📄 এক. আলমামুন বিন যিননুনের অতিসরলতা
আলমামুন যদি জানতেন যে, এই আলফান্সোই একদিন টলেডোর পতন ঘটাবেন, তাহলে কি তিনি তাকে এমন আতিথেয়তা দিতেন? আলফান্সোর নির্বাসিত জীবনে আলমামুন তাকে দীর্ঘ নয় মাস আশ্রয় ও আদর-আপ্যায়ন করেছিলেন। এমনকি আলমামুন আলফান্সোর কাছ থেকে এই প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন যে, তিনি টলেডো রাজবংশের ক্ষমতা রক্ষায় সহায়তা করবেন। এই আশ্রয়ের সুযোগ নিয়ে আলফান্সো টলেডোর প্রতিটি জল-বায়ু, প্রবেশপথ, শক্তি ও দুর্বলতার দিকগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তিনি তাঁর নির্বাসিত জীবনকে পরিণত করেছিলেন এক সফল গোয়েন্দা অভিযানে। এর কয়েক মাস পরেই আলফান্সো কাস্টেলার ক্ষমতা ফিরে পান এবং টলেডোর পতন ঘটানোর চূড়ান্ত সামরিক প্রস্তুতি শুরু করেন।
📄 দুই. কাদির বিন যিননুনের দুঃশাসন
৪৬৭ হিজরীতে আলমামুনের ইন্তেকালের পর তাঁর পৌত্র ইয়াহইয়া ‘কাদির বিল্লাহ’ উপাধি নিয়ে ক্ষমতায় বসেন। টলেডোর এই নতুন শাসক কাদির ছিলেন অবিবেচক ও দূরদৃষ্টিহীন। তিনি একদল অসৎ সঙ্গী দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিলেন এবং বিলাসিতায় মত্ত থাকতেন। তাঁর এই অযোগ্যতার কারণে রাষ্ট্র জুড়ে অস্থিরতা দেখা দেয়। তিনি তাঁর সুযোগ্য উযীর ইবনুল ইয়াফিদকে হত্যা করেন, যা তাঁর পতনের পথ সুগম করে। বিদ্রোহ ও অশান্তি তাঁকে ঘিরে ধরলে তিনি বন্ধু হিসেবে খৃষ্টানদের ওপর নির্ভর করতে শুরু করেন। আলফান্সো তাঁকে সাহায্যের বিনিময়ে সীমান্ত সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ দুর্গগুলো হস্তান্তরের শর্ত দিলে অযোগ্য কাদির তা মেনে নেন।
টিকাঃ
১৮৫. ইবনুল আসীর, আল-কামিল ফিত-তারীখ, পৃ: ১৬৪।
📄 তিন. টলেডোবাসীর বিদ্রোহ
চারিদিক থেকে আসা বিপদের মুখে কাদিরের দুঃশাসনে টলেডোবাসী অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। আলফান্সোর সঙ্গে কাদিরের গোপন আঁতাত ও দুর্গ হস্তান্তরের খবরে জনগণ তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কাদির টলেডো ছেড়ে পালিয়ে যান। টলেডোবাসী তখন কোনো যোগ্য শাসক না পেয়ে ৪৭২ হিজরীতে বাতালইযুস-শাসক মুতাওয়াক্কিল বিন আফতাসকে টলেডোর দায়িত্ব গ্রহণের আমন্ত্রণ জানায়।
📄 চার. আলফান্সো কর্তৃক আলকাদিরকে ক্রুসেড যুদ্ধ-বৃত্তে পুনঃআনয়ন
টলেডো থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর কাদির পুনরায় আলফান্সোর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। আলফান্সো একে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি কাদিরকে পুনরায় সিংহাসনে বসানোর নাম করে এক বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে টলেডো অভিমুখে অগ্রসর হন। খৃষ্টান বাহিনীর চাপে মুতাওয়াক্কিল বিন আফতাস টলেডো ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। খৃষ্টান সৈন্যরা পাহারার মাধ্যমে কাদিরকে পুনরায় টলেডোর সিংহাসনে বসিয়ে দেয়, যার মাধ্যমে কার্যত টলেডোর ওপর খৃষ্টানদের পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
টিকাঃ
১৮৬. ইবনুল আসীর, আল-কামিল ফিত-তারীখ, পৃ: ১৬৪।