📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 আলিমসমাজের উপস্থিতিতে অন্যায় ও পাপাচারের আধিক্য

📄 আলিমসমাজের উপস্থিতিতে অন্যায় ও পাপাচারের আধিক্য


আন্দালুস ও মাগরেব—মুরাবিতী সাম্রাজ্যের উভয় অংশেই পাপাচার, গোনাহ ও অপরাধকর্ম ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। আর এ সবকিছুই হয়েছিল সমকালীন বিদ্যান আলিমসমাজের উপস্থিতিতেই। অবশ্য রাষ্ট্রের বিভূতি ও সম্পদের প্রাচুর্যের পরপরই গোনাহের ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের একটি প্রাকৃতিক যোগসূত্র রয়েছে। অধিকাংশ গোনাহের কাজের জন্য প্রয়োজন অর্থ-সম্পদের। দুর্বল মনের অধিকারী যেসব মানুষ মুরাবিতী সাম্রাজ্যে বসবাস করত, তারা বিভিন্ন গোনাহের টানে প্রলুব্ধ হলেও অর্থাভাবে তা করতে পারত না। কিন্তু বিশাল জগত যখন মুরাবিতীদের সামনে উন্মুক্ত হলো এবং অপরিমিত সম্পদরাজি তাদের হস্তগত হল, তখনই দুর্বল ও দুষ্ট আত্মাগুলো সক্রিয় হল এবং নানা ধরণের অন্যায়-অপরাধের জালে পড়তে লাগল।

হ্যাঁ, এ কথা সত্য যে, এমন কিছু সৎ মানুষের অস্তিত্ব মুরাবিতী সাম্রাজ্যে ছিল, যারা সম্পদের প্রাচুর্য সত্ত্বেও মোহাচ্ছন্ন হয়নি; বরং তারা ছিলেন নববী আদর্শের ধারক; কিন্তু এ কথাও সত্য যে, তারা ছিলেন সংখ্যায় অতি অল্প, তারা সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রতিনিধিত্ব করতেন না। স্বাভাবিক রীতি হল, সম্পদ যখন অবারিত হয়ে যায়, তখন অধিকাংশ মানুষই এর মোহে আচ্ছন্ন হয়ে গোনাহে জড়িয়ে পড়ে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হযরত নূহ আ.-এর ঘটনাপ্রসঙ্গে ইরশাদ করেছেন, 'তার সম্প্রদায়ের যে নেতৃবৃন্দ কুফর অবলম্বন করেছিল, তারা বলতে লাগল, আমরা তো তোমাকে আমাদের মতই মানুষ দেখছি, এর বেশি কিছু নয়। আমরা আরও দেখছি তোমার অনুসরণ করছে কেবল সেসব লোক, যারা আমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বহীন এবং ভাসা-ভাসা চিন্তার ভিত্তিতে এবং আমরা তো আমাদের ওপর তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব দেখতে পাচ্ছি না; বরং আমাদের ধারণা, তোমরা সকলে মিথ্যাবাদী।' [সূরা হুদ: ২৭]

'যারা আমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বহীন'—এ উক্তি দ্বারা নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্য ছিল সমাজের দুর্বল, সহজ-সরল ও দরিদ্র শ্রেণির জনগণ। তারাই নবী নূহ আ. এর অনুসরণ করেছিল। আর তাই পাপাচারের প্রাবল্য হল সম্পদের প্রাচুর্যের এক স্বাভাবিক পরিণতি। কিন্তু প্রশ্ন হল, সমকালীন আন্দালুস ও মাগরেব অঞ্চল জুড়ে অবস্থানরত অসংখ্য আলিম তখন কী করছিলেন? কোথায় ছিলেন তাঁরা?!

ফন্ট সাইজ
15px
17px