📄 প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন
ইউসুফ বিন তাশফীনের যাল্লাকা যুদ্ধের পরিকল্পনার সাথে সাদৃশ্য রেখে আবু ইউসুফ ইয়াকুব আলমানসুর তাঁর বাহিনীকে দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করলেন। এক অংশকে সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে রাখলেন এবং অপর একটি অংশকে পাহাড়ের আড়ালে লুকিয়ে রাখলেন। তিনি নিজে দ্বিতীয় দলের নেতৃত্বে ছিলেন। প্রথম অংশের প্রধান সেনাপতি হিসেবে আবু ইয়াহইয়া বিন আবু হাফসকে নিযুক্ত করা হয় এবং আন্দালুসী অংশের দায়িত্ব দেওয়া হয় আবু আবদুল্লাহ বিন সানাদীদের ওপর। তিনি সুকৌশলে বাহিনীকে বিন্যস্ত করেন যাতে প্রতিটি অংশ যুদ্ধের সময় একে অপরকে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করতে পারে।
টিকাঃ
১০৪. ইবনে আবি যারা’, রাওদুল কির্সাস, পৃ: ২২৬ ও আনান্দাসী, ২/১৭৮।
১০৫. ইবনে আবি যারা’, রাওযুল কির্সাস, পৃ: ২২৪।
১০৬. ইবনে আবি যারা’, রাওযুল কির্সাস, পৃ: ২২৬ ও আনান্দাসী, ২/১৭৯।
📄 প্রতীক্ষিত সাক্ষাৎ
যুদ্ধক্ষেত্রে খ্রিস্টান বাহিনীর অবস্থান ছিল একটি বড় টিলার ওপরে। যুদ্ধ শুরু হলে খ্রিস্টান বাহিনী সর্বগ্রাসী জোয়ারের মতো টিলা বেয়ে নেমে এল। শত্রুবাহিনীর কয়েক হাজার অশ্বারোহী সৈন্যের একটি বড় অংশ সামনে অগ্রসর হয়ে মুসলিম বাহিনীর কেন্দ্রে হামলা চালায়। কেন্দ্রে অবস্থানরত বিখ্যাত মুসলিম সেনাপতি আবু ইয়াহইয়া দৃঢ়তার সাথে মোকাবিলা করতে গিয়ে অনেক সঙ্গীসহ শাহাদাত বরণ করেন। মুসলিম বাহিনী অত্যন্ত ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে লাগল। এরপর সেনাপতি ইবনে সানাদীদের নেতৃত্বে আন্দালুসী ও মাগরেবী সৈন্যরা সম্মিলিতভাবে সেই টিলার ওপর হামলা চালাল যেখানে অষ্টম আলফনসো অবস্থান করছিলেন।
মুসলিম বাহিনী পাহাড় বেয়ে উঠতে লাগল এবং খ্রিস্টান বাহিনীর সাথে এক ভয়ংকর লড়াইয়ে লিপ্ত হলো। আলফনসোর বিশেষ প্রশিক্ষিত বাহিনী মুসলিম বাহিনীর আক্রমণে টিকতে পারল না এবং তারা যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালাতে শুরু করল। এই পর্যায়ে আলমানসুরের নেতৃত্বে লুকিয়ে থাকা মূল বাহিনীটি ময়দানে প্রবেশ করে বিজয় সুনিশ্চিত করল। খ্রিস্টান বাহিনীর অধিকাংশ সৈন্য রণক্ষেত্রে প্রাণ হারাল এবং আলফনসো অল্প কিছু সৈন্য নিয়ে পালিয়ে টলেডোতে আশ্রয় নিলেন। মুসলিম বাহিনী প্রচুর যুদ্ধলব্ধ সম্পদ লাভ করল এবং এই ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমে আন্দালুসে ইসলামের প্রভাব আরও কয়েক দশকের জন্য সুসংহত হলো।
টিকাঃ
১০৯. ইবনে আবি যারা’, রাওযুল কির্সাস, পৃ: ২২৪।
১১০. মাককারী, নাফহুয তীব, ১/৪৪৩।
১১২. যাহাবী, ইবার, ২/২২০।