📄 মনস্তাত্ত্বিক বিজয়
আরিক প্রান্তরের বিজয়ের অন্যতম প্রভাব এও ছিল যে, এর ফলে এক মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিজয়ের অনুভূতিতে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের সকল মুসলমানের অন্তর ছেয়ে গিয়েছিল। মুওয়াহহিদী সাম্রাজ্যের সুখ্যাতি সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল। আন্দালুসিয়াবাসীর মনোবল বহু গুণে বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং খ্রিস্টানদের শক্তি তাদের সামনে তুচ্ছ প্রতিপন্ন হয়েছিল। এ যুদ্ধে বিজয়ের ফলে সারা বিশ্বের মুসলমানদের মনোবলও বৃদ্ধি পেয়েছিল। তারা ক্রীতদাস মুক্ত করে, দান-সদকা করে বিজয়ের আনন্দ উদযাপন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিল। এই বিজয়কে কেন্দ্র করেই ইসলামী দেশসমূহে নতুন করে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। মুসলমানগণ বেশ কয়েকটি দুর্গ জয় করতে সক্ষম হয়েছিল এবং টলেডোও অবরোধ করেছিল। তবে পূর্বেও যেমন উল্লেখ করেছি, টলেডো ছিল আন্দালুসের দুর্ভেদ্য নগরীগুলোর অন্যতম। এ কারণেই মুসলমানগণ পুনরায় টলেডো বিজয় করতে সক্ষম হয়নি।
টিকাঃ
২৯৭. দেখুন : আবুল ওয়ালীদ আলমারাকুশী, আলমুজিব, পৃ : ৩৬০।
📄 খৃস্টান রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সংঘাত
আরিক প্রান্তরের যুদ্ধে পরাজয়কে কেন্দ্র করেই খ্রিস্টান রাষ্ট্রগুলো পরস্পর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। ক্যাস্টোলা-শাসক অষ্টম আলফোনসো এ পরাজয়ের দায়ভার সম্পূর্ণই লিওন ও নাভার রাষ্ট্রের ওপর চাপিয়ে দেন এবং উভয় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ যুদ্ধের পরাজয় আন্দালুসিয়ার খ্রিস্টানদেরকে মানসিকভাবেও হীনবল করে তোলে এবং এরই ফলশ্রুতিতে খ্রিস্টান রাষ্ট্রগুলোর বিভিন্ন প্রতিনিধিদল আলমানসুর মুওয়াহহিদীর দরবারে উপস্থিত হয়ে আনুগত্য ও সন্ধিচুক্তির আবেদন করতে থাকে।
টিকাঃ
২৯৮. নোসেক আলদা, তারিখুল আন্দালুস ফী আহদিল মুওয়াহহিদীন ওয়াল মুওয়াহহিদীন, ২/৬৮।
📄 ক্যাস্টেলা ও মুসলমানদের মধ্যে নতুন চুক্তি
আরিক যুদ্ধের পরাজয়ের পর খ্রিস্টানদের ওপর মুসলমানদের পূর্ণ প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ক্যাস্টোলা ও মুসলমানদের মধ্যে নতুন করে দশ বছর মেয়াদী শান্তি ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। আলমানসুর এ সময় মুওয়াহহিদী সাম্রাজ্যের সীমানা উত্তর আন্দালুস পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। এই চুক্তির ফলে কয়েক বছর আন্দালুসে কোনো বড় যুদ্ধ সংঘটিত হয়নি এবং এর মাধ্যমে মুসলমানগণ একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ লাভ করেন।