📄 ইবনে বতুতা রহ.
তার পুরো নাম শামসুদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম আল-লাওয়াতী আত-তানজী। তিনি ৭০৩ হিজরীতে (১৩০৪ খৃষ্টাব্দে) তানজাহ জন্মগ্রহণ করেন। বংশগত দিক থেকে তিনি ছিলেন বিখ্যাত বার্বার গোত্র লিওয়াতা বংশোদ্ভূত। ইবনে বতুতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ আরব পরিব্রাজক হিসেবে গণ্য করা হয়। দীর্ঘ আটাশ বছর তিনি তৎকালীন আবিষ্কৃত বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়িয়েছেন। তার এই দীর্ঘ ভ্রমণের সূচনা হয় মাতৃভূমি ত্যাগের মাধ্যমে। তিনি মিশর, আরব উপদ্বীপ, শাম, পারস্য, বাহরাইন, ওমান, পূর্ব আফ্রিকা, এশিয়া মাইনর, ক্রিমিয়া, এবং ভলগা নদীর অববাহিকা সফর করেন।
এরপর তিনি পৌঁছলেন ভারতবর্ষে। সেখানে আট বছর অবস্থান করার পর মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও চীন সফর করেন। ১৩৪৬ খৃষ্টাব্দে তিনি তানজাহ ফিরে আসেন। এরপর তিনি আরও দু'বার সংক্ষিপ্ত পরিভ্রমণে বের হয়েছিলেন। প্রথমবার ১৩৫০ খৃষ্টাব্দে আন্দালুসের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং দ্বিতীয়বার ১৩৫২ খৃষ্টাব্দে সুদান ও মধ্য আফ্রিকায়। ১৩৫৯ খৃষ্টাব্দে তিনি ফেয নগরীতে প্রত্যাবর্তন করেন। সেখানে তিনি তার বিশ্ববিখ্যাত ভ্রমণবৃত্তান্ত 'তুহফাতুন নুযযার ওয়া গারাইেবুল আমছার ওয়া আজাইেবুল আসফার' (যা ইবনে বতুতার সফরনামা নামে পরিচিত) -এর শ্রুতলিপি কাজ সমাপ্ত করেন।
ইবনে বতুতা তার সুদীর্ঘ পরিব্রাজক-জীবনে প্রায় এক লক্ষ বিশ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছিলেন। সেই যুগের যাতায়াত-ব্যবস্থা বিবেচনা করলে এটি ছিল এক বিস্ময়কর সংকল্প ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয়। ইবনে বতুতার সফরনামার স্বাতন্ত্র্য হল, তিনি যা কিছু দেখেছেন, শুনেছেন এবং উপলব্ধি করেছেন তার সবটাই নিখুঁত ও সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরতে পেরেছেন। ইবনে বতুতা ৭৭৯ হিজরীতে (১৩৭৭ খৃষ্টাব্দে) মাররাকিশে ইন্তেকাল করেন।
টিকাঃ
৮৮৫. আরব সপ্ত-পরিব্রাজক হলেন, আলমাসুদী, ইদ্রীসী, ইবনে জুবায়ের, আলহাজ্বী, ইয়াকুত, আলবিরুনী ও ইবনে বতুতা।
📄 ইবনুল বান্না মাররাকিশী রহ.
তিনি হলেন শায়খ মুহাম্মদ আবুল আব্বাস আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন উসমান ইবনুল বান্না আল-আযদী মাররাকুশি। তার পিতা রাজমিস্ত্রী ছিলেন বিধায় তিনি ইবনুল বান্না নামে পরিচিতি লাভ করেন। জন্ম ৬৭৩ হিজরীতে (১২৭৬ খৃষ্টাব্দে) মাররাকিশে।
তার রচিত বিখ্যাত কয়েকটি গ্রন্থ হল:
* হাশিয়া আলাল কাশশাফ।
* মুনতাখাবুস সুলুক ফী ইলমুল উসুল।
* কুল্লিয়াতু ফিল মানতিক ওয়া শারহুহা।
* আল-ফাসলাকু ফিল হিসাব।
* আল-লাওয়াজিমুল আকলিয়্যা ফী মাদারিকিল উলুম।
* তালখীসু আমালিল হিসাব।
'তালখীসু আমালিল হিসাব' গ্রন্থটিকে হিজরী দশম শতাব্দীর সূচনাকাল পর্যন্ত ইউরোপে গণিতশাস্ত্রের মৌলিক উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হত। জর্জ সার্টন তার 'A History of Science' গ্রন্থে লিখেছেন যে, এই গ্রন্থটিতে গণিতশাস্ত্র ও বীজগণিতের অত্যন্ত উপকারী তথ্য রয়েছে কারণ ইবনুল বান্না এতে অত্যন্ত দুর্বোধ্য বিষয়গুলোকে সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। ডেভিড ইউগ্যান স্মিথ তাঁর 'History of Mathematics' গ্রন্থে লিখেছেন যে, এই গ্রন্থে বীজগণিতের বর্গ ও ঘন (squares and cubes) এবং সমীকরণ (Equation) সমাধানের নিয়ম রয়েছে। ইবনে খালদুন রহ. এই গ্রন্থটি সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন যে, এটি অত্যন্ত সুস্থ ও সুপ্রতিষ্ঠিত দলিলসমৃদ্ধ।
ইবনুল বান্না ৬৭ বছর বয়সে ৭২১ হিজরীতে (১৩২১ খৃষ্টাব্দে) মাররাকিশে ইন্তেকাল করেন।