📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 আলিমসমাজ ও জনসাধারণের মধ্যে অর্থহীন কলহ-বিবাদ

📄 আলিমসমাজ ও জনসাধারণের মধ্যে অর্থহীন কলহ-বিবাদ


দ্বীনের মৌলিক বিষয়াদি বাদ দিয়ে সে যুগের ওলামায়ে কেরাম নিমগ্ন ছিলেন শাখাগত বিষয়াদির চুলচেরা বিশ্লেষণে। এ যেন গভীর সমুদ্র বাদ দিয়ে কোনো শাখা নদী পাড়ি দিয়ে দূর গন্তব্যে পৌঁছার হাস্যকর প্রচেষ্টা! এভাবে কি পৌঁছা যায় গন্তব্যে? এ ধরণের প্রচেষ্টা কি কখনো কাঙ্ক্ষিত কল্যাণ বয়ে আনে? আর তাই এই আত্মঘাতী কর্মপন্থা ও ওলামায়ে কেরামের নিমগ্নতার ফলে আলিমসমাজ ও জনসাধারণের মধ্যে এক ধরণের দূরত্ব ও অর্থহীন কলহ-বিবাদের সৃষ্টি হয়েছিল। আলিমসমাজ যেমন জনসাধারণের প্রয়োজন ও চাহিদা অনুধাবন করেননি, তেমনই সাধারণ জনগণও ওলামায়ে কেরামের আলোচিত বিষয়বস্তু বুঝতে পারতেন না। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানবজাতির মাঝে সবচেয়ে জ্ঞানী। তাঁর আদর্শ ছিল তিনি এমন সর্বজনবোধ্য সহজ-সাবলীল ভাষায় কথা বলতেন যে, শিক্ষিত সাহাবী ও সাধারণ বেদুঈন সকলেই তাঁর কথা বুঝতে পারত।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 ওলামায়ে কেরামের সমাজবিচ্ছিন্নতা

📄 ওলামায়ে কেরামের সমাজবিচ্ছিন্নতা


দ্বীনের শাখাগত সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়ে গবেষণায় নিমগ্ন থাকায় ওলামায়ে কেরাম সমাজের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে বেখবর ছিলেন। সমাজে কী ঘটছে, মানুষের চিন্তাধারা ও কর্মকাণ্ড কোন পথে আবর্তিত হচ্ছে, এ সম্পর্কে তারা অবগত ছিলেন না। তারা জানতেন না, সমাজ কোন্ বিপদে ও কোন্ অন্যায়ে আক্রান্ত। ফলে দিনে দিনে জনসমাজ ও আলিমসমাজের মাঝের বিভেদ আরও বিস্তৃত হতে থাকে এবং মুরাবিতী আমলের শেষদিকে এক ভয়াবহ সমাজবিচ্ছিন্নতার রূপ পরিগ্রহ করে।

মুরাবিতী রাষ্ট্রে নানা ধরণের অপরাধের জন্ম হল; কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করলেন না। যাকাত ছাড়াও জনগণের ওপর অন্যায্যভাবে করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হল; কিন্তু আলিমগণ কেউ টু শব্দটি করলেন না। গভর্নরগণ জনসাধারণের ওপর জুলুম করতে লাগলেন; আলিমগণ নীরব রইলেন। প্রকাশ্যে নর্তকীদের নৃত্য ও বিনোদনের প্রদর্শনী চলল; কিন্তু আলিমসমাজ বাধা দিলেন না। মুরাবিতী সাম্রাজ্যের মতো ইসলামনির্ভর রাষ্ট্রব্যবস্থায় এ ধরণের অবক্ষয় ও আলিমদের নীরবতা ছিল অত্যন্ত বিস্ময়কর। ওলামায়ে কেরাম ব্যস্ত ছিলেন বিভিন্ন বিতর্ক ও গাণিতিক বিরোধ-বিসংবাদে। তাঁরা মনে করতেন, মুসলিম সমাজের জন্য কেবল এসব তাত্ত্বিক বিষয়ে নিমগ্ন থাকাই কর্তব্য। অন্য সব কিছু ছিল তাঁদের দৃষ্টিতে তুচ্ছ।

টিকাঃ
১০২. আবদুল ওয়াহিদ আল-মারাকুশী, আল-মুজীব ফী তালাখীছ আল-আখবারিল মাগরিব, পৃ: ২৪১।

ফন্ট সাইজ
15px
17px