📄 ওলামায়ে কেরামের সমাজবিচ্ছিন্নতা
দ্বীনের শাখাগত সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়ে গবেষণায় নিমগ্ন থাকায় ওলামায়ে কেরাম সমাজের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে বেখবর ছিলেন। সমাজে কী ঘটছে, মানুষের চিন্তাধারা ও কর্মকাণ্ড কোন পথে আবর্তিত হচ্ছে, এ সম্পর্কে তারা অবগত ছিলেন না। তারা জানতেন না, সমাজ কোন্ বিপদে ও কোন্ অন্যায়ে আক্রান্ত। ফলে দিনে দিনে জনসমাজ ও আলিমসমাজের মাঝের বিভেদ আরও বিস্তৃত হতে থাকে এবং মুরাবিতী আমলের শেষদিকে এক ভয়াবহ সমাজবিচ্ছিন্নতার রূপ পরিগ্রহ করে।
মুরাবিতী রাষ্ট্রে নানা ধরণের অপরাধের জন্ম হল; কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করলেন না। যাকাত ছাড়াও জনগণের ওপর অন্যায্যভাবে করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হল; কিন্তু আলিমগণ কেউ টু শব্দটি করলেন না। গভর্নরগণ জনসাধারণের ওপর জুলুম করতে লাগলেন; আলিমগণ নীরব রইলেন। প্রকাশ্যে নর্তকীদের নৃত্য ও বিনোদনের প্রদর্শনী চলল; কিন্তু আলিমসমাজ বাধা দিলেন না। মুরাবিতী সাম্রাজ্যের মতো ইসলামনির্ভর রাষ্ট্রব্যবস্থায় এ ধরণের অবক্ষয় ও আলিমদের নীরবতা ছিল অত্যন্ত বিস্ময়কর। ওলামায়ে কেরাম ব্যস্ত ছিলেন বিভিন্ন বিতর্ক ও গাণিতিক বিরোধ-বিসংবাদে। তাঁরা মনে করতেন, মুসলিম সমাজের জন্য কেবল এসব তাত্ত্বিক বিষয়ে নিমগ্ন থাকাই কর্তব্য। অন্য সব কিছু ছিল তাঁদের দৃষ্টিতে তুচ্ছ।
টিকাঃ
১০২. আবদুল ওয়াহিদ আল-মারাকুশী, আল-মুজীব ফী তালাখীছ আল-আখবারিল মাগরিব, পৃ: ২৪১।