📄 আন্তরিক তাওবার উপকারিতা
আন্তরিকভাবে তাওবা করার অনেক উপকারিতা আছে। সলফে সালেহীনরা সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে লিখে গেছেন। ইমাম রাগীব ইসফাহানী (রঃ) কিছু প্রয়োজনীয় উপকারিতার কথা উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো:
১। এটি ভুলগুলোকে ঢেকে দেয়। এটি মানুষের অন্তরে শয়তানের প্রবেশপথগুলোকে চিহ্নিত করে। এটি তাওবাকারী বান্দাকে খারাপ আমলের ব্যাপারে আরো বেশি সতর্ক করে।
২। তাওবাকারী বান্দাহ হয় বিব্রত ও ভীত। সে তার প্রভুর দরবারে বিনীত ও নম্র হয়ে ধরনা দেয়।
৩। তাওবাকারী বান্দাহ জীবনের ভাল ও মন্দ দিক সম্পর্কে ধারণা পায়, সে জীবনের মিষ্টি ও তেঁতো দুই স্বাদই পেয়েছে। এভাবে সে অন্য গুনাহগারদের প্রতি সহানুভুতিশীল হয়ে থাকে, তাদেরকে ছোট করে দেখে না।
ইমাম ইবনুল কাইয়িমও (রঃ) কিছু উপকারের কথা আলোচনা করেছেন:
১। আল্লাহর চোখে সবচাইতে মহৎ ও প্রিয় ইবাদত হলো তাওবা। তিনি তাদের ভালবাসেন যারা তাওবা করে। কেননা তিনি তাঁর সৃষ্টিকে ভালবাসেন। তিনি তাদের গুণাহের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন যাতে করে তাওবার পর তাদের উপর তাঁর রহমত ও ভালবাসার বৃষ্টি বর্ষণ করতে পারেন।
২। তাওবার এমন মর্যাদা আছে যা আর অন্য কোন ইবাদতের মধ্যে নেই। এ কারণেই বান্দাহ তাওবা করলে আল্লাহ সেই পথিকের চাইতে বেশী খুশী হন যে মরুভুমিতে তার হারানো বাহন খুঁজে পেয়েছে। আল্লাহর এই সন্তুষ্টি তাওবাকারীর অন্তরে গভীর প্রভাব ফেলে। আর তাই তাওবাকারী তার তাওবার মাধ্যমে আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান।
৩। তাওবা মহান আল্লাহর সামনে বিনয় ও অসহায়ত্বের অনুভুতি নিয়ে আসে যা আর কোন ইবাদাতের মাধ্যমে সহজে পাওয়া যায় না।
৪। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সব চাইতে নিকটবর্তী হন যখন তারা ভগ্ন হৃদয়ে থাকে। তাওবাকারী বান্দাহ অনেক বেশি ইবাদত করে। কেননা বিব্রত বোধ ও শাস্তির ভয়ে তার হৃদয় ভারাক্রান্ত থাকে। মুসা (আলাইহিস সালাম) আল্লাহকে জিজ্ঞেস করেছিলেন কোথায় তাঁকে পাওয়া যাবে। আল্লাহ উত্তর দিয়েছিলেন, সেই সব লোকের মাঝে যাদের অন্তর তাঁর ভয়ে ভারাক্রান্ত। এ কারণেই তিন শ্রেণীর লোকের দোয়া কবুল হয়, কারণ তারা ভগ্ন হৃদয়ের হয়। তারা হলো গুনাহগার, মুসাফির এবং রোজাদার ব্যক্তি।
৫। গুনাহ থেকে তাওবা করা একজন বান্দার জন্য অন্য যে কোন ইবাদতের চাইতে বেশি উপকারি হতে পারে। এ কারণেই সলফে সালেহীনরা বলেছেন, “কখনো কখনো একজন বান্দাহ পাপ করে (এরপর বিনয়ী হয়ে তাওবা করে) এবং জান্নাতে প্রবেশ করে। আবার কখনো কখনো একজন বান্দাহ নেক কাজ করে (এরপর অহংকারী হয়ে যায়) এবং জাহান্নামে প্রবেশ করে।
৬। আল্লাহর বাণী: কিন্তু যারা তাওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎ কর্ম করে, আল্লাহ তাদের গুনাহকে ভালো আমল দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা আল-ফুরকান, আয়াত ৭০)
যারা তাওবা করে, আল্লাহর উপর ঈমান রাখে এবং নেক কাজ করে, তাদের জন্য এটা অত্যন্ত আনন্দের।
ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, এই আয়াত নাজিল হবার পর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যতটা খুশী হয়েছিলেন এতটা খুশি হতে আমি রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আর কখনো দেখিনি। “তিনি আপনাকে পরিষ্কার বিজয় দান করেছেন” এই আয়াত নাজিল হবার পরেও রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অত্যন্ত খুশী হয়েছিলেন।
আল্লাহ কিভাবে পাপকে ভাল আমলে বদলে দেন এই ব্যাপারে আলেমদের মাঝে মতপার্থক্য আছে।
ইবনে আব্বাস (রাঃ) এবং তাঁর অনুসারীরা বলেন, আল্লাহ মন্দ আমলকে ভাল আমলে রুপান্তর করে দেন। শিরককে ঈমানে, ব্যভিচারকে সৎচরিত্রে, মিথ্যাবাদীতাকে সত্যবাদীতায়, অবিশ্বস্ততাকে বিশ্বস্ততায় পরিবর্তন করে দেন।
সাইদ ইবনে মুসাইয়্যিব (রঃ) বলেন, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাওবাকারীর খারাপ কাজকে ভাল কাজে বদলে দিবেন। তাওবা নিজেই একটি নেক কাজ। তাই গুনাহগার তার পাপকে ভাল কাজে রুপান্তর করে।
শেখ শাখমী রুস্তাকি (রঃ) বলেন, তাওবা হলো প্রত্যেক গুনাহ থেকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। আল্লাহ বলেন “তিনি পাপ ক্ষমাকারী ও তাওবা কবুলকারী।” (সুরা আল-মুমিন, আয়াত ৩)
আল্লাহ বান্দার দিকে তাঁর বিশাল রহমত নিয়ে এগিয়ে আসেন, "আমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, দয়ালু।” (সুরা আল-হিজর, আয়াত ৪৯)
তাওবা নেক আমল বাড়ায়। আর (তাওবাবিহীন) পাপ ইবাদত থেকে দূরে ঠেলে দেয়। বলা হয়ে থাকে, ক্রমাগত পাপ মানুষের অন্তরকে শক্ত ও কলুষিত করে দেয়। এমন কি, এটি মানুষকে কুফরী (আল্লাহকে অস্বীকার) করার দিকে (নাউযুবিল্লাহ) কিংবা অন্য কোন বড় গুণাহের দিকে নিয়ে যায়। নিজের কৃতকর্মের জন্য তীব্র অনুশোচনা ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া গুনাহগারের আর কোন অবলম্বন নেই।
বলা হয়ে থাকে, যদি কোন মানুষ তাহাজ্জুদে (রাতের নামাজে) না দাঁড়াতে পারে তবে বুঝতে হবে পাপ এবং ভুল ত্রুটি তার উপর চেপে বসেছে। সুতরাং তাওবা হলো অন্তর থেকে অনুশোচনা করা, গুনাহ থেকে নিজেকে বিরত রাখা, মনকে আনুগত্যের প্রশিক্ষণ দেয়া এবং আর কখনো গুনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প করা।
তাওবাকারীর তিনটি জিনিস মনে রাখা উচিত:
১। গুনাহের তীব্র অনুশোচনা।
২। গুণাহের কারণে ভয়াবহ আযাব।
৩। এগুলোর বিপরীতে বান্দার অসহায়ত্ব।
যারা রোদের তাপ কিংবা পিপড়ার কামড় সহ্য করতে পারে না, তারা কি করে জাহান্নামের আগুন, লোহার হাতুড়ি দিয়ে ফেরেশতাদের আঘাত, উটের মত বড় সাপের কামড় কিংবা গাধার মত আকারের বিচ্ছুর দংশন সহ্য করবে? আমরা আল্লাহর কাছে তাঁর ক্রোধ ও শাস্তি থেকে ক্ষমা চাই। যারা এই বিষয়গুলো স্মরণে রাখবে তাদের পক্ষেই কেবল আন্তরিক তাওবা করা সম্ভব। আল্লাহ তাঁর অসীম রহমতে তার জন্য তা সহজ করে দিবেন।
📄 তাওবার সময়
আল্লাহ তাওবার সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “অবশ্যই আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করবেন, যারা ভুল বশতঃ মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তাওবা করে। এরাই হলো সেই সব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, সবজান্তা।” (সুরা আন-নিসা, আয়াত ১৭)
মুজাহিদ (রঃ) বলেন, “জেনে বা না জেনে যে ব্যক্তিই গুনাহ করে, গুনাহ ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত সে মুর্খ থাকে।”
ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, “তার গুনাহ তার অজ্ঞতার অংশ।”
হাসান বসরী (রঃ) বলেন, ""..অনতিবিলম্বে তাওবা করে..' মানে হলো মৃত্যুর আগেই।”
ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, “এর মানে হলো অসুস্থতার আগে।”
ইবনে রজব (রঃ) বলেন, “অধিকাংশ আলেমদের মতে 'অনতিবিলম্বে' মানে হলো মৃত্যুর আগে, কেননা মৃত্যু খুব নিকটে এবং দ্রুত হয়ে থাকে।”
এই আয়াত থেকে এটা পরিষ্কার, আল্লাহ শরীরে প্রাণ থাকা পর্যন্ত তাওবা কবুল করেন। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, 'মৃত্যু শয্যায় উপনীত হবার আগ পর্যন্ত আল্লাহ বান্দার তাওবা কবুল করেন।"
এ কারণেই ইবনে রজব (রঃ) বলেন, “এই আয়াতের নির্দেশনা হলো এই যে অসুস্থ হবার আগেই গুনাহগারের তাওবা করা উচিৎ, যাতে সে আল-কোরআনের নির্দেশিত পথে ভুলগুলোকে নেক আমল দ্বারা শোধরাতে পারে।”
তদুপরি, সুস্থ অবস্থায় তাওবা করা হলো সুস্থ দেহে দান করার ন্যায় (যেখানে অন্তিম মুহুর্তের দাবী বা চাপ প্রয়োগ করা হয় না)। মৃত্যুশয্যায় তাওবা করা হলো মৃত্যুশয্যায় দান করার ন্যায় যখন আর কোন উপায় থাকে না। দুটো অবস্থা (সুস্থাবস্থা ও মৃত্যুকಾಲীন সময়) কখনো এক হতে পারে না।
আলী (রাঃ) বলেন, “বান্দাকে নিঃশ্বাস দেয়া হয়েছে যাতে মালাকুল মাওত (মৃত্যুর ফেরেশতা) চলে আসার আগ পর্যন্ত তাওবা করতে পারে। মালাকুল মাওত চলে এলে আর কোন সময় দেয়া হয় না, তাওবাও কবুল করা হয় না।”
ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, “মালাকুল মাওত চলে আসার আগ পর্যন্ত তাওবা করার সুযোগ থাকে।”
হে আল্লাহর বান্দারা, একজন মানুষ দুনিয়ার প্রতি আসক্ত থাকলে সে তার জীবনের অবৈধ আরাম-আয়েশ ও ভোগ-বিলাস থেকে নিজেকে দূরে রাখে না। আর শয়তান মৃত্যু চলে আসার আগ পর্যন্ত তাকে তাওবা থেকে দূরে সরিয়ে রাখে, গড়িমসি করায়। যখন মৃত্যুযন্ত্রণা এসে পড়ে তখন সে অনুশোচনা করে, নিজের বিলম্বের জন্য আক্ষেপ করে। সে আবার জীবন ফিরে পেতে চায় তাওবা ও নেক আমল করার জন্য। কিন্তু তখন এগুলো কোন কাজে আসে না। আল্লাহ আমাদের এই অবস্থা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।
“তোমরা তোমাদের পালনকর্তার অভিমুখী হও এবং তাঁর আজ্ঞাবহ হও তোমাদের কাছে আযাব আসার পূর্বে। এরপর তোমাদের সাহায্য করা হবে না। তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ উত্তম বিষয়ের অনুসরণ করো তোমাদের কাছে আযাব আসার আগেই। যাতে কেউ না বলে, আমি আল্লাহর প্রতি কর্তব্যে অবহেলা করেছি। আর আমি ছিলাম ঠাট্টা-বিদ্রুপকারীদের অন্তর্ভুক্ত। অথবা যাতে না বলে, আল্লাহ যদি আমাকে পথ প্রদর্শন করতেন তবে আমি অবশ্যই পরহেযগারদের একজন হতাম। আযাব প্রত্যক্ষ করার সময় যাতে না বলে, যদি কোনরুপে একবার ফিরে যেতে পারি, তবে আমি সৎকর্মপরায়ণ হয়ে যাবো।” (সুরা আয-যুমার, আয়াত ৫৪-৫৮)
আল্লাহ আরো বলেন, “যখন তাদের কারো কাছে মৃত্যু আসে তখন সে বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাকে পুনরায় (দুনিয়াতে) প্রেরণ করুন যাতে আমি সৎকর্ম করতে পারি, যা আমি করিনি। কখনই নয়, এ তো তার একটি কথার কথা মাত্র। তাদের সামনে পর্দা আছে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।” (সুরা আল-মুমিনূন, আয়াত ৯৯-১০০)
“তাদের ও তাদের বাসনার মাঝে অন্তরাল হয়ে আছে।” (সুরা সাবা, আয়াত ৫৪)
ওমর ইবনে আব্দুল আযিয (রঃ) বলেন, “যখন তারা (মৃত্যুর সময়) তাওবা করতে চাইবে তখন (তাওবা ও তাদের মাঝে) একটি পর্দা টানিয়ে দেয়া হবে।”
হাসান (রঃ) বলেন, “হে আল্লাহর বান্দারা! আল্লাহকে ভয় করো। দুটি জিনিস যেন একই সময় তোমার কাছে এসে না পড়ে - মৃত্যু যন্ত্রনা এবং জীবন হারানোর বেদনা।”
ইবনে সাম্মাক (রঃ) বলেন, যখন তুমি (দুনিয়ার) ফুর্তি ও ঘোরের মাঝে থাকো তখন মৃত্যু আসার আগে মৃত্যুযন্ত্রনা ও কষ্টকে ভয় করো। কেউ জানেনা তুমি কি দেখবে আর কিসের সম্মুখীন হবে।
ইয়াহইয়া ইবনে মুয়াজ (রঃ) বলেন, “দুনিয়া হলো শয়তানের মদ। যে ব্যক্তি এতে আসক্ত হয়ে যায়, মৃত্যু এলে সে তার হুশ ফিরে পায় আর অন্যান্য অভাগাদের সাথে আফসোস করতে থাকে।”
ইবনে রজব (রঃ) বলেন, “মৃত ব্যক্তিরা সেই সময়ের কথা ভেবে আক্ষেপ করতে থাকে যে সময়টায় তারা কোন তাওবাও করেনি, নেক আমলও করেনি।”
ওমর ইবনে আব্দুল আযিয (রঃ) বলেন, “সেই ব্যাক্তি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে যে (তাওবা করতে ব্যর্থ হওয়ার ফলে) আল্লাহর রহমত থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। এভাবে সে আসমান ও জমীনের সমান প্রশস্ত জান্নাত থেকে নিজেকে বঞ্চিত করলো। সে চিরস্থায়ী নেয়ামতের বিনিময়ে ক্ষণিকের ভোগ-বিলাস, বিপুল পরিমাণ নেয়ামতের বিনিময়ে তুচ্ছ পরিমাণ কিনে নিল।”
ইবনে জাওযী (রঃ) বলেন, “অভিনন্দন তাকে যে তাওবার দ্বারা নিজের গুনাহগুলোকে মুছে ফেললো, আল্লাহর কাছে ফিরে যাবার আগে নিজের ভুলগুলোকে সংশোধন করে নিলো এবং অসম্ভব হয়ে উঠার আগে সম্ভবপর জিনিসের পিছনে ছুটলো।” (তাবসিরাহ: ১/২৬)
তিনি (রঃ) আরো বলেন, “তুমি কি এমন কাউকে দেখেছ যে দুনিয়ার চোরাবালিতে আটকে যায়নি? এমন কাউকে কি দেখেছ যে অসুস্থ হয়নি? এমন জীবন কি দেখেছ মৃত্যু এসে যাকে শেষ করে দেয়নি? এই পৃথিবী ধোঁকা দেয়, ঠেকিয়ে রাখে। এখানে আনন্দ মন্দের দিকে নিয়ে যায়। যে দুনিয়ার মোহে আকৃষ্ট হয়, দুনিয়া তাকে ধ্বংস করে। যারা এর থেকে লাভ পেতে চায়, দুনিয়া তাদের ক্ষতি করে। দুনিয়া প্রত্যাশী যারা উল্লাস করে, এটি একদিন তাদের কাঁদাবে। তারা একদিন (মৃত্যুর আগে) আফসোস করবে তাদের পদস্খলনের জন্য, যে সময় তারা দুনিয়াকে পাওয়ার জন্য কত কষ্ট করেছিল। ভয়, আতংক ও আশংকা তাদের কাবু করে ফেলবে। তারা অন্তত একটি ঘন্টা হলেও বেঁচে থাকতে চাইবে।”
হাসান বসরী (রঃ) বলেন, “হে আদম সন্তানেরা তাওবা করার চাইতে পাপ বর্জন করা অনেক সহজ।”
📄 তাওবা কবুল হওয়া বা না হওয়ার লক্ষণ
প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা, ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রঃ) তাওবা কবুল হওয়া বা না হওয়ার অনেকগুলো লক্ষণের কথা উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে কয়েকটি নিম্নরুপ:
তাওবা কবুল হওয়ার লক্ষণ:
১। বান্দাকে তাওবার পর আগের চাইতে ভাল হতে হবে। এর মানে হলো, তাওবাকারী ব্যক্তির দেখা উচিত তার নেক আমল বেড়েছে কি না এবং বদ আমল বা গুণাহের পরিমান কমেছে কি না।
২। মনে সবসময় আল্লাহর ভয় থাকা উচিৎ। আল্লাহর রাগ সম্পর্কে সে নিশ্চিন্ত হবে না।
৩। তাকে সব সময় ভয় ও অনুশোচনা সহ সতর্ক থাকতে হবে।
৪। তাকে আরো বেশী বিনয়ী হতে হবে। নিজেকে তুচ্ছ ও অধম মনে করে আল্লাহর কাছে বিনীত ভাবে দোয়া করতে হবে, 'হে আল্লাহ! আপনার ইজ্জতের নামে নিজেকে তুচ্ছ জ্ঞান করে বলছি, আপনি আমার উপর রহমত করুন। আপনার শক্তিমত্তা ও আমার দুর্বলতা, আপনার বিত্ত আর আমার দারিদ্র্য স্মরন করে আপনার কাছে চাইছি। আপনার সামনে এই অপরাধী মাথা নত করছি। আমি ছাড়াও আপনার আরো অনেক বান্দাহ আছে। কিন্তু আমার রব, আমার প্রভুতো কেবলই আপনি। আপনি ছাড়া আমার যাওয়ার কোন জায়গা নেই, নেই কোন আশ্রয়। আমি আপনার কাছে নিঃস্ব ভিক্ষুকের মত হাত পেতেছি। আমি কাকুতি মিনতি করছি যেমন করে একজন দীন-হীন অসহায় মানুষ কাকুতি মিনতি করে। আমি একজন ভয়ার্ত ও দুর্দশাগ্রস্থ বান্দার মত চাইছি। আমি তার মত করে আপনার কাছে কামনা করছি যেভাবে কোন ব্যক্তি নিজেকে আপনার কাছে সঁপে দেয়, যেমন করে কেউ আপনার জন্য নিজের মান মর্যাদা ত্যাগ করে। আমি আপনার কাছে চাই সেই বান্দার মতো যে কান্নাকাটি করে আপনার কাছে নিজেকে সমর্পণ করেছে।'
এগুলো হলো তাওবা কবুল হওয়ার লক্ষণ।
তাওবা কবুল না হওয়ার লক্ষণ:
১। তাওবাকারীর সংশোধনে দুর্বলতা। পাপ কাজের আনন্দ তার মনে পড়ে যায় এবং তার মন তাতে ডুবে যায়।
২। তাওবাকারী নিজের তাওবা কবুল হবার বিষয়ে এতোটাই নিশ্চিত হয়ে যায় যে সে মনে করে তার গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়েছে।
৩। চোখে পানি আসে না, গুণাহের শাস্তির কথা ভুলে যায়, মন শক্ত হয়ে যায়।
৪। তাওবাকারী নিজের নেক আমল বাড়ানোর কোন চেষ্টা করে না।
আমাদের মনে রাখা উচিৎ যে, আমাদের সবসময় ভুল হয়, আমরা নিয়মিত গুনাহ করি। তাই নিয়মিত তাওবার মাধ্যমে আমাদের এ থেকে নিজেদেরকে মুক্ত রাখা উচিৎ, যেমন করে নোংরা কোন গর্তে পড়ে গেলে কোন মানুষ সেখান থেকে উঠে নিজেকে ধুয়ে পরিষ্কার করে নেয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, 'যদি তোমরা অপরাধ না করো তবে আল্লাহ সেই সব মানুষদেরকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন, যারা পাপ করে এবং আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চায়। তখন আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দেন।”
ইবনে রজব (রঃ) এই হাদীসের ব্যখ্যায় বলেন, “মাঝে মাঝে মানুষকে ভুলিয়ে দেয়ার পিছনে আল্লাহর কিছু কারণ আছে। সেটি হলো, এতে করে তারা নিজেদের তুচ্ছ, ছোট মনে করে এবং অযাচিত গর্ব অহংকার পরিত্যাগ করে। গর্বভরে ইবাদত করার চাইতে এটা আল্লাহর কাছে বেশী প্রিয়।”
হাসান বসরী (রঃ) বলেন, “মাঝে মাঝে বান্দাহ এমন অপরাধ করে যা সে কখনোই ভোলে না। তখন এর গ্লানি থেকে সে অনেক বেশী ভীত থাকে যতক্ষণ না জান্নাতে প্রবেশ করে।”
গুনাহের অন্তর্নিহিত সুফল:
ইবনুল কাইয়্যিম (রঃ) গুনাহের অন্তর্নিহিত বেশ কিছু সুফলের কথা উল্লেখ করেছেন। তার লিখিত বই 'মাদারিজুল সালিকিন' (১/২৩৫) ও 'মিফতাহু দারি সাদাহ' (২/১৮৪) থেকে কিছু উদ্ধৃতি নিচে দেয়া হলো:
১। বান্দাহ আল্লাহর অপরিসীম শক্তিমত্তার কথা মনে করবে এটা বোঝার জন্য যে, তার পাপ আল্লাহর হুকুমেই হয়েছে।
২। বান্দাহ বুঝতে পারবে যে একমাত্র আল্লাহই নিখুঁত ও ত্রুটিমুক্ত। আর সে নিতান্তই পরমুখাপেক্ষী ও দুর্বল সৃষ্টি।
৩। বান্দাহ আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে যে তিনি তার দোষ গোপন রেখেছেন, প্রকাশ করেননি। অথচ তিনি সর্বদ্রষ্টা ও অসীম শক্তির অধিকারী। এটা তাঁর মহানুভবতা ও উদারতার প্রমাণ।
৪। বান্দাহ তার তাওবা ও ওযর কবুল করায় আল্লাহর মহত্ব ও অসীম ধৈর্যশীলতা অনুধাবন করতে পারবে। তিনি তাঁর ন্যায়বিচারের আলোকে বান্দাহ ও তার গুণাহের বিচার করতে পারতেন। আর সেটা হত অত্যন্ত মর্মান্তিক।
৫। বান্দাহ তার নেক আমলের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাহায্য ও নিরাপত্তা অনুভব করবে। আলেমরা তাওফীকের লাভের (অর্থাৎ কেবলমাত্র আল্লাহই কারো নেক নিয়্যতকে নেক আমলে পরিণত করতে পারেন) উপর খুব বেশী জোর দিয়েছেন। এ জন্য বান্দাহ সকল কাজে আল্লাহর উপর নির্ভর করবে, নিজের শক্তি সামর্থ্যের উপর নয়।
৬। বান্দার জানা উচিৎ আল্লাহ তার বিরুদ্ধে তাঁর প্রমাণ সম্পন্ন করেছেন, বান্দাহ বলতেও পারবে না কেন বা কিভাবে তা হয়েছে। সে যা করে থাকে তা আল্লাহর মাধ্যমেই করে থাকে। আল্লাহ তার বেশীরভাগ গুনাহই উল্লেখ না করে মাফ করে দেন।
৭। যখন বান্দাহ এই বিষয়গুলো বুঝতে পারবে, তখন তার শত্রুদের বিরুদ্ধে সে দ্রুত প্রতিশোধ পরায়ণ হবে না। সে আল্লাহর দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে অন্যদের ত্রুটিগুলো মাফ করে দেবে ও তাদের প্রতি দয়ালু হবে, যেমন করে আল্লাহ তার এতসব অপরাধ থাকা সত্বেও তার প্রতি দয়ালু ও ক্ষমাশীল।
৮। যখন বান্দাহ তার নিজের দুর্বলতা ও আল্লাহর মহানুভবতা খেয়াল করবে, তখন তার কাছে আল্লাহর সমস্ত উদারতাই হয়ে উঠবে মহান। শুধুমাত্র এই উপকারিতাই সমস্ত সম্পদের চাইতেও যথেষ্ট হবে।
৯। বান্দাহ অন্যের দোষত্রুটি অন্বেষণের চাইতে নিজের ভুল-ভ্রান্তি, গুনাহ শোধরানো নিয়ে বেশি চিন্তিত থাকবে।
সুবহানাল্লাহ! এই যদি হয় গুনাহ করার পরে উপকারিতা, তবে নেক আমলের উপকারিতা না জানি কত হবে!
📄 তাওবাকারীদের শ্রেণীবিভাগ
তাওবাকারীদের মূলত দুইটি শ্রেণীবিভাগ আছে। এক পক্ষ হলো যারা আন্তরিকতার সাথে তাওবা করে, অন্য পক্ষ হলো যারা আন্তরিকতা নিয়ে করে না। প্রত্যেকেরই বিবেচনা করা উচিৎ তার অবস্থান কোন শ্রেণীতে।
সংকল্পের উপর ভিত্তি করে ইমাম গাযালী (রঃ) তাওবাকারীদের কয়েকটি ভাগে ভাগ করেছেন। তার সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ:
১ম শ্রেণীঃ
যে ব্যক্তি তার তাওবার উপর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দৃঢ় থাকে, তার গুণাহের স্খলন ঘটায় না এবং যেসব ক্ষেত্রে কোন মানুষের নিয়ন্ত্রণ থাকে না এমন সব ক্ষেত্র ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে সচেতনভাবে ঐ গুনাহ করার ইচ্ছা পোষণ করে না। এটা হলো ধারাবাহিক ও নিয়মিত তাওবা। যারা এটি করতে পারে তারা সেই সব মানুষের অন্তর্ভুক্ত যারা নেক আমলের পিছনে ছোটে। এই তাওবাকে বলে আন্তরিক ও খাঁটি তাওবা আর তাওবাকারীর হৃদয়কে বলে প্রশান্ত আত্মা।
“হে প্রশান্ত আত্মা, তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে ফিরে যাও। অতঃপর আমার নেক বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও। এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো।” (সুরা আল-ফজর, আয়াত ৩০)
২য় শ্রেণীঃ
এমন তাওবাকারী যে তার তাওবার ক্ষেত্রে আন্তরিক এবং কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে। কিন্তু মাঝে মাঝে অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতির কারণে গুণাহের মধ্যে জড়িয়ে পড়ে। যখনি সে গুনাহ করে, তখনি নিজের মনকে তিরষ্কার করে, ভুলের জন্য দগ্ধ হয়। এটি হলো তিরষ্কারকারী বা সমালোচক আত্মা, কেননা এটি সব সময় নিজেকে ভুলের জন্য তিরষ্কার করে। এই ধরণের তাওবাকারী আল্লাহর কাছ থেকে খুশির খবর পেয়েছে।
“যারা বড় বড় গুনাহ ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকে, ছোট খাট অপরাধ করলেও নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার ক্ষমা সুদুর বিস্তৃত” (সুরা আন-নাজম, আয়াত ৩২)
অধিকাংশ আলেমের মতে সগীরা গুনাহ হলো হারাম জিনিসের দিকে তাকানোর মত।
৩য় শ্রেণীঃ
এমন বান্দাহ যে তাওবা করে এবং তদানুসারে নিয়মিত কাজ করে, তবে মাঝে মাঝে তীব্র আবেগ বা লালসার বশবর্তী হয়ে গুনাহ করে বসে। কিন্তু সে জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে আনুগত্য বজায় রাখে এবং মোটের উপর গুনাহ থেকে দূরে থাকে। সে সার্বক্ষণিক তাওবার মাধ্যমে নিজের আত্মার যত্ন নেয়। এই আত্মা তার কাজের জন্য দায়ী এবং এজন্য তাকে জবাবদিহি করতে হবে। “আশা করা যায় আল্লাহ তাদের উপর ক্ষমাশীল হবেন।” (সুরা আত-তাওবা, আয়াত ১০২)
আশংকা আছে, এই ব্যক্তি হয়তো তাওবা করার আগে মারা যাবে। তাই তার এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিৎ এবং তার তাওবার উপরে অটল থাকা উচিৎ।
৪র্থ শ্রেণীঃ
এমন ব্যক্তি যে একবার তাওবা করে কিন্তু আসক্তির কারণে পুনরায় গুণাহের মাঝে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এরপর তার জন্য অনুশোচনাও বোধ করে না, তাওবাও করে না। এ ব্যক্তি সেই সব লোকের অন্তর্ভুক্ত যারা গুণাহের ভিতরে ডুবে থাকে। তাদের অন্তর নিয়মিত তাদেরকে গুণাহের দিকে টেনে নিয়ে যায়। এভাবে তাদের মৃত্যু কঠিন কোন পরিণতি নিয়ে আসতে পারে।
যদি সে তাওহিদের উপর মারা যায়, তবে হয়তো দোযখের আজাব ভোগ করার পর তাকে মুক্তি দেয়া হতে পারে। এমন কি অজানা কোন কারণে তাকে সম্পূর্ণ মাফও করে দেয়া হতে পারে। কিন্তু এমন ক্ষমার উপর আশা করে বসে থাকা মোটেও যৌক্তিক নয়।
কিছু লোক আছে যারা বলে আল্লাহর ক্ষমা ও দয়া অসীম। যদি কেউ এদের বলে, “আল্লাহ যদি এত মহান ও উদার হয়ে থাকেন তবে কেন তোমরা নিজেদের ঘরে বসে থাকো না এবং আল্লাহর জন্য অপেক্ষা করো না যে তিনি তোমাদের ভরন পোষণের ব্যবস্থা করে দিবেন?” তারা তখন মুখ ফিরিয়ে বলে, “ভরন পোষণ শুধু উপার্জনের মাধ্যমেই পাওয়া যায়”। তাদের দাবির প্রতিউত্তরে একই ভাবে এই কথাই বলা উচিত “মুক্তি মিলতে পারে তাকওয়ার মাধ্যমে, কেবল মাত্র আল্লাহর রহমতের উপর ভরসা করে থাকার মাধ্যমে নয়।
সুতরাং হে আল্লাহর বান্দারা, ভেবে দেখুন আপনি কোন শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ বলেন, “অতঃপর আমি আমার বান্দাদের মাঝে মনোনীতদেরকে কিতাব দান করেছি। তাদের কেউ নিজেদের প্রতি যুলুমকারী, কেউ মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী আবার তাদের কেউ কেউ কল্যাণের পথে অগ্রগামী। এটাই মহান আল্লাহর অনুগ্রহ।” (সুরা আল-ফাতির, আয়াত ৩২)
ইমাম কুরতুবী (রঃ) এই আয়াতের একটি ব্যাখ্যাকে সমর্থন করেছেন, “যারা ছোট গুনাহ করে তারা যালেম। যারা দুনিয়া ও আখেরাতের প্রাপ্য মিটিয়ে দেয় তারা মধ্যপন্থী। আর যারা ভাল কাজের পিছনে দৌঁড়ায় তারা সব চাইতে এগিয়ে।”
তাই আমাদের দিনে রাতে সর্বাবস্থায় তাওবা করা উচিৎ, যাতে আমরা যালেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে না পড়ি। “যারা এহেন কাজ থেকে তাওবা করে না তারাই যালেম।” (সুরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১১)
মুজাহিদ (রঃ) বলেন, “যারা সকাল সন্ধ্যা তাওবা করে না তারাই যালেম।”
আমাদের সলফে সালেহীনদের চরিত্র এমন ছিল যে তারা আল্লাহর ক্ষমা পাওয়ার উপর নির্ভর করতেন, যদিও তারা নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর ইবাদত করতেন। তারা নিজেদের কাজের উপর নির্ভর করতেন না।
একজন ইবাদতকারী এত বেশী ইবাদত করতেন যে তার বুকের পাঁজর দেখা যেত। একজন তাকে বললো, “আল্লাহর দয়া অসীম।” তিনি উত্তর দিলেন, “ঠিক বলেছেন, যদি তাঁর দয়া অসীম না হতো তবে আমাদেরকে আমাদের ইবাদতের জন্য ধ্বংস করে দিতেন, গুণাহের কথা তো বাদই দিলাম।”
হুজাইফা ইবনে কাতাদা (রঃ) বলেন, “যদি কেউ আমাকে কসম করে বলে, আল্লাহর শপথ! আপনার আমল তো কিয়ামত দিবসে অবিশ্বাসীদের মতো।” আমি তাকে বলতাম তার শপথ সঠিক, তাকে এর জন্য কাফফারা দিতে হবে না।
সলফে সালেহীনরা তাদের আমল সম্পর্কে কখনই উচ্চাশা পোষণ করতেন না, তারা যতই আল্লাহর ইবাদত করুন না কেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সারারাত জেগে নামাজ পড়তেন, অনেক সময় তাঁর পা গুলো ফুলে যেতো। যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো আল্লাহ তাঁর পূর্বাপর সব গুনাহ মাফ করে দেয়ার পরও কেন তিনি এইরূপ করেন, তিনি বলতেন, "আমি কি শুকরিয়া আদায়কারী বান্দাহ হবো না?”
আব্দুর রাহমান ইবনে হামরাজ আল হারাজ (রঃ) বলেন, “তোমার নিজের ভেতরের সব খারাপ দিকগুলো খুঁজে দেখ। প্রত্যেককে তার নিজের স্বরূপে পুনরুজ্জিবীত করা হবে। যার ভিতরে সব ধরণের পাপ আছে তাকে সব ধরণের লোকের সাথে রাখা হবে।” তারপর তিনি নিজের সমালোচনা করে বলেন, “একজন ঘোষক আগামী দিন ঘোষনা করবে 'অমুক অমুক গুনাহগার লোকেরা, দাঁড়াও!' সুতরাং হে আরাজ তুমিও দাঁড়াবে তাদের সাথে। তখন আরেকটি ঘোষনা দেয়া হবে 'অমুক অমুক গুনাহগার লোকেরা, দাঁড়াও!' সুতরাং আবার হে আরাজ তুমি তাদের সাথে দাঁড়াবে। আমি দেখতে পাচ্ছি এভাবে তুমি সব দলের সাথেই দাঁড়াবে।”