📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 ইবনে তূমারতের ভ্রান্ত দাবিসমূহ হতে আলমানসুর মুওয়াহহিদীর দায়মুক্তি ঘোষণা

📄 ইবনে তূমারতের ভ্রান্ত দাবিসমূহ হতে আলমানসুর মুওয়াহহিদীর দায়মুক্তি ঘোষণা


আলমানসুর মুওয়াহহিদী ইবনে তূমারতের ভ্রান্ত দাবি হতে নিজেকে ও রাষ্ট্রকে মুক্ত করার সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তিনি ইবনে তূমারতের নামের সঙ্গে ইমাম মাহদী যোগ করা, খুতবায় মাহদী হিসেবে তাঁর নাম পাঠ করা এবং তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহকে প্রামাণিক হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া বন্ধ করেছিলেন। আলমানসুর মুওয়াহহিদীর দরবার সবসময় আলিম-ওলামা ও সৎ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ভরপুর থাকত। আল্লামা যাহাবী রহ. ‘সিয়ার আ'লামিন নুব্বালা’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, তিনি কোরআন ও হাদীসের দক্ষ শায়খ ছিলেন; পাশাপাশি তিনি ফিকহ নিয়েও আলোচনা ও পর্যালোচনায় অংশ নিতেন। তিনি বিনম্রতা ও প্রভাবসম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন।

ইবনে তূমারতের কোরআন-সুন্নাহবিরোধী চিন্তাধারাকে অস্বীকার জানিয়েই আলমানসুর মুওয়াহহিদী আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ও সংশোধনবাদী জামাআতের আদর্শে ফিরে আসেন। ঐতিহাসিক মাররাকুশী একটি ঘটনা উদ্ধৃত করেছেন যে, আলমানসুর মুওয়াহহিদী একবার এক আলিমকে বলেছিলেন—'হে আবুল আব্বাস! তুমি আল্লাহর দরবারে আমার পক্ষ হয়ে সাক্ষী দিও যে, আমি ইসমাতের (অর্থাৎ ইবনে তূমারতের নিষ্পাপ হওয়ার) আকীদা পোষণ করি না।' অন্য এক প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, 'কোথায় ইমাম?! কীসের ইমাম?!'

তিনি জনগণের কথা শোনার জন্য সাধারণ বৈঠক করতেন। সমাজের ছোট-বড় কারো সেখানে প্রবেশে বাধা ছিল না। তিনি বাজারের তত্ত্বাবধায়ক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের প্রতিমাসে দু’বার তাঁর দরবারে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তাঁদের কাছ থেকে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে খোঁজখবর নিতেন।

টিকাঃ
২৫৫. আলমানসুর-পুত্র ও পরবর্তী মুওয়াহহিদী খলীফা মামুনের বর্ণনা অনুযায়ী।
২৫৬. দানি বটিলস-এর উক্তি।
২৫৭. ইবনে আযারী, আলবায়ানুল মুগরিব, মুওয়াহহিদী অধ্যায়, পৃ: ২৬৬-২৬৭।
২৫৮. যাহাবী, সিয়ার আলামিন নুব্বালা, ২১/৩৫৯।
২৫৯. আব্দুল ওয়াহিদ মাররাকুশী, আলমু‘জিম, পৃ: ৩৬৬।
২৬০. প্রাগুক্ত, পৃ: ৩৬৮।

ফন্ট সাইজ
15px
17px