📄 বাইয়াসা ট্রাজেডি
শারিজ (ইকাব) প্রান্তরে মুসলমানদের শাস্তি দিয়ে ও পরাজিত করে খ্রিস্টান বাহিনী এবার সম্মুখপানে অগ্রসর হলো। প্রথমেই তারা বাইয়্যাসা নগরী দখল করে নিল। নগরবাসী প্রাণের ভয়ে পূর্বেই শহর ছেড়ে পালিয়েছিল। একমাত্র বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা ছাড়া কেউ সেখানে অবশিষ্ট ছিল না। বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিগণ আত্মরক্ষার আশায় শহরের বড় মসজিদে আশ্রয় নিয়েছিল। তাদের বিশ্বাস ছিল, খ্রিস্টান বাহিনী এই কারণে তাদের প্রতি দয়া ও অনুকম্পা প্রদর্শন করবে।
খ্রিস্টান বাহিনী তাদের বিশ্বাসের মর্যাদা দেয়নি। ঐতিহাসিক মাররাকুশি ‘আলমু‘জিব’ গ্রন্থে লিখেছেন, আলফনসো বাইয়্যাসা নগরীকে অনেকটা জনশূন্য অবস্থায় পেলেন। তিনি শহরের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দিলেন এবং বড় মসজিদটি ধ্বংস করে ফেললেন।
টিকাঃ
২৫৯. আবদুন ওয়াহিদ মাররাকুশি, আলমু‘জিব, পৃ: ৪০২।
📄 উব্বাযা ট্রাজেডি
আল্লামা হিময়ারী ‘আররাওয়াদুল মি’তার’ গ্রন্থে লিখেছেন, উব্বাযা (উকবাবা) আন্দালুসের একটি শহর। একটি বড় নদীর তীরে গড়ে ওঠা উব্বাযা নগরী বাইয়্যাসা থেকে সাত মাইল দূরে অবস্থিত ছোট একটি জনপদ। শহরটিতে গম, যবসহ প্রচুর পরিমাণে ফসল উৎপন্ন হতো। ৬২৩ হিজরীতে ইকাব যুদ্ধের পর খ্রিস্টান বাহিনী এই শহরে আক্রমণ চালায়। উব্বাযাবাসী বাইয়্যাসাবাসীর মতো শহর ছেড়ে পালালো না। তারা খ্রিস্টান বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। অবশেষে খ্রিস্টান বাহিনী শক্তি প্রয়োগ করে সেখানে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। বহু মুসলিম নাগরিক শহীদ হয়, বন্দী হয় অনেকে।
মাররাকুশী রহ. ‘আলমু‘জিব’ গ্রন্থে লিখেছেন, আলফনসো খ্রিস্টান বাহিনী নিয়ে উব্বাযায় অবতরণ করলেন। উব্বাযায় তখন নগরীর অধিবাসীগণ ছাড়াও ইকাব প্রান্তরের পরাজিত মুসলিম বাহিনীর একটি অংশ ও পার্শ্ববর্তী বাইয়্যাসা নগরীর অধিবাসীগণ অবস্থান করছিল। একটানা তেত্রিশ দিনের প্রতিরোধের পর মুসলমানদের প্রতিরোধশক্তি ভেঙে পড়ল এবং খ্রিস্টান বাহিনী জোরপূর্বক শহরে প্রবেশ করল। শুরু হলো গণহত্যা, বন্দীকরণ ও লুণ্ঠন। স্বয়ং আলফনসো ও তার সৈন্যরা মিলে বন্দীদের মধ্য থেকে নারী ও শিশুদেরকে দাস-দাসী হিসেবে রোমে পাঠানোর উদ্দেশ্যে পৃথক করতে লাগল। এটি ছিল মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে কঠিন আঘাত।
টিকাঃ
২৬০. হিময়ারী, আররাওয়াদুল মি’তার, পৃ: ৩৩১।
২৬১. আবদুন ওয়াহিদ মাররাকুশি, আলমু’জিব, পৃ: ৪০২।