📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 খৃস্টানশক্তির পাঁজরভাঙা পরাজয়

📄 খৃস্টানশক্তির পাঁজরভাঙা পরাজয়


আরিক প্রান্তরের বিজয়ের অন্যতম প্রভাব এই ছিল যে, এত পরিমাণ সৈন্য হতাহত ও বন্দী হওয়ার ফলে খ্রিস্টানদের সামরিক শক্তি বলতে গেলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। শুধু প্রথম দিনেই সর্বনিম্ন বর্ণনা অনুযায়ী প্রায় ত্রিশ হাজার খ্রিস্টান সৈন্য নিহত হয়েছিল। ঐতিহাসিক মাক্কারী ‘নাফহতুত তীব' গ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী এ যুদ্ধে খ্রিস্টান বাহিনীর মোট সৈন্য ছিল দুই লক্ষ পঁচিশ হাজার; এদের মধ্যে নিহত হয়েছিল এক লক্ষ ছেচল্লিশ হাজার আর বন্দী হয়েছিল বিশ থেকে ত্রিশ হাজার সৈন্য। ইসলামের মর্যাদা ও গৌরব প্রকাশ, খ্রিস্টানদের প্রতি বদান্যতা এবং খ্রিস্টানশক্তির প্রতি অবজ্ঞার কারণে খলীফা আলমানসুর বন্দী সবাইকে কোনো বিনিময় ছাড়াই মুক্তি দিয়ে দিয়েছিলেন।

টিকাঃ
২৯৩. মাক্কারী, নাফহতুত তীব, ১/৪৫০।
২৯৪. ইবনে আবি যারা', রাওজুল কিরাতাস, পৃ : ২১৯।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 বস্তুগত বিজয়

📄 বস্তুগত বিজয়


যদিও এ যুদ্ধে প্রচুর পরিমাণে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ অর্জিত হয়েছিল; কিন্তু তা ছিল আর্থিক প্রাপ্তির বিচারে অর্জিত বিজয়ের প্রভাবসমূহের মধ্য থেকে সবচে' সাধারণ প্রভাব। মুসলিম বাহিনী এ যুদ্ধে অর্জিত সম্পদরাজি গণীমত হিসেবে লাভ করেছিল। 'নাফহতুত তীব'-এর বর্ণনা অনুযায়ী ঘোড়ার সংখ্যা ছিল আশি হাজার, খচ্চরের সংখ্যা এক লক্ষ আর উট তেষট্টি হাজার। আলমানসুর এই প্রচুর যুদ্ধলব্ধ সম্পদ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নীতি অনুযায়ী বণ্টন করেন। চার-পঞ্চমাংশ তিনি মুসলিম বাহিনীর মাঝে বণ্টন করে দেন আর বাকি এক-পঞ্চমাংশ আরিক যুদ্ধের স্মৃতিকে চির অম্লান করে রাখতে ব্যয় করেন সেভিল মসজিদ নির্মাণে। তিনি এই মসজিদের জন্য একটি সুউচ্চ মিনারও নির্মাণ করেন। এটি ছিল তৎকালীন আন্দালুসের অন্যতম উঁচু ও বড় মিনার। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, পরবর্তীতে যখন খ্রিস্টানদের হাতে সেভিলের পতন ঘটে, ইসলামী বিজয়ের প্রতীক এই মিনারটিকে তারা ঘণ্টা বাজানোর টাওয়ারে পরিণত করে আর সেভিল মসজিদকে পরিণত করা হয় খ্রিস্টানদের গির্জায়। সেভিলে সেই গির্জা আজও আছে, আছে আরিক প্রান্তরের গৌরবময় বিজয়ের স্মৃতিচিহ্ন সেভিলের ঐতিহাসিক মিনার!

টিকাঃ
২৯৫. মাক্কারী, নাফহতুত তীব, ১/৪৫০।
২৯৬. ইবনে আবি যারা', রাওজুল কিরাতাস, পৃ : ২২১।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 মনস্তাত্ত্বিক বিজয়

📄 মনস্তাত্ত্বিক বিজয়


আরিক প্রান্তরের বিজয়ের অন্যতম প্রভাব এও ছিল যে, এর ফলে এক মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিজয়ের অনুভূতিতে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের সকল মুসলমানের অন্তর ছেয়ে গিয়েছিল। মুওয়াহহিদী সাম্রাজ্যের সুখ্যাতি সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল। আন্দালুসিয়াবাসীর মনোবল বহু গুণে বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং খ্রিস্টানদের শক্তি তাদের সামনে তুচ্ছ প্রতিপন্ন হয়েছিল। এ যুদ্ধে বিজয়ের ফলে সারা বিশ্বের মুসলমানদের মনোবলও বৃদ্ধি পেয়েছিল। তারা ক্রীতদাস মুক্ত করে, দান-সদকা করে বিজয়ের আনন্দ উদযাপন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিল। এই বিজয়কে কেন্দ্র করেই ইসলামী দেশসমূহে নতুন করে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। মুসলমানগণ বেশ কয়েকটি দুর্গ জয় করতে সক্ষম হয়েছিল এবং টলেডোও অবরোধ করেছিল। তবে পূর্বেও যেমন উল্লেখ করেছি, টলেডো ছিল আন্দালুসের দুর্ভেদ্য নগরীগুলোর অন্যতম। এ কারণেই মুসলমানগণ পুনরায় টলেডো বিজয় করতে সক্ষম হয়নি।

টিকাঃ
২৯৭. দেখুন : আবুল ওয়ালীদ আলমারাকুশী, আলমুজিব, পৃ : ৩৬০।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 খৃস্টান রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সংঘাত

📄 খৃস্টান রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সংঘাত


আরিক প্রান্তরের যুদ্ধে পরাজয়কে কেন্দ্র করেই খ্রিস্টান রাষ্ট্রগুলো পরস্পর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। ক্যাস্টোলা-শাসক অষ্টম আলফোনসো এ পরাজয়ের দায়ভার সম্পূর্ণই লিওন ও নাভার রাষ্ট্রের ওপর চাপিয়ে দেন এবং উভয় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ যুদ্ধের পরাজয় আন্দালুসিয়ার খ্রিস্টানদেরকে মানসিকভাবেও হীনবল করে তোলে এবং এরই ফলশ্রুতিতে খ্রিস্টান রাষ্ট্রগুলোর বিভিন্ন প্রতিনিধিদল আলমানসুর মুওয়াহহিদীর দরবারে উপস্থিত হয়ে আনুগত্য ও সন্ধিচুক্তির আবেদন করতে থাকে।

টিকাঃ
২৯৮. নোসেক আলদা, তারিখুল আন্দালুস ফী আহদিল মুওয়াহহিদীন ওয়াল মুওয়াহহিদীন, ২/৬৮।

ফন্ট সাইজ
15px
17px