📄 তিন. ফার্ডিনান্ড ও প্রথম পুনরুদ্ধার যুদ্ধ
৪৪৮ হিজরীতে (১০৫৭ খৃষ্টাব্দে) প্রথম ফার্দিনান্ড বাতায়লুস (Badajoz) রাষ্ট্রের ওপর প্রবল আক্রমণ চালান। তিনি পর্তুগালের উত্তরাঞ্চলের শহরগুলো দখল করেন এবং মুসলিম নাগরিকদের তাড়িয়ে দিয়ে সেখানে খ্রিস্টানদের বসতি স্থাপন করান। এরপর তিনি বাতায়লুসের শাসক মুজাফফার বিন আফতাসের ওপর বার্ষিক পাঁচ হাজার দিনার জিজিয়া বা কর আরোপ করেন। এরপর তাঁর লক্ষ্য হয় টলেডো ও সেভিল। তিনি একে একে টলেডোর শাসক আল-মামুন এবং সেভিলের মু’তাদিদ বিন আব্বাদকে বশ্যতা শিকারে বাধ্য করেন। ৪৪৩ হিজরীতে কুম্বরিয়া নগরী পতনের মধ্য দিয়ে প্রায় সত্তর বছরের মুসলিম শাসনের অবসান ঘটে।
📄 চার. ফার্ডিনান্ডের মৃত্যু ও উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব
১০৬৫ খৃষ্টাব্দে ফার্দিনান্ডের মৃত্যুর পর তাঁর বিশাল রাজত্ব তিন পুত্র ও দুই কন্যার মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয়। বড় ছেলে সান্চো পান ক্যাস্টেলা, মেঝ ছেলে আলফোন্সো পান লিওন এবং ছোট ছেলে গার্সিয়া পান গ্যালিসিয়া। কিন্তু এই বণ্টনের পরপরই ভাইদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই শুরু হয়। সান্চো তাঁর ভাই আলফোন্সোকে পরাজিত করে লিওন দখল করেন এবং আলফোন্সো টলেডোর মুসলিম শাসক আল-মামুনের কাছে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে এক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সান্চো নিহত হলে আলফোন্সো পুনরায় লিওন ও ক্যাস্টেলার সিংহাসনে আরোহণ করেন।
📄 পাঁচ. লিওনের সিংহাসনে আলফান্সো
ভাই সান্চোর মৃত্যুর পর ষষ্ঠ আলফোন্সো টলেডো থেকে ফিরে এসে লিওন ও ক্যাস্টেলার সিংহাসন লাভ করেন। তিনি টলেডোতে নির্বাসিত থাকাকালে শহরের প্রতিটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও দুর্বলতাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। ক্ষমতায় বসেই তিনি তাঁর ভাই গার্সিয়াকে বন্দী করেন এবং একক খ্রিস্টান শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি তাঁর মিত্র মুসলিম শাসকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ কর আদায় করতে থাকেন এবং টলেডোর পতনের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।