📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 মু’তামিদ বিন আব্বাদ ও আল্লাহর পথের সৈনিকের মর্যাদা

📄 মু’তামিদ বিন আব্বাদ ও আল্লাহর পথের সৈনিকের মর্যাদা


যাল্লাকার যুদ্ধের জ্ঞানী-গুণী, প্রতিভাশালী আলিমসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকেই শহীদ হয়েছিলেন। যেমন, নবীজীকে স্বপ্নে দেখা ইবনে রুমাইলা, মারাকেশের কাজী আবু মারওয়ান আবদুল মালিক প্রমুখ। আল্লাহ তাআ’লা তাদের সকলকে রহমতের বারিধারায় সিক্ত করুন। যুদ্ধ শেষে মু’তামিদ বিন আব্বাদ যখন সেভিলে প্রত্যাবর্তন করলেন, উৎসাহী জনতার ভিড় যেন উপচে পড়ছিল। সবাই তাকে বিজয়ের অভিনন্দন জানাচ্ছিল। কাজী সাহেবগণ কোরআন তেলাওয়াত করছিলেন, কবিগণ তার শানে রচিত কবিতা পাঠ করছিলেন।

আবদুল জলিল বিন ওয়ারদুন রহ. বলেন, 'সেদিন আমিও মু’তামিদের সংবর্ধনা-অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম এবং তার সামনেই পাঠ করব বলে মনের মাধুরি মিশিয়ে অতি চমৎকার একটি কবিতা রচনা করলাম। এমন সময় আমি কাজী সাহেবকে তেলাওয়াত করতে শুনলাম—তোমরা যদি তাকে সাহায্য না কর, তবে (তাতে তার কোন ক্ষতি নেই। কেননা,) আল্লাহই তার সাহায্য করেছেন। [সুরা তাওবা : ৪০] এ আয়াত শুনে আমি জনতাকে বলে উঠলাম, চুপচাপ থাক আমার কবিগণ। কোরআনের এই চিরন্তন আয়াত তো আমার জন্য উপস্থাপন করার মতো কিছুই বাকি রাখেনি!'

যুদ্ধে মু’তামিদের বীরত্ব ও রণনৈপুণ্যের খ্যাতি সবার মুখে ছড়িয়ে পড়ল এবং তার গৌরব ও মর্যাদা বিস্তৃত হল। তিনি লাভ করলেন জনমানুষের হৃদয়ের আসন এবং শাসকবর্গের সম্মান। রাজদরবারগুলো থেকে সবাই তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা পাঠাল। পরবর্তী সময়ে ইউসুফ বিন তাশফীনের সঙ্গে তিনি যে ব্যতিক্রমী আচরণ করেছিলেন, তার পূর্ব পর্যন্ত তিনি সকলের কাছে মাননীয় ও সম্মানিত ছিলেন।

টিকাঃ
১১. পূর্বলিখিত শ্লোকটি নেওয়া হয়েছে ‘দিওয়ানুল মু’তামিদ’ হতে।
১২. বুখারী, তারাজুমুল রি’তার, পৃঃ ২২০, মাক্কারী, নাফহুত তীব, ৪/৩৩৯ ও আলনাসিরী, আলইস্তিকছা, ২/৪৮।
৮৯. হিময়ারী, আররাওয়াতুল মি’তার, পৃ: ২৪২, মাক্কারী, নাফহুত তীব, ৪/৩৭০ ও আলনাসিরী, আলইস্তিকছা, ২/৫০।

ফন্ট সাইজ
15px
17px