📄 যিকর বা আল্লাহর স্মরণের মহত্ত্ব
[১] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেন, “আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমার প্রতি আমার বান্দার ধারণা অনুযায়ী আমি তার সঙ্গে থাকি। সে যখন আমাকে স্মরণ করে তখন আমি তার সঙ্গেই থাকি। সে যদি আমাকে মনে মনে স্মরণ করে আমিও তাকে মনে মনে স্মরণ করি। আর যদি সে আমাকে মজলিসে স্মরণ করে তাহলে আমি তাকে তাদের চেয়ে উত্তম মজলিসে স্মরণ করি। আর সে যদি আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই। সে যদি আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে চার হাত অগ্রসর হই। আর সে যদি আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে যাই।” (বুখারি, ৭৫৩৬)
[২] আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পাঠ করে, সে একটি নেকি পায়। আর প্রতিটি নেকি দশ গুণ বৃদ্ধি পায়। আমি এ কথা বলি না যে, ‘আলিফ-লাম-মীম’ একটি অক্ষর। বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর।” (তিরমিযি, ২৯১০)
[৩] আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, “আল্লাহর যিকির ছাড়া বেশি কথা বোলো না। কেননা বেশি কথা অন্তরকে কঠিন করে ফেলে। আর কঠিন হৃদয়ের মানুষ আল্লাহ থেকে সবচেয়ে দূরে।” (তিরমিযি, ২৪১১, জয়িফ)
[৪] মুআজ ইবনু জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “জান্নাতবাসীরা অন্য কোনো কিছুর জন্য আফসোস করবে না, কেবল সেই সময়টুকু ছাড়া—যে সময়টুকু তারা আল্লাহর যিকির ছাড়া কাটিয়েছে।” (তাবরানি, ২০/৯৩)
[৫] মুআজ ইবনু জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেন, কোন আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়? তিনি বললেন, “তোমার জিহ্বা যেন আল্লাহর স্মরণে সতেজ থাকে এমতাবস্থায় তোমার মৃত্যু হওয়া।” (মুসনাদে আহমাদ : ৫/২৩৯, হাদিসটি সহিহ)
[৬] আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, “আমি কি তোমাদেরকে এমন আমলের কথা জানাব না, যা তোমাদের প্রভুর কাছে খুব উত্তম ও পবিত্র, তোমাদের মর্যাদা অনেক বাড়িয়ে দেয়, সোনা-রূপা দান করার চেয়েও বেশি ভালো এবং তোমাদের জন্য এর চেয়েও উত্তম যে, তোমরা শত্রুর মোকাবিলা করবে আর তোমরা তাদের ঘাড়ে আঘাত হানবে এবং তারাও তোমাদের ঘাড়ে আঘাত হানবে?” সাহাবাগণ বললেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই (জানিয়ে দিন)।” তিনি বললেন, “তা হলো আল্লাহ তাআলার যিকির।” (তিরমিযি, ৩৩৭৭, আহমদ, ৫/১৯৫; ইবনু মাজাহ, ৩৭৯০)
[৭] আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, “সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা তাঁর (আরশের) ছায়ায় আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না; ...এমন ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে আর তার দুচোখ দিয়ে অশ্রু ঝরে।” (বুখারি, ৬৬০; মুসলিম, ১০৩১)
📄 প্রশংসা, সার্বভৌমত্ব ও পবিত্রতা ঘোষণার মহত্ত্ব
[৮] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, "যে ব্যক্তি প্রতিদিন এক শ' বার বলবে- لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ আল্লাহ ছাড়া কোনও সার্বভৌম সত্তা নেই; وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ তিনি একক; তাঁর (সার্বভৌম ক্ষমতায়) কোনও অংশীদার নেই; لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ শাসনক্ষমতা কেবল তাঁরই; প্রশংসাও তাঁর; وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। তাকে দশ জন দাস মুক্ত করার সাওয়াব দেওয়া হবে, তার জন্য এক শ'টি কল্যাণ লেখা হবে, তার (আমলনামা) থেকে এক শ'টি মন্দ কাজ মুছে ফেলা হবে, আর ওই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তানের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকবে। আর তার চেয়ে উত্তম কাজ কেউ করতে পারবে না, তবে সে ব্যক্তি ছাড়া যে তার চেয়ে বেশি আমল করবে।” (বুখারি, ৩২৯৩; মুসলিম, ২৬৯১)
[৯] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল বলেন, “যে-ব্যক্তি প্রতিদিন এক শ' বার বলে- سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ আল্লাহ পবিত্র ও প্রশংসিত; তার গোনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হয়, গোনাহগুলো সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হলেও!” (তিরমিযি, ৩৪৬৬, সহিহ)
[১০] আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল বলেন, “দু'টি বাক্য (এমন) যা মুখে উচ্চারণ করা খুবই সহজ, কিন্তু (সাওয়াবের) পাল্লায় অনেক ভারী। আর তা করুণাময় আল্লাহ্র নিকট অতি প্রিয়। বাক্য দু’টি হলো: سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ ، سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيمِ আল্লাহ পবিত্র ও প্রশংসিত; মহান আল্লাহ পবিত্র।” (বুখারি, ৬৪০৬, ৬৬৮২, ৭৫৬৩; মুসলিম, ২৬৯৪)
[১১] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল বলেন, “যা কিছুর উপর সূর্য উদিত হয়, সেসবের চেয়ে আমার কাছে অধিক প্রিয় হলো নিচের কথাগুলো বলা:
سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ
আল্লাহ পবিত্র; প্রশংসা সবই আল্লাহর; আল্লাহ ছাড়া কোনও সার্বভৌম সত্তা নেই; আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।” (মুসলিম, ২৬৯৫)
[১২] সামুরা ইবনু জুনদুব থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল বলেন, “আল্লাহ তাআলার কাছে প্রিয় কথা চারটি; (বলার সময়) যে-কোনও একটি দিয়ে শুরু করলে, কোনও সমস্যা নেই:
سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ
আল্লাহ পবিত্র; প্রশংসা সবই আল্লাহর;
وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ
আল্লাহ ছাড়া কোনও সার্বভৌম সত্তা নেই; আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।” (মুসলিম, ২১৩৭)
[১৩] সাদ ইবনু আবী ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত, 'আমরা নবি ﷺ এর কাছে ছিলাম। তখন তিনি বলেন, “তোমাদের কেউ কি প্রতিদিন এক হাজার কল্যাণ অর্জন করতে অক্ষম?” সেখানে বসে-থাকা এক লোক তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আমাদের কেউ এক হাজার কল্যাণ অর্জন করবে কীভাবে?’ তিনি বলেন, “সে (যদি) এক শ’ বার তাসবীহ্ (আল্লাহ তাআলার প্রশংসা) পাঠ করে, তাহলে তার জন্য এক হাজার কল্যাণ লেখা হয়, অথবা তার (আমলনামা) থেকে এক হাজার গোনাহ কমিয়ে দেওয়া হয়।” (মুসলিম, ২৬৯৮; তিরমিযি, ৩৪৫৯)
[১৪] উম্মুল মু'মিনীন জুয়াইরিয়াহ (রা.) থেকে বর্ণিত, 'নবি (সা) ফজরের সালাত আদায় করে সকালবেলা তাঁর কাছ থেকে বেরিয়ে যান; তখন তিনি ছিলেন মাসজিদের ভেতর। দুপুরবেলা ফিরে এসে দেখেন, তিনি তখনও (সেখানে) বসা। নবি (সা) জিজ্ঞাসা করেন, “তোমাকে যে অবস্থায় দেখে গিয়েছিলাম, ওই অবস্থায়ই আছ?” তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ!’ তখন নবি ﷺ বলেন, ‘তোমার পর আমি চারটি বাক্য তিনবার পড়েছি; ওইগুলো ওজন দেওয়া হলে তুমি আজকে সারাদিন যা পড়েছ, তার চেয়ে বেশি ভারী হতো। বাক্য চারটি হলো:
سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ
আল্লাহ পবিত্র ও প্রশংসিত; তাঁর সমগ্র সৃষ্টির সমান সংখ্যক;
وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ
(প্রশংসা আল্লাহর,) তাঁর আরশের ওজন পরিমাণ এবং যেটুকু প্রশংসায় তিনি সন্তুষ্ট;
وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ
আর (প্রশংসা আল্লাহর,) তাঁর নিদর্শনাদি লিখতে যে পরিমাণ কালি প্রয়োজন, ওই পরিমাণ।”' (মুসলিম, ২৭২৬; আবূ দাউদ, ১৫০৩; তিরমিযি, ৩৫৫০)
[১৫] সাদ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত, 'রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে তিনি এক মহিলার কাছে যান। ঐ মহিলার সামনে ছিল কিছু খেজুরের বিচি বা নুড়ি পাথর, যা দিয়ে তিনি তাসবীহ্ পাঠ করছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, “আমি কি তোমাকে এমন কিছু বলে দেবো না, যা তোমার জন্য অধিক সহজ কিংবা অধিক উত্তম? (আর তা হলো, এগুলো পাঠ করা:)
سُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي السَّمَاءِ
আল্লাহ পবিত্র, তিনি আকাশে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তত সংখ্যক বার;
وَسُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي الْأَرْضِ
আল্লাহ পবিত্র, তিনি পৃথিবীতে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তত সংখ্যক বার;
وَسُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ مَا بَيْنَ ذَلِكَ
আল্লাহ পবিত্র, আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে যা কিছু আছে, তত সংখ্যক বার;
وَسُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ مَا هُوَ خَالِقُ
আল্লাহ পবিত্র, তিনি যা কিছু সৃষ্টি করবেন, তত সংখ্যক বার।
وَالْحَمْدُ لِلَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي السَّمَاءِ
সকল প্রশংসা আল্লাহর, তিনি আকাশে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তত সংখ্যক বার;
وَالْحَمْدُ لِلَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي الْأَرْضِ
সকল প্রশংসা আল্লাহর, তিনি পৃথিবীতে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তত সংখ্যক বার;
وَالْحَمْدُ لِلَّهِ عَدَدَ مَا بَيْنَ ذلك
সকল প্রশংসা আল্লাহর, আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে যা কিছু আছে, তত সংখ্যক বার;
وَالْحَمْدُ لِلَّهِ عَدَدَ مَا هُوَ خَالِقُ
সকল প্রশংসা আল্লাহর, তিনি যা কিছু সৃষ্টি করবেন, তত সংখ্যক বার।
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي السَّمَاءِ
আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ বা সার্বভৌম সত্তা নেই, তিনি আকাশে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তত সংখ্যক বার;
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي الْأَرْضِ
আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ বা সার্বভৌম সত্তা নেই, তিনি পৃথিবীতে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তত সংখ্যক বার;
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ عَدَدَ مَا بَيْنَ ذلك
আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ বা সার্বভৌম সত্তা নেই, আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে যা কিছু আছে, তত সংখ্যক বার;
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ عَدَدَ مَا هُوَ خَالِقُ
আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ বা সার্বভৌম সত্তা নেই, তিনি যা কিছু সৃষ্টি করবেন, তত সংখ্যক বার।
وَاللَّهُ أَكْبَرُ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي السَّمَاءِ
আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, তিনি আকাশে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তত সংখ্যক বার;
وَاللَّهُ أَكْبَرُ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي الْأَرْضِ
আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, তিনি পৃথিবীতে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তত সংখ্যক বার;
وَاللَّهُ أَكْبَرُ عَدَدَ مَا بَيْنَ ذلك
আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে যা কিছু আছে, তত সংখ্যক বার;
وَاللَّهُ أَكْبَرُ عَدَدَ مَا هُوَ خَالِقُ
আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, তিনি যা কিছু সৃষ্টি করবেন, তত সংখ্যক বার।
وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي السَّمَاءِ
আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি-সামর্থ্য নেই, তিনি আকাশে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তত সংখ্যক বার;
وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي الْأَرْضِ
আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি-সামর্থ্য নেই, তিনি পৃথিবীতে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তত সংখ্যক বার;
وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ عَدَدَ مَا بَيْنَ ذَلِكَ
আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি-সামর্থ্য নেই, আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে যা কিছু আছে, তত সংখ্যক বার;
وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ عَدَدَ مَا هُوَ خَالِقُ
আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি-সামর্থ্য নেই, তিনি যা কিছু সৃষ্টি করবেন, তত সংখ্যক বার।” (তিরমিযি, ৩৫৬৮; নাসায়ী, আল-কুবরা, ৯২৯১; ইবনু মাজাহ, ৩৮০৬)
[১৬] সাদ ইবনু আবী ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত, ‘নবি ﷺ এর কাছে এক বেদুইন এসে বলে, “হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কিছু বাক্য শিখিয়ে দিন, যা আমি (সবসময়) পাঠ করব।” নবি ﷺ বলেন, “তুমি বোলো—
لا إله إلا الله وحده لا شريك له، الله أكبر كبيرا، والحمد لله كثيرا، وسبحان الله رب العالمين، لا حول ولا قوة إلا بالله العزيز الحكيم
আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই; তিনি একক; তাঁর (সার্বভৌম ক্ষমতায়) কোনও অংশীদার নেই; আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; বিপুল প্রশংসা কেবল আল্লাহর; জগতেরসমূহের অধিপতি আল্লাহ পবিত্র; মহাপরাক্রমশালী বিজ্ঞ আল্লাহ ছাড়া কোনও শক্তি-সামর্থ্য নেই।”
বেদুইন বলে, “এগুলো তো আমার রবের জন্য! আমার নিজের জন্য কী (পড়ব)?” নবি ﷺ বলেন, “তুমি বোলো—
اَللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَاهْدِنِي، وَارْزُقْنِي
হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দাও; আমার ওপর দয়া করো; আমাকে (সঠিক) পথে পরিচালিত করো; আমাকে মাফ করো; ও আমার রিযকের সুব্যবস্থা করে দাও!”
বেদুইন চলে যাওয়ার পর, নবি ﷺ বলেন, “লোকটি দু’হাত ভরে কল্যাণ নিয়ে গেল!”’ (মুসলিম, ২৬৯৬; আহমাদ, ১/১৭৬; বায়হাকি, আদ্-দা‘ওয়াতুল কাবীর, ৪৫; ইবনু আবীশাইবা, ১০/২৮০)
[১৭] আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ থেকে বর্ণিত, নবি ﷺ বলেন, “ইসরা (মি’রাজ)-এর রাতে আমার সাথে ইবরাহীম عَلَيْهِ ٱلسَّلَامُ এর সাক্ষাৎ হয়। তখন তিনি আমাকে বলেন, ‘মুহাম্মাদ! আপনার উম্মাহকে আমার পক্ষ থেকে সালাম দেবেন; আর তাদের বলবেন—জান্নাত এমন একটি জায়গা, যার মাটি সুরভিত এবং পানি সুমিষ্ট; তবে এটি হলো গাছপালাশূন্য জায়গা, এখানে গাছ লাগানোর উপায় হলো নিচের বাক্যগুলো (পাঠ করা):
سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ
আল্লাহ পবিত্র; সকল প্রশংসা কেবল আল্লাহর; আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ বা সার্বভৌম সত্তা নেই; আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।” (তিরমিযি, ৩৪৮৪; মুসনাদে আহমাদ, ৫/২২৯৮০; তাবারানি, ১০৩৪২। শাইখ আলবানি হাদিসটিকে ‘হাসান’ বলেছেন।)
[১৮] আবূ মূসা আশআরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবি ﷺ আমাকে বলেন, “আমি কি তোমাকে জান্নাতের একটি ভাণ্ডারের সন্ধান দেবো না?” আমি বলি, “অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল!” নবি ﷺ বলেন, “তুমি বোলো—
لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ
আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি-সামর্থ্য নেই।”’ (বুখারি, ২৯৯২; মুসলিম, ২৭০৪)
[১৯] আবূ মূসা আশআরি থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন, “সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উপমা হলো, সুগন্ধি বিক্রেতা ও কামারের মতো। সুগন্ধিওয়ালা হয় তোমাকে কিছু দেবে অথবা তুমি তার কাছ থেকে কিছু কিনবে, নতুবা তার সুগন্ধি তোমার নাকে এসে লাগবেই। আর কামারের হাপর হয় তোমার শরীর বা পোশাক পুড়িয়ে দেবে নয়তো তুমি তার দুর্গন্ধ পাবে।” (বুখারি, ৫৫৩৪; মুসলিম, ২৬২৮)
[২০] আবূ হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “যে আল্লাহর আনুগত্য করবে, সে জান্নাতে যাবে। আর যে আমার নাফরমানি করবে, সে (জান্নাতে যেতে) অস্বীকার করে।” (বুখারি, ৭২৮০)
📄 ঘুম থেকে উঠে
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 ভীতিকর স্বপ্ন দেখলে বলুন
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।