📄 ছয়. এবং অবশেষে টলেডোর পতন
টলেডো অবশেষে সাহায্যহীন ও রিক্ত হয়ে পড়ে। মুসলিম শাসকরা যখন টলেডোকে নিজেদের ক্ষমতা ও স্বার্থের বিনিময়ে বিক্রি করে দিলেন, তখন নগরীটি আত্মসমর্পণের অপেক্ষায় ছিল। ৪৭৭ হিজরীর শেষভাগে আলফান্সো অবরোধ আরও কঠোর করেন। নগরবাসী চরম সংকটে পতিত হয়ে সন্ধির প্রস্তাব নিয়ে আলফান্সোর কাছে প্রতিনিধিদল পাঠায়। অবশেষে নয় মাসের দীর্ঘ অবরোধের পর ৪৭৮ হিজরীর সফর মাসে (১০৮৫ খৃষ্টাব্দে) টলেডোর পতন ঘটে এবং স্পেনের এই ঐতিহ্যের কেন্দ্রটি মুসলমানদের হাতছাড়া হয়ে যায়।
📄 আত্মসমর্পণের শর্তাবলি
টলেডো পতনকালে উভয় পক্ষের মধ্যে যে শর্তগুলো হয়েছিল, তা ছিল নিম্নরূপ:
* নগরবাসীদের জান-মালের নিরাপত্তা প্রদান করা হবে।
* কেউ চাইলে তার সম্পদ নিয়ে টলেডো ত্যাগ করতে পারবে।
* যারা বাইরে চলে যাবে, তারা তাদের ধন-সম্পদ আনতে পুনরায় টলেডোতে ফিরতে পারবে।
* ইতিপূর্বে মুসলিম শাসককে যে কর প্রদান করা হতো, সেই পরিমাণ অর্থই তারা আলফান্সোকে জিযিয়া হিসেবে প্রদান করবে।
* মুসলমানগণ টলেডোর কেন্দ্রীয় মসজিদ সংরক্ষণ করতে পারবে এবং ধর্ম পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে।
* টলেডোর বাইরের দুর্গগুলোর নিয়ন্ত্রণ খৃষ্টান বাহিনীকে প্রদান করা হবে।
📄 টলেডো-শাসক আলকাদির বিন যিননুনের হিস্যা!
টলেডোর পতনের পর আলকাদির তাঁর পরিবার-পরিজন নিয়ে অত্যন্ত অপমানিত অবস্থায় নগরী ত্যাগ করেন। ঐতিহাসিক ইবনে বাসসাম লিখেছেন, কাদিরের বিদায় ছিল অত্যন্ত করুণ ও লাঞ্ছনাকর। তিনি যখন টলেডো থেকে বের হয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁর হাতে ছিল একটি জ্যোতিষবিদ্যা যন্ত্র (Astrolabe), যা দিয়ে তিনি যাত্রার সময় ও পথ হিসাব করছিলেন! তাঁর এই নির্লজ্জতা দেখে খৃষ্টানরা হাসছিল আর মুসলমানরা ব্যথিত হচ্ছিল। আলফান্সো তাকে ভ্যালেন্সিয়া (বালেন্সিয়া) দখল করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
টিকাঃ
৪৩৪. ইবন বাসসাম, আযযাখীরা, ৫/১০৯-১১০।
📄 সাত. মুরাবিতীদের তলব
টলেডোর পতনের পর আলফান্সো আরও উদ্ধত হয়ে ওঠেন এবং সেভিলসহ অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রে হামলা চালাতে শুরু করেন। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সেভিলের শাসক মু'তামিদ উপলব্ধি করলেন যে, খৃষ্টানদের হাত থেকে বাঁচতে হলে মাগরিবের মুরাবিতী (Almoravid) শাসক ইউসুফ বিন তাশফীনের সাহায্য ছাড়া উপায় নেই। যদিও অন্যান্য মুসলিম শাসকরা ভয় পাচ্ছিলেন যে মুরাবিতীরা আন্দালুস দখল করে নিতে পারে, কিন্তু মু'তামিদ তাঁর সেই ঐতিহাসিক উক্তিটি করেন: 'শুকরের রাখালগিরি করার চেয়ে উট চরানো শতগুণ শ্রেয়।' অর্থাৎ তিনি খৃষ্টানদের হাতে বন্দী হওয়ার চেয়ে মুরাবিতীদের হাতে বন্দী থাকাকেই শ্রেয় মনে করেছিলেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তের পর আন্দালুসের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিনিধিদল ইউসুফ বিন তাশফীনের কাছে সাহায্যের আবেদন নিয়ে যেতে শুরু করে।
টিকাঃ
১৮১. আল-মাক্কী, আল-মাক্কাবানাত ফি আহবাইলিল মুরাবিতিন, ১/১৮।
১. হিলয়াতি, আন্দালুস ফি-শারহী মাওতিল আন্দালুস, ১/২৮৮-২৮৯।