📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 মুহাম্মাদ বিন তূমারত ও তার মুওয়াহহিদী জামাত সম্পর্কে একটি পর্যালোচনা

📄 মুহাম্মাদ বিন তূমারত ও তার মুওয়াহহিদী জামাত সম্পর্কে একটি পর্যালোচনা


নতুন দল গঠনের এই পথ পরিক্রমায় মুহাম্মাদ বিন তূমারত তাঁর বিরোধিতাকারী হাজারো মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছিলেন। এমনকি তাঁর নিজ দলের লোকদেরকেও সামান্য অজুহাতে হত্যা করতে তিনি দ্বিধাবোধ করেননি। কেউ তাঁর মতের বিরোধী হলে তাঁর কাছে তার একমাত্র সমাধান ছিল—‘হত্যা’। তাঁর মতো অগাধ ইলমের অধিকারী একজন ব্যক্তির এ ধরণের চরম গর্হিত কাজে লিপ্ত হওয়া বিস্ময়কর। তাঁর মাহদী হওয়ার দাবি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মানুষকে প্রতারিত করার কৌশল।

অবশ্য এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁর এই দাবিকে সত্য বলে বিশ্বাস করত এমন লোকের সংখ্যাও ছিল প্রচুর। কারণ সে সময়ের আলিমসমাজ জনসাধারণের মাঝে মৌলিক দ্বীনী শিক্ষা ও সঠিক আকীদা প্রসারের পরিবর্তে জটিল ও তাত্ত্বিক বিতর্ক নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। ওলামায়ে কেরাম ও জনসাধারণের মধ্যে এক ধরণের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। ফলে সাধারণ মানুষ সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য করতে পারছিল না। দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞ এই মানুষগুলো যখন মুহাম্মাদ বিন তূমারতের মতো একজন পন্ডিত ব্যক্তিকে দেখল, যে অনর্গল কুরআন-হাদীস পাঠ করতে পারে, তখন তারা তাঁকে অন্ধভাবে অনুসরণ করতে শুরু করল। তারা তাঁর নিষ্পাপ হওয়ার দাবি এবং মুরাবিতীদের কাফির বলার ফতোয়াকে বিশ্বাস করে নিল।

মুরাবিতীরা যারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইসলামের খেদমত করেছে, ভূখণ্ড জয় করেছে, তাঁদেরকে স্রেফ কিছু রাজনৈতিক ও পদ্ধতিগত মতভেদের কারণে কাফির আখ্যা দিয়ে তাঁদের রক্ত হালাল করা হয়েছিল। ‘মুওয়াহহিদী’ নামটি ব্যবহার করা হয়েছিল এটি বোঝাতে যে, পৃথিবীতে একমাত্র তাঁরাই প্রকৃত মুসলিম, আর বাকিরা পথভ্রষ্ট। এই চরমপন্থী মনোভাবের কারণে মাগরেব ও আন্দালুসের মাটি মুসলিম রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল। ইবনে তূমারতের এই আন্দোলন আধ্যাত্মিকতার আবরণে মূলত একটি রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক অভ্যুত্থান ছিল।

টিকাঃ
১৭০. আবুল ওয়ালিদ আল-মাররাকিশী, আল-মু'জাব, পৃ : ২৬০-২৬২।
১৭১. যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, ১৯/৫৯২।

ফন্ট সাইজ
15px
17px