📄 ইকাব যুদ্ধ-পরবর্তী অব্যাহত ট্রাজেডি
ইকাব প্রান্তরের মর্মন্তুদ পরাজয়ের পর মাগরেব ও আন্দালুস—মুওয়াহ্হিদীনী সাম্রাজ্যের উভয় অংশে মুসলমানদের অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। ঐতিহাসিকগণ উল্লেখ করেছেন যে, ইকাব যুদ্ধের পর মাগরেব-আন্দালুসে লড়াই করতে সক্ষম কোনো তরুণ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছিল। এই একটি মাত্র যুদ্ধ মুওয়াহ্হিদীনী সাম্রাজ্যের ন্যায় বিশাল ও শক্তিশালী রাষ্ট্রকে সামান্য সময়ের ব্যবধানে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। আননাসির লি-দীনিল্লাহ পরাজয়ের পর অতিমাত্রায় ভেঙে পড়েন। তিনি সেভিল পৌঁছে শান্ত না হয়ে সেখান থেকে দ্রুত রাজধানী মারাকেশে চলে আসেন এবং নিজেকে রাজপ্রাসাদের চার দেয়ালের মাঝে আবদ্ধ করে রাখেন।
টিকাঃ
২৬২. সাদিকী, নাফহুত তীব, ১/৪৪৬।
📄 গভীর বেদনাদায়ক ট্রাজেডি, কর্ডোভার পতন
ইকাব যুদ্ধের পর থেকেই মুওয়াহ্হিদীন সাম্রাজ্যের পতন ত্বরান্বিত হয়। একে একে পতন ঘটতে থাকে গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম নগরীগুলোর। এরই ধারাবাহিকতায় ইসলামী সভ্যতার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ও সূতিকাগার, খেলাফতের প্রাক্তন রাজধানী কর্ডোভার পতন হয়। ৬৩৪ হিজরীতে (১২৩৬ খৃষ্টাব্দে) খ্রিস্টানরা কর্ডোভা দখল করে নেয়। এরপর ৬৪৪ হিজরীতে (১২৪৬ খ্রিস্টাব্দে) জাইয়ান নগরীর পতন ঘটে। একের পর এক প্রধান শহরগুলো হাতছাড়া হওয়ার ফলে মুসলমানদের শক্তি চরমভাবে হ্রাস পায়।
📄 একের পর এক মর্মন্তুদ ঘটনা, অব্যাহত ট্রাজেডি
আননাসির লি-দীনিল্লাহর মৃত্যুর পর মুওয়াহ্হিদীনী সাম্রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করেন তাঁর পুত্র ইউসুফ আল-মুস্তানসির বিল্লাহ। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ষোলো বছর। এভাবে নতুন করে আবারও বিভক্ত আন্দালুস-আমলের ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটল। দায়িত্ব অর্পণ করা হলো অনুপযুক্ত ও অনভিজ্ঞ ব্যক্তির হাতে। মুওয়াহ্হিদীনী রাষ্ট্রের দীর্ঘ সময়ের প্রতাপ ও ক্ষমতার পর আবারও মুসলমানদের ভাগ্যে নেমে এল অব্যাহত পরাজয় ও পতনের বিভীষিকা।
টিকাঃ
২৬৩. ইনান, দাওলাতুল ইসলাম ফিল আন্দালুস, ৭/২১৯।
২৬৪. ইবনুল আছীর, আলকামিল, ৯/৫৯; মাররাকুশি, আলমু'জিব, পৃ: ৪০৪।