📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 ঘরে প্রবেশের সময়

📄 ঘরে প্রবেশের সময়


[৫৭] জাবির ইবনু আব্দিল্লাহ থেকে বর্ণিত, ‘আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, “কোনও ব্যক্তি যখন তার ঘরে ঢুকে এবং প্রবেশ ও খাওয়ার সময় আল্লাহ তা'আলার যিক্র করে, তখন শয়তান (তার সহযোগীদের) বলে, ‘(এই ঘরে) না আছে তোমাদের কোনও থাকার জায়গা, আর না আছে তোমাদের রাতের খাবারের কোনও বন্দোবস্ত!’ আর যদি কোনও লোক ঘরে ঢুকে এবং প্রবেশের সময় আল্লাহ তা'আলার যিক্র না করে, তখন শয়তান (তার সহযোগীদের) বলে, ‘তোমরা তোমাদের থাকার জায়গা পেয়ে গিয়েছ!’ আর সে যদি খাওয়ার সময় আল্লাহ তা'আলার যিক্র না করে, তখন শয়তান (তার সহযোগীদের) বলে, ‘(এই ঘরে) তোমরা তোমাদের থাকার জায়গা ও রাতের খাবার পেয়ে গিয়েছ!’”’ (১)
[৫৮] আবূ মালিক আশআরি থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “কোনও ব্যক্তি যখন তার ঘরে ঢুকে, তখন সে যেন বলে—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ الْمَوْلِجِ وَخَيْرَ الْمَخْرَجِ
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে (ঘরে) প্রবেশের কল্যাণ ও (ঘর থেকে) বের হওয়ার কল্যাণ চাই।
بِسْمِ اللَّهِ وَلَجْنَا
আল্লাহর নামে আমরা (ঘরে) ঢুকি,
بِسْمِ اللَّهِ خَرَجْنَا
আল্লাহর নামে (ঘর থেকে) বের হই,
وَعَلَى اللهِ رَبِّنَا تَوَكَّلْنَا
আর আমাদের রব আল্লাহর উপর ভরসা রাখি।

এরপর সে যেন তার ঘরের লোকদের সালাম দেয়।”’ (২)
[৫৯] আনাস থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “প্রিয় ছেলে! ঘরের লোকদের কাছে গেলে, (তাদের) সালাম দিয়ো; তা হবে তোমার ও তোমার ঘরের লোকদের জন্য কল্যাণজনক।”’ (৩)

টিকা:
(১) মুসলিম, ২০৬৮।
(২) আবূ দাউদ, ৫০৯৬, সহীহ্।
(৩) তিরমিযি, ২৬৯৯, সহীহ্।

📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 মাসজিদে প্রবেশ ও মাসজিদ থেকে বের হওয়ার সময়

📄 মাসজিদে প্রবেশ ও মাসজিদ থেকে বের হওয়ার সময়


[৬০] আনাস থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল ﷺ মাসজিদে প্রবেশের সময় বলতেন—
بِسْمِ اللهِ
আল্লাহর নামে (প্রবেশ করছি)।
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ
হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর উপর করুণা বর্ষণ করো!
আর বের হওয়ার সময়(ও) বলতেন—
بِسْمِ اللهِ
আল্লাহর নামে (প্রবেশ করছি)।
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ
হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর উপর করুণা বর্ষণ করো! (১)

[৬১] আবূ হুমাইদ ও আবূ উসাইদ থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “তোমাদের কেউ যখন মাসজিদে প্রবেশ করে, তখন সে যেন নবি ﷺ-এর উপর সালাম পেশ করে এবং বলে—
اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
হে আল্লাহ! আমার জন্য তোমার রহমতের দরজাগুলো খুলে দাও!
আর বের হওয়ার সময় যেন বলে—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তোমার করুণা চাই।”’ (২)

[৬২] আবদুল্লাহ ইবনু আমর থেকে বর্ণিত, ‘নবি ﷺ মাসজিদে প্রবেশ করার সময় বলতেন,
أَعُوْذُ بِاللهِ الْعَظِيمِ وَبِوَجْهِهِ الْكَرِيمِ وَبِسُلْطَانِهِ الْقَدِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ
‘আমি অভিশপ্ত শয়তান থেকে মহান আল্লাহ, তাঁর মহানুভব সত্তা ও তাঁর চিরায়ত নিরঙ্কুশ ক্ষমতার কাছে আশ্রয় চাই।’
তিনি বলেন, “(বান্দা) এ কথা বললে, শয়তান বলে উঠে—সে তো সারা দিনের জন্য আমার কাছ থেকে নিরাপদ হয়ে গেল!”’ (৩)

টিকা:
(১) ইবনুস সুন্নি, ৮৬।
(২) মুসলিম, ৭১৩; আবু দাউদ, ৪৬৫; নাসাঈ, ৩/৫৩।
(৩) আবূ দাউদ, ৪৮৫, হাসান।

📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 আযান শুনলে

📄 আযান শুনলে


[৬৩] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “লোকজন যদি জানত—এ আযান ও প্রথম কাতারের কী (মর্যাদা) এবং লটারি ছাড়া এগুলো পাওয়ার সুযোগ না থাকত, তাহলে তারা লটারি দিয়েই এ কাজগুলো করত।”’ (১)

[৬৪] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “সালাতের জন্য আযান দেওয়া হলে, শয়তান বায়ু ত্যাগ করতে করতে পালিয়ে যায়, যাতে আযানের আওয়াজ তার কানে না ঢুকে। আযান শেষ হলে, সে এগিয়ে আসে; কিন্তু সালাতের জন্য ইকামাত দেওয়া হলে, (আবার) পালিয়ে যায়। ইকামাত শেষ হলে সে ফিরে আসে এবং মানুষের মনে প্ররোচনা দিয়ে বলে, ‘এই কথা মনে করো, ওই কথা স্মরণ করো!’ এর মাধ্যমে সে তার মনে এমন এমন বিষয় স্মরণ করিয়ে দেয়, যা (সালাতের পূর্বে) তার স্মরণ ছিল না। এর ফলে মানুষ মনে রাখতে পারে না, সে কতটুকু সালাত আদায় করেছে।”’ (২)

[৬৫] আবূ সাঈদ থেকে বর্ণিত, ‘আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, “যতদূর পর্যন্ত মুআযযিনের আওয়াজ জিন, মানুষ ও অন্যরা শুনতে পায়, (ততটুকু এলাকার) সবাই কিয়ামাতের দিন তার অনুকূলে সাক্ষ্য দেবে।”’ (৩)

[৬৬] আবূ সাঈদ থেকে বর্ণিত, ‘আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, “আযান শুনলে, তোমরা মুআযযিনের (উচ্চারিত) বাক্যগুলোর অনুরূপ বাক্য বোলো।”’ (৪)

[৬৭] আবদুল্লাহ ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, ‘তিনি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছেন, “আযান শুনলে, তোমরা মুআযযিনের (উচ্চারিত) বাক্যগুলোর অনুরূপ বাক্য বোলো। এরপর আমার উপর দরুদ পাঠ কোরো; কারণ, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার উপর দশটি অনুগ্রহ নাযিল করেন। এরপর তোমরা আল্লাহর কাছে আমার জন্য ‘ওসীলা’ চেয়ো; ওসীলা হলো জান্নাতের একটি আবাস, যা কেবল আল্লাহর একজন বান্দার জন্য বরাদ্দ; আমার আশা, আমিই হব সেই ব্যক্তি। আমার জন্য যে (আল্লাহর কাছে) ওসীলা চায়, তার জন্য সুপারিশের রাস্তা খুলে যায়।”’ (৫)

[৬৮] উমার ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “মুআযযিন যখন বলে اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ তখন তোমরা বলবে اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ মুআযযিন যখন বলে أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ তখন তোমরা বলবে أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ মুআযযিন যখন বলে أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً رَسُولُ الله তখন তোমরা বলবে أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً رَسُوْلُ الله মুআযযিন যখন বলে حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ তখন তোমরা বলবে لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِالله মুআযযিন যখন বলে حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ তখন তোমরা বলবে لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ মুআযযিন যখন বলে اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ তখন তোমরা বলবে اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ মুআযযিন যখন বলে لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ তখন তোমরা বলবে لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ যে ব্যক্তি অন্তর থেকে একনিষ্ঠভাবে এগুলো বলবে, সে জান্নাতে যাবে।”’ (৬)

[৬৯] জাবির থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “যে ব্যক্তি আযান শুনে বলবে—

اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ آتِ مُحَمَّداً الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَاماً مَّحْمُوْداً الَّذِي وَعَدْتَهُ
হে আল্লাহ! (তুমি) এই পূর্ণাঙ্গ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের রব! মুহাম্মাদ ﷺ-কে ওসীলা ও মহত্ত্ব দান করো, আর তাঁকে পৌঁছে দাও প্রশংসিত স্থানে, যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাঁকে দিয়েছ।
কিয়ামাতের দিন তার জন্য আমার সুপারিশের রাস্তা খুলে যায়।”’ (৭)

[৭০] আবদুল্লাহ ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, ‘এক ব্যক্তি বলে, “হে আল্লাহর রাসূল! মুআযয্যিনরা তো মর্যাদায় আমাদের চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে!” তখন আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “মুআযয্যিনরা (আযানে) যা বলে, তুমিও অনুরূপ বোলো। আর (আযান) শেষ হলে, আল্লাহর কাছে চাও, তোমাকে তা দেওয়া হবে!”’ (৮)

[৭১] আনাস থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “আযান ও ইকামাতের মাঝখানের সময় দুআ করা হলে, তা ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।” সাহাবিগণ বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! (দুআয়) আমরা কী বলব?’ নবি ﷺ বলেন, “আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ চাও।”’ (৯)

[৭২] সাহল ইবনু সাদ থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “দু’টি দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না: আযানের সময় দুআ, আর যুদ্ধক্ষেত্রে দুআ—যখন উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।”’ (১০)

[৭৩] উম্মু সালামা থেকে বর্ণিত, ‘মাগরিবের আযানের সময় পড়ার জন্য আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাকে এ দুআটি শিখিয়েছেন:
اللَّهُمَّ هَذَا إِقْبَالُ لَيْلِكَ وَإِدْبَارُ نَهَارِكَ وَأَصْوَاتُ دُعَاتِكَ وَحُضُورُ صَلَوَاتِكَ فاغْفِرْ لِي
হে আল্লাহ! এ হলো তোমার রাতের আগমন ও দিনের বিদায় মুহূর্ত, (চারদিকে) তোমার আহ্বানকারীদের আওয়াজ উচ্চারিত হচ্ছে, তোমার উদ্দেশে সালাত আদায়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে, অতএব, তুমি আমাকে মাফ করে দাও!’ (১১)

[৭৪] নবি ﷺ-এর কয়েকজন সাহাবি থেকে বর্ণিত, ‘বিলাল ইকামাত শুরু করে قَدْ قَامَتِ الصَّلَاةُ বললে, নবি ﷺ বলতেন—
أَقَامَهَا اللَّهُ وَأَدَامَهَا
আল্লাহ এটিকে প্রতিষ্ঠিত করুন এবং প্রতিষ্ঠিত রাখুন!’ (১২)

টিকা:
(১) বুখারি, ৬১৫; মুসলিম, ৬৫৩।
(২) বুখারি, ৬০৮, ১২৩১, ৩২৮৫।
(৩) বুখারি, ৬০৯, ৭৫৪৮।
(৪) বুখারি, ৬১১।
(৫) মুসলিম, ৩৮৪।
(৬) মুসলিম, ৩৮৫।
(৭) বুখারি, ৬১৪, ৪৭১৯।
(৮) আবূ দাউদ, ৫২৪, হাসান; ইবনু হিব্বান, ২৯৫, সহীহ্।
(৯) তিরমিযি, ২১২, ৩৫৮৮, ৩৫৮৯, হাসান লি গাইরিহী।
(১০) আবূ দাউদ, ২৫৪০, সহীহ।
(১১) আবূ দাউদ, ৫৩০; তিরমিযি, ২৫৮৩, গরীব।
(১২) আবূ দাউদ, ৫২৮, সনদটি দুর্বল।

📘 আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন > 📄 সালাতের শুরুতে বলুন

📄 সালাতের শুরুতে বলুন


[৭৫] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘সালাত শুরু করার পর, সূরা পাঠের আগে আল্লাহর রাসূল ﷺ কিছুক্ষণ নীরব থাকতেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলি, “হে আল্লাহর রাসূল! আমার মাতা-পিতা (আপনার জন্য) উৎসর্গ হোক! তাকবীর ও সূরা পাঠের মাঝখানে আপনি নীরব থাকেন; তখন আপনি কী পড়েন?” নবি ﷺ বলেন, “আমি বলি—
اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِن الدَّنَسِ اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَايَ بِالثَّلْجِ وَالْمَاءِ وَالْبَرَدِ
হে আল্লাহ! আমার ও আমার গোনাহসমূহের মাঝখানে ততটা দূরত্ব সৃষ্টি করে দাও, যতটা দূরত্ব সৃষ্টি করেছ (পৃথিবীর) পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে! হে আল্লাহ! আমাকে আমার গোনাহ থেকে সেভাবে পরিচ্ছন্ন করে দাও, যাতে সাদা কাপড় ময়লামুক্ত করা হয়! হে আল্লাহ! বরফ, পানি ও ঠান্ডা বস্তু দিয়ে আমার গোনাহসমূহ থেকে আমাকে ধুয়ে দাও!”’ (১)
[৭৬] জুবাইর ইবনু মুত‘ইম থেকে বর্ণিত, ‘তিনি দেখেন আল্লাহর রাসূল ﷺ সালাত আদায় করার সময় তিনবার বলেন—
اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيراً وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيراً وَسُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً وَأَصِيلاً
“আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; বিপুল প্রশংসা কেবলই আল্লাহর; মহিমা আল্লাহর, সকাল ও সন্ধ্যা।”
(এরপর তিনি বলেন)
أَعُوْذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ مِنْ نَفْخِهِ وَنَفْثِهِ وَهَمْزِهِ
“আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই অভিশপ্ত শয়তানের ফুঁ, থুতু ও প্ররোচনা থেকে।”
শয়তানের ফুঁ হলো অহঙ্কার, থুতু হলো কবিতা, আর তার প্ররোচনা হলো পাগলামি।’ (২)

[৭৭] আয়িশা, আবূ সাঈদ ও অন্যান্য সাহাবি থেকে বর্ণিত, ‘সালাতের শুরুতে নবি ﷺ বলতেন—
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ
হে আল্লাহ! মহিমা তোমার, প্রশংসাও তোমার; তোমার নাম বরকতময়; তোমার মহিমা সমুন্নত; তুমি ছাড়া আর কোনও ইলাহ্ বা সার্বভৌম সত্তা নেই।”’ (৩)
[৭৮] উমার ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত, ‘তিনি তাকবীর দেওয়ার পর (আওয়াজ করে) সানা পড়তেন।’ (৪)

[৭৯] আলি থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ সালাতে দাঁড়িয়ে বলতেন—
وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفاً وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ اللَّهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ ظَلَمْتُ نَفْسِي واعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي جَمِيعاً فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ وَاهْدِنِي لِأَحْسَنِ الْأَخْلَاقِ لَا يَهْدِي لِأَحْسَنِهَا إِلَّا أَنْتَ واصْرِفْ عَنِّي سَيِّئَهَا لَا يَصْرِفُ عَنِّي سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ كُلُّهُ فِي يَدَيْكَ وَالشَّرُّ لَيْسَ إِلَيْكَ أَنَا بِكَ وَإِلَيْكَ تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ
আমি আমার সত্তাকে একনিষ্ঠভাবে ক্বিবলার দিকে ঘুরিয়ে নিলাম; যিনি আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন; যারা তাঁর সার্বভৌম ক্ষমতায় অন্য কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করে, আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নই। আমার সালাত, কুরবানি, জীবন ও মরণ — সবই আল্লাহর জন্য, যিনি জগৎসমূহের অধিপতি; তাঁর সার্বভৌম ক্ষমতায় কারও কোনও অংশ নেই। এ কথা ঘোষণা দেওয়ার জন্য আমাকে আদেশ দেওয়া হয়েছে। যারা আল্লাহর সামনে আত্মসমর্পণ করেছেন, আমি তাদের একজন। হে আল্লাহ! তুমিই রাজাধিরাজ; তুমি ছাড়া কোনও সার্বভৌম সত্তা নেই; তুমি আমার মনিব, আমি তোমার দাস। আমি আমার নিজের উপর জুলুম করেছি, আমি আমার গোনাহ স্বীকার করছি; আমার সকল গোনাহ ক্ষমা করে দাও! তুমি ছাড়া আর কেউ গোনাহ ক্ষমা করতে পারে না। আমাকে সবচেয়ে সুন্দর শিষ্টাচারের দিশা দাও! তুমি ছাড়া আর কেউ সবচেয়ে সুন্দর শিষ্টাচারের দিশা দিতে পারে না। আমার কাছ থেকে মন্দ আচরণ দূর করে দাও! তুমি ছাড়া আর কেউ আমার কাছ থেকে মন্দ আচরণ দূর করতে পারে না। আমি তোমার সামনে হাজির! সকল কল্যাণ তোমার হাতে। মন্দ কাজের মাধ্যমে তোমার নৈকট্য লাভ করা যায় না। তোমার আদেশ পালনে আমি সদা প্রস্তুত, আর আমি তোমার দিকেই মনোনিবেশ করেছি। তুমি বরকতময়, সুমহান; আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই ও তোমার কাছে ফিরে আসি।”’ (৫)
বলা হয়ে থাকে, এটি রাতের সালাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

[৮০] আয়িশা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ রাতের বেলা ঘুম থেকে উঠে সালাতে দাঁড়িয়ে বলতেন—
اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرِيلَ وَمِيْكَالَ وَإِسْرَافِيْلَ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيْمَا كَانُوْا فِيْهِ يَخْتَلِفُوْنَ اِهْدِنِي لِمَا اخْتُلِفَ فِيْهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ إِنَّكَ تَهْدِي مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
হে আল্লাহ! জিবরীল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের রব! আকাশসমূহ ও পৃথিবীর স্রষ্টা! দৃশ্যমান ও অদৃশ্যের জ্ঞানী! যেসব বিষয় নিয়ে তোমার বান্দারা মতবিরোধে লিপ্ত, তাদের মধ্যে তুমিই ফায়সালা করে দেবে। যে সত্য নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে, তোমার অনুগ্রহে আমাকে তার দিশা দাও। তুমি যাকে চাও, তাকে সঠিক পথের দিশা দিয়ে থাকো।’ (৬)

[৮১] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ মধ্যরাতে সালাতে দাঁড়িয়ে বলতেন—
اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُوْرُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيْهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ مَلِكُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيْهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ الْحَقُّ وَوَعْدُكَ الْحَقُّ وَقَوْلُكَ الْحَقُّ وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ وَالنَّبِيُّوْنَ حَقٌّ وَمُحَمَّدُ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ حَقٌّ اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ أَنْتَ إِلَهِي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ
হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা তোমার। আকাশসমূহ, পৃথিবী ও এসবের মাঝখানে যারা আছে—তুমি তাদের আলো। সকল প্রশংসা তোমার। আকাশসমূহ, পৃথিবী ও এসবের মাঝখানে যারা আছে—তুমি তাদের সম্রাট। সকল প্রশংসা তোমার। তুমি সত্য, তোমার ওয়াদা সত্য, তোমার কথা সত্য, তোমার সাথে (আমাদের) সাক্ষাতের বিষয়টি সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, নবিগণ সত্য, মুহাম্মাদ সত্য এবং মহাপ্রলয় সত্য। হে আল্লাহ! আমি তোমার সামনে আত্মসমর্পণ করেছি, তোমার প্রতি ঈমান এনেছি, তোমার উপর ভরসা করেছি, তোমার কাছে ফিরে এসেছি, (আমার অভাব ও অনুযোগ) তোমার কাছে পেশ করেছি এবং ফায়সালার জন্য তোমার দ্বারস্থ হয়েছি। তুমি আমার আগের ও পরের ত্রুটিসমূহ মাফ করে দাও। (মাফ করে দাও) প্রকাশ্য ও গোপন ত্রুটিসমূহ। তুমিই আমার ইলাহ; তুমি ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই।’ (৭)

টিকা:
(১) বুখারি, ৭৪৪; মুসলিম, ৫৯৮।
(২) আবূ দাউদ, ৭৬৪, হাসান।
(৩) আবূ দাউদ, ৭৭৬; তিরমিযি, ২৪৩, সহীহ্।
(৪) ইবনু আবী শাইবা, ১/৯২/১, সহীহ্।
(৫) মুসলিম, ৭৭৷
(৬) মুসলিম, ৭৭O।
(৭) বুখারি, ১১২০, ৬৩১৭; মুসলিম, ৭৬৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00