📄 আযযাফির ইসমাইল বিন যিননুন
ইসমাইল বিন যিন্নুন ৪২৭ হিজরীতে টলেডোতে প্রবেশ করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং ‘আয-যাফির’ উপাধি ধারণ করেন। তিনি অত্যন্ত ধূর্ত ও কৌশলী ছিলেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি আন্দালুসের মুসলিম রাষ্ট্রের ঐক্যে ভাঙন ধরিয়ে নিজেকে স্বাধীন ঘোষণা করেছিলেন। তাঁর শাসনামলে টলেডো বেশ শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ৪৩৫ হিজরীতে তাঁর মৃত্যু হয়।
টিকাঃ
৬৪৬. ইবনে হাইয়ান, ২/৩৮২।
৬৪৯. ইবনে খালদুন, ৪/৬১।
📄 আলমামুন ইয়াহইয়া বিন ইসমাইল
আয-যাফিরের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র ইয়াহইয়া ‘আল-মামুন’ উপাধি নিয়ে টলেডোর সিংহাসনে বসেন। তিনি ছিলেন বিভক্ত রাষ্ট্রযুগের অন্যতম শক্তিশালী এবং উচ্চাভিলাষী শাসক। তিনি প্রতিবেশী মুসলিম রাজ্যগুলোর সাথে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন, বিশেষ করে জারাগোসার বনু হুদ এবং সেভিলের বনু আব্বাদের সাথে। তিনি তাঁর ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে খৃষ্টান রাজা ফার্দিনান্দের সাহায্য নিতেও দ্বিধা করেননি। ১০৭৫ খৃষ্টাব্দে (৪৬৭ হিজরীতে) তিনি ভ্যালেন্সিয়া জয় করেন।
আল-মামুনের রাজদরবার ছিল অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ। তিনি ‘আল-মুক্বাররাম’ নামে এক বিস্ময়কর দরবার কক্ষ নির্মাণ করেছিলেন, যার দেওয়াল ও ছাদ ছিল সূক্ষ্ম কারুকার্য ও কৃত্রিম ঝরনা দ্বারা সুশোভিত। তাঁর আমলে টলেডো জ্ঞান-বিজ্ঞান ও কৃষিতে অভূতপূর্ব উন্নতি লাভ করেছিল। ৪৬৭ হিজরীতে তিনি কর্ডোভা জয় করার পর সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।
টিকাঃ
৫৭. ইবনুল জাওযী, ৫/২৭৮-২৭৯।
৬০. ইবনুল জাওযী, ৫/১১৮-১১৯; ইবনে খালদুন, ৪/১১৪।
📄 আলমামুনের পৌত্র আলকাদির বিল্লাহ ইয়াহইয়া
আল-মামুনের মৃত্যুর পর তাঁর পৌত্র ইয়াহইয়া ‘আল-কাদির বিল্লাহ’ উপাধি নিয়ে শাসনভার গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত দুর্বল এবং অযোগ্য শাসক। তিনি সারাক্ষণ নাচ-গান ও নারীদের নিয়ে মত্ত থাকতেন। তাঁর এই অযোগ্যতার সুযোগে খৃষ্টান রাজা ষষ্ঠ আলফোন্সো টলেডোর ওপর চাপ বৃদ্ধি করেন। আল-কাদির নিজের ক্ষমতা রক্ষার জন্য আলফোন্সোকে একের পর এক দুর্গ দিয়ে দেন। ৪৭৭ হিজরীতে আলফোন্সো যখন টলেডো অবরোধ করেন, তখন আল-কাদির অসহায় হয়ে পড়েন। অবশেষে ৪৭৮ হিজরীর সফর মাসে (১০৮৫ খৃষ্টাব্দে) টলেডোর পতন ঘটে এবং আল-কাদির পরিবারসহ শহর ত্যাগ করেন। এর বিনিময়ে খৃষ্টানরা তাঁকে ভ্যালেন্সিয়া দখল করে দেয়।
টিকাঃ
৫০২. ইবনে বাসসাম, আয-যাখীরা, ১/১০০-১০২; ইবনুল খতীব, আ'মালুল আ'লাম, পৃ: ১৩৬।
📄 টলেডো রাজদরবারের বিখ্যাত আলিমগণ
বনু যিন্নুনের শাসনামলে টলেডো ছিল জ্ঞানচর্চার অন্যতম কেন্দ্র। সেখানে গণিত, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও উদ্ভিদবিজ্ঞানের ব্যাপক চর্চা হতো। ইবনে বাসসাল, ইবনে সাদুন এবং ইবনে ওয়াফিদের মতো পণ্ডিতরা টলেডো রাজদরবারের শোভা বাড়িয়েছিলেন।