📄 ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলুন
[৫৫] আনাস থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “যে ব্যক্তি তার ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলে—
بِسْمِ اللهِ
আল্লাহর নামে (বের হলাম)।
تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ
আমি আল্লাহর উপর ভরসা করছি।
وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ تَعَالَى
আল্লাহ তায়ালা ছাড়া কোনো শক্তি-সামর্থ্য নেই।
তখন তাকে বলা হয়, ‘আল্লাহ তোমার জন্য যথেষ্ট এবং তোমাকে সুরক্ষা ও সঠিক পথের দিশা দেওয়া হলো!’ এ কথা শুনে শয়তান তার কাছ থেকে সরে গিয়ে আরেক শয়তানকে বলে, ‘এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে তোমার আর কী-ই বা করার আছে, যাকে সুরক্ষা ও সঠিক পথের দিশা দেওয়া হয়েছে এবং আল্লাহ যার জন্য যথেষ্ট!’”’ (১)
[৫৬] উম্মু সালামা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ যখনই আমার ঘর থেকে বের হতেন, তখনই তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে বলতেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ أَنْ أَضِلَّ أَوْ أُضَلَّ أَوْ أَزِلَّ أَوْ أُزَلَّ أَوْ أَظْلِمَ أَوْ أُظْلَمَ أَوْ أَجْهَلَ أَوْ يُجْهَلَ عَلَى
হে আল্লাহ! তোমার কাছে আশ্রয় চাই:
আমি নিজে যেন হারিয়ে না যাই, কিংবা অন্যরা যেন আমাকে না হারায়;
আমি যেন ভুল না করি কিংবা অন্য কারও ভুলের শিকার না হই;
আমি যেন জুলুম না করি কিংবা অন্য কারও জুলুমের শিকার না হই;
আমি যেন ভুলে না যাই, কিংবা অন্য কেউ যেন আমার উপর ভুল না করে। (২)
টিকা:
(১) ইবনু হিব্বান, সহীহ, ২৩৭৫।
(২) আবূ দাউদ, তিরমিযি, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ; আস-সহীহাহ্, ৩১৯৩।
📄 ঘরে প্রবেশের সময়
[৫৭] জাবির ইবনু আব্দিল্লাহ থেকে বর্ণিত, ‘আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, “কোনও ব্যক্তি যখন তার ঘরে ঢুকে এবং প্রবেশ ও খাওয়ার সময় আল্লাহ তা'আলার যিক্র করে, তখন শয়তান (তার সহযোগীদের) বলে, ‘(এই ঘরে) না আছে তোমাদের কোনও থাকার জায়গা, আর না আছে তোমাদের রাতের খাবারের কোনও বন্দোবস্ত!’ আর যদি কোনও লোক ঘরে ঢুকে এবং প্রবেশের সময় আল্লাহ তা'আলার যিক্র না করে, তখন শয়তান (তার সহযোগীদের) বলে, ‘তোমরা তোমাদের থাকার জায়গা পেয়ে গিয়েছ!’ আর সে যদি খাওয়ার সময় আল্লাহ তা'আলার যিক্র না করে, তখন শয়তান (তার সহযোগীদের) বলে, ‘(এই ঘরে) তোমরা তোমাদের থাকার জায়গা ও রাতের খাবার পেয়ে গিয়েছ!’”’ (১)
[৫৮] আবূ মালিক আশআরি থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “কোনও ব্যক্তি যখন তার ঘরে ঢুকে, তখন সে যেন বলে—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ الْمَوْلِجِ وَخَيْرَ الْمَخْرَجِ
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে (ঘরে) প্রবেশের কল্যাণ ও (ঘর থেকে) বের হওয়ার কল্যাণ চাই।
بِسْمِ اللَّهِ وَلَجْنَا
আল্লাহর নামে আমরা (ঘরে) ঢুকি,
بِسْمِ اللَّهِ خَرَجْنَا
আল্লাহর নামে (ঘর থেকে) বের হই,
وَعَلَى اللهِ رَبِّنَا تَوَكَّلْنَا
আর আমাদের রব আল্লাহর উপর ভরসা রাখি।
এরপর সে যেন তার ঘরের লোকদের সালাম দেয়।”’ (২)
[৫৯] আনাস থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “প্রিয় ছেলে! ঘরের লোকদের কাছে গেলে, (তাদের) সালাম দিয়ো; তা হবে তোমার ও তোমার ঘরের লোকদের জন্য কল্যাণজনক।”’ (৩)
টিকা:
(১) মুসলিম, ২০৬৮।
(২) আবূ দাউদ, ৫০৯৬, সহীহ্।
(৩) তিরমিযি, ২৬৯৯, সহীহ্।
📄 মাসজিদে প্রবেশ ও মাসজিদ থেকে বের হওয়ার সময়
[৬০] আনাস থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল ﷺ মাসজিদে প্রবেশের সময় বলতেন—
بِسْمِ اللهِ
আল্লাহর নামে (প্রবেশ করছি)।
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ
হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর উপর করুণা বর্ষণ করো!
আর বের হওয়ার সময়(ও) বলতেন—
بِسْمِ اللهِ
আল্লাহর নামে (প্রবেশ করছি)।
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ
হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর উপর করুণা বর্ষণ করো! (১)
[৬১] আবূ হুমাইদ ও আবূ উসাইদ থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “তোমাদের কেউ যখন মাসজিদে প্রবেশ করে, তখন সে যেন নবি ﷺ-এর উপর সালাম পেশ করে এবং বলে—
اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
হে আল্লাহ! আমার জন্য তোমার রহমতের দরজাগুলো খুলে দাও!
আর বের হওয়ার সময় যেন বলে—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তোমার করুণা চাই।”’ (২)
[৬২] আবদুল্লাহ ইবনু আমর থেকে বর্ণিত, ‘নবি ﷺ মাসজিদে প্রবেশ করার সময় বলতেন,
أَعُوْذُ بِاللهِ الْعَظِيمِ وَبِوَجْهِهِ الْكَرِيمِ وَبِسُلْطَانِهِ الْقَدِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ
‘আমি অভিশপ্ত শয়তান থেকে মহান আল্লাহ, তাঁর মহানুভব সত্তা ও তাঁর চিরায়ত নিরঙ্কুশ ক্ষমতার কাছে আশ্রয় চাই।’
তিনি বলেন, “(বান্দা) এ কথা বললে, শয়তান বলে উঠে—সে তো সারা দিনের জন্য আমার কাছ থেকে নিরাপদ হয়ে গেল!”’ (৩)
টিকা:
(১) ইবনুস সুন্নি, ৮৬।
(২) মুসলিম, ৭১৩; আবু দাউদ, ৪৬৫; নাসাঈ, ৩/৫৩।
(৩) আবূ দাউদ, ৪৮৫, হাসান।
📄 আযান শুনলে
[৬৩] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “লোকজন যদি জানত—এ আযান ও প্রথম কাতারের কী (মর্যাদা) এবং লটারি ছাড়া এগুলো পাওয়ার সুযোগ না থাকত, তাহলে তারা লটারি দিয়েই এ কাজগুলো করত।”’ (১)
[৬৪] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “সালাতের জন্য আযান দেওয়া হলে, শয়তান বায়ু ত্যাগ করতে করতে পালিয়ে যায়, যাতে আযানের আওয়াজ তার কানে না ঢুকে। আযান শেষ হলে, সে এগিয়ে আসে; কিন্তু সালাতের জন্য ইকামাত দেওয়া হলে, (আবার) পালিয়ে যায়। ইকামাত শেষ হলে সে ফিরে আসে এবং মানুষের মনে প্ররোচনা দিয়ে বলে, ‘এই কথা মনে করো, ওই কথা স্মরণ করো!’ এর মাধ্যমে সে তার মনে এমন এমন বিষয় স্মরণ করিয়ে দেয়, যা (সালাতের পূর্বে) তার স্মরণ ছিল না। এর ফলে মানুষ মনে রাখতে পারে না, সে কতটুকু সালাত আদায় করেছে।”’ (২)
[৬৫] আবূ সাঈদ থেকে বর্ণিত, ‘আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, “যতদূর পর্যন্ত মুআযযিনের আওয়াজ জিন, মানুষ ও অন্যরা শুনতে পায়, (ততটুকু এলাকার) সবাই কিয়ামাতের দিন তার অনুকূলে সাক্ষ্য দেবে।”’ (৩)
[৬৬] আবূ সাঈদ থেকে বর্ণিত, ‘আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, “আযান শুনলে, তোমরা মুআযযিনের (উচ্চারিত) বাক্যগুলোর অনুরূপ বাক্য বোলো।”’ (৪)
[৬৭] আবদুল্লাহ ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, ‘তিনি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছেন, “আযান শুনলে, তোমরা মুআযযিনের (উচ্চারিত) বাক্যগুলোর অনুরূপ বাক্য বোলো। এরপর আমার উপর দরুদ পাঠ কোরো; কারণ, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার উপর দশটি অনুগ্রহ নাযিল করেন। এরপর তোমরা আল্লাহর কাছে আমার জন্য ‘ওসীলা’ চেয়ো; ওসীলা হলো জান্নাতের একটি আবাস, যা কেবল আল্লাহর একজন বান্দার জন্য বরাদ্দ; আমার আশা, আমিই হব সেই ব্যক্তি। আমার জন্য যে (আল্লাহর কাছে) ওসীলা চায়, তার জন্য সুপারিশের রাস্তা খুলে যায়।”’ (৫)
[৬৮] উমার ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “মুআযযিন যখন বলে اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ তখন তোমরা বলবে اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ মুআযযিন যখন বলে أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ তখন তোমরা বলবে أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ মুআযযিন যখন বলে أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً رَسُولُ الله তখন তোমরা বলবে أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً رَسُوْلُ الله মুআযযিন যখন বলে حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ তখন তোমরা বলবে لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِالله মুআযযিন যখন বলে حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ তখন তোমরা বলবে لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ মুআযযিন যখন বলে اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ তখন তোমরা বলবে اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ মুআযযিন যখন বলে لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ তখন তোমরা বলবে لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ যে ব্যক্তি অন্তর থেকে একনিষ্ঠভাবে এগুলো বলবে, সে জান্নাতে যাবে।”’ (৬)
[৬৯] জাবির থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “যে ব্যক্তি আযান শুনে বলবে—
اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ آتِ مُحَمَّداً الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَاماً مَّحْمُوْداً الَّذِي وَعَدْتَهُ
হে আল্লাহ! (তুমি) এই পূর্ণাঙ্গ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের রব! মুহাম্মাদ ﷺ-কে ওসীলা ও মহত্ত্ব দান করো, আর তাঁকে পৌঁছে দাও প্রশংসিত স্থানে, যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাঁকে দিয়েছ।
কিয়ামাতের দিন তার জন্য আমার সুপারিশের রাস্তা খুলে যায়।”’ (৭)
[৭০] আবদুল্লাহ ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, ‘এক ব্যক্তি বলে, “হে আল্লাহর রাসূল! মুআযয্যিনরা তো মর্যাদায় আমাদের চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে!” তখন আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “মুআযয্যিনরা (আযানে) যা বলে, তুমিও অনুরূপ বোলো। আর (আযান) শেষ হলে, আল্লাহর কাছে চাও, তোমাকে তা দেওয়া হবে!”’ (৮)
[৭১] আনাস থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “আযান ও ইকামাতের মাঝখানের সময় দুআ করা হলে, তা ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।” সাহাবিগণ বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! (দুআয়) আমরা কী বলব?’ নবি ﷺ বলেন, “আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ চাও।”’ (৯)
[৭২] সাহল ইবনু সাদ থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, “দু’টি দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না: আযানের সময় দুআ, আর যুদ্ধক্ষেত্রে দুআ—যখন উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।”’ (১০)
[৭৩] উম্মু সালামা থেকে বর্ণিত, ‘মাগরিবের আযানের সময় পড়ার জন্য আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাকে এ দুআটি শিখিয়েছেন:
اللَّهُمَّ هَذَا إِقْبَالُ لَيْلِكَ وَإِدْبَارُ نَهَارِكَ وَأَصْوَاتُ دُعَاتِكَ وَحُضُورُ صَلَوَاتِكَ فاغْفِرْ لِي
হে আল্লাহ! এ হলো তোমার রাতের আগমন ও দিনের বিদায় মুহূর্ত, (চারদিকে) তোমার আহ্বানকারীদের আওয়াজ উচ্চারিত হচ্ছে, তোমার উদ্দেশে সালাত আদায়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে, অতএব, তুমি আমাকে মাফ করে দাও!’ (১১)
[৭৪] নবি ﷺ-এর কয়েকজন সাহাবি থেকে বর্ণিত, ‘বিলাল ইকামাত শুরু করে قَدْ قَامَتِ الصَّلَاةُ বললে, নবি ﷺ বলতেন—
أَقَامَهَا اللَّهُ وَأَدَامَهَا
আল্লাহ এটিকে প্রতিষ্ঠিত করুন এবং প্রতিষ্ঠিত রাখুন!’ (১২)
টিকা:
(১) বুখারি, ৬১৫; মুসলিম, ৬৫৩।
(২) বুখারি, ৬০৮, ১২৩১, ৩২৮৫।
(৩) বুখারি, ৬০৯, ৭৫৪৮।
(৪) বুখারি, ৬১১।
(৫) মুসলিম, ৩৮৪।
(৬) মুসলিম, ৩৮৫।
(৭) বুখারি, ৬১৪, ৪৭১৯।
(৮) আবূ দাউদ, ৫২৪, হাসান; ইবনু হিব্বান, ২৯৫, সহীহ্।
(৯) তিরমিযি, ২১২, ৩৫৮৮, ৩৫৮৯, হাসান লি গাইরিহী।
(১০) আবূ দাউদ, ২৫৪০, সহীহ।
(১১) আবূ দাউদ, ৫৩০; তিরমিযি, ২৫৮৩, গরীব।
(১২) আবূ দাউদ, ৫২৮, সনদটি দুর্বল।