📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 আমীরুল মুসলিমীন ইউসুফ বিন তাশফীন ও মুরাবিতী রাষ্ট্র

📄 আমীরুল মুসলিমীন ইউসুফ বিন তাশফীন ও মুরাবিতী রাষ্ট্র


আমরা মুরাবিতী ইতিহাসের আলোচনা শুরু করেছিলাম ৪৪০ হিজরী (১০৪৮ খ্রিস্টাব্দ) থেকে। যে ইতিহাসের সূচনা হয়েছিল একজন মাত্র ব্যক্তি শায়খ আবদুল্লাহ্ বিন ইয়াসিনের হাত ধরে। আর এখন মাত্র আটাশ বছর পর ৪৬৮ হিজরীতে (১০৭৫ খ্রিস্টাব্দে) মুরাবিতী নেতা ইউসুফ বিন তাশফীন এক সুবিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী। নিজের জন্য তিনি নির্বাচন করেছেন ‘আমীরুল মুসলিমীন’ ও ‘নাসিরুদ্দিন’ পরিচয়। যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনি ‘আমীরুল মুমিনীন’ উপাধি কেন ধারণ করেন না? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন,
'আল্লাহ্ মাফ করুন, আমি এ উপাধি কিছুতেই ধারণ করব না। এ উপাধি তো ধারণ করবেন আব্বাসী খলীফাগণ। তারা অভিজাত ও সম্ভ্রান্ত বংশ-পরিচয়ের অধিকারী। তারা মক্কা ও মাদীনা উভয় হারামাইনের খলীফা। আমি তো তাদের একজন কর্মচারী, তাদের প্রচারক মাত্র।'

অথচ পাঠক জেনে অবাক হবেন, তখন আব্বাসী খেলাফত শক্তি ও আয়তন উভয় দিক থেকেই ছিল মুরাবিতী সাম্রাজ্যের তুলনায় দুর্বল ও ক্ষুদ্র। আব্বাসীদের শাসন তখন কেবল বাগদাদে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল। কিন্তু ইউসুফ বিন তাশফীন ছিলেন বিনয়ী ও মহান শাসক। তিনি মনেপ্রাণে চাইতেন, মুসলমানরা যেন এক পতাকাতলে সমবেত হয়। তিনি নিজের শক্তি থাকা সত্ত্বেও আব্বাসী খেলাফতের বিরুদ্ধে কোনো বিদ্রোহ চালাননি। বরং নিজ এলাকায় আব্বাসী খেলাফতের একজন গভর্নর হয়ে থাকাই ছিল তার তামান্না। আর তাই তিনি উচ্চারণ করতে পেরেছিলেন এই ঐক্যের বাণী, ‘আমি তো এখানে তাদের এক কর্মচারী মাত্র।’ বস্তুত এটাই ছিল সঠিক প্রজ্ঞা, এটাই ইসলামের সার্বজনীন চিন্তা।

টিকাঃ
৪২. লেখক অজ্ঞাত, আলফাসুল মুরাবিতীন, পৃ : ২১। ‘ইবনে আবি যারা’ ও লিসানুদীন ইবনুল খতীবসহ অন্য অনেকেই ইউসুফ বিন তাশফীনকে বহু পরে ৪৯৬ হিজরীতে বাগদাদের খলিফার পক্ষ থেকে ‘আমীরুল মুসলিমীন’ উপাধি দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px