📄 সালাতের শুরুতে বলুন
[৭৫] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘সালাত শুরু করার পর, সূরা পাঠের আগে আল্লাহর রাসূল ﷺ কিছুক্ষণ নীরব থাকতেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলি, “হে আল্লাহর রাসূল! আমার মাতা-পিতা (আপনার জন্য) উৎসর্গ হোক! তাকবীর ও সূরা পাঠের মাঝখানে আপনি নীরব থাকেন; তখন আপনি কী পড়েন?” নবি ﷺ বলেন, “আমি বলি—
اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِن الدَّنَسِ اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَايَ بِالثَّلْجِ وَالْمَاءِ وَالْبَرَدِ
হে আল্লাহ! আমার ও আমার গোনাহসমূহের মাঝখানে ততটা দূরত্ব সৃষ্টি করে দাও, যতটা দূরত্ব সৃষ্টি করেছ (পৃথিবীর) পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে! হে আল্লাহ! আমাকে আমার গোনাহ থেকে সেভাবে পরিচ্ছন্ন করে দাও, যাতে সাদা কাপড় ময়লামুক্ত করা হয়! হে আল্লাহ! বরফ, পানি ও ঠান্ডা বস্তু দিয়ে আমার গোনাহসমূহ থেকে আমাকে ধুয়ে দাও!”’ (১)
[৭৬] জুবাইর ইবনু মুত‘ইম থেকে বর্ণিত, ‘তিনি দেখেন আল্লাহর রাসূল ﷺ সালাত আদায় করার সময় তিনবার বলেন—
اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيراً وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيراً وَسُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً وَأَصِيلاً
“আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; বিপুল প্রশংসা কেবলই আল্লাহর; মহিমা আল্লাহর, সকাল ও সন্ধ্যা।”
(এরপর তিনি বলেন)
أَعُوْذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ مِنْ نَفْخِهِ وَنَفْثِهِ وَهَمْزِهِ
“আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই অভিশপ্ত শয়তানের ফুঁ, থুতু ও প্ররোচনা থেকে।”
শয়তানের ফুঁ হলো অহঙ্কার, থুতু হলো কবিতা, আর তার প্ররোচনা হলো পাগলামি।’ (২)
[৭৭] আয়িশা, আবূ সাঈদ ও অন্যান্য সাহাবি থেকে বর্ণিত, ‘সালাতের শুরুতে নবি ﷺ বলতেন—
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ
হে আল্লাহ! মহিমা তোমার, প্রশংসাও তোমার; তোমার নাম বরকতময়; তোমার মহিমা সমুন্নত; তুমি ছাড়া আর কোনও ইলাহ্ বা সার্বভৌম সত্তা নেই।”’ (৩)
[৭৮] উমার ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত, ‘তিনি তাকবীর দেওয়ার পর (আওয়াজ করে) সানা পড়তেন।’ (৪)
[৭৯] আলি থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ সালাতে দাঁড়িয়ে বলতেন—
وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفاً وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ اللَّهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ ظَلَمْتُ نَفْسِي واعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي جَمِيعاً فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ وَاهْدِنِي لِأَحْسَنِ الْأَخْلَاقِ لَا يَهْدِي لِأَحْسَنِهَا إِلَّا أَنْتَ واصْرِفْ عَنِّي سَيِّئَهَا لَا يَصْرِفُ عَنِّي سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ كُلُّهُ فِي يَدَيْكَ وَالشَّرُّ لَيْسَ إِلَيْكَ أَنَا بِكَ وَإِلَيْكَ تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ
আমি আমার সত্তাকে একনিষ্ঠভাবে ক্বিবলার দিকে ঘুরিয়ে নিলাম; যিনি আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন; যারা তাঁর সার্বভৌম ক্ষমতায় অন্য কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করে, আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নই। আমার সালাত, কুরবানি, জীবন ও মরণ — সবই আল্লাহর জন্য, যিনি জগৎসমূহের অধিপতি; তাঁর সার্বভৌম ক্ষমতায় কারও কোনও অংশ নেই। এ কথা ঘোষণা দেওয়ার জন্য আমাকে আদেশ দেওয়া হয়েছে। যারা আল্লাহর সামনে আত্মসমর্পণ করেছেন, আমি তাদের একজন। হে আল্লাহ! তুমিই রাজাধিরাজ; তুমি ছাড়া কোনও সার্বভৌম সত্তা নেই; তুমি আমার মনিব, আমি তোমার দাস। আমি আমার নিজের উপর জুলুম করেছি, আমি আমার গোনাহ স্বীকার করছি; আমার সকল গোনাহ ক্ষমা করে দাও! তুমি ছাড়া আর কেউ গোনাহ ক্ষমা করতে পারে না। আমাকে সবচেয়ে সুন্দর শিষ্টাচারের দিশা দাও! তুমি ছাড়া আর কেউ সবচেয়ে সুন্দর শিষ্টাচারের দিশা দিতে পারে না। আমার কাছ থেকে মন্দ আচরণ দূর করে দাও! তুমি ছাড়া আর কেউ আমার কাছ থেকে মন্দ আচরণ দূর করতে পারে না। আমি তোমার সামনে হাজির! সকল কল্যাণ তোমার হাতে। মন্দ কাজের মাধ্যমে তোমার নৈকট্য লাভ করা যায় না। তোমার আদেশ পালনে আমি সদা প্রস্তুত, আর আমি তোমার দিকেই মনোনিবেশ করেছি। তুমি বরকতময়, সুমহান; আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই ও তোমার কাছে ফিরে আসি।”’ (৫)
বলা হয়ে থাকে, এটি রাতের সালাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
[৮০] আয়িশা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ রাতের বেলা ঘুম থেকে উঠে সালাতে দাঁড়িয়ে বলতেন—
اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرِيلَ وَمِيْكَالَ وَإِسْرَافِيْلَ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيْمَا كَانُوْا فِيْهِ يَخْتَلِفُوْنَ اِهْدِنِي لِمَا اخْتُلِفَ فِيْهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ إِنَّكَ تَهْدِي مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
হে আল্লাহ! জিবরীল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের রব! আকাশসমূহ ও পৃথিবীর স্রষ্টা! দৃশ্যমান ও অদৃশ্যের জ্ঞানী! যেসব বিষয় নিয়ে তোমার বান্দারা মতবিরোধে লিপ্ত, তাদের মধ্যে তুমিই ফায়সালা করে দেবে। যে সত্য নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে, তোমার অনুগ্রহে আমাকে তার দিশা দাও। তুমি যাকে চাও, তাকে সঠিক পথের দিশা দিয়ে থাকো।’ (৬)
[৮১] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ মধ্যরাতে সালাতে দাঁড়িয়ে বলতেন—
اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُوْرُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيْهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ مَلِكُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيْهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ الْحَقُّ وَوَعْدُكَ الْحَقُّ وَقَوْلُكَ الْحَقُّ وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ وَالنَّبِيُّوْنَ حَقٌّ وَمُحَمَّدُ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ حَقٌّ اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ أَنْتَ إِلَهِي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ
হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা তোমার। আকাশসমূহ, পৃথিবী ও এসবের মাঝখানে যারা আছে—তুমি তাদের আলো। সকল প্রশংসা তোমার। আকাশসমূহ, পৃথিবী ও এসবের মাঝখানে যারা আছে—তুমি তাদের সম্রাট। সকল প্রশংসা তোমার। তুমি সত্য, তোমার ওয়াদা সত্য, তোমার কথা সত্য, তোমার সাথে (আমাদের) সাক্ষাতের বিষয়টি সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, নবিগণ সত্য, মুহাম্মাদ সত্য এবং মহাপ্রলয় সত্য। হে আল্লাহ! আমি তোমার সামনে আত্মসমর্পণ করেছি, তোমার প্রতি ঈমান এনেছি, তোমার উপর ভরসা করেছি, তোমার কাছে ফিরে এসেছি, (আমার অভাব ও অনুযোগ) তোমার কাছে পেশ করেছি এবং ফায়সালার জন্য তোমার দ্বারস্থ হয়েছি। তুমি আমার আগের ও পরের ত্রুটিসমূহ মাফ করে দাও। (মাফ করে দাও) প্রকাশ্য ও গোপন ত্রুটিসমূহ। তুমিই আমার ইলাহ; তুমি ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই।’ (৭)
টিকা:
(১) বুখারি, ৭৪৪; মুসলিম, ৫৯৮।
(২) আবূ দাউদ, ৭৬৪, হাসান।
(৩) আবূ দাউদ, ৭৭৬; তিরমিযি, ২৪৩, সহীহ্।
(৪) ইবনু আবী শাইবা, ১/৯২/১, সহীহ্।
(৫) মুসলিম, ৭৭৷
(৬) মুসলিম, ৭৭O।
(৭) বুখারি, ১১২০, ৬৩১৭; মুসলিম, ৭৬৯।
📄 সালাতের বিভিন্ন পর্যায়ে বলুন
[৮২] হুযাইফা থেকে বর্ণিত, ‘তিনি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে রুকূতে গিয়ে (এ দুআ) তিন বার পড়তে শুনেছেন-
سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ
আমার মহান রব পবিত্র!
আর সাজদায় গিয়ে নবি ﷺ তিন বার বলেছেন-
سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى
আমার মহিমান্বিত রব পবিত্র!’ (১)
[৮৩] আলি থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর সালাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘রুকূতে গিয়ে নবি ﷺ বলতেন-
اللَّهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ خَشَعَ لَكَ سَمْعِي وَبَصَرِي وَمُخِّي وَعَظْمِي وَعَصَبِيْ
হে আল্লাহ আমি তোমার সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে দিয়েছি, তোমার সামনে আত্মসমর্পণ করেছি, তোমার প্রতি ঈমান এনেছি, আর তোমার সামনে আমার কান, চোখ, মগজ, হাড় ও শিরা-উপশিরা নত হয়ে আছে।
রুকু থেকে মাথা তুলে বলতেন-
سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ
আল্লাহ ওই ব্যক্তির কথা শুনেন, যে তাঁর প্রশংসা করে।
رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمِلْءَ مَا بَيْنَهُمَا وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ
হে আমাদের রব! প্রশংসা তোমার, যেটুকু প্রশংসায় আকাশসমূহ ও পৃথিবী ভরে যায়, ভরে যায় উভয়ের মাঝখানের জায়গা এবং এরপর তুমি যা কিছু চাও তা সব ভরপুর হয়ে যায়।
সাজদায় গিয়ে বলতেন—
اللَّهُمَّ لَكَ سَجَدْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ سَجَدَ وَجْهِي لِلَّذِي خَلَقَهُ وَصَوَّرَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ تَبَارَكَ الله أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ
হে আল্লাহ! আমি তোমার উদ্দেশে সাজদা দিয়েছি, তোমার প্রতি ঈমান এনেছি, তোমার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি। আমার চেহারা তাঁর উদ্দেশে সাজদায় অবনত, যিনি তাকে সৃষ্টি করে (উত্তম) আকৃতি দিয়েছেন এবং তাঁর কান ও চোখ খুলে দিয়েছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ অতি বরকতময়!’ (২)
[৮৪] আয়িশা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বেশির ভাগ সময় তাঁর রুকূ ও সাজদায় বলতেন—
اللَّهُمَّ سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي
হে আল্লাহ! তুমি পবিত্র ও প্রশংসা কেবল তোমারই। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দাও। (৩)
এর মাধ্যমে তিনি কুরআনের এ আয়াতের প্রতিফলন ঘটাতেন:
فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا
“তখন তুমি তোমার রবের প্রশংসা সহ পবিত্রতা বর্ণনা কোরো এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাও; অবশ্যি তিনি বড়ই তাওবা কবুলকারী।” (সূরা আন-নাসর ১১০:৩)
[৮৫] আয়িশা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ তাঁর রুকু ও সাজদায় বলতেন—
سُبُّوْحُ قُدُّوسُ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ
(আল্লাহ) মহা প্রশংসিত ও মহাপবিত্র! তিনি ফেরেশতাকুল ও আত্মার অধিপতি।’ (৪)
[৮৬] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “সাবধান! আমাকে রুকূ ও সাজদার সময় কুরআন পাঠ করতে নিষেধ করা হয়েছে; তোমরা বরং রুকূতে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা কোরো, আর সাজদার সময় নিজেদের বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে(৫) দুআ কোরো, কারণ ওই সময় তোমাদের দুআ কবুল হওয়ার সম্ভাবনা আছে।”’(৬)
[৮৭] আউফ ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত, ‘আমি (একবার) আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর সাথে রাতের সালাতে দাঁড়িয়ে যাই। তিনি (সালাতে) দাঁড়িয়ে সূরা আল-বাকারাহ্ পাঠ করেন। রহমত বা দয়া সংক্রান্ত কোনও আয়াত অতিক্রম করার পরপরই তিনি থেমে (আল্লাহর কাছে তা) চান, এবং শাস্তি সংক্রান্ত প্রত্যেকটি আয়াত শেষ করার সাথে সাথেই তিনি থেমে (আল্লাহর কাছে তা থেকে) আশ্রয় চান। এরপর, যেটুকু সময় দাঁড়িয়ে ছিলেন, ততটুকু সময় ধরে রুকূতে থাকেন। রুকূতে তিনি বলেন—
سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوْتِ وَالْمَلَكُوْتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ
পবিত্র সেই সত্তা, যিনি সর্বময় ক্ষমতা, সার্বভৌমত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্বের অধিকারী।
সাজদায় গিয়েও তিনি অনুরূপ দুআ করেন।’ (৭)
[৮৮] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ রুক্ থেকে মেরুদণ্ড উঠিয়ে বলতেন—
سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ
আল্লাহ ওই ব্যক্তির কথা শুনেন, যে তাঁর প্রশংসা করে।
তারপর দাঁড়ানো অবস্থায় বলতেন—
رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ
হে আমাদের রব! প্রশংসা সবই তোমার।’ (৮)
[৮৯] আবূ সাঈদ খুদরি থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ রুকূ থেকে মাথা তুলে বলতেন—
اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الْأَرْضِ وَمِلْءَ مَا بَيْنَهُمَا وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ
হে আল্লাহ, আমাদের রব! প্রশংসা কেবল তোমারই, যেটুকু প্রশংসায় আকাশসমূহ ও পৃথিবী ভরে যায়, ভরে যায় উভয়ের মাঝখানের সবকিছু, এরপর তুমি যা চাও তাও ভরে যায়।
أَهْلَ الثَّنَاءِ وَالْمَجْدِ أَحَقُّ مَا قَالَ الْعَبْدُ وَكُلُّنَا لَكَ عَبْدُ
তুমি প্রশংসা ও মহিমার উপযুক্ত, বান্দার প্রশংসা লাভের সবচেয়ে বেশি হকদার; আমরা সবাই তোমার দাস।
اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلَا رَادَّ لِمَا قَضَيْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدَّ مِنْكَ الْجَدَّ
হে আল্লাহ! তুমি যা আটকে দাও, তা কেউ দিতে পারে না; আর তুমি যা দাও, তা কেউ আটকে রাখতে পারে না; তোমার সিদ্ধান্ত কেউ বদলাতে পারে না; তোমার বিরুদ্ধে কোনও ভাগ্যবান ব্যক্তির ভাগ্য কোনও কাজে আসে না।’ (৯)
[৯০] রিফাআ ইবনু রাফি থেকে বর্ণিত, ‘আমরা একদিন নবি ﷺ-এর পেছনে সালাত আদায় করছি। তিনি রুকূ থেকে মাথা তুলে سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বললে, তাঁর পেছনের এক ব্যক্তি বলে ওঠেন—
رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ، حَمْداً كَثِيراً طَيِّباً مُبَارَكاً فِيهِ
হে আমাদের রব! প্রশংসা কেবল তোমারই, বিপুল পরিমাণ প্রশংসা, যা উত্তম ও বরকত-সমৃদ্ধ।
সালাত শেষে তিনি জিজ্ঞাসা করেন, “(এ শব্দগুলো) কে বলেছে?” সে বলে, ‘আমি’। নবি ﷺ বলেন, “আমি ত্রিশ জনের বেশি ফেরেশতাকে দেখেছি, কে সর্বপ্রথম তা লিখবে—এ নিয়ে তারা প্রতিযোগিতায় নেমেছে!”’ (১০)
[৯১] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “সাজদা'র সময় বান্দা তার রবের সবচেয়ে কাছে থাকে; (তখন) তোমরা বেশি করে দুআ কোরো!”’ (১১)
[৯২] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ সাজদায় বলতেন—
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ دِقَّهُ وَجِلَّهُ وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ وَعَلَانِيَتَهُ وَسِرَّهُ
হে আল্লাহ! আমার সকল গোনাহ মাফ করে দাও! সূক্ষ ও স্থূল, আগের ও পরের, প্রকাশ্য ও গোপন (সকল গোনাহ)।’ (১২)
[৯৩] আয়িশা থেকে বর্ণিত, ‘এক রাতে নবি ﷺ-কে না পেয়ে, আমি তাঁকে খুঁজতে থাকি। একপর্যায়ে আমার হাত তাঁর দু’ পায়ের তালুতে লাগে। তখন তিনি ছিলেন মাসজিদে। পায়ের পাতা দু’টি ছিল খাড়া। (সাজদায়) তিনি বলছেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْكَ لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ
হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় চাই— তোমার অসন্তুষ্টি থেকে সন্তুষ্টির কাছে, তোমার শাস্তি থেকে তোমার ক্ষমার কাছে। তোমার (পাকড়াও) থেকে তোমার (দয়ার) কাছে। আমি কখনও তোমার প্রশংসা বর্ণনা করে শেষ করতে পারব না; তুমি প্রশংসিত, যেভাবে তুমি নিজের প্রশংসা ব্যক্ত করেছ। (১৩)
[৯৪] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ দু’ সাজদার মাঝখানে বলতেন—
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَاهْدِنِي، وَاجْبُرْنِي، وَعَافِنِي، وَارْزُقْنِي
হে আল্লাহ! আমাকে মাফ করে দাও! আমার উপর দয়া করো; আমাকে পথ দেখাও; আমাকে সাহায্য করো ও নিরাপত্তা দাও; এবং আমার জীবিকার সুব্যবস্থা করে দাও! (১৪)
[৯৫] হুযাইফা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ দু’ সাজদার মাঝখানে বলতেন—
رَبِّ اغْفِرْ لِي، رَبِّ اغْفِرْ لِي
রব আমার! আমাকে মাফ করে দাও! রব আমার! আমাকে মাফ করে দাও! (১৫)
টিকা:
(১) আবূ দাউদ, ৮৭১; তিরমিযি, ২৬২; ইবনু মাজাহ, ৮৮৮, সহীহ্ লি গাইরিহী।
(২) মুসলিম, ৭৭৷
(৩) বুখারি, ৭৯৪, ৮১৭।
(৪) মুসলিম, ৪৮৭।
(৫) আরেকটি অনুবাদ হতে পারে, ‘সাজদার সময় একনিষ্ঠভাবে দুআ কোরো।’
(৬) মুসলিম, ৪৭৯।
(৭) আবূ দাউদ, ৮৭৩, হাসান।
(৮) বুখারি, ৮০৪।
(৯) মুসলিম, ৪৭৭।
(১০) বুখারি, ৭৯৯।
(১১) মুসলিম, ৪৮২।
(১২) মুসলিম, ৪৮৩।
(১৩) মুসলিম, ৪৮৬; আবূ দাউদ, ৮৭৯।
(১৪) আবূ দাউদ, ৮৫০; তিরমিযি, ২৮৪, হাসান।
(১৫) ইবনু মাজাহ, ৮৯৭।
📄 সালাতের মধ্যে ও তাশাহহুদের পর
[৯৬] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “তোমাদের কেউ যখন শেষ (রাকআতের) তাশাহহুদ পাঠ সম্পন্ন করে, তখন সে যেন চারটি বিষয়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায়; (বিষয় চারটি হলো) কবরের শাস্তি, জাহান্নামের শাস্তি, জীবন ও মৃত্যুর পরীক্ষা এবং ত্রাণকর্তা(!) দাজ্জালের অনিষ্ট।”’ (১)
[৯৭] আয়িশা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ সালাতের মধ্যে এ দুআ পড়তেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাই; তোমার কাছে আশ্রয় চাই, ত্রাণকর্তা (!) দাজ্জালের পরীক্ষা থেকে; তোমার কাছে আশ্রয় চাই, জীবন ও মৃত্যুর পরীক্ষা থেকে; হে আল্লাহ! আমি গোনাহ ও ঋণ থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই।
একজন তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি ঋণের ব্যাপারে (আল্লাহর কাছে) এত বেশি আশ্রয় চান কেন?’ জবাবে নবি ﷺ বলেন, “মানুষ ঋণগ্রস্ত অবস্থায় কথা বললে মিথ্যা বলে আর (কাউকে) ওয়াদা দিলে তা ভঙ্গ করে।”’ (২)
[৯৮] আবদুল্লাহ ইবনু আমর থেকে বর্ণিত, ‘আবূ বাকর আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে বলেন, “আমাকে এমন একটি দুআ শিখিয়ে দিন, যা আমি সালাতে পাঠ করব।” নবি ﷺ বলেন, “তুমি বোলো—
اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمَا كَثِيراً، وَلا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلا أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِّنْ عِنْدِكَ، وَارْحَمْنِي، إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيمُ
হে আল্লাহ! আমি আমার নিজের উপর অনেক জুলুম করেছি; তুমি ছাড়া আর কেউ গোনাহ ক্ষমা করতে পারে না; তোমার পক্ষ থেকে আমাকে পুরোপুরি ক্ষমা করে দাও; আমার উপর দয়া করো; তুমি তো ক্ষমাশীল, দয়ালু। (৩)
[৯৯] আলি থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর সালাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “তাশাহহুদ ও সালাম ফেরানোর মাঝখানে নবি ﷺ সবশেষে বলতেন—
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَسْرَفْتُ وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، أَنْتَ الْمُقَدِّمِ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ
হে আল্লাহ! আমার আগের ও পরের গোনাহ ক্ষমা করে দাও! (ক্ষমা করে দাও) আমার প্রকাশ্য ও গোপন গোনাহগুলো, যেগুলো সম্পর্কে তুমি আমার চেয়ে বেশি জানো; তুমিই শুরু, তুমিই শেষ; তুমি ছাড়া কোনও সার্বভৌম সত্তা নেই। (৪)
[১০০] নবি ﷺ-এর এক সাহাবি থেকে বর্ণিত, ‘নবি ﷺ এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করেন, “তুমি সালাতে কীভাবে দুআ পাঠ করো?” তিনি বলেন, ‘আমি তাশাহহুদ পাঠ করে বলি—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنَ النَّارِ
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে জান্নাত চাই; আর জাহান্নাম থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই।
আমি তো আর আপনার মতো সুন্দর করে দুআ পড়তে পারি না, মুআযের মতোও না!’ তখন নবি ﷺ বলেন, “আমাদের দুআও এর কাছাকাছি অর্থ বহন করে!” (৫)
[১০১] শাদ্দাদ ইবনু আউস থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ সালাতের ভেতর বলতেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الثَّبَاتَ فِي الْأَمْرِ، وَالْعَزِيمَةَ عَلَى الرُّشْدِ، وَأَسْأَلُكَ شُكْرَ نِعْمَتِكَ، وَحُسْنَ عِبَادَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ قَلْبًا سَلِيمًا، وَلِسَانًا صَادِقًا، وَأَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا تَعْلَمُ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا تَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا تَعْلَمُ، إِنَّكَ أَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে চাই—আমাকে কর্মে স্থিরতা দাও! আর সঠিক পথে অটল রাখো! আমি তোমার কাছে চাই—আমি যেন তোমার নিয়ামাতের শুকরিয়া আদায় করতে পারি; সুন্দরভাবে তোমার দাসত্ব করতে পারি। আমি তোমার কাছে চাই—প্রশান্ত অন্তর ও সত্যবাদী জিহ্বা। আমি তোমার কাছে ওই জিনিস চাই, যা তোমার জ্ঞানে (আমার জন্য) কল্যাণকর। আমি তোমার কাছে ওই জিনিস থেকে আশ্রয় চাই, যা তোমার জ্ঞানে (আমার জন্য) অকল্যাণকর। আমার গোনাহের ব্যাপারে তোমার কাছে ক্ষমা চাই, যা তুমি জানো; তুমিই হলে অদৃশ্য বিষয়াদির মহাজ্ঞানী। (৬)
[১০২] আতা ইবনুস সাইব কর্তৃক তার পিতার মাধ্যমে বর্ণিত, ‘(একবার) আম্মার ইবনু ইয়াসির আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। ওই সালাত আদায়ে খুব বেশি সময় লাগেনি। তাই লোকদের মধ্য থেকে একজন বলে উঠে, ‘আপনার এ সালাত আদায়ে তো বেশি সময় লাগেনি!’ আম্মার বলেন, ‘(হ্যাঁ!) তা সত্ত্বেও (এর মধ্যে) আমি এমন কিছু দুআ পড়েছি, যা আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছ থেকে শুনেছি।’ তিনি উঠে যাওয়ার পর লোকদের মধ্যে থেকে একজন তাঁর পেছনে পেছনে গিয়ে দুআটি সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন। তখন তিনি বলেন, (দুআটি হলো:)
اللَّهُمَّ بِعِلْمِكَ الْغَيْبِ وَقُدْرَتِكَ عَلَى الْخَلْقِ أَحْيِنِي مَا عَلِمْتَ الْحَيَاةَ خَيْراً لِي وَتَوَفَّنِي إِذَا عَلِمْتَ الْوَفَاةَ خَيْراً لِي اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَشْيَتَكَ فِي الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ وَأَسْأَلُكَ كَلِمَةَ الْحَقِّ فِي الرِّضَا وَالْغَضَبِ وَأَسْأَلُكَ الْقَصْدَ فِي الْفَقْرِ وَالْغِنَى وَأَسْأَلُكَ نَعِيماً لَّا يَنْفَدُ وَأَسْأَلُكَ قُرَّةَ عَيْنٍ لا تَنْقَطِعُ وَأَسْأَلُكَ الرِّضَا بَعْدَ الْقَضَاءِ وَأَسْأَلُكَ بَرْدَ الْعَيْشِ بَعْدَ الْمَوْتِ وَأَسْأَلُكَ لَذَّةَ النَّظَرِ إِلَى وَجْهِكَ وَالشَّوْقَ إِلَى لِقَائِكَ فِي غَيْرِ ضَرَّاءَ مُضِرَّةٍ وَلَا فِتْنَةٍ مُضِلَّةٍ اللَّهُمَّ زَيِّنَا بِزِينَةِ الْإِيمَانِ وَاجْعَلْنَا هُدَاةً مُّهْتَدِينَ
হে আল্লাহ! তোমার অদৃশ্য-জ্ঞান ও সৃষ্টিজগতের উপর তোমার ক্ষমতার (কাছে আমি আশ্রয় চাই); আমাকে ততদিন বাঁচিয়ে রাখো, তোমার জ্ঞান অনুযায়ী যতদিন বেঁচে থাকা আমার জন্য কল্যাণজনক; আমাকে তখনই নিয়ে যেয়ো, তোমার জ্ঞান অনুযায়ী যখন চলে যাওয়া আমার জন্য কল্যাণজনক; হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে চাই, যেন গোপন ও প্রকাশ্য উভয়াবস্থায় তোমাকে ভয় করে চলতে পারি; আমি তোমার কাছে চাই, যেন রাগ ও সন্তুষ্টি উভয়াবস্থায় সত্য কথা বলতে পারি; তোমার কাছে চাই, যেন দারিদ্র্য ও প্রাচুর্য উভয়াবস্থায় মধ্যম পন্থা অবলম্বন করতে পারি; তোমার কাছে এমন অনুগ্রহ চাই, যা কখনও শেষ হবে না; তোমার কাছে নিরবচ্ছিন্ন চক্ষু শীতলকারী (অনুগ্রহ) চাই; তোমার কাছে চাই, আমি যেন তোমার সিদ্ধান্ত খুশিমনে মেনে নিতে পারি; তোমার কাছে মৃত্যুর পর আরামদায়ক জীবন চাই; তোমার কাছে চাই, (যেন পরকালে) তোমার দিকে তাকানোর মিষ্টতা (দুনিয়ায় স্মরণ রাখতে পারি); আমি তোমার সাথে এমনভাবে সাক্ষাৎ করতে চাই; যেন কোনও কষ্টদায়ক বেদনা না থাকে, না থাকে পথ-ভোলানো কোনও পরীক্ষা। হে আল্লাহ! আমাদেরকে ঈমানের সৌন্দর্য দিয়ে সুশোভিত করে দাও; আর আমাদেরকে সঠিক পথের পথিক ও দিশারী বানিয়ে দাও! (৭)
টিকা:
(১) মুসলিম, ৫৮৮; আবূ দাউদ, ৯৮৩।
(২) মুসলিম, ৫৮৯।
(৩) মুসলিম, ২৭০৫।
(৪) মুসলিম, ৭৭২।
(৫) আবূ দাউদ, ৭৯২, সহীহ্।
(৬) তিরমিযি, ৩৪০৪, ইসনাদটি দুর্বল।
(৭) নাসাঈ, ১৩০৬, হাসান।
📄 সালাতের পর
[১০৩] সাওবান থেকে বর্ণিত, ‘সালাত শেষে আল্লাহর রাসূল ﷺ তিনবার বলতেন—
أَسْتَغْفِرُ اللهَ
আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।
এরপর তিনি বলতেন—
اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلَامُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ
হে আল্লাহ! তুমি সকল প্রকার ত্রুটি থেকে মুক্ত। তুমি শান্তির উৎস। হে মহানুভবতা ও সম্মানের মালিক! তুমি বরকতময়। (১)
[১০৪] মুগীরা ইবনু শু'বা থেকে বর্ণিত, ‘সালাত শেষে নবি ﷺ বলতেন—
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
আল্লাহ ছাড়া কোনও সার্বভৌম সত্তা নেই; তিনি একক; তাঁর (সার্বভৌম ক্ষমতায়) কোনও অংশীদার নেই; রাজত্ব তাঁর, প্রশংসাও তাঁর; তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।
اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلَا رَادَّ لِمَا قَضَيْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدَّ مِنْكَ الْجَدَّ
হে আল্লাহ! তুমি যা দাও, তা কেউ আটকে রাখতে পারে না; তুমি যা আটকে রাখো, কেউ তা দিতে পারে না; তোমার সিদ্ধান্ত কেউ বদলাতে পারে না; তোমার বিরুদ্ধে কোনও ভাগ্যবান ব্যক্তির ভাগ্য কোনও কাজে আসে না। (২)
[১০৫] আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর থেকে বর্ণিত, ‘প্রত্যেক সালাতের শেষে সালাম ফেরানোর সময় তিনি বলতেন—
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ لَا حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلَّا بِالله لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَلَا نَعْبُدُ إِلَّا إِيَّاهُ لَهُ النَّعْمَةُ وَلَهُ الْفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ لَا إِله إِلَّا اللهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدّيْنَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُوْنَ
আল্লাহ ছাড়া কোনও সার্বভৌম সত্তা নেই; তিনি একক; তাঁর (সার্বভৌম ক্ষমতায়) কোনও অংশীদার নেই; রাজত্ব তাঁর, প্রশংসাও তাঁর; তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ছাড়া কোনও শক্তি-সামর্থ্য নেই; আল্লাহ ছাড়া কোনও সার্বভৌম সত্তা নেই; আমরা কেবল তারই গোলামি করি; অনুগ্রহ ও দয়া সবকিছুর মালিক তিনিই; তিনিই সুন্দর প্রশংসার অধিকারী; আল্লাহ ছাড়া কোনও সার্বভৌম সত্তা নেই; আমরা একনিষ্ঠভাবে তাঁর সামনেই নত হই; আল্লাহদ্রোহীরা (তা) যতই অপছন্দ করুক না কেন।
ইবনুয যুবাইর বলেন, ‘নবি ﷺ প্রত্যেক সালাতের শেষে এসব দুআ পড়তেন।’ (৩)
[১০৬] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘নিঃস্ব মুহাজিরগণ আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে এসে বলেন, “ধনীরা তো অনেক উচ্চ মর্যাদা ও স্থায়ী অনুগ্রহ নিয়ে গেল! তারা আমাদের মতো সালাত আদায় করে, আমাদের মতো সাওম পালন করে; আবার তাদের আছে সম্পদরূপী অনুগ্রহ-যা দিয়ে তারা হাজ্জ পালন করে, উমরা সম্পন্ন করে, জিহাদ করে ও দান-সদাকা করে!” এর পরিপ্রেক্ষিতে নবি ﷺ বলেন, “একটি বিষয় আছে যার মাধ্যমে তোমরা তোমাদের ছাড়িয়ে-যাওয়া লোকদের নাগাল পেয়ে যাবে, তোমরা পরবর্তী লোকদের থেকে এগিয়ে থাকবে, এবং কেউই তোমাদের চেয়ে উত্তম (বলে বিবেচিত) হবে না, তবে যারা তোমাদের মতো আমল করবে, তাদের কথা ভিন্ন। আমি কি তোমাদেরকে ওই বিষয়টি শেখাব না?” তারা বলেন, ‘অবশ্যই! হে আল্লাহর রাসূল!’ নবি ﷺ বলেন, “(তাহলে) তোমরা প্রত্যেক সালাতের পর তেত্রিশ বার বোলো-
سُبْحَانَ اللهِ
আল্লাহ পবিত্র;
وَالْحَمْدُ لِلَّهِ
সকল প্রশংসা আল্লাহর;
وَاللَّهُ أَكْبَرُ
আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।”’ (৪)
[১০৭] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “যে-ব্যক্তি প্রত্যেক সালাতের পর তেত্রিশ বার سُبْحَانَ اللهِ (আল্লাহ পবিত্র), তেত্রিশ বার اَلْحَمْدُ لِلَّهِ (সকল প্রশংসা আল্লাহর), তেত্রিশ বার اَللهُ أَكْبَرُ (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ), এবং এক শ’ পুরো করার সময় বলে-
لا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
আল্লাহ ছাড়া কোনও সার্বভৌম সত্তা নেই; তিনি একক; তাঁর (সার্বভৌম ক্ষমতায়) কোনও অংশীদার নেই; রাজত্ব তাঁর, প্রশংসাও তাঁর; তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।
তার গোনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হয়, তা সমুদ্রের ফেনার মতো (বিপুল পরিমাণ) হলেও!”’ (৫)
[১০৮] আবদুল্লাহ ইবনু আমর থেকে বর্ণিত, ‘নবি ﷺ বলেন, “আল্লাহর কোনও অনুগত বান্দা দু’টি কাজ নিয়মিত করলে, আল্লাহ তাকে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। কাজ দু’টি সহজ, কিন্তু কম লোকই তা করে।
(প্রথম কাজটি হলো,) প্রত্যেক সালাতের পর দশ বার سُبْحَانَ اللَّهِ (আল্লাহ পবিত্র), দশ বার اَلْحَمْدُ لِلَّهِ (সকল প্রশংসা আল্লাহর), এবং দশ বার اللَّهُ أَكْبَرُ (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ) বলা। (পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পর বললে) এগুলো মুখে বলা হবে এক শ’ পঞ্চাশ বার, কিন্তু মীযানে (বা পরকালের পাল্লায়) তা দেড় হাজার বার হিসেবে গণ্য হবে।
(দ্বিতীয় কাজটি হলো,) ঘুমুতে যাওয়ার সময় চৌত্রিশ বার اَللَّهُ أَكْبَرُ (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ), তেত্রিশ বার اَلْحَمْدُ لِلَّهِ (সকল প্রশংসা আল্লাহর), এবং তেত্রিশ বার سُبْحَانَ اللهِ (আল্লাহ পবিত্র) বলা। এভাবে মুখে বলা হবে এক শ’ বার, কিন্তু মীযানে তা এক হাজার বার হিসেবে গণ্য হবে।”
আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে দেখেছি, তিনি এগুলো হাতে গণনা করছেন। সাহাবিগণ জিজ্ঞাসা করেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! এটি কীভাবে সম্ভব—কাজ দু’টি সহজ, অথচ অল্প লোকই তা করে?’ নবি ﷺ বলেন, “তোমাদের কেউ ঘুমুতে গেলে, এগুলো বলার আগেই শয়তান এসে তাকে ঘুম পাড়িয়ে দেয়; আর সালাতের পর এগুলো বলার আগেই শয়তান এসে তার কোনও একটি প্রয়োজনের কথা মনে করিয়ে দেয়।”’ (৬)
[১০৯] উকবা ইবনু আমির থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাকে প্রত্যেক সালাতের পর সূরা আল-ফালাক ও সূরা আন-নাস পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।’ (৭)
[১১০] আবূ উমামা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, “কোন (সময়ে) দুআ অধিক কবুল হয়?” তিনি বলেন, “শেষ রাতে এবং প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর।”’ (৮)
[১১১] মুআয ইবনু জাবাল থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ তার হাত ধরে বলেন, “মুআয! শপথ আল্লাহর! আমি তোমাকে অবশ্যই ভালোবাসি। তুমি কখনও প্রত্যেক সালাতের পর এ কথা বলা বাদ দেবে না—
اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
হে আল্লাহ! আমাকে সাহায্য করো; যেন তোমাকে স্মরণ রাখতে পারি, তোমার শুকরিয়া আদায় করতে পারি এবং সুন্দরভাবে তোমার গোলামি করতে পারি। (৯)
টিকা:
(১) মুসলিম, ৫৯১।
(২) মুসলিম, ৫৯৩।
(৩) মুসলিম, ৫৯৪।
(৪) মুসলিম (শারহুন নববি), ৫৯৫।
(৫) মুসলিম, ৫৭৯১।
(৬) ইবনু হিব্বান, ২৩৪৩, সহীহ্।
(৭) আহমাদ, ৪/১৫৫, সহীহ্।
(৮) তিরমিযি, ৩৪৯৯, হাসান।
(৯) আবূ দাউদ, ১৫২২, সহীহ্।