📄 ইউসুফ বিন তাশফীন, বর্তমানে বিলুপ্ত এক আদর্শের নাম
আন্দালুস-ভূমিতে অবতরণ করার পর ইউসুফ বিন তাশফীন প্রথমে সেভিলে গমন করেন। এ সময় মুসলিম আন্দালুসের জনগণ দলে দলে উত্তর আফ্রিকার মুসলিম বাহিনীকে স্বাগত জানাতে থাকে। এরপর আমীরুল মুসলিমীন ইউসুফ বিন তাশফীন মনোযোগ দিয়ে তাদের কথা শুনতেন। মুসলিম ভাইদের দুর্দশার কথা শুনে তাঁর হৃদয় সিক্ত হয়ে উঠত।
ইউসুফ ইব্ন তাশফীন সেভিলে মু'তামিদ ইব্ন আব্বাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। মু'তামিদও তার সৈন্যদের সমবেত করেছিলেন। কর্ডোভা থেকেও প্রচুর সৈন্য উপস্থিত হয়েছিল। এছাড়াও আন্দালুসের বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকে স্বেচ্ছাসেবী অনেকে এই মোবারক কাফেলায় যোগ দিতে উপস্থিত হয়েছিল। আলফনসোর কাছে যখন এসব সংবাদ পৌঁছায়, তখন তিনিও তার সেনাবাহিনী প্রস্তুত করে টলেডো থেকে রওয়ানা হয়ে যান।
কর্ডোভা, সেভিল ও বাতালইয়ুস থেকে আগত স্বেচ্ছাসেবী যোদ্ধাগণ ইউসুফ বিন তাশফীনের বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেওয়ার পর মুসলিম বাহিনী যখন মুসলিম আন্দালুসের উত্তরে যাল্লাকা প্রান্তরে পৌঁছল, তখন তাদের সৈন্যসংখ্যা দাঁড়ায় বিশ হাজারে। প্রকৃতপক্ষে এতে বিস্ময়ের কিছুই নেই। এটিই হল মুসলমানদের মাঝে আদর্শ নেতার বৈশিষ্ট্য এবং তার কার্যকারিতার গুরুত্ব। নিজেদের মধ্যে কোনো প্রকার ব্যতিক্রম ব্যতিরেকে সকল মুসলমানের মাঝে দ্বীনী চেতনা-বোধ ও ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধ সুপ্ত আছে; লুকিয়ে আছে অগ্নিশিখা। প্রয়োজন কেবল এমন কারও, যিনি সুপ্ত আবেগ-অনুভূতি ও দ্বীনী গভীরতাকে অচেতন ও অবসন্ন অবস্থা থেকে জাগিয়ে তুলবেন; ফুৎকার দিয়ে প্রজ্বলিত করবেন ছাইচাপা আগুন।
টিকাঃ
২৮. ইব্নুল যবি বাছা', রাওয়াযুল কিরতাস, পৃ: ১৪৫, আননাসিরী, আলইসতিফ্ছা, ২/২০৯।
২৯. ইব্নুল যবি, আলকামিল, ৪/৪৪৭, ইব্নুল আছার, আলফাসুল সায়িয়ারা, ২/২০০, ইব্নুল বছিরাম, ওয়াইয়াহিয়াবুল আ'জিয়ান, ৭/১৪৯, তারিখে ইব্নুল খালদুন, ৬/১৮৬, হিজারী, আররাওয়াযুল মি'তার, পৃ: ১৪২, মাক্কাবী, নাফছুত তীব, ৪/৩৬৪, আননাসিরী, আলইসতিফ্ছা, ২/১৫৯ ও ইব্নুল আবি যরা', রাওয়াযুল কিরতাস, পৃ: ১৪৫।
৩০. মাক্কাবী, নাফহুত তীব, ৪/৩৩১।
৩১. ইব্নুল বাছা', আলহুল্লা, ৫/৩৩৯।