পবিত্রতা বর্ণনা করে ফেরেশতারা। (১)

[১৫৪] কা’ব থেকে বর্ণিত, ‘যে-ব্যক্তি উপরিউক্ত দুআ তিনবার পড়বে, সে ওই বজ্রপাত থেকে নিরাপদ থাকবে।’ (২)

[১৫৫] আবদুল্লাহ ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, ‘নবি ﷺ কোনও বজ্রধ্বনি বা বজ্রতুল্য উচ্চ আওয়াজ শুনলে বলতেন—
اللَّهُمَّ لَا تَقْتُلْنَا بِغَضَبِكَ وَلَا تُهْلِكْنَا بِعَذَابِكَ وَعَافِنَا قَبْلَ ذُلِكَ
হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে তোমার ক্রোধ দিয়ে হত্যা করো না; তোমার শাস্তি দিয়ে আমাদের ধ্বংস করো না; এর আগেই তুমি আমাদের মাফ করে দাও! (৩)

টিকা:
(১) মালিক, ৩/১৫৪, সহীহ।
(২) তাবারানি, হাসান।
(৩) তিরমিযি, ৩৪৪৬, গরীব।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00