📄 তিন. টলেডোবাসীর বিদ্রোহ
চারিদিক থেকে আসা বিপদের মুখে কাদিরের দুঃশাসনে টলেডোবাসী অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। আলফান্সোর সঙ্গে কাদিরের গোপন আঁতাত ও দুর্গ হস্তান্তরের খবরে জনগণ তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কাদির টলেডো ছেড়ে পালিয়ে যান। টলেডোবাসী তখন কোনো যোগ্য শাসক না পেয়ে ৪৭২ হিজরীতে বাতালইযুস-শাসক মুতাওয়াক্কিল বিন আফতাসকে টলেডোর দায়িত্ব গ্রহণের আমন্ত্রণ জানায়।
📄 চার. আলফান্সো কর্তৃক আলকাদিরকে ক্রুসেড যুদ্ধ-বৃত্তে পুনঃআনয়ন
টলেডো থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর কাদির পুনরায় আলফান্সোর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। আলফান্সো একে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি কাদিরকে পুনরায় সিংহাসনে বসানোর নাম করে এক বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে টলেডো অভিমুখে অগ্রসর হন। খৃষ্টান বাহিনীর চাপে মুতাওয়াক্কিল বিন আফতাস টলেডো ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। খৃষ্টান সৈন্যরা পাহারার মাধ্যমে কাদিরকে পুনরায় টলেডোর সিংহাসনে বসিয়ে দেয়, যার মাধ্যমে কার্যত টলেডোর ওপর খৃষ্টানদের পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
টিকাঃ
১৮৬. ইবনুল আসীর, আল-কামিল ফিত-তারীখ, পৃ: ১৬৪।
📄 পাঁচ. আলফান্সোর টলেডো অবরোধ
আলফান্সো অত্যন্ত সতর্কতার সাথে টলেডো দখলের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেন। তিনি টলেডোকে পুরোপুরি হস্তগত করতে একে অবরোধ করেন। এদিকে সেভিলের শাসক মু'তামিদ বিন আব্বাদ এই বিপদ অনুভব করেও আক্রান্ত টলেডোকে সাহায্য করার পরিবর্তে আলফান্সোর সঙ্গে সন্ধি করেন। মু'তামিদ কেবল নিজের রাজ্য বাঁচাতে আলফান্সোকে জিযিয়া প্রদানের শর্তে রাজি হন এবং টলেডো দখলে কোনো হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দেন। এটি ছিল মুসলিম ঐক্যের ওপর বড় আঘাত। ৪৭১ হিজরীর শাওয়াল মাসে আলফান্সো টলেডো অবরোধ করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে আক্রমণ চালিয়ে নগরীকে দুর্বল করে ফেলেন।
টিকাঃ
৬০৯. ইবন ইনান, দাওলাতুল ইসলাম ফিল আন্দালুস, ৩/১১০৯।
📄 ছয়. এবং অবশেষে টলেডোর পতন
টলেডো অবশেষে সাহায্যহীন ও রিক্ত হয়ে পড়ে। মুসলিম শাসকরা যখন টলেডোকে নিজেদের ক্ষমতা ও স্বার্থের বিনিময়ে বিক্রি করে দিলেন, তখন নগরীটি আত্মসমর্পণের অপেক্ষায় ছিল। ৪৭৭ হিজরীর শেষভাগে আলফান্সো অবরোধ আরও কঠোর করেন। নগরবাসী চরম সংকটে পতিত হয়ে সন্ধির প্রস্তাব নিয়ে আলফান্সোর কাছে প্রতিনিধিদল পাঠায়। অবশেষে নয় মাসের দীর্ঘ অবরোধের পর ৪৭৮ হিজরীর সফর মাসে (১০৮৫ খৃষ্টাব্দে) টলেডোর পতন ঘটে এবং স্পেনের এই ঐতিহ্যের কেন্দ্রটি মুসলমানদের হাতছাড়া হয়ে যায়।