📄 শত্রু ও প্রতাপশালীর মুখোমুখি হলে
[১২১] আবূ মূসা আশআরি থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ কোনও জনগোষ্ঠীর ব্যাপারে শঙ্কা বোধ করলে বলতেন—
اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُوْرِهِمْ وَنَعُوْذُ بِكَ مِنْ شُرُوْرِهِمْ
হে আল্লাহ! আমি তোমাকে তাদের টুটিতে স্থাপন করছি; আর তাদের অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। (১)
[১২২] আনাস থেকে বর্ণিত, ‘শত্রুর মুখোমুখি হলে নবি ﷺ বলতেন—
اللَّهُمَّ أَنْتَ عَضُدِي وَأَنْتَ نَاصِرِي بِكَ أَحُوْلُ وَبِكَ أَصُوْلُ وَبِكَ أُقَاتِلُ
হে আল্লাহ! তুমিই আমার শক্তি, তুমিই আমার সাহায্যকারী; তোমার মাধ্যমে আমি প্রতিরোধ গড়ে তুলি, আর তোমার শক্তিতে আমি আক্রমণ ও লড়াই করি। (২)
[১২৩] আনাস থেকে বর্ণিত, ‘এক যুদ্ধে নবি ﷺ বলেন—
يَا مَالِكَ يَوْمِ الدِّيْنِ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
হে বিচার দিনের মালিক! আমরা কেবল তোমার গোলামি করি, আর তোমার কাছেই সাহায্য চাই।
আমি দেখেছি, কতগুলো লোক (নিহত হয়ে) পড়ে আছে; ফেরেশতারা সামনের ও পেছনের দিক থেকে তাদের আঘাত করছে।’ (৩)
[১২৪] ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “কোনও প্রতাপশালী বা (এ ধরনের) অন্য কোনও ব্যক্তির ব্যাপারে কোনও শঙ্কা বোধ করলে, তুমি বোলো—
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْحَكِيمُ الْكَرِيمُ سُبْحَانَ اللهِ رَبِّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَرَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ عَزَّ جَارُكَ وَجَلَّ ثَنَاؤُكَ وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ
আল্লাহ ছাড়া কোনও সার্বভৌম সত্তা নেই! তিনি প্রজ্ঞাময়, মহানুভব। আল্লাহ পবিত্র। তিনি সাত আকাশের শাসক ও মহান আরশের অধিপতি। তুমি ছাড়া কোনও সার্বভৌম সত্তা নেই! তোমার দেওয়া সুরক্ষা অত্যন্ত শক্তিশালী; তোমার প্রশংসা বড় মহিমাময়; আর তুমি ছাড়া কোনও সার্বভৌম সত্তা নেই। (৪)
[১২৫]
حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
“আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনিই সবচেয়ে ভালো অভিভাবক।” (সূরা আল ইমরান ৩:১৭৩)
ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, ‘এ দুআ পড়েছিলেন ইবরাহীম عَلَيْهِ ٱلسَّلَامُ, যখন তাঁকে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। আর এ দুআ পড়েছেন মুহাম্মাদ ﷺ, যখন লোকজন তাঁকে বলেছিল, “তোমাদের বিরুদ্ধে কিন্তু লোকজন একজোট হয়েছে!”।’ (৫)
টিকা:
(১) আবূ দাউদ, ১৫৩৭, সহীহ্।
(২) আবূ দাউদ, ২৬৩২, সহীহ; তিরমিযি, ৩৫৭৮, হাসান।
(৩) ইবনুস সুন্নি, ৩২৯, বর্ণনাসূত্রটি দুর্বল।
(৪) ইবনুস সুন্নি, ৩৪০, বর্ণনাসূত্রটি দুর্বল।
(৫) বুখারি, ৪৫৬৩।
📄 শয়তানের উপস্থিতি প্রসঙ্গ
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَقُل رَّبِّ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَعُوْذُ بِكَ رَبِّ أَنْ يَحْضُرُوْنِ
“আর বলো, ‘হে আমার রব! আমি শয়তানদের উসকানি থেকে তোমার আশ্রয় চাই। (এমনকি) হে রব! সে আমার কাছে আসুক-এ থেকেও আমি তোমার আশ্রয় চাই।” (সূরা আল-মু’মিনূন ২৩:৯৭-৯৮)
[১২৬] আবূ সাঈদ থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
وَإِمَّا يَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
“যদি তুমি শয়তানের পক্ষ থেকে কোনও প্ররোচনা আঁচ করতে পার, তাহলে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো; তিনি সব কিছু শোনেন এবং জানেন।” (সূরা ফুসসিলাত/হা-মীম আস-সাজদাহ্ ৪১:৩৬)
তাই নবি ﷺ বলতেন—
أَعُوْذُ بِاللهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفَثِهِ
আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই, যিনি সবকিছু শোনেন, জানেন (তাঁর কাছে আশ্রয় চাই) বিতাড়িত শয়তানের প্ররোচনা, ফুঁ ও থুতু থেকে।(১)
টিকা:
(১) আবূ দাউদ, ৭৭৫, সহীহ্; তিরমিযি, ২৪২, সহীহ্।
📄 আযান শয়তানকে তাড়িয়ে দেয়
[১২৭] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘নবি ﷺ বলেন, “মুআযয্যিন যখন আযান দেয়, শয়তান তখন বায়ু ত্যাগ করতে করতে পালিয়ে যায়। আযান শেষ হলে, সে এগিয়ে আসে; কিন্তু সালাতের জন্য ইকামাত দেওয়া হলে, (আবার) পালিয়ে যায়। ইকামাত শেষ হলে সে ফিরে আসে।”’(১)
[১২৮] সুহাইল ইবনু আবী সালিহ বলেন, ‘আমার পিতা আমাকে বানু হারিসার কাছে পাঠান। আমার সঙ্গে ছিল আমাদের এক ভৃত্য বা বন্ধু। দেয়ালের ওপার থেকে কেউ একজন তাকে নাম ধরে ডাক দেয়। আমার সঙ্গে-থাকা লোকটি দেয়ালের কাছে গিয়ে কিছুই দেখতে পায়নি। বিষয়টি আমার পিতাকে জানালে, তিনি বলেন, “আমি যদি আঁচ করতে পারতাম, তুমি এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে, তাহলে আমি তোমাকে পাঠাতাম না। তবে (ভবিষ্যতে) যদি কোনও আওয়াজ শুন (এবং কিছু দেখতে না পাও), তাহলে সালাতের আযান দেবে; কারণ, আবূ হুরায়রা নবী ﷺ এর বরাতে বলেছেন, “সালাতের আযান দিলে শয়তান পালিয়ে যায়।”’(২)
[১২৯] যাইদ ইবনু আসলাম থেকে বর্ণিত, ‘তাকে কয়েকটি খনি দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়। লোকজন (তাকে) জানায় যে, ওখানে প্রচুর জিন আছে। ফলে তিনি তাদের সব সময় বেশি বেশি আযান দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর তারা আর কিছু দেখতে পায়নি।’
[১৩০] আবুদ দারদা থেকে বর্ণিত, ‘নবী ﷺ সালাতে দাঁড়ান। তখন আমরা শুনতে পাই, তিনি বলছেন, “أَعُوْذُ بِاللَّهِ مِنْكَ আমি তোমার ব্যাপারে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।” এরপর তিনি তিন বার বলেন, “أَلْعَنُكَ بِلَعْنَةِ اللهِ আমি তোমাকে আল্লাহর অভিশাপ দিচ্ছি।” সালাত শেষ হলে, আমরা তাঁকে বলি, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনাকের সালাতের মধ্যে এমন কিছু বলতে শুনলাম, যা এর আগে আপনাকে বলতে শুনিনি! আর দেখলাম, আপনি আপনার হাত (সামনের দিকে) বাড়িয়ে দিয়েছেন!’ নবী ﷺ বলেন, “আল্লাহর দুশমন ইবলীস আগুনের একটি স্ফুলিঙ্গ নিয়ে এসেছিল, আমার চেহারায় লাগিয়ে দেওয়ার জন্য। তখন আমি তিন বার বলি, أَعُوْذُ بِاللَّهِ مِنْكَ আমি তোমার ব্যাপারে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।” চাই।’ এরপর তিন বার বলি, ‘أَلْعَنُكَ بِلَعْنَةِ اللهِ التَّامَّةِ আমি তোমাকে আল্লাহর পূর্ণ অভিশাপ দিচ্ছি।’ এরপর সে আর দেরি করতে চায়নি। আমি তাকে ধরতে চেয়েছিলাম। আমাদের ভাই সুলাইমান عَلَيْهِ ٱلسَّلَامُ-এর দুআ না থাকলে, সে বন্দি হয়ে যেত, আর মদীনাবাসীদের শিশুরা তাকে নিয়ে খেল-তামাশা করত।”’ (৩)
[১৩১] উসমান ইবনু আবিল আস থেকে বর্ণিত, ‘আমি বলি, “হে আল্লাহর রাসূল! শয়তান আমার, আমার সালাত ও আমার কিরাআতের মধ্যে বাধা সৃষ্টি করে এবং (কতটুকু পড়লাম) সে ব্যাপারে সন্দেহ ঢুকিয়ে দেয়।” তখন নবি ﷺ বলেন, “এ হলো খান্যাব নামক শয়তানের কাজ। তার উপস্থিতি টের পেলে, তার ব্যাপারে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়ো এবং তোমার বাম দিকে তিন বার থুতু ফেলো।” আমি তা-ই করি। এর ফলে আল্লাহ তাকে আমার কাছ থেকে সরিয়ে দেন।’ (৪)
[১৩২] আবূ যুমাইল বলেন, ‘আমি ইবনু আব্বাসকে বলি, “ব্যাপার কী? আমার মনে (মাঝে মধ্যে আল্লাহ সম্পর্কে) সন্দেহ সৃষ্টি হয়!” তখন তিনি আমাকে বলেন, “তোমার মনে এরূপ কিছু সৃষ্টি হলে, তুমি পাঠ কোরো—
هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
“তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ; তিনিই প্রকাশিত তিনিই গোপন। তিনি সব বিষয়ে অবহিত।” (সূরা আল-হাদীদ ৫৭:৩)”’ (৫)
টিকা:
(১) বুখারি, ৬০৮, ১২৩১, ৩২৮৫।
(২) মুসলিম, ৩৮৯।
(৩) মুসলিম, ৫৪২।
(৪) মুসলিম, ২২০৩।
(৫) আবূ দাউদ, ৫১১০, হাসান।
📄 আল্লাহর ফায়সালার সামনে আত্মসমর্পণ করুন
আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوْا لَا تَكُوْنُوْا كَالَّذِينَ كَفَرُوا وَقَالُوا لِإِخْوَانِهِمْ إِذَا ضَرَبُوا فِي الْأَرْضِ أَوْ كَانُوْا غُزًّى لَّوْ كَانُوْا عِنْدَنَا مَا مَاتُوْا وَمَا قُتِلُوْا لِيَجْعَلَ اللَّهُ ذَلِكَ حَسْرَةً فِي قُلُوْبِهِمْ وَاللَّهُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِيرٌ (١٥٦)
“হে ঈমানদারগণ! কাফিরদের মতো হয়ো না। তাদের আত্মীয়স্বজনরা কখনও সফরে গেলে অথবা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলে (এবং সেখানে কোনও দুর্ঘটনায় পতিত হলে) তারা বলে, যদি তারা আমাদের কাছে থাকত, তাহলে মারা যেত না এবং নিহত হত না। এ ধরনের কথাকে আল্লাহ তাদের মানসিক খেদ ও আক্ষেপের কারণ বানিয়ে দেন। নয়তো জীবন-মৃত্যু তো একমাত্র আল্লাহই দিয়ে থাকেন এবং তোমাদের সমস্ত কার্যকলাপের উপর তিনি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।” (সূরা আল ইমরান ৩:১৫৬)
[১৩৩] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “দুর্বল মুমিনের চেয়ে শক্তিশালী মুমিন উত্তম এবং আল্লাহ তাআলার কাছে বেশি প্রিয়; অবশ্য প্রত্যেকের মধ্যেই কল্যাণ আছে। ওই কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হও, যা তোমার উপকারে আসবে। আর আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও; নিজেকে (কখনও) অসহায় মনে কোরো না। তোমার জীবনে কোনও কিছু ঘটে গেলে এ কথা বোলো না, ‘ইশ্! আমি যদি এ কাজ করতাম, তাহলে এটি এটি হত!’ বরং বোলো, ‘এ হলো আল্লাহর ফায়সালা। তিনি যা চান, তা-ই করেন।’ কারণ, ‘যদি’ কথাটি শয়তানের কাজের জন্য রাস্তা খুলে দেয়।”’ (১)
[১৩৪] আউফ ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত, ‘নবি ﷺ দু’ ব্যক্তির মধ্যে ফায়সালা করে দেন। ফায়সালা যার বিরুদ্ধে গিয়েছিল, সে চলে যাওয়ার সময় বলে, “আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, আর তিনিই সর্বোত্তম অভিভাবক।” এর পরিপ্রেক্ষিতে নবি ﷺ বলেন, “আল্লাহ অলসতা ও গাফিলতিকে তিরস্কার করেন; তোমার উচিত চৌকশ হওয়া; তারপর পরাজিত হলে বলবে—‘আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, আর তিনিই সর্বোত্তম অভিভাবক।’”’ (২)
টিকা:
(১) মুসলিম, ২৬৬৪।
(২) আবূ দাউদ, ৩৬২৭, বর্ণনাসূত্রটি দুর্বল।