📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 মূসা বিন আবু গাসসান ও তার শহীদী মিশন

📄 মূসা বিন আবু গাসসান ও তার শহীদী মিশন


চলমান ঘটনাস্রোতের স্বাভাবিক ও সুস্পষ্ট প্রতিক্রিয়া হিসেবে মুসা বিন আবু গাস্সান রহ. আলহামরার রাজপ্রাসাদে উপস্থিত আহলে শুরার সামনে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং ধীর কণ্ঠে বললেন,

‘আপনারা আত্মসমর্পণ করবেন না। কিছুতেই এ কথা মনে করবেন না যে, খ্রিস্টানরা তাদের কৃত অঙ্গীকার পূরণ করবে। আপনারা খ্রিস্টান নৃপতির কৃত্রিম উদারতা ও মহত্ত্বের প্রতি আস্থা রাখবেন না। মনে রাখবেন, আমি যা আশঙ্কা করছি, মৃত্যু তার মধ্যে সবচেয়ে লঘু ও সহজ বিষয় (অর্থাৎ তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, সামনে মৃত্যুর চেয়েও কঠিনতর পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে)। আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে আমাদের নগরীগুলোর লুণ্ঠন ও ধ্বংস, আমাদের মসজিদগুলোর অবমাননা, আমাদের বাস্তুচ্যুতকরণ, আমাদের স্ত্রী-কন্যাদের সম্ভ্রমহানি। আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে যন্ত্রণাহীন জুলুম-নিপীড়ন, ঘৃণা ও নোংরা সাম্প্রদায়িকতা, চাবুক ও বেত্রাঘাত। আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে খ্রিস্টানদের বন্দীশালা, ফাঁসির মঞ্চ, চিতার আগুন। আজ যারা বীরত্বের মৃত্যুকে ভয় করছে, সেসব নিকৃষ্ট মানুষগুলো শীঘ্রই এইসব বিপদ ও মুসিবত এবং নিপীড়ন ও নির্যাতন প্রত্যক্ষ করবে; আমি যা বললাম, কমপক্ষে এতটুকু পরিণতির মুখোমুখি শীঘ্রই তারা হবে। আর আমি...! আল্লাহর শপথ! আমি কিছুতেই এই লাঞ্ছনা ও অবমাননা প্রত্যক্ষ করব না।’

মুসা বিন আবু গাস্সান বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, এই অবসন্নতা ও অসহায় পরাজয় মেনে নেওয়ার কারণে দেশ যে লাঞ্ছনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, তিনি কিছুতেই তা দেখবেন না; বরং তিনি শাহীদী মৃত্যুকে বেছে নেবেন। এরপর তিনি মজলিস ত্যাগ করে বাড়িতে চলে গেলেন এবং অস্ত্রধারণ করে অশ্বে আরোহণ করলেন। তিনি একাকী খ্রিস্টানের একটি দলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চলে গেলেন এবং পনেরোজন খ্রিস্টান সৈন্যের সঙ্গে একাকী লড়াই করতে লাগলেন। এদের অধিকাংশকে হত্যা করার পর তিনি নিজেও শহীদ হয়ে গেলেন।

টিকাঃ
৮২. ইবন, দাহাতুল ইসলাম যিল আন্দালুস, ২/২৫৪-২৫৫।
৮৩. প্রাগুক্ত, ২/২৫৬-২৫৬। ক্যাস্টেলীয় বর্ণনাসমূহে উল্লেখ আছে যে, মুসা বিন আবু গাস্সান আত্মহত্যা করেছিলেন। কিন্তু মুসা বিন আবু গাস্সানের ন্যায় একজন মহান বীর যোদ্ধার ক্ষেত্রে এ সম্ভাবনাকে আমরা মোটেই গ্রহণ করতে পারি না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px