📄 আন্দালুসে আবদুল মুমিন বিন আলী
মাগরেবে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পর আবদুল মুমিন বিন আলী আন্দালুসের দিকে মনোযোগ দেন। ৫৪৩ হিজরীতে বিখ্যাত ফকীহ কাযী ইবনুল আরাবী মাগরেবে এসে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আব্দুল মুমিন বিশাল বাহিনী নিয়ে আন্দালুসে প্রবেশ করেন। তিনি খ্রিস্টানদের হাত থেকে আলমারিয়া পুনরুদ্ধার করেন এবং ৫৪৫ হিজরীর মধ্যে সেভিল, কর্ডোভা ও গ্রানাডাসহ প্রায় পুরো আন্দালুসে মুওয়াহহিদী শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি খ্রিস্টানদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেন এবং মুসলিম ভূখণ্ডে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনেন। তাঁর শাসনামলে মুওয়াহহিদী সাম্রাজ্য স্পেন থেকে লিবিয়া পর্যন্ত এক বিশাল আকার ধারণ করে।
টিকাঃ
১৭১. দেখুন : ইবনে খালদুন, তারিখে ইবনে খালদুন, ৬/২০৪, আলহাল্লাতুল মুওয়াহ্হিদীয়া, পৃ : ১৪৭ ও আললাফিফী, আলইস্তিকসা, ২/১১৪。
১৭২. ইবনুল আছীর, আলকামিল, ৯/২৬৪ ও আললাফিফী, আলইস্তিকসা, ২/১১৮。
১৭৩. ইবনুল আছীর, ৯/৯৯৬ ও আললাফিফী, আলইস্তিকসা, ২/১২২。
১৭৪. ইবনে খালদুন, তারিখে ইবনে খালদুন, ৬/২০৭।
📄 ইউসুফ বিন আবদুল মুমিন
আবদুল মুমিন বিন আলীর ইন্তেকালের পর ৫৫৮ হিজরীতে তাঁর পুত্র আবু ইয়াকুব ইউসুফ ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একজন বীর ও জ্ঞানপিপাসু শাসক। তাঁর আমলেই সেভিলের বিখ্যাত জামে মসজিদ ও জিরান্ডা টাওয়ারের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তিনি দর্শন ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তাঁর রাজত্বকালে মুওয়াহহিদী শাসন আরও সুসংহত হয়। ৫৮০ হিজরীতে পর্তুগালের সান্তারেন (Santarem) অভিযানে তিনি নেতৃত্ব দেন। যুদ্ধের এক পর্যায়ে তিনি শত্রুর অতর্কিত আক্রমণে গুরুতর আহত হন এবং সেই আঘাতেই ইন্তেকাল করেন। তাঁর শাসনামলে মুওয়াহহিদী সাম্রাজ্য শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে প্রভূত উন্নতি সাধন করে।
টিকাঃ
১৭৫. আবদুল ওয়াহিদ আল-মারকুশি, আল-মু'জিব, পৃ : ৩০৬ ও আলনাফিসী, আলইস্তিকসা, ২/১৪৪。
১৭৬. যিরিকলী, আলআ'লাম, ৮/২৪১。
১৭৭. যাহাবী, তারীখুল ইসলাম, ৫০/৩২০।
📄 ইউসুফ বিন আবদুল মুমিনের আমলের কয়েকজন আন্দালুসী আলিম
ইউসুফ বিন আবদুল মুমিনের শাসনামলে আন্দালুসে জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রভূত চর্চা হয়েছিল। তাঁর দরবারে সমকালীন শ্রেষ্ঠ আলিম ও দার্শনিকগণ সমবেত হতেন।
১. ইবনুল আওয়াম আলইশবীলী রহ.: তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত কৃষিবিজ্ঞানী ও উদ্ভিদবিদ। তিনি কৃষি বিজ্ঞানের ওপর একটি আকর গ্রন্থ রচনা করেন যা পরবর্তীতে ইউরোপের কৃষি বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
২. ইবনে তুফাইল রহ.: তাঁর পুরো নাম আবু বকর মুহাম্মাদ বিন তুফাইল। তিনি ছিলেন একাধারে চিকিৎসক, দার্শনিক ও সাহিত্যিক। তাঁর বিখ্যাত কালজয়ী রচনা হলো 'রিসালাতু হাই বিন ইয়াকযান'। তিনিই তরুণ ইবনে রুশদকে রাজদরবারে পরিচিত করিয়ে দিয়েছিলেন। ৫৮১ হিজরীতে তিনি মারা যান।
টিকাঃ
১৭৮. দেখুন : মুহাম্মাদ আসীম ফারুখ, মাওসু'আতু আ'লামিল্ ফিক্রিল্ ইসলামী, ৬/১৪৪。
১৭৯. দেখুন : যিরিকলী, আলআ'লাম, ৮/৩০১。
৯৫৮. লিসানুদ্দীন ইবনুল খতীব, আলইহাতা, ৮/১৮২。
৯৫৯. আবদুল ওহাহিদ মাররাকুশী, আলমু'জিব, পৃ : ৩৫২。
৯৬০. প্রাগুক্ত, পৃ : ৩৫৪。
৯৬১. সাকাফী, আলওয়াতাবী ফিল ওফায়াইয়াত, ১/৩৪৬。
৯৬২. দেখুন : আবদুল ওহাহিদ মাররাকুশী, আলমু'জিব, পৃ : ৩১৩-৩১৪。
৯৬৩. সাকাফী, আলওয়াতাবী ফিল ওফায়াইয়াত, ১/৩৪৬。
📄 আলমানসুর মুওয়াহহিদী ও আন্দালুস রাষ্ট্র
মাগরেবের মুওয়াহহিদী সাম্রাজ্যে গৃহীত এসব ব্যাপক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি আবু ইউসুফ ইয়াকুব আলমানসুর আন্দালুসের পরিস্থিতি সুদৃঢ়করণেও ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি মুসলিম আন্দালুসের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা মজবুত করেন। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে খ্রিস্টান বাহিনীর বিরুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধগুলোতে তিনি নিজে অংশগ্রহণ করতেন। তৎকালীন মুসলিম আন্দালুসের উত্তর সীমান্তে ছিল পর্তুগাল রাষ্ট্র এবং এর পরেই ছিল ক্যাস্টেলো রাষ্ট্র। আলমানসুর এই সীমান্ত এলাকাগুলোতে নিয়মিত টহল ও পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করেছিলেন যাতে খ্রিস্টানরা অনাহুত আক্রমণের সুযোগ না পায়। তিনি আন্দালুসের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দক্ষ গভর্নর নিয়োগ করেছিলেন এবং নিশ্চিত করেছিলেন যে প্রজারা যেন নিরাপদে বসবাস করতে পারে।