📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 ইবনুল আহমার ও ক্যাস্টেলা-নৃপতি : চরম লজ্জাজনক ও লাঞ্ছনাকর এক চুক্তি

📄 ইবনুল আহমার ও ক্যাস্টেলা-নৃপতি : চরম লজ্জাজনক ও লাঞ্ছনাকর এক চুক্তি


এই কঠিন সংকটপূর্ণ সময়েও আন্দালুস জাতির সন্তানদের পারস্পরিক মতবিরোধও চরম পর্যায়ের ছিল যে, এর কারণে তারা নিজেদের পবিত্র নীতি ও আদর্শ, বিবেক-বিবেচনাবোধ সবই উৎসর্গ করেছিল। নিকৃষ্ট ব্যক্তিবাদ ও লালসার সামনে জাতীয় ও ধর্মীয় সম্পর্ক এবং জাতীয়-ধর্মীয় যৌথ অস্তিত্বের দাবি—সবই হারিয়ে গিয়েছিল। তাই তো যে বহু মুসলিম-খ্রিস্টান এক অসম যুদ্ধের পর জাইয়ানের পতন হয়, সেই ৬৪০ হিজরীতেই খ্রিস্টান রাষ্ট্র ক্যাস্টোলা এবং মুসলিম প্রদেশ গ্রানাডার অধিকারের দায়িত্ব সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ক্যাস্টোলা-নৃপতি তৃতীয় ফার্ডিনান্ড গ্রানাডা প্রদেশের শাসনক্ষমতার দাবিদার ইবনুল আহমারের সঙ্গে চুক্তিভুক্ত আবদ্ধ হন। চুক্তিতে গ্রানাডা রাষ্ট্রকে কিছু অধিকার প্রদানের অঙ্গীকার করা হয়, তাদের ওপর কিছু শর্তও আরোপ করা হয়।

এই সমঝোতা চুক্তির ধারা-সমূহ আলোচনা করার পূর্বে প্রথমে আমরা চুক্তির এক পক্ষ ইবনুল আহমারের সঙ্গে পরিচিত হয়ে নেই। তার পুরো নাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ বিন নাসর। তার বংশধারা বিশিষ্ট সাহাবী সা'দ বিন উবাদা আল-খাযরাজী রাযি.-এর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। কিন্তু আক্ষেপ! কত পার্থক্য পরস্পরের দু’ প্রান্ত তথা সেই সা'দ বিন উবাদা খাযরাজী রাযি. ও এই মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ বিন নাসর ইবনুল আহমার - এর মধ্যে! তিনি ইবনুল আহমার নামে খ্যাতি লাভ করলেও প্রকৃতপক্ষে এটি তার মূল নাম নয়; মূলত এটি তার এবং তার সেসব বংশধরগণের উপাধি, যারা পরবর্তী সময়ে গ্রানাডা শাসন করেছেন।

ক্যাস্টোলা-নৃপতি ও মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ বিন নাসের ইবনুল আহমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির কয়েকটি ধারা হল,
১. ইবনুল আহমার ক্যাস্টোলা-নৃপতিকে নিয়মিত কর প্রদান করবেন। করের পরিমাণ বার্ষিক দেড় লক্ষ স্বর্ণমুদ্রা। কর-প্রদানের এ শর্তটি ছিল তৎকালীন মুসলিম উম্মাহর দুরবস্থার প্রতীক এবং প্রবল পরাক্রান্ত মুওয়াহহিদী সাম্রাজ্যের ভাঙা-চোরা অবস্থা গোপন-পরবর্তী দ্রুত ও ব্যাপক বিখণ্ডতা ও পতনের পরিমাণ নির্ণায়ক। এ দুরবস্থা তখন ছেয়ে গিয়েছিল আন্দালুস ও আফ্রিকার অনেক প্রান্তেই।
২. ক্যাস্টোলা সাম্রাজ্যের অধীনস্থ আমীর হিসেবে ইবনুল আহমারকে নিয়মিত ক্যাস্টোলার বিধানসভার সভায় উপস্থিত হতে হবে। এ শর্তের মাধ্যমে মূলত পরোক্ষভাবে গ্রানাদাকে ক্যাস্টোলার অঙ্গরাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করা হয়।
৩. ইবনুল আহমার সুস্পষ্টভাবে ক্যাস্টোলা-নৃপতির নামে গ্রানাদা শাসন করবেন।
৪. এ ধারার মাধ্যমে গ্রানাদাকে ক্যাস্টোলার অঙ্গরাষ্ট্র সাব্যস্ত করার বিষয়টি পূর্ণ ও নিশ্চিত করা হয়।
৫. সবচেয়ে পতন হওয়া নগরী জাইয়েনের রাজা দুর্গগুলোসহ আরকাজোনা, আলগার পন্ডা জাহিরাতুল খায়রা-এ সকল দুর্গের নিয়ন্ত্রণ ক্যাস্টোলার হাতে তুলে দিতে হবে। এ ধারা মেনে নিয়ে ইবনুল আহমার ক্যাস্টোলা-নৃপতি তৃতীয় ফার্দিনান্দর হাতে এমন গুরুত্বপূর্ণ সব স্থান তুলে দেন, যা গ্রানাদাকে চারদিক থেকে পরিবেষ্টন করে আছে।
৬. চুক্তির এ ধারাটি ছিল সবচেয়ে ‘আত্মঘাতী’। আর তা হল, ইবনুল আহমার ক্যাস্টোলা-শাসককে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিটি যুদ্ধে প্রয়োজন পড়লেই সহায়তা করবেন। অর্থাৎ ক্যাস্টোলা-নৃপতি যখন যে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করুন না কেন, ইবনুল আহমার তার সঙ্গে যুদ্ধে শরীক থাকবেন।

টিকাঃ
৩২৫. ইবনুল খাত্তাব, আন্দালুসের ইসলামী যুদ্ধাভিযান, ৫/৪৪-৪৫।
৩২৬. ইবনুল খাত্তাব, আন্দালুস, ২/৪৮২।
২৪৪. ইবনুল, দাউদুল উরসালুল ইবনুল হিলাল আন্দালুস, ৭/৪৫।
২৪৫. ইবনুল, দাউদুল উরসালুল ইবনুল হিলাল আন্দালুস, ৭/৭৫।
২৪৬. এখানে ছবিতে থাকা... এ সম্পর্কে ইবনুল বলেন যে, তৎকালীন খৃষ্টান রাষ্ট্রগুলোও সাম্রাজ্য ও প্রভুত্ব এবং এর মাধ্যমে জমিদার ও জাগীরদারের অধিপত্য আপন আপন অধিকৃত ভূমিতে স্বাধীন অধিকার ও প্রভাব-প্রতিপত্তি ভোগ করত।
২৪৭. ইবনুল, দাউদুল উরসালুল ইবনুল হিলাল আন্দালুস, ৭/৪২।
২৪৮. ইবনে আবি যারা‘, আযযাহীয়া, পৃ : ৬৮ ও ইবনুল খালদুন, তারিখে ইবনুল খালদুন, ৭/১৩০।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 অবনতি ... অধঃপতন ... এবং অবশেষে সেভিলের পতন

📄 অবনতি ... অধঃপতন ... এবং অবশেষে সেভিলের পতন


ইবনুল আহমার পূর্ণ বিশ্বস্ততার সঙ্গে চুক্তির যাবতীয় শর্ত পালন করে যেতে লাগলেন এবং সেভিলের পতনের ক্ষেত্রে তৃতীয় ফার্দিনান্দর সবচেয়ে' বড় সহায়তাকারীর ভূমিকা পালন করলেন। তখন সেভিলই ছিল পুরো আন্দালুসের সবচেয়ে' বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। সেভিল ছিল পুরো মুসলিম আন্দালুসের বিবেচনার কতোটা পর দ্বিতীয় প্রধান নগরী। সেভিলই ছিল বিশুদ্ধ শাসনকর্তা আমলের পরাক্রমশালী শাসকগোষ্ঠী বনু আব্বাদের রাজধানী।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মুহাম্মাদ ইবনুল আহমারের সহায়তা নিয়ে তৃতীয় ফার্দিনান্দ প্রথমে সেভিল রাষ্ট্রের সম্মুখে অঞ্চলের দুর্গ কারাগোনা নগরী দখল করলেন। এরপর তিনি সেভিলের নিকটবর্তী অন্যান্য দুর্গগুলোও জয় করার মনস্থ করলেন। মুহাম্মাদ ইবনুল আহমার বিশ্বস্ততার অপূর্ব পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে গেলেন। তিনি উপদেশ, পরামর্শ, হুমকি-ধমকি ও অযাচিত হস্তক্ষেপ- বিভিন্ন মাধ্যমে এসব দুর্গের অধিকারীদেরকে ক্যাস্টোলা-শাসকের কাছে আপন আপন দুর্গ সমর্পণ করতে রাজী করতে সক্ষম হলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিলেন, স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ ও দুর্গের নিয়ন্ত্রণ ত্যাগ করলে ক্যাস্টোলা- নৃপতি মুসলমানদের রক্তপাত থেকে বিরত থাকবেন এবং তাদের ওপর তুলনামূলক সহজতর শর্ত আরোপ করবেন।

৬৪৬ হিজরী (১২৪৯ খৃষ্টাব্দ) শেষ হওয়ার পূর্বেই ক্যাস্টোলার শাসক সেভিলের সমুদ্রবর্তী সবগুলো দুর্গ দখল করে নিলেন এবং পুরো ভূখণ্ড ও ফসলের ভূমিতে প্রচুর ধ্বংসযজ্ঞ চালালেন। এরপর ৬৪৬ হিজরীর জুমাদাল উলা মাসে (১২৪৯ খৃষ্টাব্দের আগস্ট মাসে) খৃষ্টান বাহিনী সেভিল অবরোধ করল। অবমাননাকর আনুগত্যতা, ইসলাম ও শরীয়তে ইসলামীর চরম লাঞ্ছনা, ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাহায্য-নীতিকে তুচ্ছজ্ঞান এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে খৃষ্টান ও ইসলামের শত্রুদের সঙ্গে মিত্রতা স্থাপনের বল্গাহীন খাটুনি ইবনুল আহমার ক্যাস্টোলা-নৃপতির আনুগত্য করে যেতে লাগলেন। তিনি তার পুরো অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে ক্যাস্টোলা বাহিনীর সঙ্গে রওনা হলেন সেভিলের চারপাশে দীর্ঘ ও কঠিন অবরোধ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে।

ক্যাস্টোলা-গ্রানাদা মিশ্র বাহিনী ইসলামী নগরী সেভিল অবরোধ করল। এক মাস, দু' মাস নয়; দীর্ঘ সতের মাসের অবরোধ। এ দীর্ঘ সময়ে সেভিলবাসী আশেপাশের সবার কাছে সাহায্য কামনা করল। কিন্তু বিধির পরিহাস, তারা কি শুনছে কারও আর্তচিৎকার?! কবির ভাষায়:

যদি তুমি কোন জীবিত ব্যক্তিকে আহ্বান করতে, অবশ্যই তাকে শোনাতে পারতে; কিন্তু তুমি যাকে আহ্বান করছ, তার মাঝে তো প্রাণের স্পন্দনই নেই! যদি আগুনে ফুঁক দিতে, চারপাশটা এতক্ষণে আলোকিত হয়ে উঠত; কিন্তু নিফল ফুঁক দিয়েই যাচ্ছ শুধু ছাইয়ের মাঝে!

আটলান্টিকের ওপারের মাগরেব তখন ব্যস্ত অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে ও সংঘাতের মধ্যে, শাসকগোষ্ঠী বনু মারীন ব্যস্ত মাগরের অভ্যন্তরে মুওয়াহহিদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে, আর আটলান্টিকের এপারের একমাত্র মুসলিম রাষ্ট্র গ্রানাদা ব্যস্ত...। ও হ্যাঁ, গ্রানাদা তো ব্যস্ত সেভিল অবরোধে। সুতরাং কে এগিয়ে আসবে সেভিলের সহায়তায়? কঠিন এ অবরোধের সতের মাস পর ৬৪৬ হিজরীর রমযান মাসের ২৭ তারিখে (১২৪৯ খৃষ্টাব্দে) মুসলমানদের হাতে এই থমকে দাঁড়ানোর জন্য মুসলমানদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ইসলামী রাষ্ট্র সেভিলের পতন হল! পতন হল গৌরবময় ইতিহাস ও সুমহান সভ্যতা-সমৃদ্ধ এক নগরীর! পতন হল দক্ষিণ আন্দালুসের সবচেয়ে' বড় সীমান্তশহরের! পতন হল মুসলিম আন্দালুসের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরীর! পতন হল আন্দালুসের দুর্ভেদ্যতম দুর্গের!

সেভিলের পতন হল। সেভিলবাসী সেভিল ত্যাগ করল; বরং বলা ভালো, ত্যাগ করতে বাধ্য হল। চার লক্ষ মুসলমানকে সেভিল থেকে বিতাড়িত ও গৃহহীন করা হল! হায় আফসোস! হায় মুসলিম জাতি! মুসলমানদের দ্বারা মুসলমান বিজিত হচ্ছে, মুসলমানদের শক্তি বিনাশ হচ্ছে মুসলমানদের হাতে! তাই তো কবির ব্যথাতুরা আক্ষেপ— সকাল ও বিকেল। আল্লাহ তা’আলা তুমি ছাড়া আর কেউই ভালো নেই।

কালের পরিবর্তন এখনও আছে অব্যাহত; এদিকে গৌরব ও মর্যাদা ছিনিয়ে নিতে গেছে অন্য জাতি, পরিস্থিতি এখন দাঁড় করিয়েছে যে, (যেহেতু) কাফেলায় দেখা মেলে না স্বজাতির কাউকে; অথচ তারাই তো বছরের পর বছর কাটিয়েছে কাফেলার নেতৃত্ব। আজ আমাকে বরং প্রতিটি স্বাধীন মানুষকে পীড়া দেয় কালের এই নিষ্ঠুর প্রশ্ন- কোথায়...? কোথায় মুসলমান?

কোথায় মুসলমান? মুসলমান ব্যস্ত মুসলমানদের অবরোধে! মুসলমান শশব্যস্ত মুসলিমদের নির্যাতনে! মুসলমান ব্যক্তিগত মুসলমানদের বিতাড়নে! হায় ইতিহাস! কত সাদৃশ্য অতীত ও বর্তমানে! ইসলামী মানচিত্রের পাতা থেকে সেভিল এভাবেই হারিয়ে গেল কিংবা মুখ থুবড়ে চরম লজ্জায় ইসলামের সত্যতা অপ্রমাণিত! ইয়াকুব আলমানসুর মুওয়াহহিদী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক আর্থিক বিজয়ের অমর স্মারক সেভিল মসজিদ আজও দাঁড়িয়ে আছে সেভিলের বুকে! দাঁড়িয়ে আছে প্রীতির প্রদীপ ধারণ করে আলোকিত বুকে। দাঁড়িয়ে আছে জ্ঞানের প্রদীপ ধারণ করে জ্যোতিষ্ময় বুকে।

টিকাঃ
২৪৯. ইবনুল, দাউদুল উরসালুল ইবনুল হিলাল আন্দালুস, ৭/৪২।
২৫০. প্রাগুক্ত, ৭/৪৫-৪৪।
২৫১. আবর বিন যাদিকার আযযাহীয়া-এর কাব্যসংকলন থেকে গৃহীত, পৃ : ১১০।
২৫২. ইবনে আযযাহী, আলজাওয়ামুশ মুরিবিয়া, ইউয়াহীরীয়া অধ্যায়, পৃ : ৩৪৪, ইবনে আবি যারা‘, আযযাহীয়া, পৃ : ৭৩ ও ইবনে খালদুন, তারিখে ইবনে খালদুন, ৪/১৭৯।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 ক্যাস্টেলা-নৃপতির কেন এই গ্রানাডা-প্রীতি?!

📄 ক্যাস্টেলা-নৃপতির কেন এই গ্রানাডা-প্রীতি?!


৬৪৬ হিজরীতে (১২৪৯ খৃষ্টাব্দে) সেভিল পতনের সময় গ্রানাদা আয়তন ছিল আন্দালুসের মোট আয়তনের মাত্র ১৫%। গ্রানাদা রাষ্ট্র গঠিত হয়েছিল তিনটি প্রদেশের সমন্বয়; গ্রানাদা প্রদেশ, মালাগা প্রদেশ ও আলমারিয়া প্রদেশ। তিনটি প্রদেশই যদিও ইবনুল আহমারের শাসনাধীন ছিল; কিন্তু প্রতিটি প্রদেশের কিছুটা স্বতন্ত্রতা ও স্বাধিকার ছিল।

আর তাই এ বিষয়মাখা প্রশ্ন আমাদের মনে জাগতেই পারে যে, যে ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটিকে তৃতীয় ফার্দিনান্দ সহজে দখল বা ধ্বংস করতে পারেন, তার সঙ্গে তিনি কেন এমন সমঝোতা-চুক্তিও আবদ্ধ হলেন?! অঙ্গীকার ও কোনরূপ চুক্তি স্বাক্ষর ব্যতিরেকে অন্যান্য ইসলামী রাষ্ট্র তিনি যেভাবে গ্রাস করে নিয়েছেন, গ্রানাদা ক্ষেত্রে কেন তা করলেন না?!

প্রকৃতপক্ষে বেশ কিছু বাধার কারণেই তিনি এমন করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এর সঙ্গে কোনরূপ প্রীতি বা সম্প্রীতির সম্পর্ক জড়িত ছিল না। উল্লেখযোগ্য দু'টি কারণ হল,
১. গ্রানাদা ছিল অত্যন্ত জনবহুল একটি দেশ। তাই সেখানে প্রবেশ করা এবং দখলের চেষ্টা করা খৃষ্টান বাহিনীর জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। গ্রানাদার জনসাধারণ এই অতি ঘনত্বের কারণ হল, যখনই খৃষ্টানদের হাতে মুসলিম আন্দালুসের কোন নগরীর পতন হয়েছে, খৃষ্টানদের জাতীয় নীতি অনুযায়ী একটি পন্থাই অবলম্বন করেছে, সেখানকার নাগরিকদের হত্যা কিংবা বিতাড়ন। আর তাই যখনই কোন মুসলিম নগরীর নাগরিকদের আপন বসতি থেকে উচ্ছেদ ও বিতাড়িত করা হত, তারা আরও দক্ষিণে কোন শহরে আশ্রয় নিত। এভাবে খৃষ্টানদের হাতে পতন হওয়া সবগুলো ইসলামী নগরীর মুসলিম নাগরিকগণ আশ্রয় নিয়েছিল আন্দালুসের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের গ্রানাদা প্রদেশে। আর এভাবেই গ্রানাদা পরিণত হয়েছিল ঘন জনবহুল একটি রাষ্ট্রে। এ কারণে খৃস্টান বাহিনীর জন্য এ রাষ্ট্রে প্রবেশ করা ছিল দুঃসাধ্য。
২. গ্রানাদা ছিল অত্যন্ত সুরক্ষিত ও মজবুত প্রচুর দুর্গ ও প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত। প্রাচীনকালে অবাঞ্ছিত শত্রু আক্রমণ এবং পরবর্তীতে খৃস্টানশক্তির হাতে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য আশঙ্কার কারণে প্রাকৃতিক কারণেই এসব দুর্গ ও নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মিত হয়েছিল। এসব দুর্গ ও নগরপ্রাচীরই গ্রানাদাকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বরং আমরা এভাবেও বলতে পারি যে, এসব নগরপ্রাচীরই নিরাপদ গ্রানাদা রাষ্ট্রের সীমানা নির্ধারিত করে দিয়েছিল এবং এসব দুর্গই গ্রানাদা, মালাগা ও আলমারিয়াকে পরিবেষ্টিত করে রেখেছিল।

আর এসব কারিগরিকে সামনে রেখেই মূলত তৃতীয় ফার্দিনান্দ ও ধর্মসংঘের সমঝোতা-চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছিলেন; যদিও এ চুক্তি ছিল সম্পূর্ণই একটি লাঞ্ছনাকর ও প্রহসনমূলক চুক্তি। এ চুক্তির অধীনে ইবনুল আহম্মাদ ক্যাস্টোলা-ভূপতিকে নিয়মিত কর প্রদান করতেন এবং ক্যাস্টোলার সম্রাটের পক্ষ হতে খৃস্টান রাষ্ট্রীয় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেন। চুক্তিতে তিনি এ অঙ্গীকারও করেছিলেন যে, ভবিষ্যতে কখনোই ক্যাস্টোলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন না।

টিকাঃ
২৫৪. ইবনুল খালদুন, তারিখে ইবনুল খালদুন, ৪/৩৭১।
১০০. ইবন, দাওলাতুল ইসলাম ফিল আন্দালুস, ৫/৪৮৪-৮৫।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 অবধারিত পতন-ক্ষণের অপেক্ষা

📄 অবধারিত পতন-ক্ষণের অপেক্ষা


যদিও বনু আহম্মারের সঙ্গে ক্যাস্টোলা-সম্রাটের পূর্ব অঙ্গীকার ও চুক্তিতে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ ছিল যে, উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা ও সক্রিয়মূলক সম্পর্ক বজায় থাকবে; কিন্তু নিজেদের অভ্যাস ও রীতি অনুযায়ী মধ্যে মধ্যেই ক্যাস্টোলার খৃস্টান বাহিনী তৃতীয় ফার্দিনান্দ ও তাঁর অধীনস্থ অন্যান্য খৃস্টান রাজবর্গের নেতৃত্বে বনু আহম্মারের সঙ্গে কৃত চুক্তি ভঙ্গ করত এবং গ্রানাদা রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা চালিয়ে তা দখল করে নিত। ইবনুল আহম্মাদ এসব শহর পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা চালালেও সফল হতেন না।

প্রকৃতপক্ষে তৎকালীন গ্রানাদা রাষ্ট্র তাকওয়ার মানদন্ডে প্রতিষ্ঠিত কোন রাষ্ট্র ছিল না; বরং ইবনুল আহম্মাদ গ্রানাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন পরোক্ষভাবে গভর্নরের আশ্রয়প্রার্থী হয়ে। তিনি আস্থা রেখেছিলেন একজন ভূপতির অঙ্গীকারের উপর, যার কাছে অঙ্গীকার ও নিরাপত্তা এসব শব্দের সামান্য মূল্যও নেই। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন— যখনই তারা কোন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সর্বদা তাদের একটি দল তা ভেঙে চুড়ে ফেলেছে: বরং তাদের অধিকাংশই ঈমান আনে না। [সূরা বাকারা : ১০০]

যাই হোক, খৃস্টানভিত্তিক প্রথম চুক্তি ভঙ্গ করল এবং ইবনুল আহম্মাদের বিরুদ্ধে শত্রুতা শুরু করল। ৬৫০ হিজরীতে (১২৫২ খৃস্টাব্দে) তারা গ্রানাদা ভূমিতে হামলা চালাল। ইবনুল আহম্মাদ আটলান্টিকের ওপার থেকে আগত বাহিনী ও ফেজবাসী সৈনিকদের সহায়তায় এ হামলা প্রতিরোধ করে খৃস্টান বাহিনীকে পরাজিত করতে এবং তার ভূখণ্ড থেকে তাড়িয়ে দিতে সক্ষম হলেন। মুহায্যাহিরী সাম্রাজ্যের পতনের পর এই প্রথমবারের মতো মুসলিম আন্দালুসে যুদ্ধের ময়দানে তার শক্তির বিরুদ্ধে জয়লাভ করল। এর কিছুদিন পর ৬৬২ হিজরীতে বনু মারিনের একটি বাহিনী সাগর পাড়ি দিয়ে আন্দালুসে আগমন করল এবং সেনাপতি আমীর বিন ইদরীস খৃস্টানদের হাত থেকে শারিশ নগরী কেড়ে নিতে সক্ষম হলেন। কিন্তু অতি অল্প সময় শহরটি মুসলমানদের দখলে ছিল। আমীর বিন ইদরীসের বাহিনীর আকস্মিক আগমন ছিল প্রত্যাশার সামান্য এক ঝলক আলোকলতার মতোই।

এ সময় ক্যাস্টোলান তৎকালীন ভূপতি দশম আলফনসো অনুভব করলেন যে, মুসলিম আন্দালুসে খৃস্টানদের বিরুদ্ধে পুনরাক্রমণ যুদ্ধের নতুন আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে; খৃস্টান বাহিনী মুসলমানদের কাছে যুদ্ধক্ষেত্রে মার খাচ্ছে আর আন্দালুসবাসী নতুন করে তাদের হারানো রাষ্ট্রভূমি ও হৃতগৌরব ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। তাই গুরুতর পরিস্থিতিতে দশম আলফনসো নিশ্চুপ বসে রইলেন না। তিনি আন্দালুসের ঘাঁটিগুলোর ওপর বলপ্রয়োগ ও নিষ্পেষণ শুরু করলেন। ৬৬২ হিজরীর শেষ দিকে (১২৬০ খৃস্টাব্দে) ইসিজা (Ecija) শহরের প্রশাসক ইবনে ইউসুফ খৃস্টান বাহিনীর নিয়মিত শক্তির মোকাবিলা করে খৃস্টান বাহিনীর কাছ থেকে তা পুনরুদ্ধার করেছিলেন।

পরবর্তী বছর ৬৯৬ হিজরীতে ক্যাস্টোলা-শাসকের আন্দালুসের অন্যান্য ঘাঁটিগুলো জয় করার অভিপ্রায় সুস্পষ্ট হয়ে গেল। মুসলিম আন্দালুসের সর্বত্র আশঙ্কা ও ভ্যের এক তীব্র স্রোত বয়ে গেল। আন্দালুসবাসীরা পক্ষ থেকে আটলান্টিকের ওপারে মাগরেবের বিভিন্ন অঞ্চলের শাসক ও নেতৃবৃন্দের কাছে ক্রমাগত সাহায্যের আবেদন এবং চূড়ান্ত পতনের পূর্বেই উদ্ধার-অভিযান পরিচালনার আবেদন-বার্তা পৌঁছতে লাগল। বিশেষত এ সময় খৃস্টানের শত্রুতাও পূর্ণ আচরণের হিংস্রতা ও ধূর্ততা বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং ৬৯৬ হিজরীতে সংঘটিত এক যুদ্ধে ইবনুল আহম্মাদের বাহিনী ক্যাস্টোলা-শাসকের জামাতা ও তার প্রধান সেনাপতি ডন বোনিয়ো ডি গ্যারার কাছে পরাজিত হয়েছিল।

চলমান দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে আন্দালুসের ওপারের সিউটা অঞ্চলের ফকীহ আবুল কাসেম আল-আযকী আন্দালুসের ভূমিতে কাফিরশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য মাগরিববাসীকে উদ্বুদ্ধ করে এক দীর্ঘ ও মর্মস্পর্শী পত্র লিখলেন। পত্রে তিনি লিখলেন, 'তোমরা আরাম ও শান্তির কোলে আশ্রয় নিও না। আল্লাহ্ দ্বীন তাঁকে সহায়তা করার জন্য তোমাদেরকে আহ্বান জানাচ্ছে। ইসলাম এ যুগের সবাইকে চিৎকার করে তার আবেদন শুনতে আবেদন জানাচ্ছে আর ওদিকে খৃস্টানরা দলে দলে তাদের ধর্মযুদ্ধের প্ররোচনায় ঝাঁপিয়ে পড়ছে। সুতরাং জলদি ওঠ, প্রস্তুতি গ্রহণ কর। মদীনা ও সৌভাগ্য অর্জনের লক্ষ্যে দ্রুত তোমার যুদ্ধের রথে অগ্রসর হও।'

আফ্রিকার সকল প্রশাসকদের কাছে এ ধরনের আবেদন-নিবেদন পৌঁছাতে লাগল। গ্রানাদা-শাসক ইবনুল আহম্মাদ তিউনিসিয়ার শাসক আলমুতারসির বিল্লাহ্ আলহাফসির আনুগত্যের বাইআত্ ঘোষণা করলেন। সংবাদ পেয়ে তিউনিসিয়ার শাসক তার সহায়তায় প্রচুর পরিমাণে সৈন্যবাহিনী ও অর্থ-সম্পদ পাঠালেন। কিন্তু এসব প্রচেষ্টার দ্রুত ও ফলপ্রসূ কোন ফলাফল দৃষ্টিগোচর হল না। পরবর্তী আরও কয়েক বছর মুসলিম আন্দালুস একাকী শক্তিশালী শত্রুর মোকাবিলা করে যেতে লাগল এবং উৎকৃষ্টতার সঙ্গে অন্তত প্রতিরোধের প্রহর গুনতে লাগল।

ক্যাস্টোলা বাহিনীর হুমকি-ধমকি ও নিষ্পেষণ যখন বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পেল, ইবনুল আহম্মাদ ক্যাস্টোলা-শাসকের সঙ্গে নতুন করে সমঝোতা ও চুক্তি-পুনর্বাসন ব্যতীত নিষ্কৃতির অন্য কোন পথ খুঁজে পেলেন না। ৬৯৬ হিজরীর শেষদিকে (১২৯৭ খৃস্টাব্দে) তিনি গ্রানাদা রাষ্ট্রের অধীনে থাকা অনেকগুলো শহর ও দুর্গ ক্যাস্টোলা-শাসকের হাতে তুলে দিলেন। এর অধিকাংশ ছিল পশ্চিম আন্দালুসের। এর মাধ্যমে নতুন করে উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হল।

এভাবে দুর্যোগ ও বিপদের এক প্রলয়ংকরী প্লাবনে মাত্র ত্রিশ বছরের ব্যবধানে (৬৬২-৬৯৯ হিজরী) গ্রানাদা রাষ্ট্র উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত অধিকাংশ ঘাঁটি হারিয়ে ফেলল। মাত্র এক শতাব্দী পূর্বেও যে মুসলিম আন্দালুস ছিল আইবেরিয়ান উপদ্বীপের প্রায় অর্ধেক এলাকা জুড়ে বিস্তৃত, এই অল্প ক'দিনের ব্যবধানে তা পরিণত হল গ্রানাদা নামক সামান্য এক টুকরো ভূমিতে। এ সময় (৬৯৭ হিজরী ও তার পরবর্তী সময়) খৃস্টানরা নতুন করে ইসলামী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অন্যায় হস্তক্ষেপ শুরু করল। ক্যাস্টোলা-শাসক দশম আলফোসো আলকালা ও গুয়াদায়ারাতে হামলা করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালালেন। এত দিনে ইবনুল আহম্মাদ অনুভব করলেন যে, তিনি এক কঠিন সংকটে আটকে গেছেন। এতক্ষণে তিনি উপলব্ধি করলেন যে, তিনি এমন শক্তির সঙ্গে চুক্তি করেছেন, যার কাছে এসব চুক্তির কানা-কড়ির মূল্যও নেই। সুতরাং এখন তিনি কী করবেন? তিনি একটি করণীয়ই খুঁজে পেলেন এবং তা-ই করলেন।

তিনি আটলান্টিকের ওপারে মাগরেবের অঞ্চলের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করলেন। মাগরেবে তখন মুওয়াহহিদী সাম্রাজ্যের ধ্বংসাবশেষের ওপর দাঁড়িয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ইয়া’কুব আলমানসুর আলমারিনীয়ের নতুন এক রাষ্ট্র। ইয়া’কুব আলমানসুর আলমারিনীয় নামের সঙ্গে বংশীয় নাম আলমারিনীয় যুক্ত করা হয়েছিল পূর্বতন মুওয়াহহিদী শাসক ইয়া’কুব আলমানসুর মুওয়াহহিদীর নামের সঙ্গে পার্থক্য করার উদ্দেশ্যে। উভয় ইয়া’কুবই ছিলেন একই চেতনার শাসক। তারা উভয়ে ইসলামী ইতিহাসের অন্যতম মহান পুরুষ ও শ্রেষ্ঠতম শাসকদের অন্তর্ভুক্ত। ইবনুল আহম্মাদ মাগরেবের শাসক আমীরুল মুসলিমীন সুলতান আবু ইউসুফ ইয়া’কুব আলমারিনীয়ার কাছে বার্তা পাঠিয়ে সাহায্য চাইলেন এবং সাগরের ওপারের মুসলিম ভাইদের সহায়তা করার আবেদন জানালেন। তিনি পত্রের মাধ্যমে তাকে খৃস্টানদের অব্যাহত হামলা ও নিষ্পেষণ, আন্দালুস-ভূমিতে ইসলামের অবশিষ্ট অস্তিত্বটুকুও নিশ্চিহ্ন করার সুতীব্র অভিপ্রায়ের বিষয়েও অবগত করালেন। কিন্তু ইবনুল আহম্মাদ তাঁর এই আবেদনের পরিণতি দেখে যেতে পারেননি। পত্রপ্রেরণের অল্প ক'দিন পরই তিনি ইন্তেকাল করেন।

টিকাঃ
১০১. পূর্বসূরি মুওয়াহহিদী রাষ্ট্র ও নাসরী বনু মারীন রাষ্ট্রের মধ্যে মাগরেবের সুলতান মুহাম্মাদ সানি ও তাঁর সাম্র্যজ্য হতে আন্দালুসে সাহায্য প্রদানের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা ছিল। এর কারণ এই যে, বনু মারীনের বিভিন্ন বিদ্রোহী বাহিনী এবং মাগরেবের ফেজবাসী যোদ্ধারা আন্দালুসের সামরিক শাসক ইবনুল আহমার এবং বনু মারীনের শাসনকর্তা সুলতান আবু ইউসুফ ইয়া'কুব বিন আব্দুল হকের প্রায় সমসময়েই একত্রে এই শক্তিকে নিয়ে খৃষ্টানদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন।
১০২. আবু ইউসুফ ইয়া'কুব আলমারিনীয়ার জন্মের কয়েক শতাব্দী পূর্বে ওকলাডার পতন হয়েছিল এবং তা খৃষ্টান রাষ্ট্রের শাসনভুক্ত হয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এলাকাটি একটি করদ রাজ্য হিসেবে খৃষ্টান শাসকদের অধীনে মুসলিম প্রশাসক কর্তৃক শাসিত ছিল।
১০৩. ইবন, দাওলাতুল ইসলাম ফিল আন্দালুস, ৫/৪৮৫-৯০।

ফন্ট সাইজ
15px
17px