📄 তিন. সেভিল ও কর্ডোভার মধ্যে সংঘাত
সেভিলের শাসক বনু আব্বাদ ৪১৪ হিজরীতে স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকেই কর্ডোভা দখলের স্বপ্ন দেখতেন। ৪২৬ হিজরীতে কাযী ইবনে আব্বাদ মৃত খলীফা হিশাম আল-মুয়াইয়াদের ন্যায় দেখতে এক ব্যক্তিকে হাজির করে নিজের শাসনকে বৈধতা দিতে চান। ৪১৭ হিজরীতে তিনি কর্ডোভা আক্রমণ করলেও ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে কর্ডোভা-শাসক আব্দুল মালিক বিন জাহওয়ারের অযোগ্যতার সুযোগ নিয়ে ৪৬২ হিজরীতে সেভিল বাহিনী পুনরায় কর্ডোভা আক্রমণ করে। তারা আব্দুল মালিককে গ্রেফতার করে এবং কর্ডোভাকে সেভিলের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। ৪৬৭ হিজরীতে টলেডোর শাসক আল-মামুন এক কূটকৌশলের মাধ্যমে কর্ডোভা দখল করে নেন। কিন্তু ৪৬৯ হিজরীতে মু’তামিদ পুনরায় কর্ডোভা পুনরুদ্ধার করেন। এভাবেই কর্ডোভাকে কেন্দ্র করে সেভিল ও টলেডোর মধ্যে রক্তক্ষয়ী রেষারেষি চলতে থাকে।
টিকাঃ
৬৩৭৬. ইবনে আব্বাদী, ১/১৯০ ও ইবনুল খতীব, আ‘মালুল আ‘লাম, পৃঃ ১১২।
৮৮৮. ইবনে আব্বাদী, ১/১৯০, ১৯৪-২০১ ও ইবনুল খতীব, পৃঃ ১৫৪।
৬৯৮৬. ইবনে বাসসাম, আযযখীয়া, ১/৫০৮-৫০৯ ও ইবনে আব্বাদী, ২/২৯২-৩০০।
৬৯৯১. ইবনে বাসসাম, ২/০০৯-০১০ ও ইবনুল খতীব, পৃঃ ১৪৯।
৬৯৯৬. ইবনে বাসসাম, ১/৫০৯-৫১১।
৬৯৯৫. ইবনে বাসসাম, ১/৫০৯-৫১১ ও ইবনুল খতীব, পৃঃ ১৪১-১৫১।
৭০০৭. ইবনে আযারী।
📄 চার. টলেডো ও জারাগোজার মধ্যে সংঘাত
টলেডো ও জারাগোজার মধ্যকার সংঘাত ছিল আন্দালুসের ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্টতম অধ্যায়। উভয় শাসকই একে অপরের বিরুদ্ধে খ্রিস্টানদের সাহায্য নিয়ে মুসলিম ভূখণ্ডে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিলেন। জারাগোজা-শাসক সুলাইমান বিন হুদ ও টলেডো-শাসক আল-মামুন বিন যিন্নুনের মধ্যকার এই বিবাদ পুরো মুসলিম উম্মাহর জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ৪৪৩ হিজরীতে সুলাইমানের পুত্র আহমাদ টলেডো আক্রমণ করেন। পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে আল-মামুন খ্রিস্টান রাজা ফার্দিনান্দের সাহায্য নেন। ফলে খ্রিস্টান বাহিনী মুসলিম নগরীগুলোতে লুটতরাজ ও শস্যক্ষেত্রে আগুন দেওয়ার সুযোগ পায়। এই সংঘাতের জেরে খ্রিস্টানরা মুসলিম শাসকদের ওপর বিপুল পরিমাণ কর ও অপমানজনক শর্ত চাপিয়ে দেয়। পরিশেষে ৪৭৬ হিজরীতে অযোগ্য শাসক আল-কাদিরের দুর্বলতার সুযোগে খ্রিস্টানরা টলেডো দখল করে নেয় এবং ৫১২ হিজরীতে জারাগোজার পতন ঘটে। এই সংঘাতই আন্দালুসে খ্রিস্টান শক্তির পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করেছিল।
টিকাঃ
১৭৮. ইবনুল ইসলামিয়া ফিল আযমাইন, ৩/২৮২।
১৭৯. ইবনুল আবিবার, ৩/২৭১-২৭৬ ও ইবনুল খতীব, পৃ: ২৭৭-২৭৬।
১৮০. ইবনুল আন্দালুসী।
১৮১. ইবনুল আবিবার, ৩/২৭৬-২৭৯।
১০১. ইবনে আত্থারী, আলবায়ানুল মুগরিব, ৬/২৫২।
১০২. ইবনে আত্থারী, ৬/২৭৭-২৭৮।
১০৩. ইবনে আত্থারী, ৬/২৫৩।
১০৭. ছাফের আহ'মাদী, ৬/২২৭।
১০৮. ইবনে দাওয়াবুল ইসলাম ফিন আন্দালুস, ৩/১০৮।
১০৯. ইবনে আত্থারী, ৩/৩০০-৩০৫; ইবনে দাওয়াবুল ইসলাম, ৩/২২৭-২১২।